অনুসন্ধান

ইউজার লগইন

অনলাইনে

এখন ১ জন সদস্য ও ১২ জন অতিথি অনলাইনে

অনলাইন সদস্য

কিছু কথা কিছু ছোট ছোট দৃশ্য আর কিছু পরিকল্পনা

বিষয়ভিত্তিক কিছু কার্যক্রম নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। হাজার দশেক বেঁতের লাঠি জোগাড় করে রাখা দরকার। অন্তত যেকোন রকম তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ নিশ্চিত করে রাখার জন্য। শিবিরগুলা শূকর বেশি। গতকাল ইস্ট-ওয়েস্টের ছেলেপিলেদেরকে ওরা ধাওয়া করেছিলো। মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসার সময়। রামপুরাতে। এদের যেকোন সময় প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

চট্টগ্রামে হরতাল কেমন হচ্ছে, সে খবর এখনো পাই নাই। আজকে যদি চট্টগ্রামে কোনো গণ্ডগোল হয়, তাহলে সেটা যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে। এখন একটা বারুদের ঘষাই যথেষ্ট স্ফূলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার জন্য। আজকের পত্রিকার শিরোনামগুলো নিয়ে একটা কোলাজ করার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিবিসি, সিএনএন-এর ওয়েবসাইটগুলোতে বাংলাদেশের খবর ফলাও করে ছাপা হচ্ছে। ইতিবাচকভাবেই হচ্ছে। সেগুলো নিয়েও কিছু করা যায় কিনা ভাবছি।

কিছু ছোট ছোট দৃশ্য

এখনি বের হচ্ছি। শাহবাগে যাবো।

গতকাল সকাল ১১ টায়
শাহবাগে গিয়েছিলাম,
ফিরলাম রাতে, অনেক রাতে, শাহবাগ জেগে থাকা রাতে
সারাদিন একটা ঘোর, একাত্তর, শহীদ,পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বীর বাঙালী, স্বাধীনতা, পতাকা শ্লোগান.............
খাওয়া নেই, নাওয়া নেই, তাতে কীইবা এসে গেল,
কন্ঠে আগুন ঠিকই ছড়ালো।

বেঁচে আছি, শরীর একটুকুও বিরক্ত করেনি।
গত কয়েকদিনের অসুস্থতাও মনে হল ভাল হয়ে গেছে।
শ্লোগান, মিছিল, হাত তালি, বিশিষ্টজনের এক কাতারে দাড়ানো.............. এই অভিজ্ঞতা ভুলবার নয়। ভুলবার নয় জাফর ইকবাল স্যারের সংক্ষিপ্ত অথচ প্রচন্ড তাৎপর্য়ময় ভাষন।শাবাশ বন্ধুরা, আমার বন্ধু,আমার ভাই, আমার বোন । এগিয়ে যাও।


মৃত্যুর পর যদি কোন এক শহীদের সাথে দেখা হয়,
হয় কথা।
নিশ্চিত জেনো..............................................
এদিনের গল্প শোনাবো ওদের।


ওদের রক্ত বৃথা যায়নি, যাবে না।যাবে না। যাবে না।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে পরেছে মুক্তির বারতা।

এখনি বের হচ্ছি। শাহবাগে যাবো।

এক টুকরো শাহবাগ

এক টুকরো শাহবাগ...
শাহবাগের গনজমায়েতে মানুষের নিরাপত্তায় পুলিস/আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন খবরই ছিল না। যেখানে রাজনৈতিক মীটিংয়ে মানুষের চাইতে নিরাপত্তার লোকজনই বেশী থাকে। থাকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বাহিনী।

কোন নারীকে কেউ টিজ করছে ... এটা কেউ বলতে পারবে না। নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য হারে। কিন্তু কোন ধরনের বিচ্যুতি... কেউ বলতে পারেনি।

মানুষের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ ছিল চোখে পরার মত। কোথাও কোন ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় নাই... লক্ষাধিক মানুষের এই জনসমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবেই নিজ নিজ দায়িত্বেই সবাই অংশগ্রহণ করেছে।

যেখানে রাজনৈতিক দলের সভা/সমাবেশে লোক ভাড়া করে আনা হয় ... শাহবাগে ঘটছে তার উল্টা ঘটনা। নিজে রং কিনে ফেস্টুন তৈরি করছে... ব্যানার বানাচ্ছে... জাতীয় পতাকা তৈরি করছে। এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ৯০'এর গনঅভ্যুত্থান, গনআদালতের পর... গনমানুষের এত বড় অংশগ্রহণ আর হয়নি।

সবশেষে একজন ব্লগার হিসেবে এই দিন অনেক গর্বের ছিল... এটা বোঝানোর নয়...

প্রিয় ব্লগ...
বেচে থাকো মানুষের জন্য... মানুষের মাঝে... মাতৃভূমি স্বার্থ রক্ষায় ব্লগের তারুণ্য সচেষ্ট থাকুক সব সময়।

ভাদ্র ভাসান

আমার বই নিয়ে কিছু কথাঃ

ভাদ্র ভাসানঃ

বাংলাদেশ তোমাই করি নত শির।

ভালবাসার তাগিতে বিশ্ব খুজিছে বাংলাদেশ তোমায়,
আবেগ নয় পেয়েছি জাগরণ ভালবাসার অনুভূতি।।
বিশ্ব তোমায় করিবে সালাম,
দ্রোহীরা দেখি তাহা লজ্জাই নত করিবে শির ।।
আর নয়,সময় আর নেই হাতে চলিতে হবে তন্দ্র রাতে ,
লীগ,দল,জামায়াত অনেক খেয়েছিশ লুটেছিশ।।
বিশ্বাস সবি ধংস করেছিস,জনগণ আমরা জেগেছি।
ভোগ ছাড়ি, লাথি মারী, করিব সংহার - জেগেছি আমি জনগণ।।
কোন এক অনাঙ্কাখীত বিদ্রোহীর মাঝে হইতে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর
রক্তচালিকা হৃৎপিন্ড কাপছে তাই দিকে দিকে বিদ্রেহীর কম্পন বাংলাদেশ বলছে।।

শোনা কথায় বইমেলা: ফেব্রুয়ারি ৮

বইমেলাতে যাদের বই প্রকাশিত হয়, তাঁরা অন্যের বই কয়টা কিনেন?

প্রশ্নটা ভাবাচ্ছে কয়েকদিন ধরে। কারণ, প্রতি বছর বইমেলাতে প্রচুর বই বের হয়। প্রচুর বই মানে প্রচুর লেখক। বই বিক্রি হয় না বলে একটা অভিযোগ আমাদের সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি প্রকাশকরা করে থাকেন। যারা বই লিখেন, তাদের সংখ্যাটা যদি বেশি হয়, তাহলেও, আমার ধারণা, প্রচুর বই বিক্রি হওয়ার কথা। বড় লেখকরা প্রায়শই উঠতি লেখকদের পরামর্শ দেন বই লেখার আগে বেশি বেশি বই পড়তে। আমরা অবশ্য যতো না কিনে বই পড়ি, তার চেয়ে বেশি বই পড়ি ধারদেনা করে। এর বড় কারণ হচ্ছে টাকার অভাব। কিন্তু তারপরও দশটা বইয়ের মধ্যে একটা বই তো কিনে পড়াই যায়। সেই কাজটা আমরা কয়জনে করি? এই ব্যাপারে একটা জরিপ চালানো যেতে পারে। ভাবছি, আগামী বছর একটা ছোটখাটো জরিপ চালাবো এটাকে কেন্দ্র করে।

পুনরায় পাঠ- জামায়াত-শিবিরের প্রতিষ্ঠান: আসুন চিনে রাখি ও বয়কট করি

পোস্টটি অনেক আগের। কিন্তু আজ এটিকে প্রাসঙ্গিক বেশি মনে হচ্ছে। তাই আবার পোস্ট দিলাম।
534947_10151491475214282_455333093_n.jpg

মূল পোস্ট:
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করে ক্ষমতায় এসেছে। মাঝে অনেকেই এ নিয়ে হতাশ ছিলেন। এখন বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। আমরা আবার আশায় বুক বেঁধেছি।

শোনা কথায় বইমেলা: ফেব্রুয়ারি ৭

আগের পর্বগুলোতে সরাসরিই লিখেছিলাম- বইমেলা আর শাহবাগের মধ্যে এখন আর কোনো পার্থক্য নাই। পত্রপত্রিকাগুলো খবর দিচ্ছে, শাহবাগ থেকে উৎসাহিত হয়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। তার মানে বইমেলা আস্তে আস্তে বাংলা একাডেমী থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। লিখেছিলাম- শাহবাগের একেকটি মানুষ একেকটি বই। তার মানে এরকম লাখ লাখ বই এখন সারা দেশে, প্রতিবাদমুখর। সেই সাথে কিছু প্রশ্নও জাগছে মনে, কেন অন্য শহরের মানুষগুলোর এক বা দুদিন পর থেকে প্রতিবাদ শুরু করলেন? শাহবাগে যেমন প্রতিবাদী মানুষজন রায়ের ঘণ্টাখানিকের মধ্যে প্রতিবাদ করতে দাড়িয়ে গেলেন, তেমননি কেন হলো না অন্য শহরগুলোতে? সবকিছুকে ঢাকাকে অনুসরণ করা কি আমাদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে?

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ দুই!

আজকেও যে পোষ্ট লিখবো সেই ইচ্ছা ছিলো না। ইদানিং এতো ঘন ঘন পোস্ট দিচ্ছি নিজেরই বিরক্ত লাগে। তাও লিখি। যারা পড়ার তারা পড়ে নেয়। অন্যেরা হয়তো মুখ ভেংচায়। তাতে আমি ওতো ভাবি না। লেখার সময় সুযোগ থাকলে ব্লগ লেখা কঠিন কিছু না। আর ব্লগ লেখাকে আমি নিতান্তই সরল দিনলিপিতে পরিনত করছি তাতে আমার জন্য সুবিধা হলো যাই ঘটে বলতে ইচ্ছা করলে বলে দেই। অনেকেরই দিনলিপিতে অনেক কিছু বলার থাকে কিন্তু সুযোগ, সময়, ভাষা পায় না। আমার দিনলিপি গুলো ভাষা পায় এতেই আমার আনন্দ।

শামসুর রাহমানের কবিতা “অভিশাপ দিচ্ছি”

আমার প্রিয় একটি কবিতা। সবার জন্য পোষ্ট করা হল।

”না আমি আসিনি
ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,
দুর্বাশাও নই,
তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে
অভিশাপ দিচ্ছি।

আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক
কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা
পুঁতেছিল আমাদেরই আপন জনেরই লাশ
দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে
শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু
সেই সব পশুদের।

ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদের
সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে
নিমেষে ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের বৃষ্টি
ঝরালেই সব চুকেবুকে যাবে তা আমি মানি না।
হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে মাঠে
ক্যাম্পাসে বাজারে
বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বীভৎস গন্ধ
দিয়েছে ছড়িয়ে,
আমি তো তাদের জন্য অমন সহজ মৃত্যু
করি না কামনা।

আমাকে করেছে বাধ্য যারা
আমার জনক জননীর রক্তে পা ডুবিয়ে দ্রুত
সিঁড়ি ভেঙ্গে যেতে
ভাসতে নদীতে আর বনেবাদাড়ে শয্যা পেতে নিতে,
অভিশাপ দিচ্ছি, আমি সেইসব দজ্জালদের।
অভিশাপ দিচ্ছি ওরা চিরদিন বিশীর্ণ গলায়
নিয়ত বেড়াক বয়ে গলিত নাছোড় মৃতদেহ,
অভিশাপ দিচ্ছি
প্রত্যহ দিনের শেষে ওরা

আবার একুশে

কালকে থেকে প্রচন্ড মেজাজ খারাপ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে। বন্ধুরা সবাই এক হয়েছে, একই দাবীতে দেখে ভালো লাগছে। কিন্তু আমি যেতে পারছি না। অসুস্থ হয়ে বারো দিন টানা বিছানায় পড়ে থাকা আমার ভাই সন্ধ্যায় যখন বলল - ‘যাবি? রেডি হ এখনই’ তখন মনে হলো - ভাইয়ের মতো ভাই। এরকম ভাই তখনো ছিলো, এখনো আছে। তাই আজকে আমরা এখনো বেঁচে আছি। তখনি আর যাওয়া হলো না তবে ঠিক হলো কাল, কাল ঠিক পৌঁছে যাবো শাহাবাগ।

পরশুও যাবো। যেতেই হবে। কারণ আমার ভাইয়ের মতোই আর একজনও আছে যার অবদান আমার জীবনে অনেক। আমার বাজি। তার জন্য পরশু আমার গন্তব্য হবে শাহাবাগ থেকে বইমেলা।

সেদিন দুপুরে ফেসবুকে বাজির বইয়ের কভারপেজ দেখে আধা ঘুমে থাকা আম্মুকে ডেকে দেখালাম, বললাম। আম্মু আমার উত্তেজনা দেখে নির্লিপ্ত ভাবে বলল, গতবারওতো ছিল। আমি আরো জোরে ডেকে বললাম, গতবার তো ছিল কিন্তু এবারে আস্ত একটা বই।

হ্যাঁ, এবারে আস্ত একটা বই। আর তাই আমার উত্তেজনাটা একটু বেশীই। আমার নাচ, গান, পড়া-লেখা, লক্ষ্ণী হওয়া, বান্দর হওয়া সব কিছুরই শুরু তার কাছ থেকেই কিনা। তাই আমি একটু বেশীই উত্তেজিত।

দায়শোধ-প্রলাপ

নয় হ্যান্ডকাফ ডান্ডাবেড়ী
নয় কারাগার ফাঁসি,

তোদের জন্য কেবল আছে উদ্ভ্রান্তের
হাসি।
কেবল আছে ঘৃণার থুথু কেবল অসীম
ক্রোধ
কেবল
আছে গুমড়ে মরা রক্তে প্রতিশোধ।
কেবল আছে স্বজনহারার
কান্না হাহাকার
কেবল আছে ব্যাখ্যাহীন এক ব্যথার
পাথর ভার।
কেবল আছে অসহায়ের তীব্র অভিশাপ
কেবল আছে ছবির সাদায় রক্তে কালো ছাপ।
কেবল আছে ধিক্কারে ক্ষোভ স্তব্ধ
কিছু মুখ
কেবল আছে আঁচলঢাকা গভীরতম দুখ।
কেবল আছে রায়েরবাজার মিরপুরে ম্লান
মাটি
কেবল আছে তীব্র বিষাদ তীব্রতম,
খাঁটি।

তোদের জন্য আর কিছু নেই,
কী আর তোরা চাস?

হায়না তোরা, হামলে পড়ে
চাখিস নিজের লাশ!!

[গতকাল লেখা। মনে হচ্ছে এখানেও থাকুক।]

শোনা কথায় বইমেলা: ফেব্রুয়ারি ৬

কিছু কিছু সময় আসে যখন স্বাভাবিক নিয়মের ধারা বাদ দিয়ে উত্তুঙ্গ বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরতে হয়। সেই সময়টাই চলছে এখন। যদিও এ ধরনের সময়ের কিছু দুর্বলতা থাকে- মানুষের একদিকের মনোযোগের ফাঁকে অন্য অনেক বড় বড় কাজ বা কুকাজ করে ফেলা যায়- সেরকমটা হচ্ছে কিনা কে জানে! এই মুহূর্তের মনোযোগের বিষয় সবটুকু কেড়ে নিয়েছে শাহবাগ- মানুষজন যেখানে দিনের পর দিন মিছিল দিয়ে স্লোগান দিয়ে আন্দোলন করে দিনাতিপাত করছে- সেখানে বইমেলা নিয়ে সিরিজ লেখা এবং তা পড়া এবং তা নিয়ে কমেন্ট করা বিসদৃশ লাগার কথা। ভেবেছিলাম বন্ধ করে দিবো- কিন্তু মনে পড়লো ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখের লেখাটির কথা। সেখানে স্পষ্টভাবেই বলেছিলাম- শাহবাগের একেকটি মানুষ একেকটি বই। শাহবাগের একেকটি মানুষ একেকটি বইমেলা। সেদিনের পর থেকে শাহবাগে ‘ছাপানো নয় কিন্তু জীবন্ত’ এরকম বইয়ের পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণ। এরকম নতুন নতুন বই এসেছে অভাবিত পরিমাণে। সেদিনের পর থেকে শাহবাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিটা মিনিটের বইমেলা। সুতরাং তাদেরকে নিয়ে লিখলেও আদতে বইমেলা নিয়েই লেখা হয়।

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময়!

যাপিত জীবনে কিছু সময় আসে এরকম যখন প্রতিটা মুহুর্তকে দামী মনে হয়। ইচ্ছে করে সবটুকু অনুভব দিয়ে উপভোগ করি কিন্তু উপায় থাকে না। সময় চলে যাবার পরে বুঝা যায় কি চলে গেলো এই এক নিমিষে। আমরা যারা ছয় সাত বছর ধরে ব্লগে ফেসবুকে ডায়লগ বাজী করে বেড়াই, তাদের জন্যে স্বপ্নের মতো কিছু দিন যাচ্ছে। কেউ কোনোদিন ভাবতেই পারে নাই ফেসবুক ব্লগের যুদ্ধাপরাধ বিরোধী সেন্ট্রিমেন্ট এরকম গনরোষে পরিনত হবে। ফেসবুক ব্লগে বিপ্লব হয় তা আরব বসন্ত থেকে জেনেছি। কিন্তু এই শীত পালানো মাঘের দিনগুলোতে এরকম কিছু হুট করেই হবে ভাবি নি। ধারনা ছিলো কাদের মোল্লার ফাসি হবে। সবাই খুব খুশী হবে। ছবির হাটে অনেকে মিস্টি খাবে। কিন্তু হলো যাবজ্জীবন। একজন মানুষ খুনী ধর্ষক কসাইয়ের শাস্তি জেলের আটার রুটি খাওয়া তা আমার চিন্তারও বাইরে। কালকেই এক সামান্য ইভেন্ট থেকে অনেক মানুষ হয়ে জানান দিছে এ রায় মানার কোনো উপায় নাই। আজ তার পুর্নতার দিন। আন্দোলন চলছে। কাল সকালে হরতাল হীন শাহবাগে কিভাবে কি হয় পুলিশ কি আচরন করে? তা দেখার জন্য তর সইছে না।

কাদের মোল্লার অশুভ ইঙ্গিত...

... মেজাজ তো বিগড়ে ছিলই, সকালে পত্রিকা হাতে নিয়ে সেটা আরও বিগড়ে গেলো। অজান্তেই বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো একটা গালি- বেজন্মা! আর গালিটা দিয়েই
চমকে উঠলাম। না, গালি বেরিয়ে আসায় চমকে উঠিনি মোটেও। কারণ, আমি তথাকথিত সুশীল মানুষ নই। বরং তার বিপরীত। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে গালিবহুল বাতচিত চালাতেই
আমি অভ্যস্ত এবং সাবলীল। কিন্তু সেইসব গালি আর এই গালির মধ্যে ফারাক বিস্তর। সেসব গালিতে থাকে এক ধরনের টান-মমতা-স্নেহ-অধিকার। আর এই গালিতে টের পেলাম ঘৃণা।
সে ঘৃণা এমনই প্রচন্ড, এতোই তীব্র ও অচেনা যে তার সাথে এর আগে আর কখনো দেখা হয়নি আমার। চমকে ওঠা সে কারণেই।

বন্ধুগণ, দুঃখিত, ‘বেজন্মা’ শব্দটি লেখার জন্য। আগেই বলেছি- আমি ঠিক সুশীল মানুষ নই, তবে তা কেবল বন্ধুদের একান্ত আড্ডায়। গালি ছাড়া বাঙালির আড্ডা জমেছে কবে!
কিন্তু লেখার বেলায় আমি একেবারেই সুফি টাইপের। লেখায় আমি গালি-গালাজ এবং অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। নিজে তো লিখি না-ই, পড়তেও ভিষণ অপছন্দ করি।
কিন্তু এখানে বাধ্য হয়েই লিখতে হলো। তা নাহলে তখনকার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া হয় না।

ব্যানার

আমরা বন্ধু ব্লগের জন্য যে কেউ ব্যানার করতে পারেন। ব্যানার প্রদর্শনের ব্যাপারে নির্বাচকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। আকার ১০০০ x ১৫০ পিক্সেল। ইমেইল করে দিন zogazog এট আমরাবন্ধু ডট com এবং সেই সাথে ফ্লিকার থ্রেডে আপলোড করুন ফ্লিকার থ্রেড।

● আজকের ব্যানার শিল্পী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

● ব্যানারালোচনা

সপ্তাহের সেরা পাঁচ