ইউজার লগইন
ব্লগ
আমরা বন্ধুর সোস্যাল ক্যাচাল

আমরা বন্ধু, তাইলে আমাগো ফেইসবুকে সবাই এড থাকবো না কেন?
আশিক ভাইয়ের ঠিক অনেকটা এমন কথা দিয়েই হঠাৎ ফেইসবুকে আমরা বন্ধু গ্রুপটা প্রানবন্ত হয়ে উঠলো। আপনারা যারা এখনো সেই মজা থেকে নিজেদের বঞ্চিত রেখেছেন, তাহলে মিস করছেন অনেক কিছুই।
ভালোবাসার গণিত
ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় ভাবতাম ক্যালকুলাসটা ভালই জানি। ঐ ক্যালকুলাসে ৩৬ এই ভরসাতেই পরীক্ষার হলে ঢুকেছিলাম... না হলে Statics Dynamics খায় না মাথায় দেয় তাও জানতাম না... কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে নাসের স্যারের কাছে ‘Real Analysis’ পড়তে গিয়ে বুঝলাম Calculus এর ‘ক’ ও শিখি নি... বছরের অর্ধেক জুড়ে ফাংশান পড়াতে যেয়ে স্যারও হাফিয়ে উঠলেন, আর আমরা তো শেষ... যারা Function ই ঠিকমত বোঝে না তারা Analysis বুঝবে কি?
২ বছর ২ মাস ২ দিন

সেই দিনের পিচ্ছি ছেলেটার আজ ২ বছর ২ মাস ২ দিন পূর্ণ হল।
ও এখন টুক-টাক কথা বলে।
সকালে আমি অফিসে যাবার সময় আমার সাথে বেরুনোর জন্য কান্না জুড়ে দেয়।
অনেক কষ্টে ওকে রেখে বেরুতে হয়। ঘুষ দিতে হয় একটা 'মান্নাম'।
দুপুরে মাঝে-মধ্যে বাসায় খেতে যাই। আমাকে পেলে রাজ্যের অভিযোগ করবে সে।
যার অনেক কথাই বুঝিনা। আবার বেরুবার সময় যথারীতি কান্না। আমার সাথে বেরুনোর জন্য। আবার 'মান্নাম' দিয়ে রক্ষা।
রাতে বাসায় ফিরলেই নিজে জুতো পরে নেবে। আমার হাত ধরে বেরুনোর জন্য চিৎকার শুরু করবে। অগত্যা বাইরে যেতে হয় তাকে নিয়ে।
'বাক্কাফ' বা 'আগাগ' কিনে দিতে হয়।
যে ঝড়ো মেঘ একদিন আমাদের আকাশেও ডেকে আনবে বিপুল অন্ধকার
এই গল্পগুলো খুব চেনা আর সাধারণ। ওরা প্রত্যেকে কাছাকাছি সময়ে আলাদা পরিবারে মানুষ হচ্ছিল। বয়েস ৪-৬ বছর। ২০১১ সালে যে গল্পগুলো ছিল এরকম-
১. অমি প্রতি শুক্রবারের অপেক্ষায় থাকে। বাবা বাসায় থাকে সারাদিন। বিকেলে ওকে নিয়ে বের হয়। হয় শিশুপার্ক, নয়তো চন্দ্রিমা, নয়তো চায়নীজ। ফিরে আসার সময় মুঠোভর্তি চকোলেট আর বেলুন। প্রতি শুক্রবার ওর জন্মদিনের আনন্দ।
২. নীহা প্রতি রাতে ঘুমোবার আগে এক ঘন্টা বাবার গলা জড়িয়ে গল্প শুনে। সেই তিন বছর বয়স থেকে গল্প শুনতে শুনতে মুখস্ত হয়ে গেছে বাবার প্রতিটা গল্প, তবু বাবার মুখ থেকে শুনতে ইচ্ছে করে ওর। প্রতিবার শুনলে মনে হয় এই প্রথম শুনছি, বাবা এমন মজা করে গল্প করে।
নাঈম মামার জন্মদিনের সকাল
আমরা বন্ধুর ব্যানার গুলান বড়ই মনোহর সাথে আকর্ষনীয়। যেমন এখন যে ব্যানারটা ঝুলতেছে তাতে বলতেছে মে দিবস অমর হোক। মে দিবস অমর হয়েই থাকে আমার মতো বেকারের কাছে। মে দিবসের বন্ধের মতোই সব দিন ছুটিতে যায় আমার। আমার আম্মুও এক কাঠি সরেস তিনি বলেন তোর তো সব দিনই মে দিবসের মতোই আনন্দে কাটে। চারিদিকে এতো ঠেসমারা কথা বারতা শুনতে শুনতে কিছুটা ক্লান্ত আমি। কিন্তু তাতেও আমার খুব একটা ভ্রুক্ষেপ নাই। কারন নতুন একটা মাসের শুরু নতুন করে মাসের শুরুতেই পাওয়া যাবে হাত খরচ পকেট খরচের টাকা। দিনগুলো যাবে আশা করতেছি আনন্দেই। কারন মে দিবসের মেহনতী মানুষেরা মাত্র ১ প্যাকেট বিরানীর জন্য মিটিং মিছিলে যায় আর সারা বছর গাধার খাটুনি আমি সেই মানুষদের চেয়ে অনেক আনন্দে আছি। দিন যায় আড্ডা মেরেই সাথে নাম মাত্রের এমবিএতে।
ক্ষ্যাপ ০১
জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে বিশ্বের অন্য কোথাও হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বাংলাদেশের আমজনতার কাছে জাতীয়তাবাদ গুরুত্বহীন। পরিজন, মহল্লা, গ্রামের সীমান্ত পার হলে বড় জোর জেলাপর্যায় পর্যন্ত এই জাতীয়তাবাদ টিকে থাকে, অনেকাংশেই আঞ্চলিকতাবাদের বাইরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যেতে পারে নি। পীচ ঢাকা রাজপথ, রেললাইন, বিভিন্ন সেতু গ্রাম আর শহরের ব্যবধান ঘুঁচিয়ে ফেললেও আমাদের শৈশবে বাংলাদেশ নদীঅবরুদ্ধই ছিলো, সেই দুরে ইশ্বরদীতে পাকশী সেতু, সেখান দিয়ে যশোর খুলনা কুষ্টিয়া, ফুলবাড়ী স্টেশনে নেমে সেই মেইল ট্রেইন, এর বাইরে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সবই অগম্য দুস্তর পারাবার।
নিরর্থক আলোচনা পোস্ট
হুমায়ুন আজাদ স্যারের দুইটা প্রবচন আছে-
"টেলিভিশনে জাহাজমার্কা আলকাতরার বিজ্ঞাপনটি আকর্ষনীয়, তাৎপর্যপূর্ণ; তবে অসম্পূর্ণ। বিজ্ঞাপনটিতে জালে, জাহাজে, টিনের চালে আলকাতরা লাগানোর উপকারিতার কথা বলা হয়; কিন্তু বলা উচিত ছিলো যে জাহাজমার্কা আলকাতরা লাগানোর উৎকৃষ্টতম স্থান হচ্ছে টেলিভিশনের পর্দা, বিশেষ করে যখন বাঙলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখা যায়।"
এবং
"বাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে বই খুলুন,
অবাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে টেলিভিশন খুলুন।"
প্রেম ও অপ্রেমের ডিকন্সট্রাকটেড ব্যভিচার
..............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
যদি সত্যি হতো সব
আমি দু আঙুল বিপ্রতীপ রেখে
তোমার উঠোনে গিয়ে গ্যাট মেরে
বসে বিড়ি ধরাতাম...অনেক প্রস্তুতি নিয়ে;
বলা তো যায়না কদিন ওভাবেই কেটে যেতো
নিঃসঙ্গ একাকিনী

স্বপ্নিল আঁখি দেখছে স্বপন মধুর আবিষ্টতায়,
সুখ সুখ খেলা চলছে ভীষণ মনের নির্জনতায়।
প্রফুল্ল হৃদয়, উত্তাল চিত্তে মাতাল হাওয়া বয়;
বাঁশরীর সুরে মাতোয়ারা মন, একলা পড়ে রয়।।
অভিমানের কপট আভায় বদনে মলিন ছায়া,
থরে থরে সাজানো সুখকে শুধু ধিক্কার দেয়,
ক্ষণিকেই সব ভুল ভেঙ্গে উল্লাসে ভেসে যাওয়া,
অনুতাপের সূক্ষ্ম স্পর্শে কিছুটা কাতরও হওয়া।।
মানসপটে তার স্বচ্ছ ছবি, নিষ্পাপ তার চাহনি,
এলোমেলো সব ভাবনায় সৃষ্ট কল্প-কাহিনী।
ভবিষ্যত এতো মসৃণ নয়, বন্ধুর পথের হাতছানি
বাস্তবতা ভেবে আকুল আমি নিঃসঙ্গ একাকিনী।।
আবেশমাখা স্মৃতির তরে তবু জাগে মগ্ন বিভোরতা
হারিয়ে পাওয়া সাধের ফোন!
হারানো কিছু ফিরে পাওনের আনন্দ যে কি, যার এই অভিজ্ঞতা না হইছে বুঝানো যাবে না। জিনিসটা হারানোর পর হাল না ছেড়ে দিয়া লাগ্লো হতাশ না হইয়া একটা চেষ্টা করে দেখি। ভাব্লাম কারো উপরে ভরসা না করে নিজেই একটু চেষ্টা করে দেখিনা, কতটুকু আগাইতে পারি! কিভাবে কি হইলো অনেকেই জানতে চাইতেসে! জনে জনে তো এক কথা বার বার বলা সম্ভব না তাই এই পোস্টের সহযোগীতা নিলাম!
আচ্ছা এই পোস্টা টা দিতেসি সব বুড়াপান আর পোলাপানের ধাক্কাধাক্কি তে! আমার একটা হ্যান্ডসাম স্মার্ট ফোন আছে, যারে দেখেই অনেকের হিংসায় গা জ্বলে যায়, নাম HTC Desire HD
ঘাসফুল
উঠোন কোণে এমনি বসা ভাত-শালিকের দল,
পোষ মানালেই বলতে শেখে
লক্ষ টাকার ময়না থেকে-
শিখিয়ে দেওয়া সকল বুলি অধিক অনর্গল।
কাকের বাসায় আজকে ফোঁটা ছোট্ট কোকিল পাখি,
হয়তো কোন এক ফাগুনে
'আশ্রিত' নাম মুছিয়ে গুণে-
কাকের চেয়ে মধুর স্বরেই করবে ডাকাডাকি।
এমনি হেলায় মাড়িয়ে যাওয়া এক ছোট ঘাসফুল,
হয়তো কখন গড়িয়ে বেলা
উঠবে হয়ে ঘুঁচিয়ে হেলা-
গ্রাম-কিশোরীর যত্নে তোলা শখের কানের দুল।
আত্মমগ্ন কথামালা-১১
আমি অনেক বড় ফটোতোলক। আমার বিরাআআআট সাইজের একখানা ক্যাম আছে, লেটেস মডেল। লেন্সও আছে গোটা পাচেক, যুম, ম্যাক্র, টেলি, প্রাইম, ফিস আই। সবরকমের। আমার একটা নীতি আছে। কষ্ট কইরা ছবি তুলুম না কখনই। ছবি কি কষ্ট কইরা তোলনের জিনিস? আরামে আরামে গিয়া অল্প হাঁটাহাটি করমু। পায়ে ধুলা বা কাদা যাতে না লাগে সেইদিকে খেয়াল রাখমু বেশি। উত্তর-দক্ষিন-পুর্ব-পচ্চিম-ইশান-বায়ু-নৈঋত-অগ্নি-উধ্ব-অধ সবদিকে বিভিন্ন লেন্স তাক কইরা ফটাফট শাটারে চাপ দিমু। ধরেন শ-ছ্যেকক ছবি তুইলা নিমু দেড় ঘন্টার ভিত্রে। কম হইলো মনেহয়। আরো কিছু বেশিই তুলমু, আপনাদের বলুম কেন কয়টা তুলছি? এই দেড় ঘন্টায় একশ আশিবার রুমাল দিয়া ঘাম মুছুম, পরিশ্রম হইতেছে না? এই খটখটা রোইদের ভিতরে কি ভালো ছবি উঠে?
ঘামে ঘামে তারা ক্রমে মে দিবস হয়ে উঠে
...............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
শ্রমিকের মজুরীতে যারা ভাগ বসায় নিয়তঃ
আজো তোমার সন্তান কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় হাঁটে
আব্বাজান,
১.
তখন শিশু শ্রেণীর ক্লাস। তোমার চাকরিও নাই। তাই স্কুলের জুতা নাই। কখনো কখনো টিফিন নাই।বছর শেষে নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পয়সা থাকাও স্বপ্ন। স্কুলে যাওয়ার পথে কান্না। স্কুলে চুপচাপ বসে থাকা.. একপর্যায়ে স্কুল থেকে নাম কাটানো... তখন আমি খুব ভাব ধরলাম- এ স্কুল পছন্দ না.. এই তো কিছুদিন পর নতুন স্কুলে কম বেতনে নতুন ক্লাসে ভর্তি হবো! যেখানে বেতন বকেয়া থাকলেও নাম কাটবে না। বাসা থেকে হাসিমুখে বের হলাম, স্কুলে গেলাম হাসিমুখে..কাঁদলাম রাস্তায়...
২.
অস্ত যাওয়া সূর্যের বিরহ
পথ হারিয়ে, দিন ফুরিয়ে
ছদ্মবেশ ধারণ করেছে
একটি শালিক।
তুমি তার কতটুকু জানো-
কতটুকু জেনেছে গতকাল
কতটুকু জানবে আগামীকাল?
ছাড়ো, এইসব ছেড়ে দাও
নতুন করে বুকের কপাট খুলে দাও,
অস্ত যাওয়া সূর্যের বিরহে
বসে না থেকে
সদ্য ওঠা চাঁদের দিকে তাকাও
রাতটা ভালো করে কাটবে।
এবং আগামীকালকে জানিয়ে দিয়ো
প্রথম প্রেম বলে কিছু নেই সকল প্রেমই প্রথম