চোখের নয় মনের হ্যালুসিনে’শন (প্রথম পর্ব)


চোখের নয় মনের হ্যালুসিনে’শন (প্রথম পর্ব)
সেটা ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি। কি কারনে যে বি, আ, টি রাজশাহী ( বর্তমান রুয়েট) বন্ধ হয়েছিল মনে নেই। আমি তখন শেষ বর্ষের ছাত্র।
ঠাকুরগাও যাবার শেষ স্টেশন সৈয়দপুর রেল স্টেশনে যখন নামলাম রাত তখন সাড়ে দশটা। এত রাতে ঠাকুরগাও যাবার কোন বাস তো দুরের কথা ট্রাক ওয়ালারাও নিতে চাইবে না। তাই কি করব ভাবতে লাগলাম। শুধু যে এখনই ভাবছি তা নয়, যখন বুঝতে পারলাম আজ অনেক রাত হবে তখন থেকেই ভেবে চলেছি, সৈয়দপুর নামার পরে কোথায় থাকব?
নিতান্তই ব্যাক্তিগত!
রাতে আজকাল ঘুম আসে না। আগে তিনটার দিকেও ঘুম আসতো, এখন তাও আসে না। শরীরের ক্লান্তির সব ঘুম আসে দুপুর কিংবা বিকেলে। বিকেলে ঘুমিয়ে সন্ধ্যা সাতটা বাজিয়ে দেই অনায়াসে। আমার বন্ধু কামরুল ইসলাম সুখী মানুষ। সে বারোটায় ঘুমায়, বিছানায় গা এলানোর সাথে সাথেই নাকি তাঁর ঘুম চলে আসে। আমার এ জীবনে তা কখনোই হলো না, অসুস্থ না থাকলে যত ক্লান্তই হই বিছানার সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে ঘুমাতে হয়। এই সমস্যা অনেকেরই। আমার তাঁদের চেয়েও বেশী। তাই বিছানার সাথে যুদ্ধের সময়টুকু আমি বই পড়ে কাটাই, পড়তে ইচ্ছে না করলে মোবাইল নিয়ে গুতাই। ফেসবুক কিংবা ব্লগ দেখি। কথাই তো আছে, যারা মোবাইলে ফেসবুক চালায় তারা শুয়ে পরার আরো ২ ঘন্টা পড়ে ঘুমায়। মাঝে মধ্যেই আমার মাথায় ভাবনা আসে, বেঁচে থেকে লাভ কি?
মা
খুব কাছাকাছি থেকে দেখা চারজন মা কে আমি দেখেছি অনুভব করেছি।
১। দাদী- অশিক্ষিত, নারী বা নারী অধিকার এই সব শব্দের কোন মানে ই তার কাছে নেই। তিন ছেলের মা। ছোট ছেলের যখন ৩ বছর আমার দাদা আরেক বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে আসে। আমার দাদী কাউকে কিছু না বলে খুব যতনে নিজের ঘর, নিজের অন্ন নিজের জীবন বিচ্ছিন্ন করে ফেলে সংসার থেকে। সে তার নিজের আলাদা সংসার তৈরি করে এক ই বাড়িতে তার ছেলেদের নিয়ে। সেই সংসার আমারে আমার দাদার কোন সাহায্য দিয়ে চালিত না। সে তার ছেলেদের নিয়ে ই সেই সংসারের দায়িত্ব নিয়েছে এবং পরিচালিত করেছে। কারো কাছে কিছু আশা করে্ন নি (৮৫ বছর বেঁচে ছিলেন)। ছোট দাদির ছেলেরা ও আসলে আমার দাদির কাছে ই বড় হয়েছে। ছেলেদের ও নিজের মতো আত্মমর্যাদা সম্পন্ন একেকজন মানুষ হিসেবে তৈরি করেছেন। যে ই তার সংস্পর্শে এসেছে সবাই একজন সহজ সরল মা কে অনুভব করেছে। নিজের ছেলে, পরের ছেলে, ছেলের বউ, সবাই তার মাঝে মা কে ই পেয়েছে।
ইংরেজী সাবটাইটেল।।
আজ যথেষ্ট গরম কম। বৃষ্টি হবে হবে করছে, বাইরে ব্যাপক বাতাস। আমি বাসাতেই বসে আছি। বাসাতেই আজকাল আমাকে থাকতে হয়। ভালো লাগে না কিছুই। বাইরেও ভালো লাগে না। বসে থাকি তো থাকি। আগে বাসায় অসময়ের বিছানায় শুয়ে থাকতে মেজাজ খারাপ লাগতো। এখন লাগে না। বিছানায় আছি তো আছি, না ঘুমিয়েই শুয়ে আছি। বসলেই প্যারা শুরু, ফেসবুকের নিউজফিড দেখার প্যারা, দিনের পর দিন নতুন ইস্যু নিয়ে মেজাজ খারাপ- খবর টবর জানার প্যারা, বিনোদনের জন্য ইউটিউবে গান দেখার প্যারা, সিনেমা দেখার প্যারা। নতুন পোলার আইস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের মতো বলি, পিসির সামনে বসলেই প্যারা অন!
দুই তারে
দুটোই।
লোহার শেকল অথবা সুক্ষতম রেশমি সুতো।
অবাক সময় দোল খায় চিকন তারের টানে!
হালখাতায় লিখে রাখছি নগদবকেয়া হিসাব-নিকাশ
আবার হুট করে ঢুকে যাচ্ছি সমান্তরে ।ছেড়ে দিয়েছি ঘুড়ির সুতো ;
নাটাইসুদ্ধ।
কৃষ্ণভৃঙ্গের হুলের ভেতর ঢুকে পড়ছে বেহিসেবী দোদুল্যমানতা ।
ভাসানের প্রতিমা হয়ে কতবার ভেসে গেছি
আবার ভাটিতে ফেরা অবিকল নয় ; অবয়বে স্রোতের আঁচড়চিহ্ন ।
জল টেনে নিয়েছে অশ্রুর মতো মুক্তোদানাগুলো ।
হাতগুলো পাথরপাথর ;
কিছুই ধরতে পারেনা
না ফুল
না অমৃতপেয়ালা।
নোনাজলে ক্ষয়ে গেছে পা।
শৈত্যপ্রবাহের চূড়ায় আঁকার কথা ছিল যুগল পদচিহ্নের ছবি ।
ভিন্ন ছবি !
ভিন্ন পদচিহ্ন !
গোপালপুরের গণহত্যা
৫ই মে, ১৯৭১। নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গোপালপুর সদর। অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বাঙ্গালী নিধনের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে অবস্থিত সেনা সদর দফতর থেকে স্থল পথ এবং আকাশপথ ব্যবহার করে সেনা পাঠানো হয় পাবনা, ঈশ্বরদী এবং নাটোরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে। আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত সেনাবাহিনী দখল করে নেয় বাঙ্গালীদের ঘাঁটি গোপালপুরের চিনিকল। প্রায় ২০০ চিনিকলের বাঙ্গালী কর্মচারীকে জড়ো করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে।
রুপান্তর
ঠিক কি কারণে এতোটা বিষাদগ্রস্ত হলাম আমি-
এতোটা পথ হেঁটেও বঞ্চিত হলাম কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য থেকে-
আগামীকে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হলাম জরুরী বার্তা-
ঠিক কোন কারণে?
রিকশাওয়ালার সাথে দুর্ব্যবহার করে
শিক্ষকদের অমানবিক আচরণ করতে দেখে?
প্রেমিকার জন্য নিরাপদ আবাস খুঁজে না পেয়ে?
রাস্তায় নগ্ন শিশুদের অনাদরে ঘুমাতে দেখে?
হয়তোবা আমাকে ঘিরে বাবার অশেষ স্বপ্ন শুনতে শুনতে-
হয়তোবা মানুষদের অমানুষে রূপান্তরিত হতে দেখে-
হয়তোবা-
জীবনের অসীম অভাবের তাড়নায় বার বার লজ্জিত হয়ে-
কে জানে?
হয়তোবা এমন আরও অনেক কিছুর কারণে-
আমি ক্ষয়ে যাচ্ছি বুড়ো হাড় হয়ে
বয়ে যাচ্ছি নর্দমায় যুবকের প্রস্রাব হয়ে
পুড়ে যাচ্ছি মাদক হয়ে
বিষে ভরা বায়ুমণ্ডলে মিশে যাচ্ছি
কুকুরের দীর্ঘশ্বাস হয়ে;
মরে যাচ্ছি প্রেমিকার অসহায়ত্ব হয়ে
রাজনীতিবিদ আর সমাজকর্মীদের মিথ্যা হয়ে
ভেঙে যাচ্ছি সন্ত্রাসীর সাবাড় করা মদের বোতল হয়ে
সুনাগরিকের ভোট কার্যক্রম
ছোটবেলায় পরিবেশ পরিচিতি সমাজে পড়েছিলাম রাষ্ট্রের নাগরিকের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য। যারা তা পালন করে তাঁদের সুনাগরিক বলে। সুনাগরিকের অনেক কাজের কয়েকটা হলো রাষ্ট্রের আইন কানুন মেনে চলা ও ভোটে অংশগ্রহণ। ভোট নিয়ে আমার ছোটবেলা থেকেই যথেষ্ট ফ্যান্টাসি। বড়রা ভোট দেয়, আমিও একদিন বড় হবো, খুলনা নেভী স্কুলে আলম আরা ম্যাডামের আঙ্গুলে দেখতাম দাগ, আমি প্রশ্ন করেছিলাম ম্যাডাম কাকে ভোট দিলেন?
তোমাদের সাথী হতে চেয়েছিলাম বলে
গুলিবিদ্ধ পাখির মতন
নিশ্চল ডানা আর রক্তাক্ত পাঁজর নিয়ে
আমি ফিরে আসছি মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বুকে-
ওরা রাইফেল আর দূরবীন নিয়ে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
তিন ভাগ জল আর এক ভাগ মাটি।
ওদের উদযাপন অপেক্ষা করছে আমার মৃত মাংসের জন্য-
আমি হারিয়ে যাচ্ছি- হারিয়ে যাচ্ছি-
(সড সড স ডর ফে হ হ ক জক ল ফ ড ড)
ডেভ১০১, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক সেমিস্টার, ট্রেইনিং বনাম লার্নিং
ধরুন আপনাকে ২০ জন বাংলা মিডিয়াম এবং ১০ জন ইংলিশ মিডিয়াম, মোট ৩০ জন ছাত্রছাত্রী দেয়া হল। তাদের গড় বয়স ২০ বছর অর্থাৎ যথেষ্টই ম্যাচিউর। আপনার দায়িত্ব বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে এদের কিছু অংশ ‘শেখানো’। আপনাকে বেঁধে দেয়া সময় ত্রিশ দিন। আপনি(আমি) নিজের সুবিধার্থে বেছে নিলেন ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১। প্রথমে আপনি যে কাজটা করতে পারেন তা হল একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা, যেহেতু আপনার হাতে সময় কম এবং শেখানোর বিষয়টা অনেক বিস্তৃত। বলা বাহুল্য আপনার ৩০ জন ছাত্রছাত্রীর ২৭ জন অর্থাৎ ৯০% নিজের দেশ, রাজনীতি ও ইতিহাস সম্পর্কে ‘ব কলম’ এবং ৭০% ‘ক অক্ষর গো-মাংস’। প্রথম ২৭ জনের ৩ জন অর্থাৎ মোট পরিমাণের ১০% মুখস্ত বিদ্যায় অতি মাত্রায় পারদর্শী এবং আরও ৩ জন সত্যিকার অর্থেই মেধাবী। বাকি থাকে ৭০% অর্থাৎ ২১ জন, যাদের সিংহভাগ মাঝারি লেভেলের স্টুডেন্ট আর বাকিরা হালকা থেকে তীব্র মাপের ফাঁকিবাজ। এদের ৮৫% আবার বই পড়ায় বিন্দুমাত্রও আগ্রহী না
শোয়া যায় না
''তা মশাই, কি হচ্ছে এসব?
কি যে হচ্ছে তা ওরাই ভাল জানে। আমি আম গাছ। আমগুলো বতী হচ্ছে আমার- এর বেশি কিছু জানি নে।''
আমরা ছয়জন আমগাছের সাথে কথা বলছিলাম। শাহবাগের এটিএম বুথটার সামনে দাড়িয়ে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে হলদে রঙ ধরা আমগুলোর দিকে। আমরা টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে কয়েকটা জায়গায় দাড়িয়ে বসে রাত পৌনে বারোটার দিকে শাহবাগের গাছের আমের নিচে দাড়িয়ে আছি।
আমাদের দেশ, আমাদের গল্প, আমাদের স্বপ্ন
নেদারল্যান্ডসে প্রাইমারী স্কুলের শেষের দুই ক্লাশে বাচ্চাদেরকে স্কুলে প্রেজেনটেশান (spreek beurt) করতে হয়। ল্যাপটপ, স্লাইড, প্রজেক্টর সব দেয়া হয়। বলা হয় তাদের পছন্দমত একটি বিষয়কে বেছে নিতে আর তার ওপর তথ্যমূলক প্রেজেনটেশান বানাতে। বাচ্চারা প্রায় পাঁচ-ছয় মাস সময় পায় কারণ স্কুল শুরু হলেই বছরের শুরুতে তাদেরকে সারা বছরের কারিকুলাম দিয়ে দেয়া হয় এবং সাধারণত তার কোন রদবদল হয় না।
কাঠবিড়ালির দিনযাপন
আমার যা ভাল লাগে না তা আমি কোন সময়ই করি না। এমন কী কেউ যদি আমার অপছন্দের কাজগুলো করে তাও সহ্য করতে পারি না। তবু ক্ষমতা আর দম্ভের পূজারী এই দুনিয়াকে অস্বীকার করা যায় না। আজকাল চোখ বুজে থাকার চেষ্টা করছি; কিছুই দেখিনি বলে কিছুই হয় নি, কাকের কাছ থেকে শেখা এই নিয়মে ভিত্তি করেই দিন যাপন করছি। দুর্বলের কাছে অনিয়মের প্রতিবাদ করার চেয়ে শত নিয়ম পালনের দোহাই দেয়াটাই শ্রেয়, তাই করছি আর কি! মাস খানেক হয় মানিকগঞ্জে আসছি। নিরব, নিথর, শান্ত, ছোট শহর। ছোট বলতে ত্রিশ মিনিট হাঁটলেই শহরের এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে যাওয়া যাবে। এখানে মানুষের কোলাহল নেই, যানযটের মত উদ্ভট যন্ত্রণার বালাই নেই, বিশ্রী রাজনৈতিক ঝামেলারও খুব একটা প্রধান্য নেই, নেই ঢাকার মত ধূলিবালির এত বাতাসও। সব মিলে ভালই।
আমি যাকে ভালোবাসি-- কবীর সুমন
এই গানটা আমার অসম্ভব প্রিয়। বিশেষ করে যে রাত গুলোতে এমন ঝড় ঝড় ভাব হয়, কারেন্ট আসে যায়, ঘুম আসছে না। তখন আমি টানা শুনেই চলি এই গান। বিশেষ করে জামালপুরে, সেখানে আগে আগে শুয়ে পড়তে হয়, বই পড়তে পড়তে টায়ার্ড লাগে তখন এই গান শুনি, শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি। অবশ্য সব সুমন ভক্ত আমার মতো না। যেমন আমার বন্ধু জেমসের ঘুমানোর গান হলো কবীর সুমনের আরেকটা গান 'কাঙ্গালপনা; কিংবা 'ঘুমাও বাউন্ডুলে ঘুমাও এবার'। অঞ্জন দত্তের আবার আরেকটা। উনি সুমনের 'তিনি বৃদ্ধ হলেন' শোনা ছাড়া ঘুমোতে পারেন না বলে এক ইন্টারভিউতে পড়েছিলাম। তুলনাহীন এক প্রতিভা সুমন চাট্টুজ্যের। চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত বলেছিলো, সকাল সকাল ব্রাশ করতে করতে সুমন দাদা যা লিখেন, তা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেন। সেই ফেলে দেয়া ঝুড়িতে যা আছে ওরকম লেখা অনেক মানুষ সারাজীবনে লিখতে পারে না। উনার অনেক গানই তো দারুন, এই গান তবুও নিশুতি রাতে শুনতে আমার ভালো লাগে।
মেয়র যদি হতে চাও তবে ঝাড়ুদার হও আগে!
ঢাকার মেয়র ইলেকশনের প্রচারণা দেখে মনে হচ্ছে, মেয়র হচ্ছেন তাঁরা বুঝি শহর ঝাড়ু দেওয়ার জন্যে! কী প্রতারণা দিয়ে এসব ভদ্রলোকদের প্রচারণা শুরু! মেয়রদের কাজ শহর ঝাড়ু দেওয়া নয়, ঝাড়ু দেওয়ানো। ভয় হয়, মেয়র হয়ে তাঁরা মেথর বেচারার চাকরিটাই না খেয়ে দেন!