আগুণ কি আর বোঝে, কে মালিক কে শ্রমিক!
কিভাবে আগুণ জ্বললো? কেনো আগুণ জ্বললো? কার বা কাদের চক্রান্তে অথবা দোষে আগুণ ছড়িয়ে পড়লো? তাজরীন ফ্যাশন্স নামের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীতে সরকারী হিসাবে ১১২ আর অনুমেয় দুই শতাধিক আগুণে পোড়া লাশের গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার আগেই এসব প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে। সরকারী মহলে যখন জোরেসোরে রব উঠেছে এই আগুণ লাগার ঘটনা বিরোধী দলের নাশকতা তখন বেসরকারী মহলেও আগুণের বিষয়টাই মূখ্য হয়ে উঠেছে। শ'য়ে শ'য়ে আগুণে পোড়া লাশের জন্য দায়ী করা হচ্ছে ফায়ার এস্কেপের অভাব আর কর্তৃপক্ষের আগুণ সম্পর্কীত জ্ঞানের অপ্রতুলতা।
শীত বার্তা-১
শীত এসে যাচ্ছে। অনেকেই শীতে কষ্ট পাওয়া মানুষের কথা মনে করে সমব্যাথী হন। এই সুন্দর মনের মানুষদের জন্য একটা সুখবর হচ্ছে, আপনারা চাইলেই এখন এই শীতে কিছু মানুষের কষ্ট লাঘবের ব্যবস্থা করতে পারেন। সহজ পদ্ধতিটা হল-
১। নিজের পুরানো শীতের কাপড় খুজে বের করুন।
২। সম্ভব হলে বন্ধুদের নিজের ব্যবহৃত/অব্যবহৃত পুরানো শীতের কাপড় আনতে বলুন।
৩। কাপড়টি/গুলি একসাথে (চাইলে আলাদাও পাঠাতে পারেন) কাছের কোন কুরিয়ার
সার্ভিস-এ নিয়ে যান।
৪। এস.এ. পরিবহন, কলিতলা ব্রাঞ্চ, দিনাজপুর। প্রাপক ইমন। মোবাইল ০১৮১৮২১৪৭৮৭ এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন কাপড়গুলো।
যারা সত্যি কাপড় পাঠাতে চান, তারা কাপড় যোগাড়-এর পর এই ইমেইল-এ যোগাযোগ করে (কাপড় পাঠাতে আগ্রহী জানিয়ে) তারপর পাঠান। shahreen.rahman4@gmail.com
(অনুগ্রহ করে টাকা পাঠাবেন না। চাইলে পুরানো কম্বল, শাল যেকোন শীতের কাপড় কিনে দিতে পারেন।)
কাপড়গুলি দিনাজপুরে ইমন নামের একটা ভাইয়ার কাছে পৌছে যাবে। এস.এ. পরিবহন তার বাসার বেশ কাছে, তাই ভাইয়া সেখান থেকে কাপড় নিতে পারবেন। তিনি শীতের কাপড়গুলি কিছু এতিমখানায় বিলি করবেন।
নাশকতার ভিডিও ফুটেজ আশুলিয়ার দেবনায়ারের, তাজরীনের নয়
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনী অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। আর গণমাধ্যমকর্মীরা ঝাপিয়ে পড়েন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, নোটবুক। আশুরার কারণে ২৭ নভেম্বর মুদ্রণ সংবাদ মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকায়, তারা এবার সংবাদ পরিবেশনে সুবিধা করতে পারেনি। তবু পত্রিকাগুলো অনলাইন সংস্করণ সচল রেখে সংবাদটি পরিবেশনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। অন্যদিকে টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমগুলো বিরতিহীনভাবে অগ্নিকান্ডের নানা সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছে। আবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরকার ও পোশাককল মালিকদের মুন্ডুপাত চলছে একযোগে। এতে আবার ঘি ঢেলে যাচ্ছে সস্তা জনপ্রিয়তা প্রত্যাশী গণমাধ্যমগুলো। আমাদের প্রধান রপ্তানিখাত অচল থাকলেই যেন, দেশটা বেঁচে যায়!
তৃষ্ণা
তৃষ্ণা আরো প্রবল হয়ে ওঠে ,
পানের পর পান চলতে থাকে ,
পানের পর পান অবিরত,
কাপের পর কাপ ,
উষ্ণ হাহাকার ,
গলবিল বেয়ে পাকস্থলি ,
সব ছারখার করে ,
শীতল হয় হৃতপিন্ড ।
তবু আবার ,
প্রাণের তৃষ্ণা জাগে ,
প্রাণের তৃষ্ণা প্রবল হয় ,
প্রবল থেকে প্রবলতর হয় ,
জেগে ওঠে রক্তের মোচড় ,
বাড়তে থাকে হৃদস্পন্দন ,
নীলাভ হতাশা নির্বিঘ্নে বেয়ে চলে ,
রক্তের সাথে মিলে মিশে চলে ,
ধমনী থেকে ধমনীতে ,
হৃদয় থেকে হৃদয়ে ,
হৃতপিন্ড উষ্ণ হয়ে ওঠে ,
উষ্ণতা বাড়তে থাকে ,
বাড়তে থাকে অদৃশ্য ক্ষত ,
হৃদয়ের ক্ষত ।
পানের বস্তু সুপেয় না হতে পারে ,
তবু তৃষ্ণা জাগে ,
পানের তৃষ্ণা ,
তৃষ্ণা আরো প্রবল হয়ে ওঠে ,
পানের পর পান চলতে থাকে ।
কিন্তু প্রাণের তৃষ্ণা
প্রবল থেকে প্রবলতম হয় ,
প্রাণের তৃষ্ণা মেটেনা কোনো কালে ।
সহ্যসীমার কাঁটাতারে বিদ্ধ শরীর
সময়টা কাটছে প্রতিকূল। আগুন, ভাঙচুর, অস্থিরতা সবকিছু একসঙ্গে ঝাপিয়ে পড়েছে। প্রতিটি দিন এমনভাবে কাটছে যে, দিনশেষে নিজেকে আনন্দিত মনে হয়; আরেকটা দিন পার করে দিতে পারার জন্যে। দি ডে আই গ্ল্যাড টু সার্ভাইভ।
শীত শুরু হচ্ছে। এখন চলছে আগুন পোহানোর কাল। ব্যাডমিন্টন খেলার কাল। পার্কে দেখলাম জটলায় জটলায় আগুন পোহানো চলছে। দু'টো ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা হয়েছে। এখনকার শীতে আগুন জ্বালানোর এবং সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে থাকার আলাদা মজা আছে। কিন্তু ক'দিন পরেই এ মজাটা থাকবে না। তখন আগুন জ্বালানোর মতো জ্বালানি থাকবে না। মানসিক ইচ্ছা থাকবে না। শুধু বদ্ধ কুঠুরিতে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে। মানুষও কি এককালে শীতনিদ্রায় যেতো নাকি?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) বিষয়ক বৈশ্বিক অধিবেশন
নেদারল্যান্ডস-এর হেগ শহরে গত ২১ নভেম্বর রোম সংবিধি-এর আওতাধীন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)-এর রাষ্ট্রপক্ষসমূহের সম্মেলনের (Assembly of States Parties) অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি)-এর ওপর বিশেষ একটি অধিবেশন আয়োজিত হয়। মূলত দেশীয় আইনের প্রক্রিয়ায় দেশীয় ট্রাইবুনালে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের উদাহরণ হিসেবেই আইসিটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই আগ্রহ। এখানে উল্লেখ্য, রোম সংবিধি কেবল এ-ধরনের দেশীয় বিচারের উদ্যোগের অনুমোদনই করে না, উৎসাহিতও করে। রোমভিত্তিক সংগঠন “নো পিস উইদাউট জাস্টিস (NPWJ)”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অধিবেশনে আইসিটি-র বিচার প্রক্রিয়া এবং এর সহায়ক কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত পক্ষসমূহের মধ্যে নির্ধারিত বক্তা হিসেবে প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউশনের প্রতিনিধি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম তারেক, আসামী পক্ষের নিযুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ব্যারিস্টার টোবি ক্যাডম্যান, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস বার কাউন্সিল মানবাধিকার কমিটির প্রতিনিধি মিস সোনা জলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড.
আত্মমগ্ন কথামালা ১৮
*
মৃত্যু
ছোট্ট একটা শব্দ, কিন্তু কি ভয়ানক বিষণ্ণ... কি ভয়ানক একাকীত্বের একটা শব্দ...
**
অনেকগুলো মানুষের মৃত্যু হ'লো গত ক'দিনে। বিভৎস, ভয়ংকর মৃত্যু। ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে, আগুনে পুড়ে। সেদিন চট্টগ্রামে যখন ফ্লাইওভারের গার্ডার খসে পড়ছিলো; তখন হয়তো আমি উত্তরার পথে, নির্মিয়মান ফ্লাইওভারের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটার ভেতর বসা কিংবা দাঁড়িয়ে আছি...
***
অনেকগুলো বছর আগে প্রায় এরকমই একটা ঘটনা ঘটে গেছিলো চোখের সামনে। সাইন্সল্যাবের ওভারব্রীজটার একটা গার্ডার খসে পড়েছিলো, আর চাপা পড়েছিলো একটা পাজেরো গাড়ি... এখনো মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলে স্লো মোসান সিনেমার মত সেই ভয়ানক দৃশ্যটা চোখে ভাসে...
****
মানবতার ডান্ডা
সাদ্দা হক এত্থে রাখ।
কি চিনতে পারছেন না ? আমি ফেবুর এক জনপ্রিয় লাইকবাজ ব্লগার। আমি সমাজের কোথাও অনিয়ম অনাচার দেখতেই পারিনা। অনিয়ম দেখলেই আমার মনে পরে যায় এ আর রহমানের সূরে মোহিত চৌহানের গাওয়া সেই গানটি, সাদ্দা হক এত্থে রাখ। আমার মানবতার ঈমানী দন্ডটা খারায়া ওঠে । আমি সহ্য করতে পারিনা। আর তাই গেয়ে উঠি সাদ্দা হক এত্থে রাখ।
যখন মালালার মত এক কচি পাকির মাথায় ধর্মান্ধরা গুলি করেছিলো, তখন আমি বীর বিক্রমে পাকি পতাকা উঠিয়ে বলেছিলাম, সাদ্দা হক এত্থে রাখ।
যখন মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদেরকে বের করে দেওয়া হচ্ছিলো আর তাদেরকে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিলনা , তখনও আমার মানবতার দন্ড খাড়া হয়ে গেছিলো আমি চেচিয়ে উঠেছিলাম সাদ্দা হক এত্থে রাখ বলে।
যখন গাজায় ইহুদিরা নির্মম ভাবে মারে ফিলিস্তিনি শিশুদের তখন আমার মানবতা দন্ড খাড়া হয়ে যায়, আমি চেচিয়ে উঠি সাদ্দা হক এত্থে রাখ বলে।
বুকপকেটে জোনাকি নিয়ে একলা চলা একেকজনা..এবং 'বারফি'!
রুশদেশে অনেক কাল আগে প্রচলিত একটা মজার কথা আছে। চলচিত্র নিয়ে।
কথাটা অনেকটা এমন যে -
'চলচিত্র তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
ভাল চলচিত্র,
বাজে চলচিত্র আর
তারপর আসে ভারতীয় চলচিত্র'!
অনেকেই হয়তো এই কথা শুনে চোখ পাকিয়ে আসবে মারতে! তবে কথাটা মজা করে বলা হলেও কেন জানি হেসে উড়িয়ে দিতে পারি না।
মানছি, টাইমপাসের জন্য অনেকের জীবনেরই একটি উত্কৃষ্ট উপাদান হল এই ভারতীয় চলচিত্র। তবুও একটু ভেবে দেখলে অবাকই হতে হয়।
চলচিত্র বোদ্ধা তো নই,
তবুও ছেলেবেলা থেকেই মোটামুটি নিয়মিত ভাল ভাল মুভি দেখে আসার অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু বুঝি তা হল -
ভাল মুভিগুলাকে যথাযত মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে অস্কার আর কান-এ।
সত্যজিত্ রায় এর কথা আলাদা, উনি ভারতীয় যতটা তারচাইতেও বেশি বৈশ্বিক চলচিত্র নির্মাঅ ছিলেন। এজন্যই হয়তো তাকে লাইফটাইম এচিভমেন্ট দিতে ভুল করেনি অস্কার কর্তৃপক্ষ।
হাটি হাটি পা পা করে ভারতীয় চলচিত্রের বয়স কিন্তু কম হয়নি।
ফেসবুকের রকমফের
‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং’ শব্দটা বতর্মানে বহুল প্রচলিত শব্দ, আর ‘ফেসবুক’ সেতো আবাল-বৃদ্ধা-বনিতা সকলেরই মুখস্ত!বন্ধুত্বের মানেটাই পালটে গেছে ফেসবুকে এসে। আমার চেনাজানা, যার সাথে দেখাসাক্ষাত ঘটে প্রায়ই,আলাপচারিতায় মেতে উঠতে ভনিতা লাগে না, যার সান্নিধ্য উপভোগ্য লাগে সেই না আমার বন্ধু। কিন্তু ফেসবুকে কেবল এড করা হয়েছে বলে কতশতজন এসে জুড়ে যাচ্ছে আমার বন্ধু তালিকায়, তাদের সাথে আমার দু’দন্ড কথাও হচ্ছে না, তাদের কি হলো না হলো তার কোন পরোয়াই নেই আমার, কিন্তু আমার একাউন্টের বন্ধু তালিকায় তাদের নাম জ্বলজ্বল করে! ভেবেই পাই না একজন মানুষের হাজারে হাজারে বন্ধু হয় কি করে! এমনি করে চললে তো বন্ধু আর চিনপরিচিতের মাঝে পার্থক্যই বুঝাতে পারবো না নতুন প্রজন্মকে!
ছায়া ও টিকটিকির সঙ্গে সংলাপ
টেবিলের ওপর পড়ে থাকা বইটির দিকে তাকিয়ে থাকে আলো -‘ছায়াহীন কায়া’। দেখে আর ভাবে, ভাবতে থাকে। লাটিম ঘুরতে ঘুরতে যেমন ঝিম ধরে থাকে-এক পায়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি মেরুদণ্ডটা ঠিক সোজা করে আপন মনে বসে আছে সে। ফাঁকে একবার নিজের ছায়ার দিকেও থাকায় । সে বোঝে না ছায়াহীন কায়া কীভাবে হয় ? আনমনে সে আবার ছায়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। একটু আগে টিকটিকি তাকে ফোন করে। ভাগ্যিস বাবা তখন বাসার বাইরে। আজ টিউটরও নেই।
—কে বলছ? আলো ?
জ্বী, আলো।
আঙ্কেল কেমন আছ ?
হ্যাঁ, ভালো।
এখন স্কুলে আস না ? আর তো দেখা হল না।
না, এখন আমাদের ক্লাস অফ—জেএসসি পরীক্ষা ।
ক্লাস কখন শুরু হবে ? আবার কখন স্কুলে আসছ ?
সশস্ত্র বাহিনী দিবস!
পোষ্টটা লেখা উচিত ছিলো কাল। কাল লিখলে পারফেক্ট হতো। কিন্তু কাল ছিলো শরীরটা ভালো না আর সন্ধ্যায় হাটাহাটি করে চায়ের দোকানে প্যাচাল পেরে শরীরটা ক্লান্ত। তারপর কোনো এক অজানা কারনে হাতে ব্যাথা করছিলো। একদিন পরে লিখছি খারাপ একটাই দিনটার মুড মিস হলো। যা আমার ব্লগের জন্য খুব জরুরী। কি আর করা সান্তনা একটাই লেট বেটার দেন নেভার।
আমার সিসিমপুর (৬)
১।
অনেকদিন সিসিমপুর লেখা হয় না। এই পোস্ট কত নাম্বার হবে দেখতে গিয়ে মনে হল বছর খানেক আগে লিখসিলাম। এরপর আর না লিখতে পারার অবশ্য যথেষ্ট কারণ আছে।
মেঘলা এসে ঘুরে গেলো। কোনদিক দিয়ে যে সময় গেল বুঝতেই পারলাম না। আর আরভিন, তাহিয়া এখন অনেকটা বড় হইসে। বড় বলতে বকা খাওয়ার সময় চলতেসে ওদের। বেশীর ভাগ সময় ঝাড়ির উপর রাখতে হয়। নাহলে তেলেসমতি কারবার শুরু করে দেয়। ঝাড়ি বলতে চিৎকার করে ধমক দেয়া না। বরং ওদের ঝাড়ি দিতে হয় মিজান ভাইয়ের সেই চোখের ভাঁজে ভাঁজে কবিতা পড়ার মত।
২।
আজ্ঞাবহ
এখানে নয়, ওইখানে দাড়াও
মাথা, ঘাড়, মুখ যেন না নড়ে এতটুকু
চোখের পলক ফেলাও চলবেনা যখন তখন
সারাদিন এইভাবেই কাটবে প্রত্যহ।
ঘোর প্লাবনেও যেন মন নেচেনা ওঠে
আঁততায়ীর জিহ্বার ছুরি যদি
কলজে কেটে নিতেও চায় – তবুও
সুবোধ বালকের মত নিস্পৃহ থাকবে।
এভাবে নয় বোকা, ওই ভাবে বাঁচো
অন্যরা যেমন বেঁচে থাকে
চোখ দিয়ে যেন জল না পড়ে
সেটা কাপুরুষোচিত
ওহ, কষ্ট পাওয়া চলবে না
বড্ড বেশী ন্যাকামি এসব
অদৃশ্য মিঠাই মন্ডা খেয়ে পেট ভরাও
যদি চিৎকার আসে, তবে টিপে ধরবে গলা।
আর যখনি মনে হবে কিছু নিজের মত করে
নিজের আগ্রহেই নিজে চেয়ে নিও বিচ্ছেদের চাবুক।
( ১৯.১১.১২ {C} mni)
পতাকা
ছাদে ওঠার সিঁড়িটার মাঝপথে দাঁড়িয়ে আয়েশা বিষন্ন দৃষ্টিতে দেখছে পতাকাটাকে, দুরের আকাশে কালো ধোঁয়া তখনও পাঁক খেতে খেতে দিগন্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। গাঢ় সবুজের মাঝে লাল বৃত্তে আঁকা বাংলাদেশের আকাশে ঘরপোড়া কালো ধোঁয়া, কাল সারারাত গুলির শব্দ, মানুষের চিৎকার, কান্না বিলাপের শব্দে কারো ঘুম আসে নি ঠিকমতো, পুরোনো ঢাকার গলির ভেতরে উদভ্রান্ত মানুষের দৌড়ে পালানোর শব্দ আর দুরাগত বিলাপের ভেতরে না ঘুমানো চোখে আলোটা বালির মতো কিচকিচ করছে।
সাতটা থেকেই মাইকিং শুরু হয়েছে, ইংরেজী, উর্দু আর উর্দু উচ্চারণের বাংলায় ফরমান জারি হয়েছে, এখন থেকে কোনো বাসায় বাংলাদেশের পতাকা উড়তে দেখা গেলে সেটা সামরিক আইন বিধিভঙ্গ করবে। যার যার বাসার ছাদ থেকে বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে, এমন কি কালো পতাকার জন্যেও একই নিয়ম। কোনো রাস্তায় ব্যারিকেড থাকতে পারবে না, যে মহল্লায় ব্যারিকেড দেখা যাবে ব্যারিকেডের আশেপাশের ১০০ গজ দুরত্বের সকল বাসার মানুষ সামরিক বিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবে।