আজি ঝরোঝরো মুখর বাদরদিনে
০১
বৈষ্ণব কবিতা ঝরছে
ঝরছে গীতগোবিন্দের শ্লোক,
ঝরছে মিঞা তানসেন
মেঘমল্লারের ভিজে চোখ।
ঝরছে রবীন্দ্রনাথ
— পূর্ণেন্দু পত্রী
সকাল থেকে ঝরো ঝরো করে অঝরে বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই। থামার কোনো লক্ষণ নেই। শহুরে মানুষদের ব্যস্ততায় ছুটে চলার গতি কিছুটা হলেও মন্থর করে দেয় এ বৃষ্টি।
বাইরে তেমন কাজও নেই আজ। তাই বৃষ্টিটাকে খুব উপভোগ করছি। ইদানীং কেনো জানি নাগরিক জীবনের গতি স্লথ করে দেওয়া সব অনাসৃষ্টিকে উপভোগ করা শুরুও করেছি; এমনকি মহাবিরক্তিকর যানজটকেও।
বালিশের কাছ থেকে গীতবিতানটি নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। ইদানীংকালে আমার বালিশের পাশটা হয়ে গেছে ‘গীতবিতান’টার স্থায়ী ঠিকানা। বইটাকে এত বেশি ভালোবেসে ফেলেছি যে তাকে “বুক শেলফ” নামক দূরের ঠিকানায় রাখলে মনে কেমন জানি একটা শূন্যতা এসে ভর করে – যেন প্রিয় কোনো মানুষকে অনেক দূরের কোনো জায়গায় ফেলে এসেছি। গীতবিতানের একাকীত্ব দূর করার জন্য মাঝে মাঝে অন্য বইও বালিশের পাশে ঠাঁই নেই। তবে তারা কয়েকদিনের অতিথি – কয়েকদিন পর পরই তারা আবার “বুক শেলফ” এ ফিরে যায়, তাদের বদলে অন্য কোন বই এসে জায়গাটা দখল করে।
০২
বলেছিলে, কেমন আছো ?
(১)
তোমাকে বলিনি কখনো, কোনদিন !
লুকোচুরিতে আমার ভীষন ভয়,
এমনি এক কানামাছি খেলার ফাঁকে
হারিয়েছি আমার শখের সোনালী ট্রয়।
(২)
আমার সব হল।
ঘর হল,
হিজলের সাথে একাকিত্ত্ব ভাগাভাগি এবং
ছোট্ট সুন্দর সুখের বাসরও হল।
শুধু তুমিই,
আমার বুকে আছড়ে পড়লে না।
(৩)
ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক,
অস্থির দৃষ্টি এবং ক্লান্ত স্মৃতি আঁকড়ে গুটিসুটি,
বেশ যাচ্ছিল দিন।
সেসময়, প্রায় ভুলেই তুমি এসেছিলে,
নিঃশব্দে দাঁড়িয়েছিলে,
বলেছিলে, কেমন আছো ?
আমার দুচোখে তখন ভরা বর্ষা ।
একটি গান - সাধারণ তবুও অনন্য
১৬ নভেম্বর, ২০১১ - মুক্তি পেল একটি গান - গান বলা ঠিক হবে না - অদ্ভুতুড়ে কিছু শব্দের অবিন্যস্ত মিশ্রণ - ৩০ নভেম্বর, ২০১১ - ইউ টিউবের হিট কাউন্টার বলছে - গানটির শ্রোতা সংখ্যা ওই তারিখে এক কোটির বেশি - অনুরূপ তথ্য দিচ্ছে ফেসবুক আর টুইটার এর মত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েব সাইট - এটা শুধু ওই তারিখের উপাত্ত - এরপর ইন্টারনেটের হিট কাউন্টারগুলো যেন পাগল হয়ে উঠলো - সমালোচকরা নড়েচড়ে বসলেন - জাভেদ আখতারের মত জনপ্রিয় ভারতীয় গীতিকার মন্তব্য করলেন - 'এটা গান নয়, সুস্থধারার প্রতি একটি আঘাত' - অতি আগ্রহী কেউ একজন গানটির বিরুদ্ধে ভারতের কেরালা হাই কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে দিলেন - কিন্তু কিছুতেই কিছু হলনা - গানটির শ্রোতাপ্রিয়তা মহামারী আকারে দিনদিন বেড়েই চলল - আসুন একটু ফিরে দেখি - কি ছিল সেই গানটি ?
Yo Boys I Am Sing Song…
Soup Song..
Flop Song..
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Rythm Correct
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Maintain Please
Why This Kolaveri …………………………Aaa Di
Distance-La Moonu Moonu. Moonu Colour Whiteu.
নো এ্যাডভেঞ্চার
বিশতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে
কোনো এক চলন্ত বাসে নিরাপদে ল্যান্ড করে
পদ্মানদীর পাড়ে যেতে চাই
যদি বাসটা ওদিকে না যায় তবে ড্রাইভারকে গুলি মেরে
জানালা দিয়ে ফেলে নিজেই চালিয়ে যাবো পদ্মায়
আর যদি পিস্তলই না থাকে, প্রথমে এক পুলিশকে করবো ছিনতাই
আর বাসের যাত্রীরা না যেতে চাইলে ছেড়ে দেবো বিনাশর্তে
একমাত্র তুমি যদি যেতে চাও তবে এসব এ্যাডভেঞ্চারের প্রয়োজন নেই
অতঃপর.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
কোন এক প্রখর রৌদ্র দিনের শেষে,
অথবা অলস বর্ষা বিকেলের মরা রোদ্দুর ছুঁয়ে।
সময়ে,
কিংবা নিরন্তর ধেয়ে আসা অসময়ে।
ভোরের প্রথম আলোয় রুপালী রোদের হাওয়ায়,
অথবা কনে দেখা গোধূলি আলোর মায়ায়।
নীলাকাশ জুড়ে মেঘ হয়ে,
নয়তো ঘাসফুলের বুকে হঠাত্ শীতল শিহরনে।
দুরে তবুও কাছে,
কিংবা;
কাছে আবার অনেক দুরে।
পথ যেখানে শেষ,
অথবা কেবলি মাত্র শুরু।
বন্ধ দরোজার ওপারে,
পথ নেই।
আকাশজুড়ে,
নির্ঘুম নিরবতা।
বদ্ধ বাতাসে,
কড়াল গ্রাস করে আসে;
বিষাদলোকের জোছনা।
বুকপকেটে,
জমা পড়ে থাকে;
ভালবাসা।
টিপবোতামের চাপে বন্দি,
নিশ্চুপ কথকতা।
নিঝুম অন্ধকারে;
ক্রমশ -
মলিন হয়ে আসে,
স্মৃতির রাজ্যপাট।
এক টুকরো হাসিমুখ,
দুটি আঁখিতারা।
ভাবনায় সমাজ বাস্তবতা।
আমি ভেবে অবাক হই। কয়েক দশক বছর সংসার করার পরেও কি করে সংসার ভেঙ্গে যায়? দুজন মানুষ একসাথে এতদিন থাকার পরেও কি দুজনের দুজনকে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা? এই যদি বাস্তবতা হয় তবে লুকিয়ে যার সাথে প্রেম করছি , তাকে নানা ভাবে বোঝার চেষ্টা করছি এই বিশ্বাসের নিশ্চয়তা কোথায়?
ভাবনাটা এসছে দাঙ্গার কথা ভেবে। আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা কখনোই হয়তো সম্প্রীতির ভেতর ছিলনা। কিন্তু ১৯৪৬ সালে কলকাতায় এবং আমাদের দেশে যে দাঙ্গা দেখা দেয় তার কারণটা কি? হাজার বছর ধরে হিন্দু মুসলমান বাঙ্গালীরা এক সাথে বসবাস করে আসছে। এক মাঠে খেলে শিশু বড় হয়েছে। এক পাঠশালায় বিদ্যা শিখেছে। বন্ধু হয়েছে, বন্ধু করেছে। সেই সেই মানুষরা কি করে এমন দাঙ্গায় লিপ্ত হয়?
কোথায় গেলেন আমাদের মেধাবী নির্মাতারা - বিরল অভিনয় প্রতিভারা ?
প্রায় এক যুগ বা তারও আগে বিটিভিতে এক পর্বের একটি নাটক প্রচারিত হয়েছিল - স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে তবে বলতে পারি - নাম ভূমিকায় ছিলেন মমতাজউদ্দিন আহমেদ নামের দুর্ধর্ষ একজন অভিনেতা - সাথে ছিলেন আরেকজন দিকপাল - আফজাল হোসেন - নাটকের নাম কিছুতেই মনে করতে পারি না - কাহিনীচিত্র কিন্তু দিব্যি মনে আছে - আফজাল একজন জননন্দিত শহুরে লেখক - বিপত্নীক - শিশুকন্যাকে নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটে তার - এর মাঝেই গ্রাম থেকে অনাহুত এক আগন্তক (মমতাজউদ্দিন) এসে হাজির হন তার দরজায় - তিনিও একজন লেখক - পার্থক্য এটাই যে তিনি অখ্যাত - শহুরে লেখকের কাছে এসেছেন একটি দাবি নিয়ে - তার স্বরচিত পান্ডুলিপিখানা প্রকাশ করে দিতে হবে - আফজাল তাকে নানাভাবে নিরস্ত করতে চান - বোঝাতে চেষ্টা করেন যে একটি বই প্রকাশ করা কত কঠিন - আর গ্রাম্য এক লেখকের অখাদ্য পান্ডুলিপির কোনো গ্রহণযোগ্যতা শহুরে প্রকাশক বা পাঠক কারো কাছেই নেই - কিন্তু অখ্যাত ওই লেখক নিতান্তই সরল - আফজালের যুক্তিগর্ভ ব্যাখ্যা বোঝার মত বুদ্ধির প্রখরতা তার নেই - আফজালের বাসাতেই তিনি ডেরা গাড়েন - আফজাল তনয়ার সাথে গড়ে উঠে তার মমতার সখ্য - সময় যেতে থাকে - তিনি আশায় আশায় দিন গোনেন -
জীবনযাপন
মাঝে মাঝে বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করে না, কোনো কারণ ছাড়াই মনটা উদাস হয়ে থাকে, বিশেষ করে একটু রাতে যখন রাস্তায় একা, বিস্তর জ্যাম ঠেলে,বিভিন্ন মানুষের ধাক্কা খেয়ে বাসায় ফিরতে হয়, মনে হয় কি প্রয়োজন এই হুজ্জতি করে বাসা ফেরার, এরচেয়ে বরং কোনো অজানা বাসে চড়ে কোথাও চলে যাই,একটু নির্জন একটু কম ঝঞ্ঝাট যেখানে- কয়েকটা দিন কোলাহলবিহীন কাটিয়ে আসতে পারলে মন্দ হয় না।
বাসা যাওয়ার সিএনজি খুঁজছি, হাতে সিগারেট, বাসটা দেখেই সিগারেট ছুড়ে হুট করেই চলন্ত বাসের হাতল ধরে ঝুলে পরলাম, পাদানিতে একপা আর হাতলে এক হাত, বাকী শরীরটা শূণ্যে ভাসছে, বাসের ড্রাইভার কড়া চোখে তাকিয়ে আছে,কন্ডাকটরও দাঁড়িয়ে আছে, নিজেকে সামলে দুটো পা'ই পাদানিতে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই ড্রাইভার বললো কই যাইবেন আপনে?
আমি বাসের পাশে লেখা গন্তব্যের নাম দেখে বললাম ধানমন্ডি-
এইটা ধানমন্ডি যাইবো না, যাইবো রায়েরবাগ, না জিগায়া এমন উঠলেন ক্যান?
যত তাড়াতারি সম্ভব আজই রক্ত দিয়ে আসুন
মেয়েটির নাম ইস্মাত আরা। আজই তার রক্ত লাগবে A+ । রক্ত দেওয়ার ঠিকানা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক, ৭/৫ আউরঙ্গজেব রোড, মোহম্মদপুর ডাকা। মেয়েটি কিছুটা ভালো বোধ করায় রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গতকাল অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় কোমো দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে শ্বেত কণিকা আলাদা করার পদ্ধতি সহজলভ্য না বলে আপনাদের এই ঠিকানায় রক্ত দিতে অনুরোধ করছি। আজ রাতেই রক্তটা তার কাছে পৌছাতে হবে।
ভাবমুর্তি
ছোটবেলায় কারো বাসায় বেড়াতে যাওয়ার আগে আম্মার কাছ থেকে কিছু শিক্ষামূলক হুমকি শুনতাম সেগুলো হচ্ছে
১। বেশি দুষ্টামি করা যাবে না
২। সেই বাসার কোনকিছু ধরা যাবে না বিশেষ করে তাদের বাচ্চাদের খেলনা বা শো-পিস
৩। কিছু খেতে দিলে দেয়ার সাথে সাথে পিরিচের উপর হামলে পড়া যাবে না এবং সবটুকু শেষ করা যাবে না কিছুটা রেখে দিতে হবে।
ভদ্রবালকের মতো মাথা ঝুকিয়ে হুঁ বলে আম্মার হাত ধরে বেড়াতে যেতাম কিন্তু শৈশবের সেই দুরন্তপনাতে কোন উপদেশই ঠিকমতো মনে থাকতো না বিশেষ করে খাওয়ার সময়। দেখা যেতো পিরিচে্র সব বিস্কুট, মিষ্টি বা চানাচুর শেষ করে দিয়েছি আম্মা দুই তিনবার চোখ কটমট করে তাকিয়েছে কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। বাড়ির চাচী যখন চা আনতে রান্নাঘরে গেছে সেই সময় আম্মা আস্তে করে বললো ''বাপজন্মে কিছু খাও নাই? আজ বাসায় চলো খাওয়াবো নি'' দুরুদুরু বুকে বাসায় আসার পর দেখা যেতো আম্মা কোন কারনে সেই ঘটনা ভুলে গেছে আমার ও আর খাওয়া হয় নাই।
যে কারনে ব্যাচ গেটটুগেদারে যাওয়া হলো না!
বাসায় একা বসে আছি। মামা গেছে উত্তরা, খালার বাসায়। মন মেজাজ যথারীতি খারাপ। মন মেজাজ খারাপ না থাকলে আমার আবার ব্লগ লেখার মুড আসে না। গতকাল একটা বাজে এক্সাম হলো তাতে মন মেজাজ খারাপ। এরপর বাসায় আছি একা তাতে কেমন জানি একলা একা লাগতেছে।
অনিমেষ রহমানের রাজনৈতিক গল্পঃ ০৭- সন্ধি
দৌঁড়াচ্ছে মধু হাজী…………! কালভার্টের কাছে এসে পিছনে তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই-হঠাত সচেতন হয়ে উঠলো; কেউ দেখে নাইতো! সামনে পাটোয়ারী বাড়ী-ওহাব পাটোয়ারী একসময় ইয়ারদোস্ত থাকলেও এখন সে হয়ে গেছে দুশমন। তার লোভ আছে পৌরসভা বিল্ডিংয়ের উপর। আগে ছিলো কমিশনার আর তলে তলে বাকশালী। এখন কিছুটা চুপ-চাপ থাকে। ব্যবসা-বানিজ্যে মন দিয়েছে। পাটোয়ারী বাড়ীর কালভার্টের কাছে আসতেই দেখা হলো পাটোয়ারী বাড়ির ছোটো ছেলে-মধু হাজী ঠিক তার নাম জানেনা। উদ্ভ্রান্ত মধু হাজীকে দেখে গোল চশমা পরা ছেলেটা ভয়ে ভয়ে তাকালো।হালকা-পাতলা সুন্দর একটা ছেলে।
-তোমার নাম কি বাবা?
-লেনিন। ছেলেটা ভয়ে ভয়ে বললো।
-ভালো নাম? তুমি ওহাব পাটোয়ারীর ছেলে না?
-জ্বী আমার ভালো নাম হাসান ওহাব ডাক নাম লেনিন।
হাতের কনুইয়ে তখনো কাদামাটি লেগে ছিলো। মাথায় পেঁচানো হাজী গামছা উত্তেজনায় হাতে দলা করে রেখেছে মধু হাজী খেয়াল করে নাই। লুঙ্গিতেও কাদামাটির দাগ। হাজী গামছা দিয়ে কাদামাটি দিয়ে মুছতে মুছতে জিজ্ঞাস করলোঃ
-তুমি কোথায় পড়ো?
-চিটাগাং চাচা।
-ভালো-তুমি কিংবা তোমাদের ভাইদেরকে তো দেশ গ্রামে তেমন দেখিনা।
স্বাধীনতা রক্ষার দ্বায়িত্ব কার?
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এটা ধ্রুব সত্য। তবে এই সত্যের অনেকগুলো তাৎপর্য রয়েছে। যেমন স্বাধীনতার মর্যাদা না দেয়া, বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং সবচেয়ে ভয়ংকর এবং চ্যালেঞ্জিং হলো ভেতরের ছদ্মবেশী শত্রু চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকা। আর এই ছদ্মবেশীদের চিহ্নিতকরনের জন্য মোটামুটি একটা উপযুক্ত স্থান হলো অন্তর্জাল তথা ইন্টারনেট।
হাল ছেড়ো না বন্ধু!
বাথরুম সিঙ্গার কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও, ব্যাপারটা অত খারাপ না। যাদের গলায় সুর আছে, গানের শখ আছে, অথচ শোনাবার মতো অডিয়েন্স নেই তাদের জন্য ওই জায়গার মতো ভালো অডিয়েন্স আর হয় না। তবে গলায় সুর না থাকলে বাথরুম অডিয়েন্সেও শ্রুতিমধুর কিছু বেরুবে না। আমার ধারণা ছিল যে কেউ চাইলেই সা রে গা মা পা ধা নি সা বলে সুর তুলতে পারে। সেই ভুলটা ভাঙ্গলো যেদিন সুবীরের কন্ঠে সারেগামা শুনলাম রিহার্সালে।
খুব বেশী আগের কথা না, বাইশ তেইশ বছর হবে মাত্র। রিদোয়ান ভাইয়ের নাটকের দলে আমরা ছিলাম তার চেলা চামুণ্ডা। সন্ধ্যায় রিহার্সাল রুমে ঢুকে প্রথমেই সবাইকে গলার কারসাজি দেখাতে হতো। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ ছিল সারেগামা। দশ বারো জন একসাথে 'সারেগামাপাধানিসা' করে স্কুলঘরের দেয়াল কাঁপিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা দেখতে খারাপ ছিল না। কেবল এক হরতালের সন্ধ্যায় পাশের রাস্তার কোন এক বেরসিক পিকেটার ককটেল ছুড়ে মেরেছিল রিহার্সাল ঘরের পেছনে। সেই থেকে রিদোয়ান ভাই হরতালের দিনে সারেগামা বন্ধ রাখতেন। সেবার নাটকের শো যখন এগিয়ে আসছিল, রিদোয়ান ভাই সবার গলা আলাদাভাবে পরখ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)
আমি তখন মেয়েটির বিছানার একপ্রান্তে বালিশ হাতের কনুইয়ের নিচে এবং মাথা তালুর ওপর দিয়ে আধশোয়া অবস্থায়, একমনে মেয়েটির গল্প শুনে যাচ্ছিলাম। সে খাটের অপরপ্রান্তে কি ভঙ্গিতে বসেছিলো, সেটা বলেছি আগেই।
উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম, আপনার সমস্যাটা কি? স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মানতে পারেন নাই, নাকি জগতের স্বাভাবিক নিয়মগুলাকে মানতে পারেন নাই? কোনটা?
-সমস্যা এ দু'টোর কোনোটাই না। আমি মানুষ হিসাবে ভালো না, এইটা একটা সমস্যা। আবার আরেকটা সমস্যা হইতেসে, মানুষ হিসাবে ভালো না হওয়ার বাইরে আমার আর যা কিছু সমস্যা আছে- সেইগুলা সব আজো খুঁজে পাই নি। এ দুইটা গন্ডগোলের জন্য নিজেরে গুছায় আনা যাচ্ছে না। চলতেসে গাড়ি, যাত্রাবাড়ী। সেই যাত্রাবাড়ী যে কতদূর আল্লাই জানে।
বললাম, এতো দেখি ঝিক ঝিক, পুরাই ঝিক ঝিক! যাক্ কাঁচি দিয়া কি করেন বলেন তো? মানুষ-টানুষও খুন করে ফেলসেন নাকি এর মধ্যে?