বৃষ্টির গন্ধ
উৎসর্গঃ আহমাদ মোস্তফা কামাল ভাইকে, যার “বৃষ্টি, বৃষ্টি বিলাস, বৃষ্টি কোলাজ” লেখাটা পড়ে আমারো লিখতে ইচ্ছে হল
১
আমার তখন ১৬ বছর বয়স, কিন্তু তখনো শিশুর মতই রাগ করতাম। একদিন বাবার সাথে রাগ করে ভাত খাইনি, শুতেও যাইনি, আমার ঘরের লাগোয়া বারান্দায় বসে ছিলাম। হঠাৎ রাতে মুষল ধারে বৃষ্টি এল, সে যে কি বৃষ্টি ! কি আর বলব ! একদম আকাশ ফাটা বৃষ্টি ! মনে হচ্ছিল গোটা দুনিয়াটা তলিয়ে যাবে আজকের বৃষ্টিতে। আমি ভিজে যাচ্ছিলাম কিন্তু তবুও ঠাঁয় বসে রইলাম, মনে মনে ভাবলাম ভিজলে ভিজব, তবুও আজ রাতে শোব না, সারারাত এভাবে ভিজে ভিজে যদি জ্বর হয় তবে খুব ভাল হবে, আমার বাপের উচিত শাস্তি হবে ইত্যদী ইত্যাদী।
তাহলে ঐ কথাই রইলো, দেখা হবে সবার সাথে.. (updated)
“ভালো বন্ধু খুজে পাওয়া বড় কঠিন”। আসলেই? হয়তো।
কিন্তু, আমি জীবনের একটা সময়ে এসে অনেক সহজেই একগাদা ভালো বন্ধু এক সাথে পেয়ে গেছি। সেই সাথে ঐ একগাদা বন্ধু'র মাঝে থেকে পেয়েছি তাকে, যাকে আজ জীবন সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছি। আর আমার জীবন সঙ্গীর সাথে পথ চলার সিদ্ধান্তে সাক্ষ্য রেখেছিলো আমার সেই একগাদা বন্ধু। তারপর সময়ের সাথে সাথে সেই একগাদা বন্ধু’র তালিকায় যুক্ত হলো আরও একগাদা ভালো বন্ধু। এই দল আবার আমার এবং আমার জীবন সঙ্গীর ভালোবাসা’র ছোট্ট একটি নতুন অংশের সাক্ষ্য হয়ে থেকেছে প্রতিনিয়ত। সেই ভালোবাসা’র ছোট্ট অংশটি’র আমার মাঝে বেড়ে ওঠা, এই পৃথিবীতে তার আগমন, তার নামকরন.. এরকম প্রতিটা আনন্দ-বেদনার মুহুর্তে সাক্ষ্য দিয়েছে আমার এই একগাদা বন্ধু। সাথে আগের একগাদা বন্ধু'রা তো ছিলোই।
টুকটুক গল্প-২
আজ সকালটা একদম ম্যারমেরা লাগছিলো। গতকাল সকালটা ছিলো স্পাইসি। ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় বের হয়ে দেখি পেয়ারা গাছে দুটো শালিক পাখি গাল ফুলিয়ে বসে আছে। দেখেই মনটা ফুরফুরা হয়ে গেলো। ভাবলাম আমিও একটু গাল ফুলাবো কিনা। আমার এক বোনকে এই কথা বললে সে বলত, শালিক পাখিও আরেকজনের সাথে গাল ফুলায়, আর তুই? সেই গাল ফোলানোর সুযোগ আর পেলাম না, টেবিলে গরম গরম চিতই পিঠা, আম্মা জলদি মুখ ধুয়ে খেতে তাড়া দিলেন।আম্মা বাথরুমে পড়ে হাত ভাঙলেন দু সপ্তাহ আগে
। নিজে নিজে কিছুই করতে পারেন না, তাতে কি!
লেডি গাগা'র চুল পড়ার সংবাদে কার কী আসে যায়!
সেলিব্রিটি হলে জীবন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে মনে হয়। আজকে মনে হয় সারা পৃথিবীর প্রায় সব পত্রিকায় একটা কমন খবর ছাপা হইছে। খবরটার গুরুত্ব কতোটুক সেইটা আমি টের পাই নাই অবশ্য, কিন্তু আজকের যূগের খবরের বাণিজ্যধর্মী আচরনে বেচা বিক্রী না থাকলে নিশ্চিত কোনো খবর ছাপে না। কমন খবরটা হইলো লেডি গাগার চুল পইড়া যাইতেছে। সে তার ফ্যাশনের জন্য চুলে মাত্রাতিরিক্ত রঙ ব্যবহার করছে এতোদিন আর তার ইফেক্টে এখন চুল পড়তেছে দেদারসে। সে নাকি রঙ মাখা চুল নিয়াই বিছানায় শুইয়া পড়তো। এই খবরে লেডি গাগার ক্ষতি হইলো না লাভ হইলো এই বিবেচনা করতে গিয়া মনে পড়ে...নিউজ মানেই এখন একজন সেলিব্রিটির জীবনের উন্মোচন। লেডি গাগা চুল রঙ করে রাখেন এইটা সংবাদ হিসাবে বেশ চটকদার...কারণ এই রঙের বাস্তবতা তাকে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা কইরা ফেলে। কিন্তু চুল পড়ার ঘটনাটা কিভাবে তার সেলিব্রিটিসূলভ গ্রহণযোগ্যতায় কতোটা সহযোগিতা করে?
সেনাবাহিনী কি কোন রাজনৈতিক দলের অংগ-সংগঠন?
গত কয়েকদিন ধরে আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে ‘আমার সেনাবাহিনী আমার গর্ব’ নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। গতকাল দেখলাম, অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আই’তে প্রচার করা হল। এতে সেনাসদস্যদের প্রাত্যহিক জীবনের কঠোর প্রশিক্ষণ, পেশাগত কর্তব্য পালন ও সেনাবাহিনীর ইতিহাসসহ অন্যান্য বিষয়াদি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, মহান স্বাধীনতার মাস ও স্বাধীনতা দিবসের চল্লিশতম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হচ্ছে।
চোখ
আমাকে একটা চোখ ধার দিবে? আমার চোখ দিয়ে কেবল রক্ত পড়ে। লাল লাল তাজা মানুষের রক্ত। আমার হাত এখন জীর্ণ-শীর্ণ আর বৃদ্ধ। আমি রক্ত মুছতে পারি না। রক্ত গাল বেয়ে বেয়ে পড়ে আমাকে ভিজিয়ে দেয়, আমার গাল,ঠোঁট,গলা এখন রক্তস্নাত। এমনকি তোমার দেয়া শার্টগুলো ভিজে ভিজে যখন শক্ত হয়ে যায়,আমি কেবল ব্যথিত চোখে দেখি তাদের নীরব মৃত্যু। আসলে দেখি না। যখন দেখতে যাই,শক্ত হয়ে যাওয়া শার্ট আবার ভিজতে শুরু করে।
আমাকে নতুন কিছু শার্ট দিবে? তোমার দেয়া শার্ট ছাড়া আমি কিছু পড়তে পারি না। পুরোনো হয়ে যাওয়া শার্টগুলো কত জায়গায় ছিড়ে গেছে,ধুতে ধুতে হয়ে গেছে ঘর মোছার কাপড়ের মতো। একদিন তো ভুল করে কাজের ছেলেটা একটি শার্ট দিয়ে ঘর মুছতে শুরু করল। আমি নীরবে শুধু চেয়ে দেখি, শার্টগুলোর অপমৃত্যু। আসলে চেয়ে দেখতে পারি না। আমার চোখ দিয়ে কেবল রক্ত পড়ে।
জলভেজা পাহাড়ে উদাসী মেঘের ভেলা
পিরীতে সাজায়েছি রো বাসরের বাঁশি
সুরে সুরে সুরোমালা ভেতরে ফাঁকি
চোর আর প্রহরী অথবা প্রহরী আর চোর...
চোর আর প্রহরীর কাহিনী ইতিহাসের নিয়ম মতোন পাল্টে যায়। কখনো সখনো তারা একে অন্যের পোশাক পরে দেখতে চায় জীবনের অন্যপ্রান্তে কে কতোটা সুখে আছে, কিম্বা দুঃখ এলে কতোটা জলস্রোত ভেসে যায়, ভাসায় পারিপার্শ্বরে। আমার এইবারের চোর আর প্রহরীর গল্পে বা কবিতায় অতএব সেই রূপ বদলের খেলা দেখবার চেষ্টা করলাম।
.
.
.
.
.
চোর কি কেবলি চোর রয়ে যায়!
প্রহরী কি কেবল প্রহরী রবে আজীবন!
আমাদের গ্রামে চোর সবে এলো
প্রহরীর ভূমিকায় অভিনয় শিখে।
চাকুরীহীন প্রহরী এইবার তবে
চোর হয়ে কাটাবে জীবন কিছুকাল...
চোর জানে কিরম কৌশলে সিঁদ কাটা হয়
প্রহরী জেনেছে ঘরের আদ্যপান্ত।
এবার প্রহরী আকা চোর, যিনি ছিলেন আগের জমানায়
চোর, তিনি চোর আকা প্রহরীর সাথে শুরু করলেন
চোর পুলিশ, চোর পুলিশ খেলা...
চোর তাই অযথাই জেগে রয়
আর গোপনে পেরেছে গালি
প্রহরীর মায়রে চুদি তার চোখ বুজে এলে...
রিকল অফ সাম মেমোরীস আফটার ম্যাট্রিক
ম্যাট্রিক থিওরি শেষ হইছে, প্রাক্টিকাল বাকি। এর ভিত্রে গেলাম বড় খালার বাড়ি বেড়াইতে। খালার বাড়ি সর্বহারা প্রধান এলাকায়। খালু সাবে আবার ওই গেরামের এক টাইমের জমিদারও আছিলো। খালতো ভাই-বইনগুলা সব আমার থিকা দশ বিশ বচ্ছরের বড়। মজার একটা হিসাব দেওন যায়, আমার আমার মা আর আমার বড় খালার বড় মাইয়া সেম বয়সের। যাই হউক। ঐ টাইমটা আছিলো গরমের টাইম। মজাসে আম-কাঁঠাল খাইতেছি, পুকুরে দাপাইতেছি, বিকালে ক্রিকেট খেলতে খেলতে দৌড় পাইড়া চইলা যাইতেছি পাশের আখের খেতে। সব হইতেছে আমার ভাইস্তা ভাতিঝাগো লগে। বড় ভাতিঝা সেই টাইমে নয়া নয়া বিয়া করছে, ছোটডি আমার এক ইয়ার জুনিয়ার। এই ভাতিঝাগো গেরাম সূত্রের ইয়ার-দোস্তগোর কাছেও আমি বাই ডিফল্ট চাচা হইয়া গেছি। বেশ জুয়ান জুয়ান পোলাপাইনে যখন চাচা-চাচা কইয়া ডাকে, শুনতে খুব একটা খারাপ ফিলিংস লাগেনা।
রিক্যাপচারিং পাস্ট-৫
'রিভার ক্রুজ' শুনতে মাদকতাময় লাগে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সূর্যধোঁয়া বিকেল যখন একটা হালকা আবরণ ঝুলতে থাকে। নদীটার নাম মনে নেই। সামনে বিশাল বঙ্গোপসাগর - এক তীরে বরগুনা এবং অন্য তীরে পাথরঘাটা, দূরে সুন্দরবনের হালকা বনানী, সমতটের পরে দীঘল ছায়া, আঁধারে - রক্তিমাভায় এক অদ্ভুত বিনুনি। মনে হচ্ছে আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা শুভ্রগুল্ফ নদীর ঢেউয়ে আছড়ে পড়বে। সেবার যখন জীবনের একমাত্র সুন্দরবন যাত্রার জাহাজটির ছাদে লেপ্টে রইলাম ধার করা বাইনোকুলার নিয়ে, আমার কেবল চিৎকার নয়, গলা ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছে করলো - জেক্কুসসসসসস গিলিম গিলিম গিলিম। কি এর মানে জানি না, ইচ্ছেমত বাতাসের নীরবতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলাম।
দৈনন্দিনতা
বহুব্রীহি নাটকে দেখেছিলাম বাচ্চারা বাবাকে জিজ্ঞেস করছে, “বাবা আমরা স্বাধীন হতে চাই’, আর স্বাধীন হয়ে কাপড় খুলে চলতে চাই!”
স্বাধীনতা কি নির্লজ্জতা শেখায়? স্বাধীন হলেই যথেচ্ছাচার করা কি সম্ভব নাকি শোভনীয়? উলটো স্বাধীনতার সাথে দায়িত্ববোধটাই চলে আসে সামনে, নিজের ব্যবহারেই আরো বেশি যত্নশীল হতে হয়। আমি স্বাধীন তাই বলেই যার তার সাথে যেমন তেমন চলে জীবনকে উপভোগ্য করে তুলবো, এতে কার কি আসে যায়। একটা মূহুর্তের খাতিরে হাজারো মিথ্যের ঝাপি খুলে বসে, সেই ক্ষনিকের আনন্দটুকু পেলাম না হয়, কিন্তু সেই মিথ্যের বেড়াজালে যাদেরকে জড়িয়ে ফেলি, একটা ক্ষমা প্রার্থনাই তো তাদের সব বেদনা মুছে ফেলতে পারে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কালিমা যেই দমবন্ধ করা প্রকোষ্ঠে অন্যদের ফেলে দেয় এক ক্ষমাতেই তা থেকে বেরিয়ে আনা সম্ভব হলে মানুষ মহামানবের পর্যায়ে পৌছেঁ যেত।
এপিটাপ আমার জন্যে তোমার আঙ্গুল
মামারা চাঁদ নামালো জলে;
আমরাও শরীর ডুবালাম কিছুটা।
চতুর্ভুজ কলার মধ্যে রজনী
উপরে ছোকলা আছে, পিছলে যাবে!
সাবধানি সাধু ধুপ কাঠি জ্বালে
কলমের আগায় নাচে চিত্ত চারবাক।
অঙ্গ যায় ভাসিতে গঙ্গার নাম জপে
জীবের সাথে বোনের বাসায় নিদ্রাকাল!
নারায়ন তকদিরে হয় তেপান্তর
বাসনা সাঙ্গ হলে আর আসব না!
কলিতে ফুটুক যতো বেজন্মা ঘাস
ঘুমুতে যাবার ফলে ফলেছে মাস।
ফড়িং - এ হাওয়া বাজায় নিখুঁত সুরে
দেখে হাত বদল করি গাছের ওজন।
স্বজনের বিয়োগ ব্যাথায় কাঁথা খুঁজি
এপিটাপ আমার জন্যে তোমার আঙ্গুল।
বরাবর পাল্টে গেলো বিষন্ন ভুল, ভীষন ব্যাকুল।
ভিন্নধর্মী লাইভ প্রোগ্রামে স্বাগতম
অনেক পরিশ্রম করে একটা লাইভ প্রোগামের সেট তৈরী করেছি।
বিশ বাই বিশের একটা ঘর, মৃদু নীলচে আলোয় আলোকিত
ধবধবে সাদা একটা বিছানা ছাড়া আর কোনো আসবাব নেই
বিছানার উপর, পাখির পালক ভরা নরোম দু'টো বালিশ
মেঝেতে তিন গ্লাস বরফ শীতল পানি, দু'টো সিগারেট আর একটা লাইটার
ঘরের এক কোনে থাকা স্পিকার থেকে মোলায়েম ভেসে আসছে চৌরাসিয়ার বাঁশির সুর।
"ঘুম"
ভিন্নধর্মী কিন্তু সর্বাধিক সম্প্রচারিত লাইভ প্রোগ্রামে আপনাদের স্বাগতম।
আবারো চোর আর প্রহরী বিষয়ক কবিতা...
চোর আর প্রহরীরে দেখতে দেখতে আমার বিরক্তির ফসল নামাই শব্দবন্ধে। ইহারে যদিবা কবিতা বলা যায়, তবে আমার-আপনার আর তাহাদের সকল জৈবনিক প্যাচালই কবিতা হয়। তবে লাইনের পরম্পরা টানা না লিখিয়া যেহেতু মাত্রাবর্তে লিখি...অতএব কবিতার ছদ্মবেশ চড়ে লেখনীর সরলতায়। লেখনী সরল হইলে আর তারা কবিতা থাকেনা এমত বিশ্বাস দেখেছি মানুষের মানসপটে...
চোরের সংশয়হীন ক্ষণ আর
প্রহরীর দিন কাটে অনিশ্চিত
মালিকের কাছে তার ঋণ বাড়ে
যেনো অহেতুক সমাসীন
রয়েছে সে এই অস্ত্রাগারে...
মালিকের কাছে তার বাসাবাড়ি
অস্ত্রাগারসম, মম উত্তেজনা বাড়ে
চোর আর প্রহরীর রণ প্রকৌশলে।
প্রহরীর ঘুম অতিশয়, বেজায় নিখুঁত
কখনো সখনো মনে হয় এই ঘুম
ঘুমায়নি সে বহুকাল...তবু ভাবি
প্রহরীর ঘুম যদি হয় চোরেরে প্রশান্তি দিতে!
যেহেতু চোরের আরাম অতএব প্রহরীরে
ঘুমাতেই হয়!
বাস্তবতঃ প্রায়শই মনে হয়
প্রহরী অথবা চোর পরষ্পরে
এর কোনো মানে হয় !
একজন মানুষ জন্ম নেবে, বেড়ে উঠবে। পড়াশুনা করবে, চাকরী বা ব্যবসা করবে। বিয়ে থা করবে। সংসার হবে, ছেলে পুলে হবে। হাসি আনন্দ করবে। বুড়ো হবে, তারপর একদিন সবাইকে কাঁদিয়ে মরে যাবে। এর কোনো মানে হয় !
তাইলে আর জন্ম নেবার কী এমন প্রয়োজন। এক একটি মৃত্যু, কী ভীষন কষ্টের ! যার যায়, সে বুঝে। অন্যরা শোক টোক করে। কিছুদিন মনে রাখে। একসময় ভুলে যায়। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সে পরিবারের মানুষগুলো আজীবন মরে যাওয়া মানুষটার স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।
আমি আগে ভাবতাম, আমাদের পরিবারের কে আগে মারা যাবে ? কেউ না কেউতো মরবেই ! তাইলে আমরা অন্যরা বাঁচবো কী করে ? শোক সইতে পারবোতো ? একদিন আমাদের কাঁদিয়ে, অসহায় করে দিয়ে মা মরে গেলেন। আমাদের পরিবারের প্রথম মৃত্যু। কী যে কষ্ট, কত যে যন্ত্রণা। আমরা ৬ ভাই বোন অসহায় হয়ে পড়লাম। বাবা একদম চুপ হয়ে গেলেন। একদিন বাবাও চলে গেলেন।