অক্টোবরের সিনেমা দেখা দেখি!
সিনেমা দেখতে আমার খারাপ লাগে না এখন আর। আগে অবশ্য কখনোই এত ভালো লাগতো না, কারন টিভিতে কত অপশন রিমোটের ঘুরে ঘুরে কত কিছুতে চোখ বুলানোর সুবিধা। সেই তুলনায় সিনেমা দেখতে হলে পিসি খুলে বসে থাকো। টানা দেখে যাও। তাই দীর্ঘ দিন আমার সিনেমা দেখার জায়গা টেলিভিশনে। টেলিভিশনে সিনেমা দেখার কথা শুনলেই পাবলিক হাসে, বলে উঠে টিভি কি সিনেমা দেখার একটা জায়গা হলো?
ত্রুটিহীন দুঃসময়
ভাবনার কার্নিশে ডাহুকেরা ঝিমিয়ে আছে কিছুক্ষন। মেঘলা দুপুরে সান্ধ্যআইন মেনে চলা ন গরীর পথগুলো শান্তিতে ঘুমিয়ে। বৃষ্টির ফোটাগুলো আমার লোমশ হাতে দৌড়ঝাপ দিয়ে যায়। বাতাসের শীষে কিছুগান খুব পরিচিত লাগে। দুঃখ পাবার বিলাসী সময় কাটছে এখন। দীর্ঘস্হায়ী নয় জেনেও "যাক না সময় যাক না চলে" মুডে চোখ বুলাই সবুজ বনানীর পানে।
তোমার রহমান নাম,যে গেঁথেছি অন্তরে।
তোমার কোন কোন দানকে
করিব অস্বীকার,
অধম, গোলাম, না চাহিতেই
যেথা দিয়েছ ঢেলে অপার।
তুমি অসীম দয়াবান
তাই শিখিয়েছ কোরআন।
সৃজিলে মানবেরে
শুকনা মাটি দিয়ে
জ্বীনকে বানালে কোন সে লীলায়
অগ্নি শিখা দিয়ে।
জবান দিলে তুমি সকল সংযোগের
বাহন করে।
জমিনকে বানালে আবার
সৃষ্ট জীবের আহার্য্যের আঁধারে।
ফলমূল, শস্যাদি, খেজুর
কত শত আহার্য,
রয়েছে সুগন্ধি ফুল,
ভাষাহীন তার সৌন্দর্য।
নদী ও মহোদধি
বয়ে চলে নিরবধি,
কেউ কারও সীমা
কভূ করে না লংগন,
নদীর পানি হয় যে মিঠা
সমুদ্রের পানিতে হায়! কত যে লবণ।
শুধু কি তাই!
নদী ও সাগরে
কত যে মনি মুক্তা রাজি ঝড়ে,
নৌকা ও জাহাজে চড়ে যাই
দেশ হতে দেশান্তরে।
সমুন্নত আকাশ বানিয়ে তুমি
শিখিয়েছ ভারসাম্য,
মানবেরে করেছ আদেশ
রাখিতে হিসেবে সাম্য।
নক্ষত্র বৃক্ষরাজি
সর্বদা অনুগত
চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র চলে
নিখুত হিসেব মত।
জ্বীন ও মানবেরে
দিয়েছ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে
পার যদি নাও অবকাশ,
ছেড়ে গিয়ে আমার জমিন ও আকাশ।
উভয়ের কি সাধ্য বল
নড়িতে এক তিল
তব অনুমতি নাহি যেথা
যার ভিসা মিলিবে যথা
সে যাবে হেথা
একেকদিন
একেকদিন খুচরো পয়সা, অজান্তে খরচ হয়ে যায়
একেকদিন খুব সুস্থ থেকেও মন অসুস্থতার গান গায়
এক এক দিন করে বছর চলে যায়
হাহাকারগুলো বিদ্রুপের ছায়াতলে
তোমার বিছানার সাইড টেবলে
অবহেলে পড়ে রয়
কেন যে এমন হয়!
তোমাকে কাছে পাবার তৃষ্ণা
জাগ্রত বিগ্রহ দেহ
সটান নগ্নতায়
একেকদিন একেকদিন বিরহ
সব কিছুর দখল পায়
তোমাকে ডাকা অনেক নাম
তোমাকে বলা না বলা অনেক কথা
নীরবতায় ছেয়ে যায়
একেকদিন নিজেকে লাগে
বড্ড অসহায়
আশাবাদের চাষাবাদ!
সুশীল ভাষায় এই সময়টাকে বলে ক্রান্তিকাল। তবে শুধু ক্রান্তিকাল বললে এই সময়টার ঠিকঠাক নাম দেয়া হয় না। আমার মাথাতে খালি আসে দুটো শব্দই 'চরম দুঃসময় ' সেটা সব দিক থেকেই। রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজ, রাষ্ট্র সব খানেই ঘোরতর অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, অস্বস্তিতে দিন কাটছে সবার। যেখানেই যাই, যে কথাই বলি ঘুরে ফিরে আসে পলিটিক্যাল ক্রান্তিকালের এই কথাগুলাই। এখন তো নান্নুর চায়ের দোকান নাই তাই অনেক জায়গাতেই মাঝে সাজে বসা হয়। নানান লোকের কথা শুনি, সবাই খুব টেনশনে। আমাদের এক বন্ধু আছে নাম মুহিত। বাপের বিশাল বড় বাড়ী, জাবি থেকে মাস্টার্স করছে এখনো শেষ হয় নাই। ওর বাপ হুট করেই খুব হন্তদন্ত হয়ে ইউরোপের কোনো দেশে আরেকটা মাস্টার্সের জন্য পাঠাতে চায়, অথচ এত বছরের জীবনে তার বিদেশে যাবার কোন প্ল্যানই ছিল না। সেও দোড়ঝাপ শুরু করছে। এখন বলতে পারেন- এইসব ব্যাপার স্যাপার তো আগে থেকেই ছিল, কিন্তু আগের সাথে এখন ডিফারেন্সটা হলো আগে সামর্থ্যবান মানুষদের ভিতরে অনেকের ইচ্ছা থাকতো বিদেশে যেন একটা ঠিকানা থাকে। এখন সবাই তা বাধ্যতামুলক ভাবে করছে। এমন একটা ভাব যেন দেশে আশু সিভিলওয়্যার হচ্ছে। আরেক লোকের কথা বলি তার নাম ধাম পেশা কি জ
ভাঙচুরের ব্যবসা
হুমায়ুন আহমেদের নান্দাইলের ইউনুসের গল্পটা নিছক গল্প না বরং বঞ্চিত মানুষের আভ্যন্তরীণ ক্রোধের মাত্রাবোধহীনতার রূপায়ন। অবশ্য নান্দাইলের ইউনুসের উপখ্যান আমাদের জানতে হয় না, আমরা চলতি পথে বিচারের আড়ালে এমন অমানবিক নৃশংসতার উদাহরণ নিয়মিতই দেখতে পাই।
একটা সময়ে রাস্তায় ছিনতাইকারী কিংবা চাঁদাবাজ ধরা পরলে উত্তেজিত জনতা তাদের পিটিয়ে হত্যা করেছে, পকেটমার শিশু-কিশোরদের আঙ্গুল কেটেছে, আগুণে পুড়িয়ে মেরেছে, গণমাধ্যম নিয়মিতই এসব সংবাদ প্রকাশ করেছে কিন্তু এই অহেতুক বর্বরতার বিপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারে নি।
সমষ্টির ভেতরে অনেক ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ মানুষ থাকে, যারা জীবনে কোনো না কোনো সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে, যাদের বাজারের টাকা পকেটমার হয়েছে, যাদের ছোটো প্রতিষ্ঠান প্রাণের আতংকে চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধে বাধ্য হয়েছে। অসংখ্য মানুষ যারা মূলত আইনী সুরক্ষা চেয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা চেয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র আইনী সুরক্ষা কিংবা নিরাপত্তা প্রদাবে ব্যর্থ। এইসব ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ মানুষেরা ভীড়ের আড়ালে ভয়ংকর নৃশংসতায় অমানবিক ভাবে নিজের ক্রোধের উপশম খুঁজে পায়।
এবি'র জন্মদিনে বিউগল রেষ্টুরেন্টে সুবেদার আলী
সুবেদার আলীর শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। শরীর বললে ভুল হবে। কাঁপছে তার দুই গ্যালন সাইজ ভুড়িটা।
জীবনে এই প্রথম তার এরকম কোন জায়গায় আসা। তার নিজের কখনো সুযোগ হতো না যদি হাতেম তাকে এই সুযোগ না দিত। হাতেম তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী। একই মেস ঘরে থাকে দুজনে। বিউগল রেষ্টুরেন্টে কাজ করে হাতেম। ভালোমন্দ খাবার সুযোগ হলেও হাতেমের দিন কাটে হয় মুলার ঝোল নয় শশার ঝোলের তরকারি আর বড়জোর একটা ডিম। সুবেদার মেট্রিক পাশ। হাতেমের চেয়ে শিক্ষিত। কিন্তু খাবার দাবারে দরিদ্র। কারণ সে একটা গুদামে বস্তা গুনার কাজ করে। হাতেমের কাছ থেকে খাবার দাবারের গল্প শুনতে শুনতে অবিশ্বাস্য লাগে তার। কোন কোন বেলায় নাকি দুইশো পদের খাবারও সাজানো থাকে ওখানে। তার নাম বুফে। এত খায় কেমনে? এমনকি তার দুই গ্যালনের পেটের মধ্যেও বড়জোর বিশ পদ ঢুকানো যাবে ঠেসেঠুশে।
ধূসর গোধূলিঃ দুরন্তপনা
ভোরের প্রথম আলোর ছোঁয়ায় প্রকৃতি জেগে উঠছে নতুন করে। আশপাশের গাছপালা তার সবুজ রঙ ছড়াতে শুরু করেছে মাত্র। সকালের চমৎকার এই ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। সূর্য্য ওঠার আগের এই সময়টাতে বেড়াতে ভীষণ ভাল লাগে বকুলের। শ্রাবণের আকাশের মত মেঘের ঘনঘটা আর দিনভর ঝুম ঝুম বৃষ্টি এখন আর দেখা যায়না, তবে শেষরাতে যে হালকা বৃষ্টি হয়ে গেছে প্রকৃতিতে তার রেশ রয়ে গেছে এখনও। আশেপাশের গাছপালা আর ঝোপঝাড়গুলো এখনও ভেজা, অনেকটা সদ্য স্নান শেষে গ্রাম্য কিশোরীর ভেজা চুলের মত। প্রতিদিনের মত আজও খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই মন ভাল হয়ে গেল ওর। এই নির্মল ঠাণ্ডা বাতাসে রোজই বেড়ানো হয় তবুও সবসময়ই যেন নতুন করে অনুভব করে এই স্নিগ্ধ সকালটাকে, কখনোই পুরনো লাগে না। ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে এসে দাঁড়াল বকুল। বড় রাস্তার দিকে দৃষ্টি পড়তেই দেখতে পেল অনেকগুলো চাই হাতে মন্টুমামা ভিতর বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। বকুল পুকুরের ঘাটে গিয়ে বসল, মন্টুমামা কাছাকাছি আসতেই দেখল প্রতিটা চাইয়েই ভাল পরিমাণ মাছ আটকা পড়েছে। বকুলকে দেখে মন্টু বলে উঠলো,
-কি ছোডো বুড়ি, উইঠা পড়ছ?
-হুম, আইজ অনেক মাছ উঠছে তো মন্টু মামা!
-আইজ কয়ডা বেশী মাছ পাইলামরে মা
কথা-দুই
সমুদ্র যতো বিশাল হোক অন্ধকারে তাকে দেখা যায় না
তুমি সমুদ্র নও, সমুদ্রের মতও নও, তবু তুমি
দৃশ্য হয়ে থাকো অন্ধকারেও!
তোমাকে বলেছিলাম সে কথা- তুমি ক্রিষ্টাল মূর্তির মতো
দাঁড়িয়েছিলে আর সমুদ্র পাড়ের বাতাস কথাগুলো
উড়িয়ে নিয়ে গেলো। তোমার শোনা হলো না!
সময়ে সময়ও যায় বদলে
বদলে গেছে চুলের রঙ, ঠোঁটের আকার
কথা শোনার ধরণটাও,
বদলে গেছে কোন কথার কোন মানে
বদলে গেছে তোমার ঠিকানাটাও!
পৃথিবীর সকল ডাকঘর ঘুরে কথাগুলো ফিরে এলো,
কোন কথা তাই পৌছাতে পারেনা তোমার কাছে,
নিঃসঙ্গতার মতো করে জড়িয়ে থাকা অন্ধকারে
কথাগুলো বুকের ভেতর পায়চারি করে!
তখন একটি দীর্ঘশ্বাস উড়ে গিয়ে শুকনো পাতার মতো
পড়ে থাকে গাছের নিচে!
তুমিই জানলে না, গাছ কি আর জানবে;
একটি দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে অনেক না-বলা কথা থাকে!
একাত্তরের অশ্রু, এক
আমাদের স্বীকার করতেই হবে, আমরা মাঝখানে একটা দীর্ঘ সময় পার করে এসেছি, যে সময়টাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার চর্চা অনেকটা সংকুচিত ছিল, একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে ছিল। পুরো ব্যাপারটাতে চলে এসেছিল ট্যাবুভাব; যেন অন্যায় কিছু করছি, সবকিছুতে ছিল লুকোচুরি।
'একাত্তরের অশ্রু' মূলত বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের একটি প্রকল্প। মুক্তিযুদ্ধের নানান কষ্টের ঘটনা, বীরত্বের ঘটনা, ইতিহাসের নানান ঘটনা সংক্ষিপ্ত আকারে কিশোর-কিশোরীদের জন্য উপস্থাপনই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
পাঠক মাত্রেই প্রশ্ন করতে পারেন, সংক্ষিপ্ত আকারে কেন? উত্তরটা এভাবে দেবো, ব্যস্ত জীবনের নানান জটিলতার ভীড়ে মানুষ দীর্ঘ রচনা পড়তে ক্লান্ত বোধ করে। আর পাঠক যদি হন কিশোর বয়সের কেউ, তাহলে তো কথায় নেই...দীর্ঘ রচনা, কঠিন আবেগী শব্দ কিশোরদের স্পর্শ করে কম।
সবশেষে এটুকুই বলব, এই ক্ষুদ্র প্রয়াসের একমাত্র লক্ষ্য কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা চর্চার আলো পৌঁছে দেয়া।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা চর্চার আলো বাঙলার সব ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক।
জীবন থেকে নেয়া (চোর নিয়ে মেঘাডেট)
আজকে “আমরাবন্ধু”র জন্মদিন। বিগত যৌবনা এই ব্লগটাতে পারতে কেউ আজকাল আর উঁকি দেয় না। শুধু যারা মায়া কাটাতে পারে নাই তারা মাটি কামড়ে পড়ে আছে। হ্যাপি বার্থডে এবি, অনেক অনেক হাসি খেলার – আলোর বেলা কেটেছে এখানে। ভাল না থাকো, টিকে অন্তত থাকো।
প্রথমে সেদিন চোর এলো আমাদের বাড়িতে তারপর পুলিশ। ঘটনাটা এরকম, বুধবারে বাবা মেয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং যথারীতি একজন টিভি আর একজন ল্যাপটপের মধ্যে ঢুকে গেছে। আমি বাড়ি ফিরে খুব তাড়াহুড়া সব গোছাচ্ছি আবার বেরোতে হবে, আমাদের খুব কাছের বন্ধু একবছর আগে মারা গিয়েছেন, তার সেদিন মৃত্যুবার্ষিকী। মেঘকে ওপরে পাঠিয়েছি রেডী হতে। বাগানের দরজার নবটা দেখি অর্ধচন্দ্র। মুচড়ে আছে ঠিক অর্ধেক মাপে।
মেয়ের বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি বাইরে গিয়েছিলে, বললো না।
আমি বললাম তাহলে এমন হলো কি করে লক?
তিনি বললেন, মেঘ হয়তো বাইরে গিয়েছিলো।
মেঘ নীচে আসতে আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে বললো, নাতো মা, আমি যাইনি।
আমি বললাম তাহলে কি চোর এলো নাকি।
বললেও ভাবার সময় নেই এখন প্রায় সাতটা বাজে, বেরোতে হবে। কেউ গা করলো না।
“আমরা বন্ধু আর শখের ফটোগ্রাফী”
আজকে “আমরাবন্ধু”র জন্মদিন।
আমরাবন্ধু - একটা শব্দ, একটা একাত্মতা! যারাই এর সাথে কিবা পাশেই আছেন/থাকেন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন এই আত্মীকতা। এর সাথে জড়িয়ে দূরে-কাছে, নিরবে কিবা সরবে থাকা সবাই যে যা তাই আছেন। আদিখ্যেতা, ‘আমি কি হনু রে’ একে অন্যের সাথে দুই’মুখতা, পিঠচাপড়ানো – এইগুলো এখন অব্দি নেই বলেই মানুষগুলোকে জানাচেনার গন্ডিতে নিয়ে আসা যায় সহজেই।
আমরাবন্ধু গ্রুপ হিসেবে আন্তর্জালে অনেক আগে থেকে রইলেও ব্লগের জগতে “আমরাবন্ধু” সেই প্রথমদিককার ব্লগ নয়। কিন্তু এতে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো ব্লগজগতের শুরুর দিকের নিকের আড়ালে রইলেও ‘এবি’তে এসে আর তা থাকেন নি, হয়ে উঠেছেন একে অপরের আদতেই বন্ধু। তাই নির্দ্বিধায় আলাপ-আলোচনা, রাগ-ভরসা করা চলে এই বন্ধুদের ওপরই।
কতদিন টিকে থাকবে দৈনিক পত্রিকা
কথাটা এরকম-প্রিন্ট মিডিয়া সূর্যের মতো, এটি সবসময়ই পূর্বে উঠে আর পশ্চিমে অস্ত যায়। বিশ্বাস করুণ কথাটা সত্য। পশ্চিমে প্রিন্ট মিডিয়া বা দৈনিক পত্রিকার বড়ই দুরাবস্থা। বিক্রি কমেছে, বিজ্ঞাপনও কমছে। মানুষ দৈনিক পত্রিকা কম পড়ছে। ফলে এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে দৈনিক পত্রিকা আর কতদিন টিকে থাকবে?
অনেক বছর পর লন্ডনে গিয়ে প্রিন্ট মিডিয়ার দুরাবস্থা খানিকটা নিজেই দেখলাম। সকালে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনে যাওয়ার পথে বিনামূল্যে পাওয়া যায় মেট্রো, আর সন্ধ্যায় ইভিনিং স্টান্ডার্ড। কারণ এখন আর অনেকেই কিনে দৈনিক পত্রিকা পড়তে চান না। বিজ্ঞাপনই ভরসা। দৈকি পত্রিকার বড়ই দুর্দশা পশ্চিমে।
অথচ দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকদের রিপোর্টের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিক্সন সরকারের পতন ঘটেছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট সেই রিপোর্ট করে প্রিন্ট মিডিয়াকে অন্য এক উ”চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এর পরে এবং আগেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে সারা বিশ্বে অনেক ওলট পালট হয়েছে, পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর। প্রশ্ন উঠেছে, সব কিছুই কী বন্ধ হয়ে যাবে।
বৃষ্টি অথবা যৌনতায় হাটা
তারাগুলি জোনাকি হয়ে গন্ধরাজের কাছে আসে, তখন ফুল গুলি নদী হয়ে সাপের মত চলে যায়
ফুল গুলি নদী হয়ে গেলে, জ্বলন্ত সিগারেট থেকে দুই ক্যান ধোঁয়া ছুটে যায় অনির্দিষ্ট গন্তব্যে...
ধেয়ে আসে কার্লসবাগের ফেনা যেন স্বপ্নীল কোন কংক্রীট
পানপাত্রে চেনা অচেনা সুন্দরীদের কন্ঠ জমে, আরো জমে থাকে স্মৃতি...
রঙিন সুর নিভে যায় সাদা দেয়ালের ছন্দে বাজে বিসুভিয়াসের কান্না
লাভার রাস্তা ধরে রিকশা মগ্ন রাত ভেসে যায় গভীর থেকে আরো গভীরের দিকে...
এবং মিশে যেতে থাকে নীলিমার আধারে, খুবই চেনা তরুনীদ্বয় অমৃত পরিবেশন করে
মুহুর্তের ব্যবধানে পরিচয় ঘুচে যায়, বেঁচে থাকে সোনালী তরলে টুংটাং সুর তোলা বরফের চাঁই আর অলঙ্ঘনীয় পাঁচিলের বাধা...
শহরের প্রাচীন দালানেরা ভীড় করে চারপাশে, শুয়ে থাকে ধৌরিতকের মত। তখন ভালোবাসারা আসে স্বপ্নের কাছে
স্বপ্নেরা দলে পিষে যায় বাস্তবতার ঘোরটোপে ঢাকা ফিটন গাড়িতে, চাবুক হাঁকে বেপরোয়া সহিস...
ঘোর ভাঙে নৈশব্দের ডাকে, সাকী বাজায় পাখোয়াজ
ভৈরবীর রক্ত ঝরে আকাশের বুকে আর এপারে রাতজাগা কেউ প্রতিদিন খুন হয়ে যায়...
হাঁসফাঁস শহরে নিশ্বাস , বিশ্বাস সব বেদনায় কাটা হতে থাকে
শুভ জন্মদিন এবি...
আজ এবি'র জন্মদিন... ধুলায় মলীন কত স্মৃতী... আহা সেই সোনালী দিন... কত আড্ডা... হৈচৈ... খুনোসুটি... জীবন আসলেই রঙীন হয়ে শুরু হয়... তারপর... তারপর ধীরে ধীরে মলিন হতে হতে জীর্ণশীর্ণ হতে থাকে... আর আমি...
"অক্লান্ত আমায় ক্লান্ত কর, ভুল করে হে ভুলে যাওয়া
অফুরন্ত সময় নেই এক জীবনে
না হয় সময় দিলাম কিছুটা তোমায়।।"
সময়ের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে দেখি...
"ছেঁড়া গেঞ্জি, ফেলে দেওয়া একপাটি জুতো, রঙজ্বলা নাইলনের মশারি,
দেয়ালের কোনে ঝুল, দেখে শুনে বিষণ্ণ পায়ে -
চলে যাচ্ছে সময়।
দুঃখের রোদে কিংবা সুখের আমেজে
সিগারেটে শেষ টান.... দিতে দিতে
উড়ে যাচ্ছে সময়"
হায়! সময়... উড়েই যাচ্ছে... জ্যামে বসে বসে শুধুই ভাবনা... কীবোর্ডবাজী... বিরহ... উদাস... কত কাজ এখনো করা হয়ে উঠলো না... কত কাজ করার কথা ছিলো... না পাওয়া...
শুভ জন্মদিন এবি... অনেক ভালবাসার এই জায়গাটা আজীবন থাকবে... আজীন থাকুক...