প্রভা তোমাকে অভিনন্দন
পৃথিবীতে সাধারণের বাইরে যেকোন ঘটনা ঘটলেই ব্লগ জগতে ঢেউ উঠে যায়। ঘটনার শাখা-প্রশাখা-বিশাখা-অন্তশাখা সব আদ্যোপান্ত বিশ্লেষনের ঝড় উঠে যায়। প্রত্যেকে তার বিদগ্ধ দৃষ্টি দিয়ে ফালা ফালা করে অন্তর্নিহিত ভাব দিয়ে লেখা লেখেন। কিন্তু প্রভা বিয়ে করেছেন এবং নিজে সেকথা পত্রিকা অফিসে ফোন করে সবাইকে জানিয়েছেন, এটি বেশ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা কিন্তু এনিয়ে এখনো আমি কোন ফেসবুক নোট বা ব্লগ পড়িনি বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থিক-সামাজিক পরিবেশে একটি মেয়ের জীবনে যে ঝড় বয়ে গেলো তারপর তার এই ফিরে আসা আমার দৃষ্টিতে সমাজ পরিবর্তনের কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে হেরে না যাওয়ার একটি উজ্জল সংকেত। কারো কাছ থেকে সে একটা অভিনন্দন বা অভিবাদন পেলো না, আশ্চর্য।
আমি খুব নগন্য একজন মানুষ প্রভা, কিন্তু তুমি আমার অভিনন্দন জেনো। যে ঝড় ঠেলে, বাস্তবকে স্বীকার করে তুমি সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছো, তার জন্যে অভিনন্দন।
হুদাহুদাই (৩)
সেই যে একটা গান আছে না, “পৃথিবী বদলে গেছে যা দেখি নতুন লাগে”, কিবা “... শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে, লাল-লাল নীল-নীল বাত্তি দেইখা পরান জুড়াইছে!” আমার চারপাশের সব পালটে গেলেও, হরেক চোখ ধাঁধাঁনো সব দেখেও কিছুই নতুন চমকদার লাগে না, মনে স্বস্থি আসে না। এখানে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিষন্নতা ভর করেছে, প্রায়শই এই বিষন্ন আমিটাকে বিরক্ত লাগছে। যাই দেখি লাগে, এসব তো আমার না, আমি এখানকার না। কোন ভাগ্যদোষে এসে পড়লাম এখানে!
এলোমেলো রক্তছোপ
ইদানিং এসফল্টের রাস্তায় ছোপছোপ রক্ত দেখতে পাই। কুয়াশা মাখা সোডিয়াম সোনালী আলোয় হাঁটতে হাঁটতে যতবারই এগিয়ে যাই, রক্তের ছোপ গুলো দূরে সরতে থাকে। আর সেখান থেকে জন্ম নেয় ঘিনঘিনে পোকারা।
কি খবর হে? দিনকাল কেমন যায়।
পালাও!
[পুরোপুরি ফিকশন]
১.
আর সবদিনের মতোই বেশ মনোযোগ দিয়ে চ্যানেল আইয়ের ন'টার খবর শুনছিলেন প্রফেসর সেলিম হায়দার। শুনতে শুনতে অজান্তেই একসময় তাঁর হাত নিশপিশ করে ওঠে; পুরু গোঁফ আর মোটা-ফ্রেম-মোটা-কাঁচের চশমার আড়াল ভেদ করে ছড়িয়ে পড়া তৃপ্তির হাসিটুকুও লুকিয়ে রাখতে পারেননা তিনি। অবশ্য এই মুহূর্তে সেটার প্রয়োজনও নেই।
অনুভুতির ব্যবচ্ছেদ
অনুভবের সামষ্টিকতা কি আছে? সামষ্টিক অনুভবের বিভিন্ন প্রকাশ দেখি হরহামেশাই, কিন্তু প্রতিবারই একই রকম সংশয় রয়ে যায়, ব্যক্তিগত অনুভবের জায়গা থেকে ব্যক্তি যতটুকু অনুভব করে একই রকম প্রতিক্রিয়াব্যক্ত করা সবাই কি ঠিক একই অনুভবে উদ্দীপ্ত কিংবা আক্রান্ত বোধ করে? সামষ্টিক অনুভব অনেকাংশেই সম্ভবত সামাজিক-রাজনৈতিক অনুভব, সেখানে ব্যক্তির ব্যক্তিসত্ত্বা, ব্যক্তিগত অনুভব সামষ্টিকতায় বিলীন হয়ে যায় এবং গণের স্বর ধারণ করতে উন্মুখ ব্যক্তি নিজের একান্ত অনুভবকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে সামাজিক -রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াকে নিজের অনুভব হিসেবে অনুভুত করতে শিখে। এই ব্যক্তিসত্ত্বার বিলীয়মান অবস্থা কিংবা স্বকীয় ভাবনাকে বিসর্জন দেওয়ার অভ্যাসটুকুই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভুতের মুখে রাম নাম! পাকিস্তানী পত্রিকায় বাংলাদেশের সুনাম!!
লেখক বলেছেনঃ Unlike Pakistan, Bangladesh immediately carried out fundamental reforms in their constitution and system of governance. Like vast majority of the Muslim countries, the prefix of ‘Islamic’ was omitted from the name of Bangladesh.
আমি মনে করিঃ ৭১ এ আপনারা ইসলাম ট্যাগ নিয়ে যা দেখিয়েছেন তারপর আবার ইসলাম! থাক আপনাদের ইসলাম আপনাদের কাছে, আমরা বরং নিরপেক্ষই থাকি। আমাদের ধর্ম আমাদের মতই পালন করতে দিন। নাম দিয়ে কাম কি? প্রতি ঈদে আপনাদের দুই ইসলামী গ্রুপে[ সিয়া সুন্নি] বোমাবাজি হয়ে হতাহত হয় আর আমরা ঈদ পালন করি বিনা বোমাবাজিতেই
পাঠ প্রতিক্রিয়া : রশীদ করীম
রশীদ করীমের উপন্যাস সমগ্র পড়া শেষ করলাম।
সেই ১৯৬১ এ লেখা প্রথম উপন্যাস “উত্তম পুরুষ” থেকে ১৯৯৩ এ লেখা শেষ উপন্যাস “লাঞ্চবক্স” পর্যন্ত। প্রথমেই বইলা রাখা ভালো, আমি কোনো সমালোচক নই। যার জন্য এই উপন্যাস সমগ্র নিয়া যা যা লিখতেছি তা সবই আমার নিজস্ব ভাবনা।
উপন্যাস সমগ্র পড়বার একটা সুবিধা আছে। বিভিন্ন সময়ে লেখকের বিভিন্ন রকম ভাবনা-চিন্তা গুলারে এক মলাটে পাওয়া যায়। তাতে লেখকের চরিত্র সম্পর্কেও মোটামুটি বেশ পরিষ্কার ধারণা জন্মায়। যাক এইসকল কথাবার্তা, পাঠ প্রতিক্রিয়ায় আসি।
স্মৃতি কথা, স্পর্শ উপাখ্যান-১
তোমার সাথে স্পর্শের কোন স্মৃতি নেই।
তাই চোখ দুটোকে ওরা হিংসা করে বেশ
তোমার কথা শোনে কানদুটো সন্যাসে গ্যাছে
ঝলসে যাওয়া কানে শুনি না কিছুই আর।
তোমার সাথে আমার কোন স্পর্শ নেই।
একটু বেশিই তোমায় দেখার ছিল
আর একটু বেশি শোনার…
একটি কথা তোমায় বলার ছিল
বাকী রইল। থেকেই যাবে।
দরজায় কি কেউ কড়া নাড়ছে ?
কেউ একটা এসেছে নিশ্চয়, দরজায় কড়া নাড়ছে মৃদু শব্দে । জানলার জীর্ণ পর্দাটা হঠাত্ কেঁপে উঠে আবার থেমে গেল কি ভেবে , তা বুঝে ওঠার আগেই আবার শব্দ । মৃদু নয় , এবার তা সজোরে শোনালো । মৃন্ময় দ্বার খুলে দিতে যাবে ভাবছে , এমন সময় মনে পড়ল দরজাটা তো খোলাই পড়ে আছে । এখানেও কি চোর আছে নাকি ! তবে কে হতে পারে ? এই রাতদুপুরে ঘোর অন্ধকারপুরীতে কোন অমানুষের কাজ থাকতে পারে ? কিংবা কোন কামাতুর মোহিনীর ? যে রাতযাপন শেষ না হতেই ফিরে যাবে অন্য দরজায় ? কিন্তু শব্দ তো স্পষ্টই শোনা গেল । তবে কি কেউ এলো এই স্বেচ্ছা নির্বাসনে শরিক হতে ?
যুদ্ধাপরাধের বিচার
যুদ্ধাপরাধের বিচার ।
নীল পাহাড়
১.
সাপটা ছোবল দিতে আধসেকেন্ড দেরী করাতেই সাবুর ভোজালির কোপে মরলো। সবুজ লতা সাপটা ঝুলে ছিল ঝাকড়া শ্যাওড়া গাছ থেকে। ঝুলন্ত অবস্থাতেই ছোবল তুলেছিল। ভয়ংকর বিষধর এই সাপ।
সাবুর মেজাজটা তিনদিন থেকে চোতরা পাতার মতো চুলবুল করছে। তিন বাটি নাপ্পি খেয়েও ভুলতে পারছে না নীলা ম্রুর সেই রুদ্রমূর্তি।
বিপদসঙ্কুল বর্তমান, বালকবেলার স্মৃতিরে এলোমেলো করে দিয়ে যায়...
১.
সনাতন হতে হতে আমি গণিত ভুলেছি,
প্রকৃতিরে সর্বময় জেনে ভুলেছি অতীত।
তবে জানালায় মৃত্যুর সমন ঝুলতে দেখে
ভবিষ্যত ভাবি; নিয়মের ব্যতিরেকে,
লুকিয়ে লুকিয়ে, নিরাপত্তার সংকেত শিখি।
আমরা যদি রক্ষার নিয়ম শিখে যাই,
তাহলে কী কামে লাগে বলো দারোগা পুলিশ!
২.
গঙ্গীমার গল্প শুনাইছিলো সাদেকালী
চেটানো পাজরে তার মিলেছিলো রূপসী মায়ার
তরুণীরা। লোভ জয় করে সাদেকালী
ফিরে আসে মর্ত্তধামে; সে আবার ফসলের মাঠে যায়
নদী গহ্বরে সে সাহস করে নাই যৌবন বিলাইতে...
যেহেতু দুয়ারে কানতেছিলো সুর্য্য বানু।
বালকের স্মৃতিগুলি পুরাতন হলে,
দেখে নদীর বিদীর্ণ জলে ভাসে
ক্ষমতা অথবা অক্ষমের বিকীর্ণ ধরেরা
করোটির ভারে ডুবে গেছে মস্তিষ্ক, নয়ন
আর স্মৃতি। স্বপ্নে তার সাদেকালী হাসে...
"কইছিলাম না গঙ্গীমা টোপ ফালায়
কলিজার লোভে..."
৩.
যদি জিগাও, "গন্তব্য কতোদূর?"
আমিও লজ্জিত হবো সাদেকালীর মতোন
জল ছুঁই ছুঁই
(১)
ডুবে যেতে যেতে যতটুকু ভেসেছি
তার কাছাকাছি ঠিক এসে দাড়ালে,
হাতটিও বাড়ালে,
চেপে চুপে অবশিষ্ট ডুবিয়ে দিতে দিতে বললে,” ভালবাসবি, কখনো আর?”
আমি হাসতে হাসতে ডুবতে ডুবতে বললাম, “ভালবাসি তোমায়” ।
কি বিষ্ময়! তোমার চোখে তখন জল।
(২)
একটু স্থির হই, কাঁদি কখনো
হঠাৎই হাসি, যাই করি।
জল ছুঁই ছুঁই পাড়ে দাড়িয়ে বিষন্ন হই মাঝে মধ্যেই।
এতো কিছু, তারপরও,
তুমি যখন বললে ” তীর্থে যাবো, যাবে ?”
হেসেছি শুধু।
এখন আর আমাদের যেতে নেই।।
আহাজারী
ষ্টেশন রোডের জরাজীর্ণ পথের ধারে
খুপড়ি ঘরে বাস করে
এই দেশের জন্য জীবন বাজী রাখা
লড়াকু, এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা।
তক্ত পোষের দুর্গন্ধ রাস্তা পর্যন্ত পৌছায়
নাক সিটকিয়ে পথিক জায়গাটুকু পার হয়।
কেউ অশ্রাব্য গালি দেয় আজন্মা বলে , কেউ হনহনিয়ে চলে
ক্ষুধার তাড়নায় অভুক্ত তখন পঙ্গু যোদ্ধা ।
গতকাল পর্যন্ত মেয়েটাই ছিল সব
কোন দুর্বিত্তের দল উঠিয়ে নিয়ে গেছে তারে
কপালে মৃদু মৃদু ঘাম,ঘুমোট দুর্গন্ধে চারপাশ
শুধায় পথিকের তরে "দেখেছো বাপ মোর জুলেখারে"
কেউ থমকে দাঁড়ায় বিস্ময় নিয়ে , কেউ দ্রুত
পথচলে আপদ ভেবে।
নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধা আহাজারি করে
ষ্টেশন রোডের জরাজীর্ণ পথের ধারে।