বাজেট, সিনেমা-এই সব আর কি
১.
বাজেট আসলে একটাই চিন্তু কিভাবে এবার রিপোর্ট করবো। কিভাবে সাজাবো পাতাগুলো। রিপোর্টের ধরণ কি হবে। প্রথম পৃষ্ঠায় কি কি থাকবে।
একসময় বাজেট রিপোর্ট মানেই ছিল কতগুলো সংখ্যা তুলে দেওয়া। ছবি দিতাম ব্রিফকেস হাতে অর্থমন্ত্রী। বাজেটে সংক্ষিপ্তসার বইটায় কিছু আয়-ব্যয়ের চার্ট থাকতো, সেগুলো হুবহু ব্যবহার করতাম।
অথচ অন্য দেশগুলো বাজেটের পরিসংখ্যান উল্লেখই করে না বলা যায়। কারণ সংখ্যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না। বরং বাজেটে দর্শন আর মানুষ কি পেলো সেটাই মূল।
এবার বাজেটের জন্য অন্য দেশের পত্রিকাগুলো দেখছিলাম। মজা লাগলো টাইমস অফ ইন্ডিয়া দেখে। ভারতীয়দের জীবনে সিনেমা তাদের জীবন যাপনের অংশ। ওদের বাজেট ইলাস্ট্রেশনটা এরকম:

অ্যাং লির লাইফ অফ পাই-এর ঘটনাস্থল ভারত। আর এটিই ছিল এবারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। এই সিনেমার একটা দৃশ্যকে ফিউশন করে বাজেটের মূল ছবি করেছে পত্রিকাটি। দেখে মজাই লাগলো।
২.
পরাধিনতা থেকে মুক্তি চাই
এই ব্লগের সুন্দর মনের মানুষগুলির লেখাগুলি পড়লে মনে হয় সবাই কম বেশি বিরক্ত দেশের অবস্থায়। খুব ভাল লাগে এই সচেতন মনোভাবে। এমন মনোভাব যদি দেশের বাকি মানুষগুলির হত তাহলে মনে হয় এত অন্যায় অবিচার দেশে হতে পারতো না।
কে যেন এই ব্লগে লিখেছিল " দেশের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আর স্রষ্টা দেশ স্বাধীন করে যখন নিজেই একনায়ক হয়ে গেলেন তখন মানুষ সেটা পছন্দ করে নাই, আর তাই দেশের মানুষের হাতেই দেশ স্বাধীনের অল্পদিন পরেই উনি মারা যান। তেমনি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান পরবর্তিতে রাজাকারের পক্ষ নিলে তার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদানও ম্লান হয়ে গেল, আর ওনাকেও প্রান দিতে হল অল্পদিনেই।"
এরশাদ ক্ষমতায় আসার আগে অনেক বড় বড় কথা বলেছিল, কিন্তু ক্ষমতায় এসে সব ভুলে গেলো। ২০০৮ এর সেনা শাসিত তত্তাবধায়ক সরকার যখন ক্ষমতা নিয়েছিল দেশের মানুষ হাঁফ ছেড়ে খুশিতে আত্মহারা হয়েছিল। ওরা সুযোগ পেয়েছিল ভাল কাজ করে দেশের মানুষের মনে স্থান করে নিতে, যদিও নির্বাচিত ছিল না। শুরুটা ভালই ছিল, কিন্তু অল্পদিন পরেই ওদের মনেও সেই চিরাচরিত লোভ বাসা বাঁধলো আর সেজন্য ওদেরও ধিক্কার নিয়ে বিদায় হতে হল।
শাদ্দাদের ভূস্বর্গ এবং আরাফাত শান্তর রোদে পুড়া (পর্ব-২)
ইরাম আদ জাতিরই একটি গোত্রের নাম।তাদের রাজত্ব ছিল। তারা বড় বড় ইমারতরাজি নির্মাণ করত। সেসব ইমারতের জান্নাতসম বৈশিষ্ঠ হচ্ছে – তারা তাতে ও অর্ধেক স্বর্ণ আর অর্ধেক রৌপ্যর গাছ বানিয়ে সবুজ যমররদের পাতা সেসব গাছে লাগাত। এসব গাছের ডালপালা সমূহ ছিল লাল ইয়াকুদ পাথরের। রকমারি ফলফলারি এসব গাছে লাগানো হয়েছিল। শাদ্দাদের কল্পিত জান্নাতের মেঝে মাটির পরিবর্তে মেশক আম্বর ও জাফরান দ্বারা ভরে দেওয়া হয়। এর প্রাঙ্গণে নুড়ি পাথরের পরিবর্তে মতি ও অন্যান্য পাথর বিছিয়ে দেয়া হয়। এতে দুধ, মদ্য ও মধুর নহর প্রবাহিত করা হয়। সে তার কল্পিত ভূস্বর্গের দরজায় চার চারটি বিস্তৃত মাঠ তৈরী করে। সে মাঠে ফল ফলারির গাছ লাগান হয়। প্রতিটি মাঠে স্বর্ণ রৌপ্যের নির্মিত লাখ লাখ কুরসী পাতা হয়। প্রতি কুরসীতে হাজার দস্তরখান ও প্রতি দস্তরখানে রকমারি নে,মত রাখা ছিল।
গ্রীষ্মের দাবদাহে ফাল্গুনের গদ্য
১.
এদেশের ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী হবার মানুষ কম। যে কয়েকজন আশাবাদী মানুষ আছে তারা কতোটা অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করেন, বলা মুশকিল। এখানে কেউ নিরংকুশ ভালো নেই। কেউ আর্থিক, কেউ মানসিক, কেউ শারিরীক, কেউ পারিবারিক, কেউ বৈষয়িক, কেউ সামাজিক, কেউ নৈতিক সমস্যায় আক্রান্ত। 'আমি ভালো আছি' - এই কথাটা জোর দিয়ে বলার মতো মানুষের সংখ্যা হাতের আঙুলেই গোনা যাবে হয়তো। আমি অন্ততঃ সেরকম মানুষের দেখা পাইনি আজো। আশেপাশে সমস্যাক্রান্ত ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে থেকেও কেউ যদি বলে 'আমি ভালো আছি', তাহলে সে চরম স্বার্থপর মানুষ। আর এতটা স্বার্থপর ভালো থাকাকে মেনে নেয়া যায় না। তাই 'আমি ভালো আছি' কথাটা কেবল মুহুর্তের উচ্চারণ এবং ওই ভালো থাকা অল্প কিছু সময়ের আপেক্ষিক মাত্রা।
২.
যদি লিখতে চাও
যদি লিখতে চাও লিখো,
উদয়াস্ত রবির বিচ্ছুরিত তৃনসম রবির কথা,
তাকে ছুঁতে গেলে জ্বলে যাব
তাই বেশী চাওয়ার আশা বৃথা।
নয়ত লেখো ঝাকড়া চুলের বাবরি দোলানো
বিদ্রোহী কবির বিদ্রোহের কথা,
নয়ত তার ললাটে জ্বলা রুদ্র ভগবানের কথা।
তুমি লিখো অনিদার, কেঊ কথা না রাখার ব্যথার কথা
আবার পাওয়ার আনন্দে পাপ না করার অঙ্গীকারের কথা।
তুমি লিখো দ্বিজেন্দ্রলালের
ওমা তোমার চরণ দু’টি বক্ষে আমার ধরি।
এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি।
তুমি লিখো হুমায়ুন ত্রয়ের হুরমত উপাখ্যান
লালনের লালিত হৃদয় বিদীর্ণ সকল গান
অথবা আব্দুল করিমের অসংখ্য গানের সাথে
স্মৃতিকাতরতার সুন্দর দিনগুলোর কথা।
তুমি লিখ, তোমার লাডলা লাডলির চলন ক্ষনে
পিছ থেকে দেখা তোমার মনের অনুভুতির কথা।
তুমি লিখো পদ্মা মেঘনা যমুনার কথা
তুমি লিখো হিমালয় হতে বঙ্গোপসাগর তক
সকল প্রকৃতির কথা।
লিখো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের বিরক্তকারি
হাজারও বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকের কথা।
তুমি লিখ নিশাচর সেই রমণীর কথা
যাকে আমারা ঘৃনা করি
কিন্তু রবির অন্তর্ধানে তাকেই খুঁজে ফিরি।
তুমি লিখো রানা প্লাজা, স্পেকট্রাম, বেনিন ও পিলখানায়
বাজেট বক্তৃতা কে শোনে কে পড়ে আর কে বোঝে?
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা কে কে শোনেন। এ বিষয়ে কোনো গবেষণা নেই। তাই বলা যাবে না সঠিক উত্তরটি। তবে নিশ্চিত করেই অনুমান করা যায়, সংখ্যাটি খুবই কম। সরকারি দলের সাংসদদের বাধ্য হয়েই শুনতে হয়। অর্থনীতির সাংবাদিকদের শুনতে হয় রিপোর্ট করার জন্য। চেম্বার নেতারা শোনেন। আর শোনেন অর্থনীতিবিদেরা। এর বাইরে কারা টেলিভিশনের সামনে বসে বাজেট বক্তৃতা শোনেন, বলা মুশকিল।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শোনা আসলে কষ্টকর। অতি দীর্ঘ বক্তৃতা। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতা শোনা আসলেই সম্ভব না। এই দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতা পড়াটা সম্ভবত আরও বেশি কষ্টকর। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে যে অনেক কষ্ট করে বক্তৃতাটি পড়তে হয়েছে, তা অনেকেই টেলিভিশনে দেখেছেন।
এবারের বাজেট বক্তৃতাটি ছিল ১৮৫ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে ১১৯ পৃষ্ঠাই বক্তৃতা, বাকি পৃষ্ঠায় আছে পরিশিষ্ট। এবারের (২০১৩-১৪) বাজেট বক্তৃতায় অনুচ্ছেদ ছিল ২৫৩টি। তবে অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতার রেকর্ড অবশ্য ২০১১-১২ অর্থবছরে। ওই বাজেট বক্তৃতাই ছিল ১৪৮ পৃষ্ঠার, আর তাতে অনুচ্ছেদ ছিল ৩৫৬টি।
কতো বারও ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া!
শিরোনামটার যথারীতি বিশেষ কোনো তাৎপর্য নাই। গানটা আগেই অনেকবার শুনে থাকতে পারি কিন্তু একটা অতি সাধারন রবীন্দ্রসংগীত যেমন ভালো লাগে তেমনি লেগেছে। কিন্তু সেদিন ক্লাসে যাচ্ছিলাম এমবিএ বিল্ডিংয়ের পাশে যে বিশাল মাঠ সেখানে রাস্তার এককোনায় বসে একমেয়ে তার প্রেমিকের কাধে মাথা রেখে গানটা গাইতেছে। আহা কতো অসাধারন একটা সিন। আমি কিছুক্ষণ সময় দাঁড়িয়ে রইলাম মোবাইল গুতাগুতির উসিলায় মেয়েটার গলা ভারী মিস্টি। মনে হচ্ছে শুভমিতা বা লোপামুদ্রা গেয়ে চলছে। বাসায় এসে পড়লাম সেই গানের প্রেমে। বারবার বহু শিল্পীর গাওয়া একি গানই বারবার শুনতেছি। এরকম আমার ক্ষেত্রে অনেকবার হয়। মুল গান ভালো শিল্পীর কাছে ভালো লাগে নি। মানুষের মুখে শুনে শুনে সেই গানটায় ব্যাপক আশক্তি বাড়িয়েছি। এইটার একটার বড় কারন হতে পারে রেডিও। ছোটবেলায় রেডিওতে গান শুনে মুখস্থ করতাম তো তাই আশেপাশের মানুষজন কি গান গায় শুনার চেস্টায় থাকতাম। তখন আরেকটা জিনিস প্রায় হতো আমি গায়েবী ভাবে গান শুনতাম। মনে হতো কেউ আমার প্রিয় একটা গান গাচ্ছে। যদিও বড় হয়ে জেনে গেছি ইহা ঘোর ছাড়া আর তেমন কিছু না। গায়েবী গান আসলে নিজের মনেই গেয়ে চলছে অবিরাম!
কলংকের কালঘুম
যে কাঙাল চলে গেছে তাকে আমি
শালিকের পিঠে
সহস্র স্বর্ণমুদ্রার মত রোদের ভিতর খুঁজি
কত বিরহ , কলংকের কালঘুম
যে আমাকে গুছিয়ে দিয়েছে, দিয়ে চলে গেছে
খুলে নিয়ে আলপিন, শিখিয়েছে পালক পরাতে
অগুনতি হাহাকারে-----
পাথর সরিয়ে শিখিয়েছে মর্ম
কুড়িয়ে নিতেও
মৃত্যু তুলে তুলে যে আমাকে দেখিয়েছে
আমিযে হতে চাই তার মতই
ছুরিতে আঙুল কেটে গেছে
দংশন কিছু বাকি
বুঝা পড়া বাকি
কিন্তু সে নিয়তি
কাঙাল করে না আমাকে
বন্ধু - ২
আড্ডাবাজি চলে যখন তখন, ক্লাসের ফাঁকে, ক্লাসের পরে , দিনে রাতে, যখন যেমন ইচ্ছা তেমন। বাঁধা দেবার কেউ নাই, শাসন করার কেউ নাই, কোন নিয়ম কানুনের বালাই নাই। সে যেন এক আদিম উল্লাসের সময় । আজ এত বছর পর মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ কয়টা বছর যেন ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। ভাবি, ইস, যদি আরেকবার ফিরে পেতাম ! তাইলে মনে হয় একদম সব কিছু প্রোগ্রাম করে করতাম যেন কোথাও কিছু বাদ না পড়ে।
শাদ্দাদের ভূস্বর্গ এবং আরাফাত শান্তর রোদে পুড়া (পর্ব-১)
শান্ত ভাই সকালে ব্লগে ঢুকে আপনার লেখা “দেখো মা পুড়ছি আমি রোদ্দুরে” পড়ে মনটা এতই বিষন্ন হয়ে গেল যে আপনার লেখায় কোন মন্তব্য করব সেই ধৈর্য টুকুও ছিল না। কোন কারনে যদি বাবা ও পিঠাপিঠি বড় ভাইয়ের কথা মনে পড়ে তবে আমি আজও সকল শক্তি হাড়িয়ে ফেলি। বাবা ১৯৮২ সালে আর ভাইটি ২০০০ সালে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ভাইটি আমার পিঠাপঠি হওয়াতে তার সাথে আমার অসংখ্য স্মৃতি, আমার লেখাপড়া আরাম আয়েস সকল কিছুর ব্যবস্থা ও দেখাশুনা করত ও। তাই এ বয়সেও আমি যখন একা থাকি ওর জন্য কত রাত কাঁদি হিসেবে নেই। ভাইটি চলে যাবার আগে বাবার জন্য অহর্নিশি কেঁদেছি। আপনি হয়ত ভাবছেন আপনার গল্পের সাথে আমার এ স্মৃতি কাতরতার কারন কি?
বৃক্ষবাসীর কথা

এটা কোন ভুতুড়ে বৃক্ষ নয়। শতবর্ষী(!) তেতুল গাছ। অনিন্দ্য স্বন্ধ্যায় এক অবিস্মরনীয় নাটক মঞ্চস্থ হল মে ১৭, ২০১৩ এ। ব্রম্মপুত্র নদের তীর ঘেষে যে পার্কটি, তার প্রবেশ পথেই এই মঞ্চ ”প্রেরণাঙ্গন”। অবিশ্বাস্য দক্ষতায় শিল্পীগণ (রূপক বৃক্ষবাসী) গাছের ডালে বসে, শেষভাগে লাফিয়ে, ঝাঁপিয়ে রাজাকার বধে দর্শক- শ্রোতাকে শিহরিত করে জানিয়ে গেলেন ইতিহাস, চেতনা ও প্রজন্ম ভাবনা বৃক্ষবাসীর কথা’র (নাটকের নাম) ছলে। রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথে এ এক নান্দনিক উপস্থাপনা।

মঞ্চ সজ্জ্বা, আলো প্রক্ষেপণ, সংলাপ চয়ন, অভিনয় শৈলী সবকিছূতেই মুন্সীয়ানার ছাপ। ধন্যবাদ ময়মনসিংহ জেলার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কে। ধন্যবাদ এর নাট্য বিভাগ ও সংশ্লীষ্ট কলাকুশলীকে এমন ধারা উপস্থাপনার জন্য।
শিশুরাই দেশ গড়ার কল।
শিশুরাই দেশ গড়ার কল।
বিঃ দ্রঃ (এই কবিতাটি আমার নয়। আমার ছেলে জোনাঈদের লেখা দ্বিতীয় কবিতা )
দিন আসে দিন যায়
আমার চিন্তা বাড়ে ভাই,
স্যারের প্রশ্নের শেষ নাই
আমাদের পড়া বাড়ে ভাই।
রাতের আকাশে তারা অশেষ,
ছাত্রদের নাই সিলেবাসের শেষ।
বাবাক শুধাই তোমরাও এত পড়তে
বাবা বলল,সে কি আর বলতে
আকাশের যেমন অন্ত নাই
পড়ার তেমন শেষ নাই।
পড়াশুনাই হল আসল বল
আজকের শিশুরাই দেশ গড়ার কল।
০৭/০৬/২০১৩ইং
বুয়েটের বাপ(পর্ব-৬)
অনেকদিন কেটে গেল, ছেলে আবার লিখেছে বাবাকে শহরে এসে কিছুদিনের জন্য বেরিয়ে যেতে। চাচা তো এটাই চেয়েছিল সেবার বেশী পাওয়ারের চশমা কিনে যে ঠকাটা ঠকেছে তার ব্যাথা আজও মনে হলে কলিজা ফানা ফানা হয়ে যায়। টাকার শোকের চেয়ে বড় শোক আর হয় না, চাচা এটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।
দিনক্ষণ ঠিক করে আবার চাচা শহরে গেলেন। এবার বুড়িকে সাথে নিতে চাইলেও বুড়ি বলল আপনেই যান, আমি দেখি পরের বার যামুনে।
প্রকৃতিশোভা

নগরের কাঁচ দালানের বুকে উদীয়মান সূর্য
চেয়ে থাকে যুবতীর আপেল পীণের মত।
সে সুন্দর অথচ ধরা যায় না
হীরের মত তার শোভা ধাঁধায়।
টিয়ের মত এক টুনটুনি ছোটাছুটি করে
লাল লাল ঠোঁটে কারুকলা নিয়ে
তার বিজাতীয় পেখমের চারুকলায় স্ববর্ণীয় তুলি
সে জলে মিশে রঙের মত, দুধে আলতা গায়।
প্রকৃতি তুই বরফগলা নদী হলি, শীতের হু হু বাতাস হলি
ঠোঁটের কাছে মরুর শ্বাস হলি
অমন সুঢৌল অঙ্গ নিয়ে মন মাতালি
কে দিয়েছে এমন আবেশী নূপুর তোর পায়?
সাগরপারের কাঁচপাথরের সবুজ হলি, বকের দুটি ডানা নিলি
শাপলাফুলের পরাগ খেলি কালোজলের দিঘী হলি।
কঁচি লাউয়ের পায়ে পায়ে স্বরলীপির খেলায়
পাগল হওয়ার মৌসুম হল স্বপন আশার মায়ায়।
গাঢ় সবুজ পাহাড়ের তন্বী ভাঁজে ভাঁজে
লুকিয়ে থাকা রহস্য গোকুল গন্ধ আনে;
তার স্রোতের মত মেরুদন্ড দিয়ে উষ্ণপ্রস্রবণের জোয়ার
মনে হয় দু'দন্ড শীতলতায় ঘুমিয়ে পড়ি গাছের আবছায়।
তার নাভিমূলে এঁকে যায় বিশ্বকর্মা নিখুঁত পেয়ালা
উপত্যকার 'পরে যেন এক মাদকের গুমট জলা।
দেখো মা পুড়ছি আমি রোদ্দুরে!
শিরোনামটা বেশী ভারিক্কি হয়ে গেলো। আমি এতো ভালো ভালোয় দিন পার করে যদি এই ধরনের শিরোনাম দিয়ে পোস্ট দেই তাহলে তা খুব একটা শোভন হয় না। আসলে শিরোনামটা নটোবর নটআউট সিনেমায় রুপমের একটা গান থেকে নেয়া। সিনেমাটা দারুন। এতো দারুন স্মার্ট শতভাগ বাংলা সিনেমা অনেক দিন দেখি নাই। মিস্টি কমেডীর মিস্টি ইন্টারটেইনেমন্টের ছবি। নবাগত বাংলাদেশি নায়ক মোস্তফা প্রকাশ নামের ছেলেটার অভিনয়ে মুগ্ধ হইছি ব্যাপক। এবং প্রত্যেকেই চরিত্র অনুযায়ী অসাধারন অভিনয়ে, দেবজ্যোতি মিশ্রর দারুন মিউজিক ডিরেকশনে ছবিটা আমার দেখা কলকাতার অন্যতম সেরা ছবি। যদিও ছবিটা তেমন ব্যাবসা করতে পারে নি তাও এরকম মিস্টি ছবি অনেকদিন দেখা হয় নাই। ছবির ডায়লগের কাব্য ও সমগ্র ছবি জুড়ে কবিগুরুর উপস্থিতি দারুন লাগে। টাইটেল এনিমেশন, ঝকঝকে প্রিন্ট মন কেড়ে নেয়। এরকম আরবান বাঙ্গালীয়ানা ছবি আর চোখে পড়ে নাই! কলকাতার ছবি যা দেখছি তা নিয়ে আরেকদিন লিখবো। আজ এখানেই অফ যাই!