আমাদের সমাজ
সমাজ বলতে আলাদা কোন বস্তু নয় বরং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে মানুষের জীবনধারা, আচারণ-আচরণ ও জীবন ধারার একটা ছককেই বুঝি মশাই। আমি যে সমাজে বড় হয়েছি সেটি খুব উন্নত নৈতিক সমাজ না হলেও যে বর্বর তা বলা যাবে না। ছোট বেলায় যখন স্কুলে যাই তখন মালাউন, মুসলিম এই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হই। ছোট বেলায় বুঝতে পারি; মালাউন একটি নেতিবাচক শব্দ। পিতার কাছে জিজ্ঞেস করলাম মালাউন অর্থ কী? পিতা বলল-যারা বলে তারা না বুঝে বলে এর অর্থ জানার দরকার নেই। কেউ এই নামে ডাকলে উত্তর দেবারও প্রয়োজন নেই। আমার এখনো মনে আছে আমি আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম বাবা মুসলিম কী? বাবা বলেছিল এটা একটা নাম। আমরা সবাই মানুষ এটাই আমাদের পরিচয়। কর্মই ধর্ম এটাই হল আমার বাবার দর্শন। তাই হয়তো কখনো ধর্ম বা হিন্দু-মুসলিম নিয়ে মাথা ঘামানোর ব্যগ্রতা জাগেনি মনে। তাই মানুষের সাথে মেশার ক্ষেত্রে ধর্মীয় চিন্তা ও আঞ্চলিকতপ্রীতি ছিল বিচারহীন ভাবে।
সীসার রাজ্যে পৃথিবী নুডলসময়
বিগত বেশ কয়দিন যাবৎ নুডলসে সীসা পাওয়া গেছে শুনতে শুনতে ভাবলাম সীসার উপস্থিতি নিজে নিজে সনাক্ত করা যায় কিনা। আর করা গেলে সেটা কেমন কঠিন আর ব্যায়বহুল হতে পারে তা জানার চেষ্টা করলাম। উন্নত দেশ গুলোতে "লেড ডিটেকশন কিট" কিনতে পাওয়া যায় আর তা দিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যেই সীসার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। আমাদের দেশে খোঁজ করে দেখলাম এমন কিছু পাওয়া যায় না (হয়তোবা আমার সোর্স ভালো না, অন্যরা খুঁজে দেখতে পারেন)। যাই হোক কাজের কথায় আসি। এখানে আমার এক বন্ধুর কাছে জানতে পারলাম সেই লেড ডিটেকশন কিট চাইলে নিজেই বাসায় বানানো যায়। তার কাছে যা শুনলাম তা হুবহু তুলে ধরলাম।
কি কি লাগবে
১) কটন সোয়াব / কান পরিষ্কার করার জন্য তুলা যুক্ত কাঠি
২) পরিষ্কার ডিসপোজেবল প্লাস্টিক কাপ
৩) সাদা রংয়ের পরিষ্কার ডিসপোজেবল প্লেট / থালা
৪) রাবিং এ্যালকোহল (ইথানল) বা নেইল পলিশ রিমুভার (এসিটোন)
অভিমান নাকি নিস্পৃহতা
দিনের পর দিন কারো সাথে কথা না বললে কী হয়
মনের মধ্যে আর কোন গল্প জমে না
কারো জন্যে কোন অপেক্ষা থাকে না।
সবকিছুতেই কী একটা অদ্ভূত নিস্পৃহতা।
আকাশে বড় একটা চাঁদ উঠলে মনে হয়, কী যায় আসে
ভরা পূর্ণিমায় পৃথিবীর গাছপালা হেসে লুটিয়ে পড়লে মনে হয়, বয়েই গেলো তাতে।
রঙিন ফুলে প্রজাপতির ওড়াওড়ি খানিকক্ষণ চুপটি করে দেখার পর
হয়তো অজান্তেই মৃদু নিঃশ্বাস বেড়িয়ে যায়
কিন্তু কী অদ্ভূত জানো
এই নিঃসঙ্গতার মধ্যে অন্য একটি মাদকতা আছে।
কাউকে ছুঁয়ে না ছুঁয়ে থাকার অন্যরকম ভাললাগা
যার নাম জানা যায় না, যার আসলে কোন নাম নেই।
কল্পনা করতে ভাল লাগে, আচ্ছা কেউ থাকলে কী হতো?
মনের মধ্যে নিশ্চয় কথার ঢেউ বুদবুদ ফুটাতো
সারাদিনের সারাবেলার অর্থহীন টুকিটাকি তাকে হয়তো জানাতে ইচ্ছে করতো
তার গলা জড়িয়ে ধরে কী লুটিয়ে পড়তাম?
সে কি এই আকুলতা অনুভব করতে পারতো?
আমের গপ্পো
চাঁপাই থেকে কিছু আম আনালাম। ল্যাংড়া আর গোপালভোগ। বাসায় লোকবল ৪ জন। বড় পুত্র ক্ষাণিকটা আম পছন্দ করে। সমুদ্দুর একদমই না। মোবাইলে গেম খেলতে দেবো বললে এক পিস খায়। মুখের ভাব দেখে মনে হয়-তিতা ওষুধ খাচ্ছে।
কিন্তু আমের প্যাকেট খুলেতো মেজাজ খারাপ আমার। আমের জাত ঠিকাছে। মাগার সব আম ছোটো। যে পাঠালো তাকে জানালাম। সে স্যরি টরি বলে একাকার। পারলে পা ধরে ক্ষমা চায়। লাভ কী ?
গতকাল এসএ পরিবহন থেকে ফোন করলো। আমার নামে এক খাঁচি আম এসেছে। কোত্থেকে, জানতে চাইলাম। বললো, চাঁপাই থেকে। ওই বেটা আবার আম পাঠাইছে। গেলাম। আমের খাঁচি নিলাম।
বাসায় গিয়ে খুলে দেখলাম, এবারের আম মোটামুটি বড়। ওই লোককে ফোন করলাম। আবার কেনো আম পাঠাইছে, জানার জন্য। বেটা বলে কী, স্যার, আগের আম ছোট পড়ছে। আমি লজ্জিত। তাই আপনের জন্য আবার আম পাঠাইলাম। কত কেজি ? দাম কত ?
প্যারেডি গানের কী ছিরি...
অনেকদিন আগে কোনো একজন বিবাহিত লোকের মুখে শোনা গান।
'তুমি কি দেখেছো কভু, জীবনের পরাজয়। দুখের দহনে করুন রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়' এর প্যারেডি গান এটি:
সাধে কি বলিগো আমি
এ জীবন জ্বালাময়
বিয়ার পরেতে
বউয়ের জ্বালায়
তিলেতিলে মোর ক্ষয়।।
প্রতিদিন কত শালা-শালী আসে
বোনের খবর নিতে
সারারাত মোর বাইরে কাটে
মশার কামড়েতে।
নিউমার্কেটে পকেট আমার
শূণ্য হয়ে যায়
মুদির দোকানে বাকীর খাতাটা
পূর্ণ রয়ে যায়।
এক সাধের বউ তবু মোর
মুখ ভার করে রয়...
বিয়ের পরেতে বউয়ের জ্বালায়
তিলে তিলে মোর ক্ষয় ।।
স্নো-পাউডার-গহনা পর্লার
প্রতিদিন বায়না
হাইহিল আর সিনেমা ছাড়া
তাকে মানায় না
এই করে করে পকেট আমার
শূণ্য হয়ে যায়
মুদির দোকানী আমার দিকে
আড় চোখে তাকায়
এত সাধের বউ তবু মোর
মুখ ভার করে রয়...
বিয়ার পরেতে
বউয়ের জ্বালায়
তিলেতিলে মোর ক্ষয়।।
সাধে কি বলিগো আমি
এ জীবন জ্বালাময়
বিয়ার পরেতে
জিয়াউর রহমান
১৫ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছিলো। ৯ম খন্ডে স্বাধীনতা যুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের সাক্ষাৎকারভিত্তিক বর্ণনা আছে। চট্টগ্রামে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহন করা শমসের মুবিন চৌধুরী এবং হারুন আহমেদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার আছে সেখানে। কি প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রামে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হলো তার কিছুটা বর্ণনা সেখানে পাওয়া যায়। শমসের মুবিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিলো ২০শে অক্টোবর ১৯৭৩ এবং হারুন আহমেদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিলো ১৭ই জানুয়ারী ১৯৭৫ এ।
২৩শে মার্চ খালেকুজ্জামান চৌধুরী, অলি আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, শমসের মুবিন চৌধুরী এবং হারুন আহমেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের বাসায় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে তাদের জানান " আমরা আপনাদের সাথে আছি। আপনাদের পক্ষ থেকে যদি ঠিক সময়ে কোনো সাড়া বা আভাস পাই আমরা কিছু করতে পারি।"
বিষাদ গুচ্ছ টব (১)
বয়স তার ষোল, যদিও মায়ের হাত বাদামি পনেরোকে স্বচ্ছ তুতে রঙে ঢেকে নিয়ে আসে সকালের গোড়ায়, গভীরে সে আজও আকন্ঠ বাদামি। যে বাবা স্বপ্নে দেখেছিলো এক ফুটফুটে মেয়ের, স্বপ্ন দেখেই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার দিনে, ট্রেনে উঠার আগে মুন্সী বাজার ঘুরতে ঘুরতে সেই বাবার মনে ধরে মিহি বাদামি যেন ফুটফুটে মেয়ের গায়ের রঙ।তখনো কমলালেবুর ন্যায় পৃথিবীটা জানেনি এই বাবার কোনদিন দেখা হবে না এক বাদাম রঙা মুখ, কোনদিন কেনা হবে না মেয়ের জন্য শখের মাটির পুতুল, বাদাম রঙা সেলোয়ার কামিজ, কলাপাতা রঙের চুড়ি, বড়োবেলার প্রথম শাড়ি।
মরতে মরতে এবারও বেঁচে গেলাম
৩ জুন কোলকাতা যাবার প্ল্যান আমাদের তিন জনের। এটা পুরোনো গল্প। গত মাসের শেষের দিকে টিকেট করে রেখেছে এক বন্ধু। জিপি ব্যবহারের বদৌলতে ১০% ছাড়ের অফার ছিলো সৌদিয়া বাসে। বন্ধুকে বললাম। সে পাত্তা দিলো না। টিকেট কাটলো গ্রিণলাইন বাসের। পান্থপথ থেকে বাসে উঠলাম রাত ১১.৩০ এ। ছাড়ার সময় ছিলো ১১.১৫। গোড়ায় গলদ। ভয়াবহ গরম। বাসে উঠে টের পেলাম- এসিটা ঠিকমত কাজ করছে না। কী আর করা। আল্লার নাম নিয়ে রওয়ানা দিলাম।
রাষ্ট্র ২
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিবছর ইংল্যান্ডে তাদের শেয়ার মালিকদের বাৎসরিক প্রতিবেদন এবং লভ্যাংশের হিসেবে বুঝিয়ে দিতো। সামুদ্রিক বাণিজ্য লেনদেন নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা অর্জন করে ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে নিজের উপনিবেশসীমানা বাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং মানবতাবাদী ধ্যান ধারণার বিকাশের ফলে ইংল্যান্ডে ঈশ্বরবিমূখ শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিলো। খ্রীষ্টান ধর্মযাজকেরা এইসব ঈশ্বরবিমুখ মানুষদের ঈশ্বর অভিমুখী করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কেম্ব্রীজ- অক্সফোর্ড শিক্ষিত ধর্মযাজকেরা নিজস্ব ধর্ম প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে বন্দর এলাকায় চার্চ প্রতিষ্ঠা করে এইসব হৈ-হুল্লুড়ে বেহদ্দ মাতালদের যীশুর ভালোবাসার পথে নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন।
এসএসসি নিয়ে কিছু ভাবনা... এবং বাস্তবতা
দু দিন আগেই এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় পড়লাম পরীক্ষায় পাশ করা এক ছাত্রীর মা বলছে "সাফল্যের পেছনে কৃতিত্ব স্কুলের নয়, আমাদের"। বিষয়টা অনেকেই কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে দেখে নাই। হাজার হাজার এপ্লাসের ভীড়ে এই সংবাদটা অনেকেরই চোখে পরে নাই।
আমার বাচ্চাটা (ঋহান) মাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু করছে। এই শুরুতেই কিছু বিষয় আমি দেখেছি। সামনে হয়তো আরো অনেক কিছু দেখতে হবে। সে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই ঋহানকে নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। স্কুল শুরুর এই সময়টাতেই আমরা যা দেখেছি...
১. ভালো স্কুলে ভর্তির জন্য দুই বছরের কোচিং করতে হবে (ওই স্কুলের নির্ধারিত কোচিং সেন্টারে);
২. ভর্তি পরীক্ষায় না টিকলে পরের বছর বয়স কমিয়ে আবার পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে;
৩. পরীক্ষায় যদি চান্সও পায় ভর্তির সময় ডোনেশন নামের এককালীন টাকা দিতে হবে;
আমার মহানায়ক
প্রত্যেক মানুষের জীবনে তার কিশোর যৌবন কালে প্রিয় সিনেমার নায়ক, রাষ্ট্রপ্রধান,শিক্ষক থাকেন। আমি কিশোর ও যৌবন বললাম এ জন্যই যে এই সময়কার ভাললাগা বা ভালবাসাই প্রকৃত ভাললাগা ও ভালবাসা। তার পরে যা হয় তা অনেকটা শঙ্কর জাতীয়। এটা আমার মতামত। অনেকে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।
আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এলেন, ঠাকুরগাও এর সাসালা পেয়ালা খাল খনন করতে। আমরা সালন্দর হাইস্কুলসহ সকল স্কুলের ছেলেমেয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা দল বেঁধে গেলাম সেই খাল খনন অনুষ্ঠানে।
আমরা যখন পৌছলাম তখন উনি অনুষ্ঠানে উপবিষ্ট, খাল খনন এর উপর একজন শিল্পী গান গাচ্ছিলেন। এই প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াকে সামনা সামনি দেখি।
সবকিছু বরং অসাড় করে রাখি
বোঝার চেষ্টা ছেঁড়ে দিয়েছি বছর কয়েক আগে
শিশুসুলভ কৌতূহল আমার
দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঘাতকের নীরব আক্রমণে;
আজকাল তাই আর বোঝার চেষ্টা করি না কিছু-
সম্পদের অপচয়,
অপরাধী, প্রধানমন্ত্রী কিংবা নিছক বুদ্ধিজীবীদের মনস্তত্ত্ব।
একটা ধর্ষণ অথবা খুন,
অ্যামেচার ক্রাইম, আমার দুর্বিনীত আলসেমি, বেয়াদবি
বোঝার চেষ্টা করি না কোন আগামী অপেক্ষা করছে সাদা জামায়
কলেজের কিশোর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবুঝ তরুণীটির জন্য ;
বুঝতে চাই না, খুঁজতে যাই না আমার ও আমাদের জ্ঞান, শক্তি
আমার কালো ফুসফুস-হৃদযন্ত্র, স্বদেশী বাজার, খাবারের স্বাদ;
কাঁঠালচাঁপার রঙ, রহস্য, প্রেম-
এ সমাজে সবকিছু বোঝার সামর্থ্য হারিয়েছি
প্রেম আর স্বপ্নের পোস্টমর্টেম
করতে গেলে আঙুলের নখে জমা হয় কালের আবর্জনা
দাপাদাপি করে হতাশ হরমোন
ওরা আমার দেহমন বিষাক্ত করে রাখে
শুকিয়ে শুন্য হয়ে আসে মস্তিস্ক,
নাড়ির টান
ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রামের বাড়ি যায় নি।বাড়ি থেকে ফোন আসছে "বাবু কবে আসবি"?তারাতারি চলে আয়। আম সব পেঁকে গেছে,লিচু গুলো বাদুড়ে খাচ্ছে,জাম গুলো রং হওয়ার আগেই বদমাইশ ছেলেপিলে পেড়ে নিয়ে যাচ্ছে, ৪ টা কাঁঠাল চুরি হয়ে গেছে!আরো কতশত অভিযোগ!
কাউকে কিছু না বলে হুট করে ভোর সাড়ে ছটায় চোখ দুটো দুহাতে কচলাতে কচলাতে কমলাপুর হাজির!
হ্যাঁ, বাড়ি যাচ্ছি নাড়ির টানে।তোমাদের এই ইট কাঠ, ধুলোবালির আর মিথ্যে কথার শহর ছেড়ে যাচ্ছি বুনোফুল আর কর্দমাক্ত মাটির ঘ্রাণ নেব বলে।খোলামাঠ আর মেঘ রৌদ্দুর আকাশটা দেখিয়ে বলব "এই দেখ আকাশটা আমার"
তোমাদের এই সুড়কি আর চুনাপাথরের শহরে সব কিছুই কেমন জানি মেকি মেকি লাগে এবং আকাশটাও।বাড়ি যাচ্ছি ট্রেনে চেপে! বাড়ি যাওয়া উপলক্ষে মনে
হয় মেঘ গুলো খুশি হয়েছে!ট্রেনের গতির সাথে
পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছে পিছু পিছু!
স্বপ্নহীন জীবনে যখন
আমি ঢাকার যে এলাকায় বড় হয়েছি সেখানে আমরা চার পুরুষ ধরে আছি হয়তো এখন পাঁচ পুরুষে পৌঁছে গেছি, কে জানে। আমাদের এলাকাতে আরো অনেকেই আছেন যারা কয়েক জেনারেশান ধরে এখানে আছেন। বাবাদের কাছে গল্প শুনেছি ছোট বেলায় বাতিওয়ালা এসে রাস্তায় বাতি জ্বেলে দিয়ে যেতো। গ্রাম থেকে লঞ্চে সদরঘাট এসে অনেকেই মাথায় বোঝা নিয়ে ধানমন্ডি, গ্রীনরোড পর্যন্ত হেঁটে আসতো। অনেক এলাকাতেই দিনের বেলায় শেয়াল ডাকতো, ঘন জঙ্গল ছিলো। আমি নিজেও ছোট বেলায় অনেক ফাঁকা ঢাকা দেখেছি। এখন ঢাকা অনেক ব্যস্ত, আমরা যে এলাকার বাসিন্দা সেতো মহাব্যস্ত।
অসুখের রাত
এরকম রাত অসহ্য লাগে
বন বন ঘোরে বিদ্যুতের পাখা
কানে বিরক্তি ঢালে হিন্দি চ্যানেলের সুর
বাতাসে উড়ে যায়
সস্তা বিড়ির ছাই
উড়ে আসে চোখের পাতার নীচে
যন্ত্রণা দেয় ভীষণ
কষ্ট দেয় তোমার অবিশ্বাস,
সঙ্কোচ আর অনর্থক ভয়-
আমাদের বন্ধুত্ব-ভালোলাগার নিবিড় পরিচয়
এ সব কিছু নিশ্চয়ই নিষ্ফল হবার নয়।
এরকম রাত অপার্থিব মনে হয়
মানবিক সন্দেহ আর দৈব ষড়যন্ত্র
ভারী করে দেয় বাতাস
হারিয়ে দেয় মানুষদের
বিষে ভরিয়ে দেয় নিঃশ্বাস
বালিশে, পেন্সিলে, টাইপ-রাইটারে
স্বস্তি খুঁজতে থাকি
শেষ কবে ঘুমিয়েছিলাম পেট পুরে খেয়ে -
মনে পড়ে না, এ অস্বস্তি পিছু ছাড়ে না
বাতাস বয় না, গাছের ডাল আর পাতারা নড়ে না
দীর্ঘশ্বাস অনুভবে; আবদ্ধ অন্ধকারে চেয়ে।
এরকম রাত নিঃস্ব করে দেয়
আমাদের যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা
সম্পদ আর সুযোগের অভাব
আরও কয়েকগুণ বাড়ায় অস্থিরতা
শব্দে শব্দে মুহূর্তরা বলে শুধু- নাই