আপেল খাইতে মঞ্চায়

১.
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল
জীবনানন্দ দাশ
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল,-
ডালিম ফুলের মতো ঠোঁট যার রাঙা, আপেলের মতো লাল যার গাল,
চুল যার শাঙনের মেঘ, আর আঁখি গোধূলির মতো গোলাপী রঙিন,
আমি দেখিয়াছি তারে ঘুমপথে, স্বপ্নে-কত দিন!
মোর জানালার পাশে তারে দেখিয়াছি রাতের দুপুরে-
তখন শুকনবধু যেতেছিল শ্মশানের পানে উড়ে উড়ে!
মেঘের বুরুজ ভেঙে অস্তচাঁদ দিয়েছিল উঁকি
সে কোন্ বালিকা একা অন্তঃপুরে এল অধোমুখী!
পাথারের পারে মোর প্রাসাদের আঙিনার পরে
দাঁড়াল সে- বাসররাত্রির বধু-মোর তরে, যেন মোর তরে!
তখন নিভিয়া গেছে মণিদীপ-চাঁদ শুধু খেলে লুকোচুরি,-
ঘুমের শিয়রে শুধু ফুটিতেছে-ঝরিতেছে ফুলঝুরি, স্বপনের কুঁড়ি!
অলস আঢুল হাওয়া জানালায় থেকে থেকে ফুঁপায় উদাসী!
কাতর নয়ন কার হাহাকারে চাঁদিনীতে জাগে গো উপাসী!
কিঙ্খারে -গালিচা খাটে রাজবধু-ঝিয়ারীর বেশে
কভু সে দেয় নি দেখা- মোর তোরণের তলে দাঁড়াল সে এসে!
ভাল লাগছে; ভাল লাগছে, কেন তা বলতে পারি না..! :D
প্রায় ঘণ্টা খানেক হল গুনগুন করছি শ্রীকান্তের একটা গান।
' ভাল লাগছে; ভাল লাগছে, কেন তা বলতে পারি না'।
আজ রাতে এই মুহূর্তে এই লাইনটা দারুন ভাবে মানিয়ে গেছে আমার সাথে। নির্দিষ্ট কোন কারন নেই কিন্তু তবুও ছোট খাট সাইজের অনেকগুলি ভাল লাগায় মন ফুরফুরে হয়ে আছে। এমনিতে তো সব সময়ই মন খারাপ মন খারাপ করি, আজ মনে হল একটু ভাল লাগাও শেয়ার করা দরকার। তাই এই হাবিজাবি।
ইচ্ছে করতেছে, আমার প্রিয় যত মানুষ আছে আমার লাইফে - তাদের সবাইরে নিয়া লাফালাফি করি। শুধু শুধুই সব কিছুতেই বেশ মজা লাগতাছে! আজব ব্যাপার, সবসময় এমন ফিল করতে পারলে দুর্দান্ত হইত!
ও যদি খেতে চায়
ও যদি খেতে চায়
খেতে দাও,- অসম অসুখ।
দুরত্বের ক্ষত
কিংবা মহৎ অবদান।
ও যদি খেতে চায়
খেতে দাও,-বিষাক্ত সুখ।
প্রান্তীক পোকা বা পক্ষ
অলস ঝুলে থাকা গাভীর বান
কিংবা আদান-প্রদান।
ও যদি খেতে চায়
খেতে দাও,-
ঘর-গেরস্থালির অস্থি,-
উৎপাদন যন্ত্র।
মন ও মন্ত্র কিংবা কুসুমের ভেতর থেকে বিযুক্ত ওম।
সুপ্ত ঘ্রান যদি-
খেতে চায়,খেতে দাও।
ফুলপরীরে ঢিল- কান নিয়েছে চিল..
বরিশালের গহীণে কোন একগ্রামে নানাবাড়ি। ঈদের লম্বা ছুটি.. কোথাও না গেলেই নয়। বাড়ির একদল ঠিক করলো, এবার না হয় বরিশাল। কিছু দিন সবুজ আর পাখির সাথে বসবাসের ইচ্ছা আর ইচ্ছে কংক্রিটের মাঝে বড় হতে থাকা ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েটিকে শাপলার পুকুর দেখানো।
যেই ভাবা সেই কাজ। দুই খালা আর ছোট খালার দুই মেয়ে পুষ্পা-পরমা ঈদের তৃতীয় দিন (ঈদের প্রোগ্রামের তালিকা অনুযায়ী) কাক-ডাকা ভোরে রওনা দিলেন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। নিতান্তই গ্রামের বাড়ি বলতে যা বোঝায়, সেখানেই তাদের বাড়ি। ঝিঁঝি পোকার ঢাকে সন্ধ্যা. জোনাকির আলোয় রাতের ঝিকিমিকি উঠোন আর পাখির ডাকে সকাল। বেশ চমৎকার পরিবেশ। ছোট্ট ডিঙ্গিতে করে শাপলার ঢেউ ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মাঝির মুখের হাসি আজকাল কয়টা জায়গায় দেখা যায়! শহরে তো একদমই না। এখনও যেখানে বিদ্যুৎ চমক দেখাতে পারেনা, সেখানে শহরের চঞ্চলতা তো নেইই - তেমন নেই কোলাহল..
একারণেই হয়তো প্রাগৌতিহাসিক অনেক বিষয় আজও এলাকাবাসীর মনে মনে পুষে রাখে নিষ্ঠার সাথে। কি যে বিপদ!
ঈদ উদযাপন, ঢাকায় ফেরার বিড়ম্বনা ও মৃত্যু সংবাদ!
ভেবেছিলাম ঢাকাতে ফিরেই পোষ্ট দিবো। তা আর হলো না। কারন পরীক্ষা পেছালো আর জামালপুরে ট্রেনের টিকেটের খুব গেন্জাম। ছাত্রলীগের পোলাপাইন তারা আমার মতোই বেকার। টিকেট কালোবাজারী করেই তাদের দিন চলে। তাই তাদের এই কর্মসংস্থানে কেউ বাধা দেয় না। জামালপুরে একটা লোকাল পত্রিকা অফিসে গতবার গেছিলাম। আমার বাড়ী থেকে বেশি দুরে না। অফিসটায় সাইজ ঢাকার একটা মাঝারী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সমান। ভদ্রলোক তিনজন বাংলা সিনেমা দেখছিলো ভিডিও চ্যানেলে। আমি তাদের তিনটাকা দিয়ে পত্রিকা কিনলাম। জিগেষ করলাম ট্রেনের টিকেট সব ব্ল্যাকে চলে যায় এইটা নিয়ে আপনারা সোচ্চার না কেনো। উল্টা আপনাদের পত্রিকা জুড়ে দেখি খালি সব জাতীয় খবরে ঠাসা। তিনি হেসে বললেন বাবাজী দেশের টাকা তো দেশেই থাকলে ভালো। যেভাবে কামাচ্ছে কামাক।রেব পুলিশ তো ঐখানেই থাকে। তারাই কিছু বলে না আর আমরা বলে কি হবে!
শো-বিজে হাইব্রীড ‘তারকা’ ও আমাদের মিডিয়া
বাংলাদেশে এখন হাইব্রীড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সময়। বেশ ভালো সময় । গত একবছর ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক হাইব্রীড হিরো একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছে। ওই হাইব্রীড হিরো নাকি তাঁর অভিনীত ছবিগুলোর প্রযোজকও। ‘গাঁজাখরি’ গল্পের ওই ছবিগুলোতে ওই ‘হিরো’র ভুল উচ্চারণের সংলাপ শোনার জন্যই নাকি ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভেঙে পড়ছে। দুই আড়াইঘন্টা হলে ‘হো’ হো’ করে হেসে বেরিয়ে এসে জনতা আবার দেদার গালিও দিচ্ছে। গত কিছুদিন ধরে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ওই হাইব্রীড হিরো বিভিন্ন টকশোতে উপস্থিত হয়ে দেশের মানুষকে চলচ্চিত্র ও অভিনয় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়াও শুরু করেছে। ওই টকশোগুলোও ইতিমধ্যে তাঁর উচ্চারণের ক্যারিশমায় দমফাটানো হাসির উেস পরিণত হয়েছে। হাইব্রীড ‘হিরো’কে নিয়ে চ্যানেল মালিক ও অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্যটা এই মুহূর্তে ঠিক পরিষ্কার নয়। যতদূর জানি, ওই হাইব্রীড হিরো অগাধ অর্থের মালিক ও সে ইতিমধ্যে এদেশের নিম্নরুচির শোবিজ জগতের মজা পেয়ে গেছে। তাঁর হিসেবহীন অর্থকে টার্গেট করে ‘মৌ-লোভী’রা তাঁর চারপাশে ভীড় করেছে কীনা-সেটা আমার কাছে পরিস্কার নয়। কিন্তু আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো এই হা
"দেভদাস" - শেষ পর্ব
দেভু আর চন্দ্রার প্রেমের ঝড়ে আকাশ পাতাল উথাল-পাতাল হইতে লাগিলো, মর্ত্যের শুষ্ক বালু উড়িয়া ঘরবাড়ি তলাইয়া গেল। সেই বালুতে মুখ গুঁজিয়া সকলে যেন উটপাখির ন্যায় জীবন যাপন করিতে লাগিলো। তাহা দেখিয়া কোন কোন পত্রিকা উটপাখি নয়, মানুষের জীবন চাই শ্লোগান নিয়া আগাইয়া আসিলো।
তাহাতেও তাহাদের প্রেমের জোয়ার কমিলো না। দেভু আর চন্দ্রা প্রত্যহ সাক্ষাৎ করিতে লাগিলো , চন্দ্রার শপিং জোর কদমে চলিতে লাগিলো , কখনো বা তাঁহার জন্য কখনো বা তাঁহার কাজিনের জন্য কিংবা সাথে আসা কোন বান্ধবীর জন্যে। প্রতিবারই তাহারা শপিং এর পর বাহিরে খাইতে লাগিলো। কখনো বা তাহারা দুই জন কখনো চন্দ্রার কয়েকজন বান্ধবী সহ তাহারা বাহিরে খাইতে লাগিলো। পাশা পাশি তাঁহাদের ডি-জে পার্টিও সমানতালে আগাইতেছিলো । অপরদিকে দেভুর সঞ্চয়কৃত পাউন্ড কমিতে কমিতে তলানিতে আসিয়া ঠেকিলো।
একদিন সকালে দেভু তাঁহার মানিব্যাগ ঘাটিতে ঘাটিতে ভাবিল, এরূপ চলিতে লাগিলে সামনের দিনগুলিতে তাহাকে পাড়ার মোড়ের ভাই ভাই হোটেল এন্ড রস্টুরেন্টে চন্দ্রা কে নিয়া বসিয়া আলু পুরি আর চা খাইতে হইবে।
আমার দেশ আমার পরিচয়
প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো এ লেখা মূলত রূম্পার দেশকে জানো দেশকে জানাও ব্লগের মন্তব্যের সম্প্রসারণ।
আমরা যে পরিমাণ বিদেশ চর্চা করি সম্ভবত পৃথিবীর অন্য দেশগুলো সে পরিমাণ বিদেশ চর্চা করে না। ছোটোবেলা জ্ঞান,মেধা প্রমাণের জন্য আমরা ১৪০ দেশের নাম, ভাষা, রাজধানী মুখস্ত করে বসে থাকি। সেটা আমাদের অক্লান্ত জ্ঞানতৃষ্ণার প্রমাণ না বরং এইসব জানলে ভবিষ্যত উজ্জল হলে হতেও পারে এমন একটা অবচেতন ধারণা আছে।
সমস্যাটা আরও বেশী কারণ আমাদের দেশে প্রায় বিনামূল্যেই বিদেশী সব চ্যানেল দেখা যায়, ৩০০ টাকায় ৮০টা স্যাটেলাইট চ্যানেল, রাস্তায় হিন্দি,উর্দু, ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ সিনেমা, গান, বিনোদনের জগত এবং একই সময়ে আমাদের বিনোদনের জগতে শূন্যতা কিংবা অপদার্থে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আমরা পার্থিব এবং মানসিক সকল প্রয়োজন পুরণে বিদেশমুখাপেক্ষী। । সুতরাং আমরা বিদেশীদের খরবাখবর বেশী রাখি।
জলে ভাসা পদ্ম আমি
অনেকদিন পর চেনামুখগুলো দেখলেও হঠাৎ একটু সময় লাগে সবকিছুতো আগেরমতো হয়ে উঠতে। অনেকদিনের না দেখা, না ছোঁয়ার একটা প্রতিক্রিয়া আছেই। স্কাইপি, এসএমএস কিংবা দূরালপনী যন্ত্র পুরোটা দূরত্ব মনে হয় অতিক্রম করতে পারে না। এর রেশ কাটতে কিছুটা সময় যায়। আমি বাড়িতে এলে আমার ছেলে মেয়েগুলো কিছুদিন একটু দূর দূর দিয়ে ঘুরে ফিরে দেখে। তারপর একসময় জেনে যায়, আমি এদেরই লোক। তখন ওপরে এসে ঝাপিয়ে ঘুপিয়ে পড়ে। মেঘলার ভাষায় আসো তোমাকে চ্যাপ্টা ভ্যাপ্টা করে দেই। এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটালো আমাদের দুই ছেলে। আমাদের রাজাবেটা এমনিতে চুপচাপ কিন্তু কোলে ওঠার ব্যাপারে একটু চুজি। সবার কোলে তিনি যেতে চান না। আমি অনেক রাতে বাসায় ঢুকলেও একটু হাউকাউতো হয়ই। তাতে তার নিদ্রা টুটে গেলো। তিনি তার মাতৃদেবীর কোলে উঠে ডাইনীং এ এলেন খুবই গম্ভীরমুখ করে। এতো রাতে কিসের উৎপাত। ছোট্ট আঙ্গুলটা তার চেয়েও ছোট্ট গালে ঢুকিয়ে অবাক বিস্ময় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। হয়তো ভাবছেন এ আবার কে?
স্মৃতির বালিহাঁস
অন্ধ আগন্তুক হে, তুমি কি নি:সঙ্গ, কোন এক বাদামী খরগোশ
কিংবা একাকী বনবিড়ালের মত? নিমগ্ন সন্ধ্যালোকের
নৈ:শব্দের শেরপা কী তুমি? কান পেতে শোন কী কখনো
বিদীর্ণ হৃদয়ের কান্না? আনকোরা দু:খের নিষিদ্ধ সংলাপ?
- বিদীর্ণ হৃদয়! হাহ । যা কিছু ছেড়া, যা কিছু পোড়া, চাপ
চাপ ক্ষত নিয়ে যে ঘোরে, যে আমাদের ঘোরায় নিয়ত, তাদের
কেউ কি দেখা দেয় অবিনাশী কান্না ধারায়?
কান্না, দু:খ-সে তো ভ্রান্তিবিলাসী আমারই আরেকটা অংশ
সুখপাখি। তোমাদের হাওয়াবাড়ির খোজে নিয়ত ছোটে
আমার বালুচরি বেদনা। রোজ সকালে সোনালি রৌদ্রের
তেজ যে চিলের পাখনায় দেয় কাব্যময় প্রেরণা, সন্ধ্যায়
সেই ডানা ভেঙে কুলায় ফেরে একরাশ ক্লান্তিতে।
অস্তমিত সূর্য তার ডানা থেকে কেড়ে নেয় উড়বার নিগূঢ় প্রেরণা।
ওধারে অনন্ত অন্ধকারে কাঁদে বালিহাঁস, ছাইরঙা বালিহাঁস।
কান্নায় তার কালিগঙ্গার ধারা!
সুখপবনে একে একে ভেসে যায় জ্যোৎস্নার রঙ, ধুলো
ধোয়া মেঘ, বহতা বাতাসের ঝাঁক। কাকের কর্কশ
চিৎকার থেমে যায়, ঢেকে যায় পাতার করুণ মর্মর,
অদ্ভুত বিষাদের ঝি ঝি ধ্বনিতে।
আমাদের কারোই মনে পড়ে না এখন আর,
এইটুকু সময় আগে
চাঁদ ছিল,
চাঁদোয়া ছিল,
আমাদের তরুণ সুখ ছিল
কাঁটাতার
আচ্ছা তবে ,
আমার দেয়া নামটা এবার ফিরিয়ে নিলাম ,
সত্য এবং মিথ্যার মাঝখানে
রক্তাক্ত কাঁটাতারের বেড়া
মজবুত করে গেঁথে দিলাম ।
শোনো তবে ,
অজান্তে কোনো দিনও ,
ছুঁই ছুঁই করে তবু ছুঁয়োনাকো যেন
ফারাকের এই প্রচন্ড কাঁটাতার ।
শুধু জেনো ,
ওপাশের মেকি ক্ষতের রক্তে
এপাশের আদি শুকনো ক্ষতটা
ভিজবে না কভু আর ।
তাই বলছি শোনো ,
জেনে শুনে ,
আর পেড়োতে এসো না
ফারাকের এই নিদারুন কাঁটাতার ।
খেরোখাতা (২)
ঈদের ছুটির ৯ দিন কিভাবে কেটে গেলো টেরই পেলাম না
। রবিবার থেকে আবার কাজ শুরু। ভাবতেই একটা বিরক্তি বোধ হয়
। ২০১০ এর পর সবাই চারিদিকে ছড়িয়ে পরার পর প্রায় সব ঈদ ছিলো ছন্ন ছাড়ার মত। এবারের ঈদে একরকম সবাই একসাথে হলাম অনেক দিন পর শুধু একজন বন্ধু ছাড়া। আমাদের কাছে শুনে সেও খোমাখাতায় দুঃখ প্রকাশ করে গেলো। ঈদের পর দিন আবার যে যার জায়গায় ফেরত। আমি একলা বসে বসে ভাবলাম আর এইভাবে হয়ত একসাথে ঈদ করা হবে না। জীবিকা মানুষকে আমৃত্যু তাড়া করে বেড়াবে। হয়ত মাঝে মাঝে এইভাবে ২/৩ জনের সাথে দেখা হবে কথা হবে। সবাই একসাথে সম্ভাবনা খুব কম। এখন মনে হয় ছাত্র জীবন অনেক ভালো ছিলো
। খুব মিস করি।
ছায়াবাজির পুতুল (৩)
১.
‘বাম চোখ লাফালে খারাপ খবর পাওয়া যায়। ডান চোখ লাফানো ভালো’। ছোটবেলা থেকে অনেক শুনসি এই কথাটা। এই কথার ভিত্তি কতটুকু আর যুক্তি কি জানি না। কিন্তু গত প্রায় এক মাসেরও বেশি হবে আমার বাম চোখ অনবরত লাফায়। সারাদিনে এক মূহুর্তের জন্যও যেন থামে না। ঈদের আগে ভাইয়া একটা বড় দূর্ঘটনা থেকে ফিরে আসছে। আল্লাহই জানেন আর কি অপেক্ষা করতিসে। মাঝে মাঝে অবশ্য ডান চোখও লাফায়। এই লাফালাফির কারণে কেমন কোরবানির গরুর মতো একটা ফিলিংস হচ্ছে। কোরবানির পর মাংস পিস করে বাসায় আনার পরও পিস গুলা যেমন কাঁপতে থাকে তেমন লাগতিসে।
২.
ফেরার গল্প (দুইখন্ড একত্রে)
_________( পাঠকের সুবিধার্থে দুই খন্ডকে একসাথে করে দিলাম)___________
এখানে একটা সত্যিকারের পুকুর ছিলো। আর কেউ না মনে রাখলেও আমি সেটা মনে রেখেছি। সেই পুকুর পাড়ে কত শত উদাসী দুপুর যে কাটিয়েছি ভাবলেই এই খড়খড়ে রোদের দুপুরটাও বেশ মায়াময় হয়ে ওঠে। আমি অনেকদিন পরে এই রাস্তায় ফিরছি। ঐ যে ওখানে একটা বিষণ্ণ আতাগাছ দেখছেন, ওটার পাশের গলিটা দিয়ে পঞ্চাশ গজ মত গেলেই আমার বাড়ী। কিংবা বলতে পারেন আমার বাড়ী ছিলো। এখন কেউ আছে কি না, সেটা জানা নেই।
একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছিনা, আমি আসলেই ফিরে এসেছি। যদিও চেনা রাস্তাটা আর আগের মতো চেনা নেই। কালাম মামার চা সিগারেটের দোকানটা যেখানে ছিলো, সেখানে একটা কিম্ভুত আকৃতির হাইরাইজ দেখছি। কে জানে, কালাম মামাই এটার মালিক কি না।
আমার নবজাতিকা মেয়েও তার নাম সমাচার...
গত ২৫ জুলাই তারিখ আমার ২য় কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে। আজ ১ মাস পূর্ণ হলো তার। কিন্তু এখনো এই বাবুটির জন্য আমরা কোনো নাম ঠিক করিনি। কারণ আমি এখনো এই মেয়েটির জন্য কোনো নামই খুজে পাচ্ছিনা; তাই আপনাদের শরনাপন্ন হলাম।
আমি আরবী নাম চাচ্ছি। আসলে আমি না বলে বলা উচিৎ আমার অভিভাবক-কুল (মানে ছোট্ট খুকীর নানু-দাদু) তা চাচ্ছেন এবং এই বিষয়ে আমাকে তারা সতর্কও করে দিয়েছেন।
আমার প্রথমা কন্যার নামঃ জাওয়াতা আফনান (অর্থঃ বেহেশতের দুটি উদ্যানের অধিশ্বর। সুরা আল রহমান-এর আয়াত হতে নেয়া)।
আশা করি আপনাদের সহযোগীতা পাবো।
ও; ভালো কথা, বাবুটার কিছু ছবি লোড করে দিলামঃ