অনুসন্ধান

ইউজার লগইন

অনলাইনে

এখন জন অতিথি অনলাইন

নষ্ট জীবন

ধীরেধীরে রাত গভীর হয়,
সকলই ঘুমিয়ে যায়; শুধু জেগে রয়-
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা কিছু ল্যাম্পপোস্ট
আর রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরগুলো,
তাদের সাথে জেগে থাকে
দুটি নির্ঘুম চোখ আর একরাশ কষ্ট।

কষ্টেরা দিনে ঘুমায় আর রাতে জেগে ওঠে,
হাতরে বেড়ায়, খোঁজে সুখের স্মৃতি;
ক্লান্ত হয়, অস্থির হয় তবুও খুঁজেফেরে
কোথায় কোন যায়গায় তার সৃষ্টি?

আর এভাবেই জীবন অতিবাহিত হয়,
কেটে যায় রাতের পর রাত,সপ্তাহ, মাস,বছর।
এভাবেই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায় স্মৃতি,
স্মৃতিহীন জীবন থেমে রয়, তার নাম নষ্ট।

একটা ছেড়া রাত, স্বপ্নগুলো নষ্ট


ঢাকা ভার্সিটিতে ইকনমিকস নিলে ফোর্থ সাবজেক্ট হিসাবে ম্যাথ আর স্ট্যাটিসটিকস নেয়া বাধ্যতামূলক। চিরজীবনই আমার অংকের ভীতি আছে। অংক যাও বুঝি, পরিসংখ্যান একদমই না। সেই অংক আর পরিসংখ্যান নিতে হল বাধ্য হয়ে। পরিসংখ্যান ম্যাডাম ছিলেন দারুণ সুন্দরী। সুতরাং পরিসংখ্যান বুঝি আর না বুঝি ক্লাশে হাজির থাকতামই। বছর শেষে দেখা গেল স্টাটিসটিকস কিছুই বুঝি নাই, বুঝলাম খালি ভাইটাল স্টাটিসটিকস।
তারপর অংক আর পরিসংখ্যান শিখতে ফার্মগেট এলাকায় এক টিচারের কাছে পড়তে যেতাম। সঙ্গে আমারই ক্লাশের আরও তিনটি মেয়ে। ফলাফল একই। শিখলাম কেবল ভাইটাল স্টাটিসটিকসটি।

একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১০)

তিব্বতি যোদ্ধা, এসএফএফ

Brigedier Ratuk ব্রিগেডিয়ার রাতুক.jpg

জীবনানন্দীয় ক্লান্তি

সমস্ত দিনশেষে ভ্রু'র কোণে এসে জমে
জীবানন্দীয় ক্লান্তি
এসব অবগুণ্ঠনহীন যাপিত জীবন
বহুদিন ছুটিতে থাকা অশ্বের অনভ্যস্ত ক্ষুর ঠোকা
অজানার পারে ছুটবে বলে-
কেউ বোঝে না, দেখে না কেউ মন দেহ
উল্টে পাল্টে;
উন্মুক্ত রং রস, তারচেয়ে বেশি প্রকাশিত
হৃদয় দ্বার, সুবিধাটুকু করে উপভোগ
উগড়ে দেয়া আধুনিক ভাষার ধার!
কেউ জানে না কি লেখা প্রাচীন মিশরীয় স্লেটে-
ভুলে যাওয়ার সুত্র বা পারম্পর্যহীন কথার ভার!
আগামীকাল তুমি আসোনি মায়াসভ্যতা-
কালো বিড়াল বৃথা মরলো কেঁদে।
সমস্ত দিনশেষে ভ্রু'র কোণে জমে থাকে
মানবীয় ক্লান্তি,
জীবনানন্দ সেই কবে থেকে কবি মাত্রেরই
মৃত্যু-প্রাণের ঐকতান অথবা নিখাদ বিভ্রান্তি।

পনেরোই আগষ্ট, মান্টোর শ্রেষ্ঠ গল্প!

শোক দিবসের এই সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা খেতে খেতে এই পোষ্ট লিখতে বসলাম। কি লিখবো তা আসলে এখনো মাথাতে আসে নি, আর পনেরোই আগষ্টের সকালে লেখা খুব সহজ না। সেই দুঃসহ স্মৃতি যা আজো বাঙ্গালীর এক ভয়াবহ ট্রাজেডীর নাম। আমি অবশ্য খুব শোকার্ত হই না। কারন এই নির্মম হত্যাকান্ডের এক যুগ পরেই আমি দুনিয়াতে আসছি। নিতান্তই আওয়ামী মনস্ক পরিবারে না জন্মালে এই ব্যাপারটা নিয়ে তেমন জানারই সুযোগ রাখে নি সেই সময়ের রাষ্ট্রক্ষমতার মানুষেরা। ছোটবেলায় জিয়ার ক্যাপ সানগ্লাস পড়া ছবি দেখছি ততবার বঙ্গবন্ধুর ছবিও দেখি নি। সেই শিশু মনে আমার জিয়াকেই বেশী গ্ল্যামারাস লাগতো। ৯৬ এর ইলেকশনের পর আমি বঙ্গবন্ধু চিনতে শুরু করি। তা টিভির কল্যানেই। টিভিতে যখনই সাতই মার্চের ভাষন দেখাতো সেই বজ্রকন্ঠের আহবানে শিহরিত হতাম। আমার ক্লাস ফাইভ সিক্সের রাফ খাতা যদি পাওয়া যায়, তবে দেখা যাবে সুযোগ পেলেই আমি এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম এমন লাইন গুলো লিখে রাখতাম। একবার এক টিচার এই জিনিস দেখে তিরস্কারের সুরে বলছিল তুই কি পলিটিশিয়ান হতে চাস?

খড়গ চড়াও

রক্তে রাঙা মৌলবাদীর হাত ভেঙ্গে দাও, গুঁড়িয়ে দাও
লেবাসধারী ভন্ডগুলোর শির থেকে পা মুড়িয়ে দাও।
নগ্ন করে বেত্রাঘাতে পশ্চাদ্দেশ ফুলিয়ে দাও
মারের চোটে শুকরগুলোর জনকের নাম ভুলিয়ে দাও।
বাঁশ ঢুকিয়ে কাশের বনে কাকতাড়ুয়া বানিয়ে দাও
দু'পা বেঁধে গাছের ডালে উল্টো করে টানিয়ে দাও।

ওদের সঙ্গে যারাই করে আঁতাত শুকর পাল তারাও
তাদের গায়ে লবণ ছিটাও, তার আগেতে ছাল ছাড়াও।
অনেকটা কাল কেটে গেছে, ওদের প্রতাপ চাই না আর
কোনভাবেই ঘৃণ্য ওরা আবার যেন পায় না পার।

পশুগুলোর শিশ্ন কেটে ওদের হাতেই ধরিয়ে দাও
আর দেরী নয় ঠিক এখনই ঘাড়ে খড়গ চড়িয়ে দাও।

আমার যতো সিনেমা - ৩

“নহন্যতে” সিনেমার নামটা শুনছিলাম কদিন ধরেই। ছোটবেলায় পড়া মৈত্রীয় দেবী আর মির্চা এলিয়াদকে মাথায় রেখে সিনেমাটা দেখতে বসে প্রথমে একটু আশাহত হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সিনেমায় ডুবে গেলাম। কাহিনীটাই এমন টানের। পুরো সিনেমাটাই টান টানের। জীবন মানুষকে কখনো কখনো এমন জায়গায় এনে দাড় করিয়ে দেয় মাকে বেছে নিতে হয়, এক সন্তানকে বাঁচাতে পারবো, কাকে চাও, ছেলেকে না মেয়েকে? সিনেমার শুধু শেষটা ভাল লাগেনি বড্ড সিনেমাটিক লেগেছে। বাচ্চা এডাপ্ট করা আর পরে বাচ্চার তার বায়োলজিক্যাল পেরেন্টসদের সাথে যোগাযোগ করা একটা সাধারণ ঘটনা। পরিচালক এটাকে এতো নাটকীয়রুপ না দিলেও পারতেন। হয়তো বাচ্চা মেয়েটার অভিমানের পাল্লাটা অনুধাবন করানোর জন্যে এই নাটকটার অবতারনা কিন্তু কোন বাচ্চাটা অভিমান করে না যখন জানতে পারে তার বায়োলজিক্যাল পেরেন্টস তাকে দিয়ে দিয়েছে? নো ম্যাটার কারণ যাই থাকুক? আমি হলে হয়তো শেষটুকু অন্যভাবে লিখতাম। ব্যাক্তিগত অনুভব, ক্ষমা এই জিনিসগুলোকে প্রাধাণ্য দিতাম। তবুও বলবো অসাধারণ একটা মুভি, সিনেমাপ্রেমীদের জন্যে।

মায়েরা যেমন হয়!

মায়েরা যেমন হয় এই নামে পোষ্ট কেন লেখছি তা জানি না। অনেকক্ষণ ব্লগের পাতা খুলছিলো না। অভিসম্পাত দিচ্ছিলাম ব্লগকে। কানে বাজছিলো শিলাজিতের গান। হঠাত্‍ করেই দেখি ব্লগ পেজের খোলা গেল। ঈদসংখ্যা আরো দুটো শেষ তা নিয়ে লিখতে ইচ্ছা করছে না। তাই এই পোষ্টটা লিখতে শুরু করলাম শুয়ে শুয়ে মোবাইল দিয়ে। জানি না আদৌ প্রকাশিত হবে কিনা! এই ছোট পরিসরে আম্মুকে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানো লেখা ঠিক হবে কিনা জানি। তাও লিখছি কারন মা কে নিয়ে ছোট বড় পরিসরে যে যেভাবেই লিখুক কথার শেষ হবে না। এক বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাসের মতোই অনেক কথা বলে ফেলা যায় খুব সহজেই। আর মায়েদের ভালোবাসি না বাসি, আমাদের জাতির আদিখ্যেতার তো শেষ নাই মাতৃভক্তি নিয়ে। তাই সেই চিরচেনা স্নেহ ভালোবাসার কথাগুলাই লিখতে বসলাম!

ভাবনার অবদমন

একা রিকশায় ফিরছি সন্ধ্যার পর, প্রায় অন্ধকার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকটা রিকশা যাচ্ছে, বিকেলে বৃষ্টি হয়েছিলো তার ছাপ লেগে আছে গাছেদের গায়ে, সম্ভবত ছুটির দিন বলেই ফাঁকা রাস্তায় মাত্র কয়েকটা রিকশা আর অন্ধকার পাশাপাশি ছুটে যাচ্ছে।
আমার ননদ বুঝলেন চাচা আমাকে একদম পছন্দ করে না। আমার স্বামী ওর মা বোনের কথাই বিশ্বাস করে, .........
পাশের রিকশার দিকে তাকিয়ে দেখলাম এক যুবতি বসে আছে, রিকশাওয়ালার সাথে গল্প করছে। খুব অন্তরঙ্গ পারিবারিক গল্প, তার প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির গল্প।
অন্য আরেকদিন অন্য কোনো রাস্তায় এভাবেই কানে আসলো আমার ছেলে আর আমার কথা ভাবে না। বৌটা ওকে যাদু করে রাখছে........।
তাকিয়ে দেখলাম এক মাঝবয়েসী মহিলা রিকশাওয়ালার সাথে গল্প করছে

কষ্টের ঈদ

আমাদের বিয়ের আট বছর পর এই প্রথমবার ঠিক হয়েছিল আমার স্ত্রী শ্বাশুড়ির সাথে ঈদ করবে। প্রতিবছর আমার ভাই-বোন আমার কাছে থাকেতে আগে কখনও সম্ভব হয়নি, এবার ওরা যার যার বাসায় ঈদ করাতে ঠিক হল স্ত্রী শ্বাশুরির বাসায়ই যাবে। মেয়ের যাবার কথা শুনে শ্বাশুরি খুব খুশি হয়েছিলেন। ওনাকে যে দেখাশোনা করছিল তাকে বার বার নাকি বলছিলেন-এবার আমার সব ছেলেমেয়ে নিয়ে একসাথে ঈদ করব। দীর্ঘ দুই বছর প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় শোয়া, তবুও ছেলেমেয়েদের কাছে ভরসার স্থল। শ্বশুর জীবিত নেই, তাই সবার মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করেন উনিই, ওনার টানেই কিছুদিন পর পর সবাই ছুটে আসে।

অচৈতন্য

ঈদের দিন চ্যানেল আই তে একটা খবরে চোখ আটকে গেলো। রিওয়াইন্ড করে বার বার দেখলাম আর শুনলাম।খবর টা দেখে মেজাজ বিগড়ালো, মন খারাপ হোলো আর খুব অসহায় ও মনে হোলো।

এই প্রথম জানলাম ঢাকায় " সরকারী শিশু সদন " নামে অনাথ আর অনাকাঙ্খিত শিশুদের জন্য একটা আশ্রম আছে।বাইরে থেকে খুব পরিপাটি আর সুন্দর ভবন। কিন্তু ভিতরে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। সাংবাদিকের ভিডিওতে দেখলাম অনেক গুলি খুব ছোট থেকে একটু বড় বাচ্চা রা অবহেলায় নোংরা পরিবেশে এখানে সেখানে শুয়ে আছে কোন তত্বাবধান ছাড়াই। একটা ছোট , বিকলাংগ শিশুকে দেখলাম ক্রিবে শুয়ে হাত পা ছুড়ে কাঁদছে, কারণ বেবী ক্রিবের কাঠের ফ্রেমে তার মাথা আটকে গেছে। এসব তদারক করার জন্য নিশ্চয়ই অনেক মানুষ আছে ওই প্রতিষ্ঠানের বেতনের খাতায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো ২/১ জন আয়া ধরনের মহিলা ঘুরা ঘুরি করছে। অফিসার ইন চার্জ কে আছেন জিজ্ঞেস করতে জানা গেলো ঈদ উপলক্ষে উনি একটু দেরি করে আসবেন।শিশুরা আজ ঈদের দিনে কি খেয়েছে জিজ্ঞেস করতেই উত্তর দিলো ডাল আর মরিচ দিয়ে ভাত খেয়েছে

ঈদ এসে ঈদ চলে যায়!

ঈদ শেষ হয়ে গেলো। মুক্তি পেলাম। এখন ঈদ আমার কাছে একটা দিন যেদিন ভোর বেলায় গোসল করে সকাল নামায পড়া, সারাদিন টিভি দেখে, আম্মুর হাতে ভাল খাওয়া আর হাসি সুখীময় মুখ নিয়ে বসে থাকা! অনেকেই বলবেন ভালোই তো যাচ্ছে, বাবা মার কাছে বাড়ীতে একাকি এত আতিথেয়তায় দিন কাটানোর সুযোগ সময় কয়জনের হয়? তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু ঠিক বেঠিকের এই দোলাচলে বন্ধু বান্ধব ছাড়া দিন পার করা আমার পক্ষে কষ্ট। কতটা কষ্ট তা বলা কঠিন! তবে এই গত তিনবছর ধরে ক্রমাগত ঈদে এই একাকি ঈদ পালন করতে যেয়ে বড্ড বোর হচ্ছি। নানুবাড়ীতে গেলেই অবশ্য সমস্যার সমাধান, সেখানে মামা আছে আরো অনেক মানুষ। কিন্তু যেতেই ইচ্ছা করে না। কি অদ্ভুত আমার নিস্পৃহতা। সারাদিন টিভি আর বই পড়েই ঈদের দিন গুলো পার করলাম। টিভিতে আসলে দেখার মত কিছুই হয় না। তাও অনবরত চ্যানেল পাল্টে গেছি, ভুষি মাল মার্কা সব প্রোগ্রাম গিলে খেয়েছি। গিলে আবার মনেও রেখেছি ঢাকায় ফিরে লিখবো বলে । আমার মত পিছ জগতে বিরল এইসব রদ্দি মাল দেখে তা নিয়েও কেউ এতো সময় নষ্ট করে আবার লিখবে!

তোমার জন্য কথকতা..

এই চিঠিটা তোমার, হ্যাঁ সত্যিই তোমার জন্য।

তুমি অসাধারণ সব চিঠি লিখতে পারো।
স্রষ্টা অতটা ভালো লেখার ক্ষমতা যাকে তাকে দেন না, জানো?

একটা সাদা কাগজে লেখা কিছু কথা যে কারও
জীবনটাকে দেখার চোখটাই পাল্টে দিতে পারে,
তা কয়জনই বা জানে!

আমিই বা কি ছাই জানতাম তোমায় জানার আগে?!

অনেকেই বলে থাকে,
কাউকে নাকি তার নিজের চাইতে বেশি আর কেউ বুঝতে পারে না।
আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়,
মনে হয় না আমি নিজেকে অতটা বুঝতে পারি - যতটা তুমি বোঝো!

যাই হোক,
সেই সে-ই-ই-ই থেকেই শখ ছিল আমার,
একটা চিঠি লেখার..শুধুই তোমার জন্য।

হাজার হোক, দুইদিনের দুনিয়া!
এখনও কত্ত কথা বলার বাকি,
হুট করে একদিন মরে টরে গেলে বড় ঝামেলা,
ভূত টুত হয়ে ফিরে এসে তোমাকে জ্বালানোটা একটা যন্ত্রণাই হয়ে যাপে!

মাঝেই মাঝেই তুমি একটা দুইটা কথায় মন খুব ভালো করে দাও,
মাঝে মাঝে আবার কিছু না বলেই। হয়তো একটু অন্যরকম করে তাকানোয়।
কিছুই বলার থাকে না আমার, কিচ্ছুটি না। একটুকরো হাসি দিয়েই খালাস!

আমারও ইচ্ছে করে খুব, একেকটা দিন তোমার মন খুব খুব ভালো করে দিতে।
অতটা হয়তো পারি না, আসলে সবাইকে দিয়ে সবকিছু করা হয়েই উঠে না।

মনের গুরু "তনা"-আমার তসলিমা নাসরিন

“সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি”- এভাবেই তো চলতাম! যে যা বলতো শুনতাম, জানতাম একমাত্র লেখাপড়াতেই এ মেয়েজীবনের মুক্তি ঘটতে পারে। পাড়ার সবাই ভালো মেয়ে ভালো ছাত্রী হিসেবে আমার উদাহরণ টানতো। আমি ও তাতে কম আহ্লাদিত হতাম না। মাটির দিকে তাকিয়ে স্কুলে যাই, মাটির দিকে তাকিয়েই ফিরে আসি, যাতায়াতের পথে কেউ ভালো বললেও রা কাড়ি না, মন্দ বললে তো একদমই কাড়ি না। বাসে যদি কেউ গায়ে হাত দেয় কিশোরী আমি লজ্জায় দুঃখে মনে মনে কাঁদি, বাসায় ফিরে কেউ না দেখে মতো করে কাঁদি, কখনো স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে কাঁদি। এই ছিলাম ৯২ সাল পর্যন্ত, ক্লাস নাইন পর্যন্ত আমার জানা আমি। মা-বাবার ভালো ছাত্রী, ভালো মেয়ে, পাড়া প্রতিবেশীর লক্ষ্মী মেয়ের রোলমডেল হঠাৎ করে রং বদলানো পৃথিবীকে অন্যচোখে অন্যধ্যানে একটু একটু বুঝতে শুরু করলাম। কচি মনে মালুম হতে থাকলো সারাদেশ যে লেখকের লিখা নিয়ে ছিঃ ছিঃ করছে তার লিখা পড়ে আমার বদল হচ্ছে, আর আমি ‌‌ভালো মেয়ের সার্টিফিকেট হারাচ্ছি প্রতিনিয়ত অল্প অল্প করে।

সময় মত দেও টান।

কতই খেলা জানরে বাড়ই কতই খেলা জান
ইচ্ছা মত ছাইড়া দিয়া সময় মত টান
রে বাড়ই,
সময় মত দেও টান।

পাঠালে জগত সংসারে কইরা অসহায়
মায়া মমতার খুটি গেঁড়ে করিলে সহায়।
ধীরে ধীরে আকাশ পাতালে পাতিল সংসার,
সাদ্দাম নমরূধ ফেরাউন হল তোমার দাবিদার
ভোলামন মন মনরে আমার-২......।
ভেংগে চুড়ে সব খান খান করলা
রাখতে তোমার শান।
সময় মত দেও টান।

কেউবা রাজপ্রাসাদে কেউবা থাকে বৃক্ষ তলে
কাওকে করেছ অংগহীন প্রতিবন্ধি তাঁরে বলে
কেউবা ঘোরে দ্বারে দ্বারে নিয়ে ভিক্ষের থলে
কেউবা আবার খেতে পারে না ডাষ্টবিনে ছুড়ে ফেলে।
ভোলামন মন মনরে আমার-২......।
কার ইশারায় হচ্ছে এসব
কে করবে প্রমাণ।
সময় মত দেও টান।
১০/০৮/২০১৩খ্রীঃ

ব্যানার

আমরা বন্ধু ব্লগের জন্য যে কেউ ব্যানার করতে পারেন। ব্যানার প্রদর্শনের ব্যাপারে নির্বাচকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। আকার ১০০০ x ১৫০ পিক্সেল। ইমেইল করে দিন zogazog এট আমরাবন্ধু ডট com এবং সেই সাথে ফ্লিকার থ্রেডে আপলোড করুন ফ্লিকার থ্রেড

● আজকের ব্যানার শিল্পী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

ব্যানারালোচনা

সপ্তাহের সেরা পাঁচ