"৮ নাম্বার বাস"
“৮ নাম্বার বাস” নিয়ে লিখবো এরকম একটা ইচ্ছে বহুদিন ধরেই পুষে আসছি। লেখা হয়ে উঠেনি। কারণ নেই, স্রেফ হয়নি।
ইচ্ছে ছিল ৮ নাম্বার বাসের ঐ হেল্পারের দৃঢ় কন্ঠ নিয়ে গল্প লিখবো, যে কিনা অবিরত বলে চলে, “ঐ যাত্রাবাড়ি-মতিঝিল-পল্টন-শাহবাগ-ফারামগেট-কলেজগেট কিংবা গাবতলি-কল্যানপুর-শ্যামলী-ফারামগেট-মতিঝিল-শাহবাগ।“ বলবো তার খিস্তি খেউর খাওয়ার গল্প। কিভাবে যাত্রীরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় প্রায়শই গালিগালাজ করে। আর বলবো তার এসব ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করার গল্প। তার তো চটে গেলে চলবেনা, তার আরো কিছু রোজগার দরকার আরেকটু ভালো করে চলার জন্য। তাই সে এসব গ্রাহ্য না করে নিজের মত ডেকে যায় গলা খাকড়িয়ে, “ঐ যাত্রাবাড়ি……………………………,
কথপোকথন
সকাল থেকেই তাথৈ এর মন ভাল নেই। মাঝে মাঝে দিনটা এত বিষণ্ণভাবে শুরু হয় যে ঘুম থেকে উঠেই রাজ্যের ভাল না লাগা এসে মনকে আচ্ছন্ন করে রাখার জন্য যথেষ্ট। একটানা শুনে চলছে লিওনেল রিচির সেই বিখ্যাত গান-
হ্যালো, ইজ ইট মি ইউ লুকিং ফর
কজ আই ওন্ডার হোয়্যার ইউ আর
এ্যান্ড আই ওন্ডার হোয়াট ইউ ডু
আর ইউ সামহোয়্যার ফিলিং লোনলি
অর ইজ সামওয়ান লভিং ইউ
টেল মি হাউ টু উইন ইওর হার্ট
ফর আই হ্যাভন্ট গট আ ক্লু
বাট লে মি স্টার্ট বাই সেয়িং
আই লভ ইউ।
থ্রী- টু -ওয়ান -জিরো একশন !!!!!
থ্রী- টু -ওয়ান -জিরো একশন !!!!!
ছোটবেলায় নাটক সিনেমা দেখার সময় কাহিনী বোঝার থেকে বেশী ভাবতাম, কিভাবে নাটক সিনেমা তৈরি করে। আর নায়ক মারা যাওয়ার পর কিভাবে আবার জীবিত হয়! আর ভিলেনের শত শক্তি থাকা সত্তেও কেনই বা সে নায়ক কে হারাতে পারে না???
মাথার ভিতর এইসব প্রশ্ন গিজ গিজ করতে করতেই এক সময় টিভি স্ক্রীন এ লেখা আসত দ্যা এন্ড!
২০০২ সালে পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে অচেনা এক ব্যস্তমুখী শহর ঢাকায় এসেছিলাম পড়াশুনার জন্য, পথে আসার সময় যমুনা সেতু (তখন পৃথিবীর ১১ তম দীর্ঘ সেতু) দেখার আনন্দ ওহ সে এক অদ্ভুত অনুভুতি তা না হয় আর একদিন বলব।
এইভাবে রাত নামে, শহরে শীতের টান বাড়ছে!
সকাল থেকে ভাবছিলাম হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে। কয়েকদিন আগে পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকা শহর, ৬৬ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে। আমার ভাবনার পয়েন্ট ছিল, মাত্র ৬৪ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন, আমি তো কত অকম্ম মানুষদের দেখি, যারা সত্তর আশি বছর বেঁচে থাকে মূর্খ ও হতাশ জীবন নিয়ে, হয়তো তাঁদেরও বেঁচে থাকতেও ভালো লাগে না। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ কঠিনভাবে জীবনকেই ভালোবাসতেন। আপসোস করে বলতেন, কচ্ছপ নামের প্রানীর আয়ু ৩০০ বছর, আর মানুষ নামের শ্রেষ্ঠ জীবের আয়ু ৫০-৬০, ঈশ্বরের এই ব্যাপার স্যাপার মেনে নেয়া কষ্টের। ছেলের সাথে ছবি তুলতে চাইতেন, কারন ধারনা ছিল ছেলে হয়তো তাঁকে ভুলে যাবে। মৃত্যুর পর সবাইকে জীবিতরা ভুলে যায়। আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, কলোনীর শোয়েব নামের এক ছেলের বাবা মারা যায়। প্রায় সমবয়সী সে দুদিন পরেই ক্রিকেট খেলতে আসে। আমি আর আমার বন্ধু আক্তার অবাক হয়ে ভাবতাম, কিভাবে পারে খেলতে যার বাবা কোনোদিন ফ
সরি বন্ধু!!!
শৈশব আর কৈশোরের স্কুল জীবনের দিনগুলি সত্যিই অনেক আনন্দের ছিল। মফঃস্বল এলাকায় লেখাপড়ার মান যাই থাকুক না কেন সেটা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথাই ছিল না, কারন মান জিনিসটাই আমি সেইসময় বুজতাম না। জীবনের লক্ষ বলে কিছু একটা থাকা আমার ভিতর তখনো ছিল না আজ ও নেই। মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য কিছু লক্ষ জন্মালেও তা পরক্ষণেই বিনাশ হয়ে যেত।
বাবা মায়ের একটাই কথা ছিল মানুষের মত মানুষ হতে হবে, আমি এখনো জানি না কি করলে বাবা মায়ের সংজ্ঞা অনুসারে আমি মানুষ হতে পারব।
থাক এবার আসল কথাই আসি, আমি থাকতাম অজপাড়া এক গ্রামে যেখানে ছিল না আধুনিকতার কোন ছোঁয়া, কিন্তু ছিল প্রকৃতির এক নিরমল ছোঁয়া ,সবুজ প্রান্তর পাখির কলতান যা শুনলে জুড়াত মন ও প্রাণ............
আলস্যের দিনলিপি ২
আজকে আশ্চর্যজনকভাবে সবকিছুই ঠিক যেমনটা হওয়া দরকার প্রতিদিন তেমন। রাত সাড়ে নয়টা এবং আমার ব্যাগে একটা কম্পিউটার। মাথার ভিতরে ঘুমোতে না দেওয়া ঝোড়ো বাতাস, রনি ভাই এবং তিনটি গীটার। আস্থা হারানো এই মন নিয়ে আমি আজ তোমাদের কাছে এসে দুহাত পেতেছি। ঠিক যেন স্বপ্ন দেখবো বলে, আমি দুহাত পেতেছি।
কিন্তু কীসের স্বপ্ন? চারপাশে দুঃস্বপ্নের মত জীবন। সবাই কি যেন হাতড়ে বেড়াচ্ছে। একজন গাইছে আমায় ধরে রাখ, অন্য কেউ গাইছে কোথাও প্রেম খুঁজে না পাবার যন্ত্রণা। আমিও কি জানি একটা খুঁজে বেড়াচ্ছি। এসব এখন শুধু এলোমেলো কথা হচ্ছে হয়ত, হয়ত এরকমই হবে আরও অনেক দিন।
বোধ
আজকের সকাল টা নিশির জন্য খুব একটা সুখের ছিলনা। তারপরও সবকিছুকে পাশে ফেলে ভ্রু যুগলের মাঝে দু'খানা ভাজ নিয়ে ছুটতে ছুটতে বের হওয়া। গন্তব্য চাকুরিস্থল।
দশ মিনিট দেরী মানে আধাঘন্টা জ্যাম।
ধানমন্ডি সাতাশ এর গলি থেকে রিক্সায় উঠে বসল নিশি।কোনদিকে তকাবার সুযোগ হয়নি ওর। উঠে বসেই রিক্সাওয়ালাকে তাড়া দিল...'ভাই একটু জলদি চালান সময় নাই।' রিক্সাওয়ালা নিশির মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হাসি ছুড়ে দিল। হাসির কারন বোধগম্য নয়।মেজাজ টা একটু খারাপ হল বৈকি। নিশি নিজ ভাবনায় ডুব দিল।
ভাবনার জাল থেকে বের হয়ে নিশি খেয়াল করল কোথায় যেন একটু গোলমেলে লাগছে। ভালো ভাবে তাকাতে নিশি চমকে উঠল, রিক্সাওয়ালার ছুড়ে দেয়া হাসির মানে স্পষ্ট হল।
একটি মাত্র পা যার সম্বল সে কি পারবে নিশির গতির সাথে তাল মেলাতে।একটা অসস্তি নিশি কে মূহুর্তে গ্রাস করল।একটা বোধ নিশি কে নাড়া দিয়ে গেল।
««একটি অবুজ প্রেমের শেষ পরিনতি»»
কি খাবে?
- কিচ্ছুনা! আগে বলো এত
দেরী করলে কেন?
- বাবারে, এখনি এত জেরা..বিয়ের
পরে বাসায়
ফিরতে দেরী হলে কিযে করবে..
- পরের কথা পরে! এখন বলো কেন এত
দেরী করেছো!
অভিমানে বাচ্চাদের মত গাল
ফুলিয়ে মুখ ভার করে বসে রইলো দীপ্তি।
যেন শ্রাবণের আকাশের একরাশ মেঘ!
- সরি, সরি,
সরি..একটা কাজে আটকা পড়েছিলাম।
তাছাড়া দেখতেও চাইছিলাম আমার
প্রতি তোমার কতটা টান! তাই..
- কিহ! এটা দেখার জন্য
আমাকে এভাবে কষ্ট দেবে! চোখে অশ্রু
টলমল করে দীপ্তির।
- আর করবোনা প্রিয়া...মাফ করে দাও,
প্লীইইইজ! এইযে দুই কানে ধরলাম, দেখো!
শান্তকে সত্যি সত্যি কানে ধরতে দেখে স্কুলের
পড়া না পারা ছাত্রের
কথা মনে পড়লো দীপ্তির।
কান্নাভেজা চোখ মেলে হাসে সে।
মেয়েরা যখন
কান্নাভেজা চোখে হেসে ফেলে, তখন
নাকি দেখতে অনেক সুন্দর দেখায়!
দীপ্তির দিকে অপলক
চেয়ে থেকে সে কথাটাকে সত্য মনে হয়
শান্তের।
- কি দেখছো এমন হা করে?
শিরোনাম হীন
"তোমাকে সবাই
বুঝবে না ...হাসিমুখে তোমাকে দেখে
সবাই
ধরে নেবে, তুমি সুখে আছো ...
মেসেজে ছোট্ট করে যখন
তুমি লিখোঃ "ভালো আছি" , সবাই
ভেবে নিবে তুমি সত্যি বলছো ...
তোমার অভিনয় সবাই ধরতে পারবে না !!
চোখের দিকে সবাই দুই সেকেন্ড
বেশি সময় নিয়ে মনোযোগ
দিয়ে তাকিয়ে থাকবে না ... চোখের
নিচের কালি দেখে সবাই প্রশ্ন
করবে না, "রাতে কেন ঘুম হয় নি ??" ...
এলোমেলো চুল দেখে সবাই
ধরে নেবে না, তুমি ভালো নেই ...
অতকিছু খেয়াল করার সময় সবার নেই ... অত
কিছু সবাই খেয়াল করে না !!
সবাই ব্যস্ত ... সবাই স্বার্থপর ... তোমার
সাথে কাজের কথা বলে চলে যাবে ...
হয়তো জিজ্ঞেস করবে "কেমন আছো ??" ... ঐ
"কেমন আছো" টায় "ভদ্রতা" মিশে থাকে,
"আবেগ" এর ছিটেফোঁটাও থাকে না !!
পৃথিবী তার নিজের মত ঘুরছে ...
মানুষগুলোও ঘুরছে নিজের মত ... নিজের মত
ঘুরতে থাকা সব মানুষের
মাঝে হয়তো কেউ
তোমাকে বুঝতে চাইছে ... হয়তো কেউ
ক্লাসরুমটা কৃষ্ণচূড়াদের
১.
কি জানি কি
সে ভাবে
যখন
চোখে চোখে গ্রহণ হয়
কি জানি কোথায়
সে চলে যাবে।
২.
ব্ল্যাকবোর্ডে
রাশি রাশি ইনফরমেশন
ইউরোপ আফ্রিকা ফ্রান্সের রাজধানী
তখনই সে হয়ত তাকাবে জানালায়
আর একরাশ চুল উড়ে যাবে শিমূলের তুলোর মতন
আমার ক্রিয়া বিশেষ্য সর্বনাম সব এলোমেলো হয়ে যাবে বারবার।
৩.
কতবার একা হয়েছি জানি না
কতবার হারিয়ে যেতে চেয়েছি কত কত চোখে নাকে ঠোঁটে
তবুও যখন তুমি হাত রাখো গালে
আর নরম চুলে ভেসে ভেসে যায় আঙুল
সুস্মিতা
তখন আমি আবার একা হয়ে যাই
আমার রাজরক্তে ঢুঁকে যায় বিষ
চৈত্রের কথা মনে পড়ে
দৃশ্যমান হয় চৌচির হতে থাকা মাঠ
কতবার আমি একা হয়েছি
সুস্মিতা জানে না।
বুড়ো খোকার জন্মদিন
বুড়ো খোকার জন্মদিন
কাটছে ভালো রাত্রি দিন
কর্মময় জীবন তার
১৮ ঘণ্টায় হচ্ছে পার।
ভোর বিহানে চোখ খুলে
কাজের মাঝে তাই দোলে
অফিস তো নয় যন্ত্র
হর রোজ হাজিরের মন্ত্র।
বয়স সবে পঞ্চাশ
সাক্ষ্য দেবে চারপাশ
বুড়ো খোকার জন্মদিন
এ যেন এক অর্বাচীন।
নিরোগ দেহ সতেজ মন
ন্যায়-নিষ্ঠায় সমর্পণ
অসৎ কাজে নেই ধরা
স্বল্প ভাষায় তাই কড়া।
মন আছে ধন নেই
পণ আছে জন নেই
নুন আনতে পান্তা তাই
আছে বেঁচে এ দশাই।
১০.১১.২০১৪
রাত-৭:৩০মি.
যদি বলো
যদি বলো, তুমি চাঁদ হবে......
আমি প্রতিরাত বিনীদ্র কাটাবো।
তোমার জোৎস্না আলোয় স্নান করার জন্য।
তুমি যদি বলো; তুমি স্নিগ্ধ বিকেলের সেই শান্ত বাতাস,
আমি দু'হাত বাড়িয়ে নিজেকে ছড়িয়ে দেবো..
সেই শান্ত বাতাসে গা ভাসাবো।
যদি বলো- তুমি ঐ রং ছড়ানো গোধুলি..
আমি সন্ধ্যার শীতল চাদর হয়ে
তোমায় জড়াবো।
তুমি যদি এসে আমার সামনে দাড়াও; বলো-
আমি তোমার ছায়া হব...
আমি সত্যি বলছি ....।
তোমার মাঝে বিলীন হব।।
নামটা না হয় শেষেই জানাব (প্রথম পর্ব)
নামটা না হয় শেষেই জানাব (প্রথম পর্ব)
গত তিন দিন থেকে পিঠের ডান পাশে ব্যথা।খুব বেশী না হলেও মাঝে মাঝে এক্টু অসহ্য লাগে। মেজাজও কেমন জানি এক্টু খিট খিটে হয়ে গেছে। যখন তখন যাকে তাকে বকা দিচ্ছি। আর রাতে শুলে নানান রকম দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কে ভীর করে।
এ ব্যাথাটা আমার আরও একবার হয়েছিল। অত দুশ্চিন্তা হয়নি। তখন আমার স্ত্রীর এক সময়ের কলিক,এখন অনেক গুলো বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে নাম করা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। আমার স্ত্রীকে যে কত শ্রদ্ধা করেন,তা লেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার স্ত্রী ফোন করে দিলে আমি এক বিকেলে ক্লিনিকে উনার সাথে দেখা করতে যাই। আমার স্ত্রীর পিড়াপিড়িতে ডায়াবেটিস থেকে আরম্ভ করে যত রকম টেষ্ট করতে হয় সবই করা হল। তেমনন কোন সমষ্যা নেই। খাবার অনিয়ম ও ভাজা পোড়া খেয়ে গ্যাস বাধিয়েছি তারই জন্য এ ব্যাথা।
মাই লিটল ম্যাজিশিয়ান ও পিএসসি সার্টিফিকেট
আমার ছোট্ট মেয়েটির নাম জারা সুপ্রীতি। এখনো চোখের সামনে দেখতে পাই ওর জন্মদিন বা জন্মমুহূর্ত। দেখি ওর টলমলে পায়ে প্রথম হাঁটার দৃশ্য। প্রথম প্রথম কথার অস্ফুট উচ্চারণ, পুরো একটি শব্দ বলতে পারত না ও, প্রত্যেক শব্দের প্রথম অক্ষর উচ্চারণ করে নিজের মনের কথা বোঝাতে পেরেছে এমন ভঙ্গি করে সবার দিকে তাকিয়ে বোদ্ধার মতো ওর ঝাকড়া চুলের মাথা দোলাত। যেমন কোককে বলত “কো” বা পাপাকে “পা”, তেমনি বোনকে দিদি বলা শেখানোর চেষ্টায় সে শুধু “দি” বলে নিজের দায়িত্ব শেষ করত। এখন ও পূর্ণাঙ্গ শব্দ উচ্চারণ করলেও বোনকে সেই আগের মতোই “ দি” বলে ডাকে।
জারা এই বছর পিএসসি পরীক্ষা দেবে। লম্বায় সে আমাকে ছুঁয়ে ফেলেছে। আমি ওকে বুকে জড়িয়ে যখন বলি, কেমন লম্বা হয়ে যাচ্ছিস বলতো?
জারা বলে, ভালো তো, তোমাকে আর মাথা নিচু করে কথা বলতে হবে না। মাথা উঁচু করে কথা বলবে এখন থেকে।
আমি রাতের আকাশ শীতের বাতাস তোমার চুলের গন্ধ
আমাদের পুরানো বাড়িটা একতলা ছিল। চারদিকে দেয়াল এবং উপরে টিনের চালা দেয়া বাড়িটার প্যাটার্ন ছিল বাংলোর মতো। চারদিকে বাগানে ঘেরা বাড়িটার নামও ছিল “বাগান বাড়ি”। এমন কোন গাছ নেই যা সেই বাগানে ছিলনা। ফুল-ফল থেকে শুরু করে নানারকম পাতাবাহার, শাক-সবজি এমনকি ঔষধি গাছ পর্যন্ত বাতাসে দুলে দুলে তার অস্তিত্ব জানান দিত। গেটের উপর ছিল একটা মাধবীলতার গাছ। সেটা তার ফুলের ভারে নুয়ে পড়ে পুরো গেটটাকে ঢেকে রাখতো। প্রতিটা ঋতুই বাড়িটাতে আলাদাভাবে ধরা দিত। যখন খুব গরম পড়তো, একটা গাছেরও পাতা নড়তোনা। সজনে গাছ আর নিম গাছটা ছিল পাশাপাশি। আমরা এই গাছ দুটোর নিচে মাদুর বিছিয়ে, হ্যারিকেন জ্বালিয়ে, হাত পাখায় বাতাস করতাম আর শুয়ে শুয়ে আকাশের তারা দেখতাম। যখন বর্ষা নামতো, ঝমঝম বৃষ্টিতে ভেঙ্গে যেতো আমাদের টিনের চালা। সে কি শো শো বাতাসের শব্দ!