ইউজার লগইন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে'এর ব্লগ

বিষাদলোকের জোছনায় ভেসে যেতে, ভালোবেসে – কিছু কথকতা..

বেশ অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল আজকাল লুপে ফেলার মত নতুন গান বলতে গেলে আসছেই না। মাঝে মাঝে কালে কদাচিৎ কিছু হয়তো মিলে। কিন্তু তার জন্যও আজকাল হাত বাড়াতে হয় ওপার বাংলায়। কিছু কিছু সময়ে একসাথে যখন অনেকগুলি এলবাম রিলিজ পায় তখন দেখা যায় কয়েকটা গান পাওয়া যায় যা হয়তো কয়েকবার শোনা যায়। কিন্তু টানা শুনে নেয়া যাবে, আবার শোনা যাবে এমন কোন গানের এ্যালবামের কথা ভাবলে কিছুই মাথায় আসে না আমার।

খারাপই লাগে ভাবতে। সেই কবে পেয়েছিলাম কৃষ্ণকলি'র 'সূর্যে বাঁধি বাসা', অর্ণবের 'হোক কলরব' অথবা হাবিবের 'শোনো'। প্রায় সবগুলা গানই ছিল শোনার মত, দুয়েকটা ছাড়া কোন গানই স্কিপ করতে হত না। একবার ছেড়ে দিলেই হত, দিব্যি হারিয়ে যাওয়া যেত। তেমন এ্যালবাম আর পাওয়াই যায় না, এই আফসোস আমার মাঝে মাঝেই ঘুরে ঘুরে ফিরে আসে।

বন্ধু- আড্ডা - গান, এরই মাঝে প্রাণ!

শেষমেশ ফিরেই এলাম আবার।
এক কুঁড়ি দুই পাতার দেশ, সিলেট থেকে।
আবারও শুরু আমার চিরাচরিত অলস হাবিজাবি দুষ্টামি দিন।

একবার ভেবেছিলাম এই লেখাটার নাম দিবো, 'সিলেট থেকে ফিরে - ট্রাভেলগ!'। পরে মনে হল, তাহলে কথাটা মিথ্যা বলা হতে পারে! এগারো দিন থেকে এলাম বটে সিলেট, কিন্তু ঘুরতে যাইনি কোন খানেই। কেবল, আদর্শও ছুটির মেজাজে বেড়িয়ে এলাম এই কয়টা দিন।

আচ্ছা, শুরু থেকেই বলি।

পরীক্ষা তো সেই কবেই শেষ, তারও আগে থেকে সিলেট যাবো যাবো করছিলাম। হবে হবে করেও হচ্ছিল না। ১০ তারিখ হঠাৎ করেই মনে হল, যাই গা!
বায়াকে বললাম, ও অফিস থেকে কমলাপুর স্টেশন গিয়ে পেয়ে গেল পরের দিনের টিকেট! এমনিতে যেখানে ৩/৪ দিন আগেও টিকেট কাটতে গিয়ে ফেরত আসতে হয়।

আমাকে আর পায় কে!

টুকটাক কেনাকাটা সেরে সন্ধ্যার পরপরই ব্যাগ গুছিয়ে রেডি।

আজ হতে বহুদিন পরে.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]

বহুদিন;
হয়তো আজ হতে বহুদিন পরে,
হঠাত্‍ মনে পড়ে যাবে -
এই আমায়।

এক চিলতে রাস্তা ধরে;
আরও এক দিন হেঁটে যেতে যেতে,
এক টুকরো আদর মাখা রোদ্দুরে।
ধুসর প্রান্তর - সবুজ দিগন্ত ভুলে,
মনে পড়ে যাবে কোন মেঘলা দিনের গান।

পথ চলবেই,
চলতেই থাকবে।
হঠাত্‍ মেঘ কেটে যাবে;
দেখবে আকাশজোড়া নীল,
ভালোবেসে লীন হয়ে যাওয়া নীল।

হয়তো একটু বসতে চাইবে তুমিও,
ঠিক আমারই মত;
ছায়াসঙ্গী কোন পুরাতন স্মৃতির মত -
পথের পাশে কোন নদীর ধারে।

হয়তো কোন একাকী কালভার্টে -
পা দুলিয়ে চুপচাপ;
একা বসে থাকবে তুমিও,
চোখের পাতা পর্যন্ত স্হির -
হঠাত্‍ থেমে যাওয়া সময়ের হাত ধরে।

কচি সবুজ পাতার ডাকে;
হয়তো শুয়ে থাকবে ঘাসজমিনে,
ঠিক আমারই মত।
তোমার চোখেও খেলা করে যাবে,
আলো আঁধারির কথকতা।

আনমনা মন হারিয়ে যাবে,
হাওয়ায় হাওয়ায়;
চেনা অচেনা গানে।

এভাবেই;
কিছু থেমে থাকা সময়ের পরে,
আবারও ফিরবে পথে।
তোমাকে যে ফিরতেই হবে,
এমনটাই যে কথা ছিল -
তোমার না বলা কথায়।

পথ চলবে - তুমিও।
অপেক্ষায়,
গোধূলির সুপ্রিয় বিষণ্ণ ক্ষণ।

হঠাত্‍ দিনের শেষে এসে,
অথবা ভোরের মুগ্ধতা ছোঁয়া;
আলো অন্ধকারে -

বয়েজ ডু ক্রাই টু..

বাসায় মুভি নাইট ছিল আজ।

শুক্রবার দিন, সারাদিনই সবাই ফ্রি। রিল্যাক্স মোডের একটা দিন।
কিছু মুভি জমেছে দেখার মত, মুভিখোর সবাইকে একসাথে পাচ্ছিলাম না - তাই।

সারাদিনেও বেশ কয়েকবার ভেবেছি, সবাইকে নিয়ে দেখতে বসব একটা কিছু।
হয় নাই, সবাই যে যার মত ইজি কাজে বিজি।
ছুটির দিন এলেই একেকজন আমরা সবাই আলিস বালিশ।

বিকেলের দিকে একটু ঘুরাঘুরি আর কয়েক কাপ চা। ব্যাস, দিন শেষ!

রাতের খাবার খেয়ে মামা আর ভাইয়াকে নিয়ে বসলাম মুভি দেখতে।
প্রথমে ছেড়েছিলাম, 'দ্যা বিস্ট অব দ্যা সাউদার্ন ওয়াইল্ড'।
প্রিন্ট মোটামুটি, দেখে ফেলা যায় আর কি। কিন্তু কিছুক্ষণ দেখে মনে হল
একেকজনের যে উচ্চারন - এই মুভি সাবটাইটেল ছাড়া দেখাটা বোকামি হবে!
রেখে দিলেম আরও 'কোন একদিন' এর জন্য।

যাই হোক, কিছুক্ষণ এটা ওটা ঘেঁটে শেষে থিতু হলাম 'অসম্ভব'-এ এসে!

মুভির অরিজিনাল টাইটেল 'ল ইম্পসিবল' , ইংরেজিতে 'দ্যা ইম্পসিবল', এটা ২০১২ সালে ইংরেজি ভাষায় তৈরি একটি স্প্যানিশ ডিজাস্টার ড্রামা।

আবোল তাবোল - ১৫

# আমি; এবি, আমরা : বাউন্ডুলের জবানবন্দি #

আজকাল এবি তে আসলেই মন ভাল হয়ে যায়। আমি এবি'র খোঁজ পাওয়ার পর থেকেই দেখে আসছি, ভাল লেখা যত টা না চোখে পরে তার চাইতে ঢের বেশি লেখা অদেখাই রয়ে যায়। এর বড় একটা কারন হল ভাল লেখিয়েরা এখন আর লেখতেই চান না, প্রিয় লেখিয়েরা কেবলই হারিয়ে যাওয়াদের দলে নাম লেখিয়ে যান!

তাই বরাবরই আমার একটা আফসোস কাজ করত যে, এবি'র স্বর্ণযুগটা আমার দেখা হল না! ইদানিং সেই আফসোস টা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে।
প্রিয় লেখকেরা আবারও ফিরে আসছেন, লগ-ইন করছেন । চমৎকার সব লেখা পর্যন্ত দিচ্ছেন। আর এবি'র নিয়মিত প্রানের বন্ধুরা তো সাথে আছেন প্রতিদিনই।

সব মিলিয়ে প্রায় প্রত্যেকদিনই প্রথম পাতায় জায়গা করে নিচ্ছে অসাধারণ সব লেখা, প্রিয় ব্লগ কে এমন প্রাণচঞ্চল দেখতে কার না ভাল লাগে!

প্রায় মাসখানেক পার হয়ে গেছে, কিছু লিখতে বসা হয় না। বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাবছি, হাবিজাবি একটা কিছু লিখব। লেখা হয় না। আসলে, লেখার সাহস আর উৎসাহ কোনটাই আগের মত পাই না আজকাল।

ঝরাপাতা কথকতা # ২ # আমার আমি

মন ভাল নেই;
মন ভাল হচ্ছে না,
মন ভাল হয় না।

আজ খুব হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে করছে, সেই সকাল থেকেই। পারছি না, কিছুতেই।
আবার ইচ্ছাটাকে ভুলে থাকাটাও সম্ভব হচ্ছে না, মনে পড়ে যাচ্ছে বারেবার।

খুব একলা থাকতে ইচ্ছে করছে আজ,
সব চাওয়া পূরণ হলে তো কোন কথাই ছিল না।

মাঝে মাঝে মনে হয়, নিজের মনের কাছেও বুঝি কিছু আড়াল থাকে।
সে সব জানে ও বোঝে জেনেও তার কাছেও খোলা মনে থাকতে মন চায় না! কি অদ্ভুত!

চেনা দুনিয়ার মাঝে থেকেও মাঝে মাঝে চেনা দুনিয়া থেকে একটু সরে দাঁড়ানো যায়,
মুঠোফোনের দুটি তার কানে গুঁজলেই 'লস্ট ইন মিউজিক'। ব্যাস!

কিন্তু তবুও মনে হয়,কিছু কিছু সময়ে নিজের কাছ থেকেও মাঝে মাঝে একটু লুকিয়ে থাকতে পারলে ভাল হত।

অবাক লাগে ভাবতে, ভাবনা গুলো সব আসে কোথেকে! ব্রেইন না মন?!
একটা মুহূর্তের বিরাম নেই, সারাক্ষণই একটা না একটা কিছু ভাবনা আসবেই আসবে। এটা কেমন ধারা কথা!

একদম ব্ল্যাঙ্ক একেকটা মুহূর্ত আসলে কেমন হতে পারে?
'পিস অফ মাইন্ড' জিনিসটা কি আসলে তাই? কিছুই না ভেবে একেকটা সময় কাটিয়ে দেবার সামর্থ্য? কে জানে, হয়তো বা হয়তো না!

হাওয়া লেগে ভেঙে গেল ভোর..

এক্সাম চলছে, আদ্দেকও শেষ হয়নি এখনও।
আপাতত হাবিজাবি আর কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল না খুব একটা,
তবুও আসতেই হল।

এমনিতেই এক্সাম টেক্সামের টাইমে মন মেজাজ খারাপ থাকে,
[গাধা টাইপ ইস্টুডেন্ট, এক্সাম খারাপ হবে আগেই জানি তাই মনে হয়!]
সবার সাথে শুধুশুধুই অভিমান হয় – গলার রগ ফুলিয়ে ঝগড়া করতে ইচ্ছা হয়!

তার উপর এই ছাতার পরীক্ষার যন্ত্রনায় আমাদের পিকনিকটায় পর্যন্ত যাওয়া হল না, এইডা কিছু হইল!
কালকে রাতেই শান্ত ভাই এর পিকনিক পোস্ট দেখছি, এখন আবার জেবীনা’পু।
ব্লগ পইড়া আর সব ফটুক দেইখা হিংসিত হওয়াটাই স্বাভাবিক,
আমার হইছে আজিব সমস্যা – পড়ি/দেখি আর মন আরও খারাপ হয়!

শান্ত ভাই ভাল আছে, একবার আমার কথা মনে করছে! আর সবাই পাষাণ!
কত্ত বড় সাহস সবার, আমারে ফালাইয়া সবাই একলা একলা চা খায় আবার তা লইয়া ব্লগ লেইখা দুনিয়া ভইরা ফালাইছে! কি নিষ্ঠুর, কি নিষ্ঠুর!

যাই হোক, কি আর করার!
প্রিয় কিছু মানুষ ভাল কিছু সময় কাটাইতে পারছে একসাথে - দেখতে খারাপ লাগতাছে না! আল্লাহ চাহে তো, নেক্সট টাইম আমারও দিন আসব নে!

মুক্তি [পরীক্ষামূলক পরমানু গল্প প্রয়াস!]

টানা ২২ দিন গিয়েও খালি মনেই ফেরত্‍ এসেছি,
আজ তেইশ দিন পর স্মিতার সাথে কথা হল।

কোমায় ছিল ও।
জ্ঞান ফিরেছে আজ ভোর রাতে।
সারাদিনে সময় করতে পারে নি,
একটু আগে ফোন করেছিল আর সবাই কে লুকিয়ে,
ওরা নাকি মামলা করতে চাইছে।

চায়ের দোকানে দাড়িয়ে ছিলাম রাতের শেষ কাপ চা খাব বলে,
তখনি ওর ফোন।
প্রায় সোয়া তিন মিনিট কথা হল। বলল, কাল পড়শু নাগাদ রেজিস্ট্রি ডাকে ডির্ভোস লেটার পাঠিয়ে দিবে - সাইন করে দিতে।

সাড়ে আট বছরের চেনা জানা,
তিন বছরের সংসার।
একটা এক্সিডেন্ট, কিছু নিরবতা -
ব্যাস্, তাতেই সব শেষ।

দোষ আমারই ছিল।
হঠাত্‍ করেই ঝোঁকের মাথায় ওকে নিয়ে লং ড্রাইভ। ফেরার পথে ভয়ংকর তীব্র কুয়াশা। হঠাত্‍ দৌড়ে গাড়ির সামনে এসে পড়া এক টোকাই মেয়ে কে বাঁচাতে গিয়েই গাড়ি উঠে গিয়েছিল রোড ডিভাইডারে,
আমার সবকিছুই আবার দুইভাগ করে দিয়ে গেল একটা মাত্র রাত।

তারপরই সেই ভয়ংকর অসহ্য ২৩ দিন।

নাহ, যা হয় ভালর জন্যই হয় হয়তো। অবশ্য এই রাতটার মাঝে ভাল কি থাকতে পারে তা আর এই জীবনে জানা হবে বলে মনে হচ্ছে না।

রাত অনেক হয়ে এসেছে,
বাতি নিভিয়ে দেওয়া দরকার।

ঘুম কিংবা মুক্তি,
একটা কিছু আসুক।।

আবোল তাবোল - ১৪

#

আর মাত্র কয়েকটা দিন। আরেকটা বছর শেষ হয়ে এলো।

২০১২, কেমন গেল তা নিয়ে কিছু বলে লাভ নেই আসলে। বছর শেষ হতে নিলেই মানুষজনের হিসাবনিকাশের বহর দেখলে একটু অবাক-ই হতে হয়। একদিকে চলে চলে যাওয়া বছর নিয়ে পোস্টমর্টেম, আরেকদিকে চলে যত নিউ ইয়ার রেজ্যুল্যুশনের লিস্ট বানানোর কাজ। এসব আমার ভাল্লাগে না। কি লাভ!

প্রত্যেকটা দিন পার হয় নানা রকমের দুঃসংবাদ হজম করে। এতসবকিছুর পরেও যে খেয়েপড়ে বেঁচে মুভি দেখে গান শুনে দিব্যি প্রতিদিন চায়ের কাপে ঝড় তুলে চলছি, এই জমানায় এর চাইতে বড় আশীর্বাদ আর কি ই বা হতে পারে!
বছর শেষে বেঁচে যখন আছি; বলতে হবে ভাল-ই আছি।

আর আসছে বছর কি কি করব তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করেও আসলে লাভের লাভ কিছুই হয় না। আমাদের একেকটা প্রিয় প্ল্যান ভণ্ডুল করে দেওয়ার চাইতে প্রিয় কাজ মনে হয় নেই অসময়ের হাতে। আগে করতাম, এখন তাই লাইফ নিয়ে বড়সড় কোন প্ল্যান করি না আর। আর কাউকে কোনরকম কষ্ট না দিয়ে নিজের মত থাকতে পারলেই অনেক, আর কিছু চাই না আমার।

উপরে তো একজন আছেনই, বাকিটা উনিই দেখবেন। তাইলে, যা হবার ভালই হবে!

#

তোমাকে..

একটা চিঠি লেখার কথা ছিল - তোমাকে..

কিছু প্রশ্ন ছিল..
ইচ্ছেভুলে হারিয়ে ফেলেছি..

কিছু কথা বলার ছিল - তোমাকে..

কিচ্ছুটি বলার জো হয়ে উঠে না।

কি ই বা বলবো -
'ভালোবাসি'?
হুহ! স্বপ্ন দেখার ঐ চোখ দুটো তো সেই ক'বেই হারিয়ে বসেছি..

বলতে পারো?
পথের শেষে কোন গন্তব্য নেই জেনেও কিভাবে পথ চলতে হয়?

শীতের সন্ধ্যায়,
অথবা বৃষ্টিতে ভিজে একদিন বিকালে -
নয় হারিয়েই যেতাম।
চোখের পাতায় জমা থেকে যেত এক টুকরো রোদ্দুর,
কি ই বা যায় আসতো তাতে?

আজকাল কেবল ঘড়ির কাটার টিক টকে পথ চলছি,
আর কিচ্ছুটি ভাবতে ইচ্ছে করে না..অস্থির লাগে।

আর কি বলবো..
তুমি ভালো থেকো, ভালোবাসা নিও।

আর কোন বইয়ের পাতা,
গানের লাইন কিংবা কবিতার খাতা -
একেকটা অসাবধান বাঁধনহারা মুহূর্তে আমায় মনে পড়িয়ে দিলে..

জেনো, তোমায় বলেছিলেম -
কিছু, না বলা কথা'য়..ভালোবাসি.. <3

আজকে না হয় কাল..[এলোমেলো কাব্যকথন!]

আজকে না হয় কাল;
হৃদয় তোমার যাবোই ছুঁয়ে,
বদলিয়ে হাল চাল।

চলতি পথের হাজার ভুলে;
পথ হারিয়ে গুমরে মরে,
শান্তি সুখের চাওয়া।

তোমার কথার গভীর সুরে;
বদলাবে দিন,
কেটেই যাবে -
দুঃস্বপ্নের হাওয়া।

যেদিন আমার 'আমি' হবার;
পূর্ণ হবে কাজ -
বলবো চলার এইতো শুরু,
হোক তা জীবনসাঁঝ।

পথের শেষে আমায় যদি;
না-ই রাখে কেউ মনে -
অশ্রু হয়েই থাকবো না হয়,
তোমার চোখের কোণে।

হয়তো কোন একলা ক্ষণে;
হয়তো হাওয়ার সনে -
যতই তুমি করবে 'না না',
রইব তোমার মনে।

আজকে না হয় কাল;
হৃদয় তোমার ছোঁবই ছোঁব,
বদলে চলার চাল।

বুকপকেটে জোনাকি নিয়ে একলা চলা একেকজনা..এবং 'বারফি'!

রুশদেশে অনেক কাল আগে প্রচলিত একটা মজার কথা আছে। চলচিত্র নিয়ে।

কথাটা অনেকটা এমন যে -
'চলচিত্র তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
ভাল চলচিত্র,
বাজে চলচিত্র আর
তারপর আসে ভারতীয় চলচিত্র'!

অনেকেই হয়তো এই কথা শুনে চোখ পাকিয়ে আসবে মারতে! তবে কথাটা মজা করে বলা হলেও কেন জানি হেসে উড়িয়ে দিতে পারি না।

মানছি, টাইমপাসের জন্য অনেকের জীবনেরই একটি উত্‍কৃষ্ট উপাদান হল এই ভারতীয় চলচিত্র। তবুও একটু ভেবে দেখলে অবাকই হতে হয়।

চলচিত্র বোদ্ধা তো নই,
তবুও ছেলেবেলা থেকেই মোটামুটি নিয়মিত ভাল ভাল মুভি দেখে আসার অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু বুঝি তা হল -
ভাল মুভিগুলাকে যথাযত মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে অস্কার আর কান-এ।

সত্যজিত্‍ রায় এর কথা আলাদা, উনি ভারতীয় যতটা তারচাইতেও বেশি বৈশ্বিক চলচিত্র নির্মাঅ ছিলেন। এজন্যই হয়তো তাকে লাইফটাইম এচিভমেন্ট দিতে ভুল করেনি অস্কার কর্তৃপক্ষ।

হাটি হাটি পা পা করে ভারতীয় চলচিত্রের বয়স কিন্তু কম হয়নি।

চশমিশ আমি আর আমার আম্মু

আজকাল মাঝে মাঝেই দেখি
মানুষজন চোখে লেন্স লাগিয়ে ঘুরে,
আর নয়তো একটুতেই চশমা ফেলে চোখে ল্যাসিক করিয়ে ফেলে।

আর আমি অবাক হয়ে ভাবি -
আয় হায়!
কেউ চশমা এত অপছন্দ করে কেম্পে?!

আমার পিচ্চিবেলার সবচাইতে বিশাল স্বপ্ন ছিল,
বড় হয়ে চশমা পড়ব!

কিন্তু ভাগ্য খারাপ,
চোখ আর খারাপ হয়না!

ইন্টার পরীক্ষার সময় মাথাব্যথার জন্য ডাক্তার দেখাতে গেলাম।ব্যাটা বলে চোখ নাকি খুব ভাল, তবে রিফ্লেক্সের কি সমস্যা নাকি আছে তাই মাথাব্যাথা হয়! পয়েন্ট টু ফাইভ এর চশমা দিয়ে বলল ৬ মাস টানা পড়লেই নাকি ভাল হয়ে যাবে। আমাকে আর পায় কে, চশমা নিয়ে নিলাম। জমিয়ে জমিয়ে পড়ি, টানা পড়ে আর পড়তে না পারলে তো সমস্যা!

এভাবেই বছর পাচ কাটিয়ে দিলাম। কয়েক ফ্রেম আর গ্লাস বদলে এখন একটা ফটোসানের মোটা ফ্রেমের নেভি ব্লু গ্লাস চলছে। রোদে গেলেই আপনাতেই রোদ চশমা হয়ে যায়। কি চমত্‍কারই না লাগে তখন!আম্মুরও ঠিক এমন একটা চশমা ছিল আমার পিচ্চিবেলায়।

ছোট ছেলেরা আসলে কখনই বড় হয় না তবুও চশমা আছে বলেই বড় বড় ভাবটা অন্তত নেওয়া যায়!
আসলেই,
চশমিশ থাকার মজাই আলাদা!

তুমি আমার.. [কবিতা / গানের কথা!]

তুমি আমার দিন প্রতিদিন,
আপনমনের পথ টি চলা..
ক্লান্ত দুপুর;
অলস বিকেল,
হাওয়ার সাথে কথকতা..

তুমি আমার;
রাত্রি জাগা আড্ডা প্রহর,
রাত বিরেতে আনমনা মন..
ভোরের ঘুমে স্বপ্নছোঁয়ায়,
আলতো হাসি..
চোখের কোণে,
না দেখা কোন ফুলের রাশি..

তুমি আমার শীতের সকাল;
ভাপার ঘ্রাণে ঘুম ভাঙা,
আর একফালি রোদ..

তুমি আমার,
বর্ষাকালের অঝোর শ্রাবণ..
জল ভেজা পথ;
বৃষ্টি গায়ে,
শিরশির বুক..
ঠাণ্ডা হাতে;
চায়ের কাপের উষ্ণতাতে,
অপূর্ব সুখ..

তুমি আমার বসন্ত দিন,
সজীব প্রানে নতুন কুঁড়ি..
বিকেল হাওয়ায়;
হরেক ফুলের পাপড়ি মাঝে,
ভালোবাসার গান..

তুমি আমার;
কালবোশেখি ঝড়ের রাতে,
মুগ্ধ প্রহর -
হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হঠাৎ..

তুমি আমার;
হঠাৎ সুখে,
আনন্দ ক্ষণ..
একটু কথায়;
খুব অভিমান,
জল ধরা চোখ..

তুমি আমার;
রাগ ভোলা দিন,
অবিশ্বাসের দুঃখ স্মৃতি..
বিষণ্ণতার সময় শেষে;
একটু হাসি,
উচ্ছ্বসিত প্রান..

তুমি আমার
স্বপ্ন আঁকা;
তোমার চোখে
আমায় দেখা,
আমার আমি..

দিনযাপনের দুঃখ সুখেতে;
পথ হারা পথ,
স্বপ্ন চোখে আকাশ মাখা -
ভালোবাসার গান..।।

বিদায়, হে নিঃসঙ্গ সম্রাট!

:'(

সারাদিন এত্ত কিছু নিয়ে বকবক করি। একেকজন প্রিয় লেখক চলে যান,
একটা কথাও খুঁজে পাইনা বলার মত!

হেমন্ত..সাগর..মান্না দে..সতীনাথ..সত্যজিত্‍..সুকুমার..বিমল..শীর্ষেন্দু..সুনীল..রমাপদ..

কিছু নাম আর শুধু নাম নেই..আমার আমিত্বের অংশ হয়ে বসে আছে।

হুমায়ূন নেই,
এটাই এখনও পুরোপুরি মেনে নিতে পারি না।

সুনীলও চলে গেলেন।
আমার ছেলেবেলার কাকাবাবুর সুনীল।
আমার বেড়ে উঠার দিনে
একা এবং কয়েকজনের সূর্যের সুনীল।
রবিবুড়ো কে আরো আপন বানিয়ে দেয়া
প্রথম আলোর সুনীল।
বিমলের পর ইতিহাসে আগ্রহজাগানিয়া
সেই সময় আর পুর্ব পশ্চিমের সুনীল।
হিমুর ভাবগুরু নিলুর নীললোহিতের সুনীল।
ছবির দেশে কবিতার দেশে, প্রিয় মার্গারিটের সুনীল।

অথচ আবারও -
কিছুই বলার নেই..! :'(