জীবন থেকে নেয়া (চোর নিয়ে মেঘাডেট)
আজকে “আমরাবন্ধু”র জন্মদিন। বিগত যৌবনা এই ব্লগটাতে পারতে কেউ আজকাল আর উঁকি দেয় না। শুধু যারা মায়া কাটাতে পারে নাই তারা মাটি কামড়ে পড়ে আছে। হ্যাপি বার্থডে এবি, অনেক অনেক হাসি খেলার – আলোর বেলা কেটেছে এখানে। ভাল না থাকো, টিকে অন্তত থাকো।
প্রথমে সেদিন চোর এলো আমাদের বাড়িতে তারপর পুলিশ। ঘটনাটা এরকম, বুধবারে বাবা মেয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং যথারীতি একজন টিভি আর একজন ল্যাপটপের মধ্যে ঢুকে গেছে। আমি বাড়ি ফিরে খুব তাড়াহুড়া সব গোছাচ্ছি আবার বেরোতে হবে, আমাদের খুব কাছের বন্ধু একবছর আগে মারা গিয়েছেন, তার সেদিন মৃত্যুবার্ষিকী। মেঘকে ওপরে পাঠিয়েছি রেডী হতে। বাগানের দরজার নবটা দেখি অর্ধচন্দ্র। মুচড়ে আছে ঠিক অর্ধেক মাপে।
মেয়ের বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি বাইরে গিয়েছিলে, বললো না।
আমি বললাম তাহলে এমন হলো কি করে লক?
তিনি বললেন, মেঘ হয়তো বাইরে গিয়েছিলো।
মেঘ নীচে আসতে আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে বললো, নাতো মা, আমি যাইনি।
আমি বললাম তাহলে কি চোর এলো নাকি।
বললেও ভাবার সময় নেই এখন প্রায় সাতটা বাজে, বেরোতে হবে। কেউ গা করলো না।
“আমরা বন্ধু আর শখের ফটোগ্রাফী”
আজকে “আমরাবন্ধু”র জন্মদিন।
আমরাবন্ধু - একটা শব্দ, একটা একাত্মতা! যারাই এর সাথে কিবা পাশেই আছেন/থাকেন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন এই আত্মীকতা। এর সাথে জড়িয়ে দূরে-কাছে, নিরবে কিবা সরবে থাকা সবাই যে যা তাই আছেন। আদিখ্যেতা, ‘আমি কি হনু রে’ একে অন্যের সাথে দুই’মুখতা, পিঠচাপড়ানো – এইগুলো এখন অব্দি নেই বলেই মানুষগুলোকে জানাচেনার গন্ডিতে নিয়ে আসা যায় সহজেই।
আমরাবন্ধু গ্রুপ হিসেবে আন্তর্জালে অনেক আগে থেকে রইলেও ব্লগের জগতে “আমরাবন্ধু” সেই প্রথমদিককার ব্লগ নয়। কিন্তু এতে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো ব্লগজগতের শুরুর দিকের নিকের আড়ালে রইলেও ‘এবি’তে এসে আর তা থাকেন নি, হয়ে উঠেছেন একে অপরের আদতেই বন্ধু। তাই নির্দ্বিধায় আলাপ-আলোচনা, রাগ-ভরসা করা চলে এই বন্ধুদের ওপরই।
কতদিন টিকে থাকবে দৈনিক পত্রিকা
কথাটা এরকম-প্রিন্ট মিডিয়া সূর্যের মতো, এটি সবসময়ই পূর্বে উঠে আর পশ্চিমে অস্ত যায়। বিশ্বাস করুণ কথাটা সত্য। পশ্চিমে প্রিন্ট মিডিয়া বা দৈনিক পত্রিকার বড়ই দুরাবস্থা। বিক্রি কমেছে, বিজ্ঞাপনও কমছে। মানুষ দৈনিক পত্রিকা কম পড়ছে। ফলে এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে দৈনিক পত্রিকা আর কতদিন টিকে থাকবে?
অনেক বছর পর লন্ডনে গিয়ে প্রিন্ট মিডিয়ার দুরাবস্থা খানিকটা নিজেই দেখলাম। সকালে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনে যাওয়ার পথে বিনামূল্যে পাওয়া যায় মেট্রো, আর সন্ধ্যায় ইভিনিং স্টান্ডার্ড। কারণ এখন আর অনেকেই কিনে দৈনিক পত্রিকা পড়তে চান না। বিজ্ঞাপনই ভরসা। দৈকি পত্রিকার বড়ই দুর্দশা পশ্চিমে।
অথচ দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকদের রিপোর্টের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিক্সন সরকারের পতন ঘটেছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট সেই রিপোর্ট করে প্রিন্ট মিডিয়াকে অন্য এক উ”চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এর পরে এবং আগেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে সারা বিশ্বে অনেক ওলট পালট হয়েছে, পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর। প্রশ্ন উঠেছে, সব কিছুই কী বন্ধ হয়ে যাবে।
বৃষ্টি অথবা যৌনতায় হাটা
তারাগুলি জোনাকি হয়ে গন্ধরাজের কাছে আসে, তখন ফুল গুলি নদী হয়ে সাপের মত চলে যায়
ফুল গুলি নদী হয়ে গেলে, জ্বলন্ত সিগারেট থেকে দুই ক্যান ধোঁয়া ছুটে যায় অনির্দিষ্ট গন্তব্যে...
ধেয়ে আসে কার্লসবাগের ফেনা যেন স্বপ্নীল কোন কংক্রীট
পানপাত্রে চেনা অচেনা সুন্দরীদের কন্ঠ জমে, আরো জমে থাকে স্মৃতি...
রঙিন সুর নিভে যায় সাদা দেয়ালের ছন্দে বাজে বিসুভিয়াসের কান্না
লাভার রাস্তা ধরে রিকশা মগ্ন রাত ভেসে যায় গভীর থেকে আরো গভীরের দিকে...
এবং মিশে যেতে থাকে নীলিমার আধারে, খুবই চেনা তরুনীদ্বয় অমৃত পরিবেশন করে
মুহুর্তের ব্যবধানে পরিচয় ঘুচে যায়, বেঁচে থাকে সোনালী তরলে টুংটাং সুর তোলা বরফের চাঁই আর অলঙ্ঘনীয় পাঁচিলের বাধা...
শহরের প্রাচীন দালানেরা ভীড় করে চারপাশে, শুয়ে থাকে ধৌরিতকের মত। তখন ভালোবাসারা আসে স্বপ্নের কাছে
স্বপ্নেরা দলে পিষে যায় বাস্তবতার ঘোরটোপে ঢাকা ফিটন গাড়িতে, চাবুক হাঁকে বেপরোয়া সহিস...
ঘোর ভাঙে নৈশব্দের ডাকে, সাকী বাজায় পাখোয়াজ
ভৈরবীর রক্ত ঝরে আকাশের বুকে আর এপারে রাতজাগা কেউ প্রতিদিন খুন হয়ে যায়...
হাঁসফাঁস শহরে নিশ্বাস , বিশ্বাস সব বেদনায় কাটা হতে থাকে
শুভ জন্মদিন এবি...
আজ এবি'র জন্মদিন... ধুলায় মলীন কত স্মৃতী... আহা সেই সোনালী দিন... কত আড্ডা... হৈচৈ... খুনোসুটি... জীবন আসলেই রঙীন হয়ে শুরু হয়... তারপর... তারপর ধীরে ধীরে মলিন হতে হতে জীর্ণশীর্ণ হতে থাকে... আর আমি...
"অক্লান্ত আমায় ক্লান্ত কর, ভুল করে হে ভুলে যাওয়া
অফুরন্ত সময় নেই এক জীবনে
না হয় সময় দিলাম কিছুটা তোমায়।।"
সময়ের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে দেখি...
"ছেঁড়া গেঞ্জি, ফেলে দেওয়া একপাটি জুতো, রঙজ্বলা নাইলনের মশারি,
দেয়ালের কোনে ঝুল, দেখে শুনে বিষণ্ণ পায়ে -
চলে যাচ্ছে সময়।
দুঃখের রোদে কিংবা সুখের আমেজে
সিগারেটে শেষ টান.... দিতে দিতে
উড়ে যাচ্ছে সময়"
হায়! সময়... উড়েই যাচ্ছে... জ্যামে বসে বসে শুধুই ভাবনা... কীবোর্ডবাজী... বিরহ... উদাস... কত কাজ এখনো করা হয়ে উঠলো না... কত কাজ করার কথা ছিলো... না পাওয়া...
শুভ জন্মদিন এবি... অনেক ভালবাসার এই জায়গাটা আজীবন থাকবে... আজীন থাকুক...
গ্ল্যাডিয়েটর
আমাকে যদি ধরতে চাও
এসো যেথা সাফারির বন
আকাশ পাতাল ঘুড়ে বেড়াই
শুন্যে যে মোর আসন।
অশোক হয়ে ফুটি আমি
সাথে হাজার সাথি
বাঘ ভাল্লুক সিংহ মামা
আছে নানান জাতের পাখি।
ভ্যাম্পায়ার ও শকুনেরাও
বন্ধু আমায় মানে
মুগ্ধ আমি তৃপ্ত আমি
তাদের সুর ও তানে
ভুজঙ্গ আমায় আদর করে
সর্ব অংগ দিয়ে
যতই বলি ছাড় আমায়
ততই থাকে জড়িয়ে।
লতা পাতা গুল্ম যত
থাকে পাহাড়ায়
কেউ যদি ধরতে আসে
তাড়ায় হিংস্র ইশারায়।
হেথায় আমি চরম সুখী
নেই তো প্রাণের ভয়।
সভ্য নামের সমাজ টাতেই
আমার প্রাণ সংশয়।
অবনির হেথায় থাকি বন্ধু
প্রাণে বড় ডর।
এখানে আমায় ধরতে হলে
তোমাকে হতে হবে গ্ল্যাডিয়েটর।
তাই ধরতে হলে চলে এসো
এই সাফারি বনে
বল সাত সমুদ্দুর পারি দিয়ে
আসবে কত ক্ষনে।
সিরাজগঞ্জ
অক্টোবর,২৭,২০১৩খ্রীঃ 
দেখিবার মতন যদিও কিছুই নাই, তাও দেখিতে হয় ঈদে টেলিভিশন!
আমার বয়সী লোকেরা আর টিভি দেখে না, আমি কেন দেখি? কারন ভালো লাগে তাই। যে কারনে লোকজন বাংলা সিনেমা দেখে হলে বসে, সেই কারনে আমি টিভি দেখি। ছোটবেলা থেকেই টিভির পোকা ছিলাম সেই পোকাটা বুড়ো হয়ে গেলেও এখনো মাথায় বিদ্যমান। তাই দেখতে হয় টিভি কারন ভালো পাই। যদিও গত ১ বছর ধরে বাসায় টিভিকার্ড আছে ডিসের লাইন নাই তাই দেখতে পারি না কিছুই। তবুও বাড়ীতে গেলে টিভি দেখতেই হয় চাই বা না চাই! কারন বাড়ীতে আমার তেমন কোন কাজ নাই যে অন্য কিছু করবো। তাও দেখা যায় ডিস থাকে না, কারেন্ট থাকে না কত ধরনের প্রতিকূল অবস্থা। আর এবার নানু বাড়ী ছিলাম আড়াই দিন তাতেও ঠিকঠাক টিভি দেখি নাই। যদিও নানু বাড়ীতে টিভি দেখার খুবই সুব্যাবস্থা। আমি ঘরে ঢূকলেই সবাই চলে যায়। রিমোটের নিয়ন্ত্রন আমার হাতেই থাকে। তাও ভালো লাগে না। নিজের ঘর, নিজের প্রাইভেসী, নিজের আরাম মতো মায়ের হাতের অসাধারণ রান্না খেতে খেতে টিভি দেখার মজাই আলাদা!
পালাই পালাই
অস্থির, উদ্দাম, সিদ্ধান্তহীনতা, নিজেকে নিজের অপছন্দ, মনের বিরুদ্ধে পড়ালেখা সব মিলিয়ে ১৯৯৯ সালটা আমার জন্যে অদ্ভূত একটা সময়। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে হবে এই সংকল্প আমাকে এমন এক বিষয় পড়তে বাধ্য করলো যা পড়তে ভালো লাগে কিন্তু পরীক্ষার খাতায় আমার জন্যে আশানুরূপ নাম্বার যোগ বয়ে আনে না- সেই বিষয়ের নাম দর্শন।আমার মুখস্থ বিদ্যা বরাবরই শূন্যের কোঠায়। বন্ধুদের দেখেছি পাটীগণিত পর্যন্ত না বুঝলে মুখস্থ করে ফেলতে। আমি ব্যর্থ। না বুঝলে এক কলমও এগোতে পারি না। দর্শন পড়ি, ভালো লাগে পড়তে কিন্তু পরীক্ষার খাতায় আমি ২০ পৃষ্ঠা মুখস্থ উগড়ে আসতে পারি না। ফার্স্ট ইয়ারে আমার রেজাল্ট বলে দিচ্ছে আমি থার্ড ক্লাস নম্বর পেতে যাচ্ছি চলমান চার বছরে।সেই সম্ভাবনা পরবর্তীতে উৎপাটন করলেও ৯৯ সালে আমি আতংকে অস্থির।
ঝড়ের পর ধুলি মুক্ত নির্মল আকাশ চাই না
এমনি ঈদের পর এখন পর্যন্ত সকল শ্রমিক কাজে যোগদান করেনি। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের পর আমাদের দেশে শ্রমিকরা কম পক্ষে ১০-১৫ দিন দেরি করে কাজে আসে। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিকরা। আমার এক বস এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, আমাদের দেশের শ্রমিকরা প্রথমে কোরবানি গোস্ত খায়, তারপর হাড় খায়, তারপর পায়ের খোড়া খায়, সর্বশেষ পকেটের টাকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজে আসে না। আজ আমি হাড়ে হাড়ে তা টের পাচ্ছি।
পিরামিড প্রাচীনতা
২৫.১০.২০১৩
প্রগাঢ় স্বপ্নে তোমার অধরে এঁকে দিতে গিয়ে
একটি উষ্ণ চুস্বন,
আমি দ্বিধায় কুঁকড়ে উঠি যখন-
ভেসে উঠে একটি হাহাশ্বাস-হায় জীবন!
লঘু জোনাকী অথবা নির্ভীক নারী
নক্ষত্রের ছায়াতলে নিবিড় করে
না পাওয়ার বেদনায় জ্বলে,
ডেকে নিয়ে সমূহ পতন-
বলে যায় মূঢ়তার সময়
বেড়াল ফাঁদে, মন যদি কাঁদে জানি
ভালোবাসাহীনতাই জীবন।
স্বাধীনতা মানে অনিঃশেষ নিঃসঙ্গতা
মরাল গ্রীবায়,
সর্পিণী সহোদরার প্রেমহীনতায়
খোঁজা জীবনের মানে
শীতরাতে ডুবে যাওয়া
পিরামিড প্রাচীনতায়...
মান্না দে
গানের মানুষ মাটিতে তোমায় মানায় না
তবু যেতে হচ্ছে
সবাই যে পথ দিয়ে যায়
যাওয়াটাই সত্য, গানের মতো।
সুর দিয়ে পুড়িয়েছো বুকের জ্বালা
আগুন তোমাকে পুড়াবে কি করে।
কতো আগুন নিভিয়েছো তুমি
গানে আর সুরে।
যে আগুন পোড়াবে তোমায়
সে আগুনও প্রণাম করে নেবে আগে!
আগুন তোমায় পুড়াতে পারবে
আগুন পারবে না তোমার গান পুড়াতে!
আগুন ফুরিয়ে যাবে
তোমার গান ছড়িয়ে আছে হৃদয়ে হৃদয়ে
তোমার গান ফুরাবে না কখনও,
তোমার গান পোড়ানোর আগুন সৃষ্টি হয়নি
পৃথিবীতে এখনও!
ঘুরে ফিরে আসার গল্প!
অনেক দিনের পর লিখছি। এত লম্বা বিরতিতে আমার লিখতে মোটেও ভালো লাগে না। তাও উপায় ছিল না। কারন প্রথমত, প্রিয় মোবাইল সেটটা নষ্ট আগে যে মোবাইলে লিখতাম তা বন্ধ এবার। দ্বিতীয়ত ল্যাপটপ নিয়ে গিয়েছিলাম তাতে লেখা যেত, কিন্তু বিধি বাম মামা এক্টার্নাল ইউএসবি কিবোর্ড নিয়ে যায় নি আর আমি ল্যাপটপের কীবোর্ডে লিখতেই পারি না। চেষ্টা করলাম বাড়ীতে কত- হয় না, বারবার এফএন টিপে লেখা আমার কম্ম নয়। তাই ল্যাপটপ দিয়ে খালি চার পাঁচটা সিনেমাই দেখলাম। ভেবেছিলাম এন্ড্রয়েড সেট দিয়ে লিখবো- কিছু দূর লিখে মনে হলো এর চেয়ে মাটি কাটার কাজে কম পরিশ্রম, তাই আর লেখা হলো না। ব্লগে নতুন দুয়েকজন ব্লগার দেখলাম। দেখে ভালো লাগলো। কিন্তু এবির যা সমস্যা তাই থেকে যায়- পোষ্ট পড়ার লোক নাই। যখনই দেখছি বারবার- লোকজন নাই তখনই মন চায় একটা পোষ্ট লিখে ফেলি যা ইচ্ছে তাই। কিন্তু নিরুপায় তাই শুয়ে বসে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। তাই ঢাকায় বিকেলে নেমেই রাতের বেলা এই পোষ্ট লিখছি, নিজের ঘুরাঘুরির ফিরিস্তি জানাতে!
ধূসর গোধূলিঃ মায়া
সুবল বাড়িতে ঢুকে মাকে খুঁজতে লাগলো। বড় ঘর, পাকের ঘর, ঠাকুর ঘর, কোথাও মাকে খুঁজে না পেয়ে শেষমেশ গোয়ালঘরের পাশে এসে পেল। ওখানে দাঁড়িয়ে ভাসানির মা’র গোবর দিয়ে ঘুটে বানানো তদারকি করছে।
-তুমি এইহানে? তোমারে কত জায়গায় খোঁজ করলাম!
-ক্যান বাবা, কি অইছে? একবেলা মা’রে দেখতে না পাইয়াই এত অস্থির হইলি, আমি না থাকলে কি করবি?
-দূর, তুমি কি যে কও না! তুমি আবার কই যাবা? মা ক্ষিদা লাগছে, খাইবার দাও।
-একটু দাঁড়া বাবা, এই ঘুইটে কয়ডা বানানো শ্যাষ হউক।
সুবল ডানদিকে তাকিয়ে দেখল গোয়ালঘরের পাশের বড় নালাটার মধ্যকার কচুরীপানা আর নল খাগড়ার ঝোপের মাঝ দিয়ে কাকু গরুর জন্য ঘাসভর্তি ডোঙ্গাটা বাড়ির কিনারে ভিড়াচ্ছে। শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে এই নালায় অনেক মাছ পাওয়া যায় আর এখন বর্ষার সময়ে পাশের জমিগুলোর সাথে মিলেমিশে কেমন একাকার হয়ে আছে! সুবল ছুটে গিয়ে পাড়ে দাঁড়ালো।
-কিরে ব্যাডা, খালি বাড়ি বইয়া থাকলে অইব? কাম করন লাগব না? হাসতে হাসতে বলে তারাপদ
-আমি তো এহন স্কুল থেইক্যা আইলাম আর আমি কি এইগুলান পারি? বড় হইয়া নেই, দেইখো তোমার মতন সব পারুম।
একাই গেলো
আগুনরঙা গোধূলি শেষে সন্ধ্যার ভেতর যে এতো হাহাকার থাকে
সে তো বোঝাই হতো না, যদি তুমি পৃষ্ঠা পাল্টানোর মতো করে না পাল্টাতে!
চুলের ছায়ায় ছায়ায় সন্ধ্যা আসতো, এসে ভোরে পৌছে যেতো কখন,
টের পেতাম না! এখন সবই টের পাই, সময়ের মাঝে গভীর একটি শূন্যতা,
বাতাসে বাতাসে দোলে দীর্ঘশ্বাসে দীর্ঘ রাত্রি!
কি কারণে চলে যেতে হলো, কি ভেবে কোন দিকে চলে গেলে পথ,
কিছুই জানা হলো না বিস্তারিত। কি নাম রেখে গিয়েছিলো মনে পড়ছে না তাও!
শুধু শরীরে লেগে থাকা শরীরের ঘ্রাণ রয়ে গেছে, ঘ্রাণটুকু ধুবো কোন পুকুরে বলে গেলো না!
যাবেই যখন একা কেনো? তবু,
একলা গেলো, একাই গেলো, আমাকে নিলো না!
একটি পাঞ্জাবীর আত্মকাহিনী
‘জন্মই যার আজন্ম পাপ’
কথাটা কে বলেছেন জানিনা,তবে এই কথা আমার প্রায়ই মনে হয় যখন পকেটে রান্নাঘর থেকে চুরি করা দিয়াশলাই কিংবা সিগারেটের প্যাকেটের আশ্রয় হয় খুবই যত্ন সহকারে।সেটা লাইটারের স্থান হলে তো বেশ ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়।অবশ্য এগুলো শারীরিক চাপ।মানসিক চাপ টা এর চেয়ে অনেক বেশী ভয়ংকর।পূজার দিনে আমাকে উদ্দেশ্য করে অনেক কথাই বলা হয় যখন আমার মালিক মুসলিম।আবার ঈদের দিন একই ঘটনা ঘটে সত্ত্বাধিকারী সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে।অথচ জন্মের সময়ত কেউ আমার ধর্ম বিবেচনা করেনি।আমার জন্মদানে অবদান তো সবারই আছে।যিনি ডিজাইন করেছেন তিনি হয়ত খ্রিস্টান,শরীরটা যিনি তৈরী করেছেন তিনি মুসলিম, আবার আমার আকার দানকারী হিন্দু।আমি জানিনা কে কোন ধর্মের,তবে সবাই আমার জন্মদাতা-জন্মদাত্রী।