শেখার মজা!
ছোট্টবেলাতে সহজ উপায়ে পড়া মুখস্ত করার কতো যে বুদ্ধি বের করা হতো। সব টিচারই ধরে কেবল ঠোটস্থ করাতেন না পড়া, কেউ কেউ ছিলেন বুঝাতেন, আর যেন সহজে পড়া মনে ধরে তাই কিছু মজার মজার পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। কিন্তু সাধারনত প্রাইভেট টিউটর কিবা কোচিং-এর স্যাররাই এমনটা করতেন। স্কুলে থাকতে একেকবার একেকজনা এইসব রকমারি পদ্ধতি হাজির করে বাহবা কুড়াতাম। সরল অঙ্ক, ইতিহাস, গনিত সব বিষয়েরই কিছু না কিছু এমনি সহজ উপায় ছিলো। “বাবার হইলো আবার জ্বর, সারিলো ঔষধে!” লাইনটা থেকে একবারেই ইতিহাসের সম্রাটদের নাম ক্রমানুসারে মনে রাখতে পারতাম। বাবর> হুমায়ূন>আকবর> জাহাঙ্গীর> শাজাহান>ঔরংজেব। পুরো মুঘল সাম্রাজ্যের হোতারা পরপর একলাইনে হাজির!
ছায়াবাজির পুতুল (২)
পরীক্ষা চলাকালীন সময় ভাবসিলাম পরীক্ষাটা শেষ হলে ব্লগে নিয়মিত হবো। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দেখতিসি অবস্থা উল্টা। তখন যা হোক কমেন্ট না করতে পারি ব্লগে রোজ ঘুরে যাইতাম। এখন আরো সময় পাই না। পুরাই ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলা দশা। কি করে দিন যাচ্ছে তারও কোনো ঠিক নাই।
মৌসুম আপুকে বলছিলাম আমি এখন ফ্রি, কোনো কাজ নাই। যেকোনো দিন ডাকলেই আসতে পারি। কিন্তু সেদিন সবাই আড্ডাইলো আমি আবারো মিস। কিছুই করার ছিল না। আম্মার ডাক্তারের এ্যপয়েন্টমেন্ট ছিল। ডাক্তার দেখানোটা যে কি ঝামেলার কাজ! ডাক্তার বসবেন সন্ধ্যায়, টেস্ট হবে সকালে। কিছু টেস্ট হবে খালি পেটে তো কিছু ভরা পেটে। তার উপর আবার ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে হয় অন্তত তিনমাস আগে।
তিনমাস পরে আমার কোনো শারিরীক সমস্যা হবে কিনা তা তিনমাস আগে কেমনে জানা যাবে জানি না। নাকি ডাক্তারের কাছে নাম লেখানোর আগে জ্যোতিষীর কাছ থেকে জেনে নিতে হবে! যাই হোক এটাই এখন নিয়ম।
শোকসভা
সেই মুহূর্তে আমি গিয়েছিলাম আমার শোক সভায়। প্রহরী আর শিকারি এই দুয়ের পার্থক্য বুঝিয়েছিলো আমন্ত্রিতরা। কিছুক্ষণ আগেই নাকি ওরা আমার মৃতদেহে শ্রদ্ধাভরে দিয়ে এসেছে সান্তনার ফুল। সভায় ওরা সবাই আমাকে বোঝালো দেশ, অপেক্ষার পাঁচদিন, সন্ধ্যা, দুই গজ জমিন ইত্যাদি। কে নাকি ব্লেডের এমাথা ও মাথায় রক্ত দেখে বলেছিলো-আহারে, এটা ওর শেষ চিহ্ন। রেখে দিতে হবে উপমা করে কবিতায়। শোকসভায় চলছিলো কাঠঠোকরার আবাদ। অবশেষে খুব পরিচিত এক চিত্রশিল্পী যখন আমার লাশের ছবি এঁকে দেখালেন-আশ্চর্য সেই মুহূর্তে আমার আর কারো কথাই মনে পড়লো না! না স্বজনের, না প্রেমিকার....
(c)MNI, 03.01.12}
বর্ণমালা
‘হাই, গ্র্যান্ড পা । হাউ আর ইউ’( বলে আজাদ সাহেবের একমাত্র নাতী ভেতরে চলে গেল )
আজাদ সাহেব স্থির হয়ে বসে রইলেন আরামদায়ক সোফায়। সময় কত দ্রুত গড়িয়ে যায়। এক সময় তিনি ও যুবক ছিলেন । সেই উম্মাতাল দিনে তিনি ও মুক্তির মিছিলে ছিলেন । যদিও আজ কেউ তাকে চিনে না । কেউ তার খবর রাখে না । নাতির রুম থেকে হিন্দি গানের সুর শুনা যাচ্ছে উচ্চ স্বরে ।“মুন্নি বদনাম…।“
পরিবারের সকলকে তিনি অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছেন । সেই স্বাধীনতার সুযোগে ছেলে , নাতি আজ যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে দেশের রাজনীতি বিদদের মত ।একসময় পাকিস্তানের হায়নাদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি , বাঙ্গালী জাতি কে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন তিনি এবং সকল যুদ্ধারা । সেই স্বাধীনতার মানে যদি এমন হত তাহলে কি দেশ স্বাধীন হত ? প্রশ্নটা মাঝে মাঝে মনের গভীরে খোঁচা দেয় আজাদ সাহেবের ।
ঝলমলিয়ায় সনাতন মেলায় - ১
জানা ছিলনা অথবা জেনে থাকলেও ভুলে গেছিলাম সনাতন মেলা জিনিসটা কী। বাগেরহাটের রামপালের ঝলমলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠান এইটুকুন মাথায় রেখেই আমি আর বিমা এক দলের সাথে জুড়ে গেছি। আসলে একদিন হে-লালদাকে বলি সারাদিন আপনার স্যুটিংয়ে থাকতে চাই আপনার একশনের ছবি তোলার জন্য। হেলালদা বলে তাইলে ঝলমলিয়া চলেননা সেইখানে সনাতন মেলা নিয়া একটা ডকুমেন্টারি বানাইতেছি। আমি সাথে সাথে রাজি এবং বিমাও। কাউয়া বাপকে পাহারা দেয়ার জন্য যেতে পারেনা ইচ্ছা থাকা সত্বেও।
ধারণা করছিলাম লালদার সাথে চার পাঁচ জন যাবে। বাসে দেখি ৪৫ জনের দল। ঢোল, টোল ইত্যদি নানা বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বাস চলার শুরু থেকে গান। গান গাওয়া প্রায় বিরামহীন ভাবে গন্তব্যে পৌছানো পর্য্যন্ত চলল। সবথেকে জমেছিল রাতে ফেরিতে পদ্মা পার হওয়ার সময় মাঝনদীতে উদাত্ত গলায় সবার নাচ গান। অন্য যাত্রিরা ভেবেছে বিয়ে বাড়ির দল।
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে
. . . . .
. . . . . .
. . . . . .
. . . . .
. . . . . . . . . . . .
. . . . . . . .
. . . .
. . . . . . .
. . . .
১. আছি জনসমুদ্রে ডুবে,
তবু কেউ নেই,
আমি একাকী চলেছি অথবা ভেঙেছি,
টুকরো করেছি,
ধুলোয় মিশিয়ে পথে নামিয়েছি
এই আমিকেই !
২. আমি চেনা অচেনার জটিল ধাঁধায়
ছেড়েছি আবার ধরেছি হাত,
আমি ঝড়ের তুমুল মেঘের কান্না
শুষে নিলাম এ দুই চোখে ।
আমি চিনেছি রাতি, চিনেছি সকাল,
চিনিনাই তবু একটাও হাত ।
আমি , আজো খুঁজি ফিরে শূণ্য হাতে
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে !!
জেন যেভাবে জেন হয়ে উঠে...
......................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
সামাজিক সংস্কার
মানস গঠন যেমনই হোক না কেনো, চুড়ান্ত বিবেচনায় শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হয়ে উঠবে কি না তা নির্ধারণ করে সামাজিক বাস্তবতা। উদারনৈতিক যৌক্তিক মানুষেরাও সামাজিক বাস্তবতায় প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠতে পারে
প্যারিচাঁদ মিত্রের ''আলালের ঘরের দুলাল'' আমার উপন্যাস মনে হয় নি, যদিও উপন্যাসের কোনো নির্ধারিত কাঠামো নেই, বিষয়বস্তু নেই, কিন্তু তারপরও " আলালের ঘরের দুলালকে ঠিক উপন্যাস বলা যাচ্ছে না, বরং এই ধারাবাহিক লেখাটিতে এক ধরণের সামাজিক সংকটকে চিহ্নিত করে সে বিষয়ে কিঞ্চিৎ শ্লেষ আছে।
উপন্যাস হিসেবে " আলালের ঘরের দুলাল" বিশ্লেষণ কিংবা ঔপন্যাসিক হিসেবে "প্যারিচাঁদ মিত্র''কে যাচাই করতে যাওয়ার মতো বোদ্ধা হয়ে উঠি নি, আমি বরং আমার অনুধাবনটুকুই বলি, ডি রোজারিও'র শিষ্যদের ভেতরে অনেকেই উত্তাল ত্রিশে( এ ক্ষেত্রে উনবিংশ শতাব্দীর তিন ও চার এর দশক) প্রচলিত সমাজকাঠামোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।
যন্ত্রের ভাষা পুরোদস্তুর আয়ত্তের পরেই
যন্ত্রের ভাষা রপ্ত করার পরেই ছিলো সস্নেহে প্রশ্ন
আন্তরিকতায়, কেমন আছো জানপাখি?
এই শীতে একটু উষ্ণতায় আরো নৈকট্যের ডেরায়
রক্ষাকবচের মত মানবীয় হয়ে উঠি!
যন্ত্রের ভাষা পুরোদস্তুর আয়ত্তের পরেই
কেবল মনুষ্যত্ব জাগ্রত দেখি
আমাদের প্রজননে ফুলফলে পরিপুষ্ট
শিশুবৃক্ষগুলোর পঠন-পাঠন দ্রুত হলেই সুখি
... যন্ত্র হতে হতে এখন অযান্ত্রিক তন্ত্রমন্ত্র ভালো বুঝি
এই যে দেখো সকল প্রহসনের ম্যারাথন থেকে
কিভাবে দৃপ্ত পদক্ষেপে তোমাকেই আলাদা দেখি
আবেগে, কম্পনে, প্রাণে, প্রমাণে নিখুঁত মানবী
বছরটা ভুলে যেতে পারলে ভালো হতো
২০১১ সালকে বিশ্বের অনেক দেশের অর্থমন্ত্রীরাই ভুলে যেতে চাইবেন। বিদায়ী বছরটি অর্থনীতির জন্য ভালো ছিল না। পুরোটা সময় কেটেছে মন্দার আশঙ্কার মধ্যে। বিশেষ করে, ইউরোপের জন্য বছরটি ছিল ভুলে যাওয়ার।
শেষ সময়ে এসে সামান্য হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর অর্থনীতিও কিছুটা ভালো। তবে পুরো বিশ্বকে টেনে তোলার মতো আশাবাদী হতে পারছেন না কেউই। মন্দা কাটছে, এ কথা বলা যাচ্ছে না।
সারা বিশ্বে মন্দা, তাই বাংলাদেশের অর্থনীতিও চাপের মুখে—এমনটি বলার অবকাশ অবশ্য আমাদের অর্থমন্ত্রীর নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাপ এসেছে ভেতর থেকে। বিশ্বমন্দা সেই চাপকে আরেকটু দীর্ঘায়িত করছে। বাংলাদেশের জন্য ২০১১ সাল মূলত নীতির দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার বছর।
অন্তর্জালিক যোগাযোগ
আবেগ নিয়ন্ত্রন করার অক্ষমতা কিংবা হঠাৎ সাময়িক উত্তেজনার বশে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মহত্যার সংবাদ শুনে বিষয়টা দু:খজনক কিংবা অগ্রহনযোগ্য এর বাইরে আদতে বলার কিছুই থাকে না অনেক সময়। আমাদের মানসিক অনুভুতিগুলো নিয়ন্ত্রনের কোনো কার্যকরী প্রশিক্ষণ আমরা পাই না, আমাদের অনুভুতিগুলো কাউকে না কাউকে জানাতে হয়, নিজের ভেতরের অনুভুতির দহন যখন দগ্ধ করে তখন বন্ধুর কাঁধে হাত-মাথা- রেখে তার কাছে উন্মুক্ত হয়ে নিজের দগ্ধাবশেষ রেখে আসতে হয়। দু:খজনক, লজ্জাস্কর, অপমানের কিংবা আনন্দের অনুভুতিগুলো নিজের ভেতরে জমিয়ে রাখা সব সময় সম্ভব হয় না।
বাঙ্গালীর জাতীয় প্রার্থণা
- ' আমাগো শেখ মজিব আইলে বেবাক ঠিক হ’য়া যাইব’ ! ফুটপাত ধরে হাঁটছিলাম, কচি কন্ঠের কথা ক’টি কানে এলো । দাঁড়ালাম । অপর্ণা চরণ গার্ল স্কুলের (নন্দন কানন) অপজিটে যেখানে এখন ইলেক্ট্রিক মার্কেটটি গড়ে উঠেছে, সেখানটা তখনো খালি । প্রকান্ড কড়াই গাছ ক’টি চার দিকে ডাল পালা মেলে দাঁড়িয়ে । ১ জানুয়ারী ’৭২ এর সকাল । হাড় কাঁপানো শীত । নব বর্ষের সোনা রোদ তখনো কোর্ট হিলের ওপারে আটকে আছে, এপাশে তার উষ্ণ সোনালী ছোঁয়া পৌঁছায়নি । ৮ / ১০ বছরের দু’টি বালক তখনো যাদের নাম পথকলি বা টোকাই হয়নি, কুড়িয়ে পাওয়া কাগজ, ঝড়া পাতা আর ছোট ছোট শুকনো ডালপালা দিয়ে আগুন জ্বেলে শীত তাড়াবার প্রাণান্ত চেষ্টা করছে । কাছে গেলাম । আগুনের দিকে হাত মেলে দিতে দিতে বল্লাম, ‘খুব শীত ! তাইনা’ ? ওরা এ ওর প্রতি তাকাল । তারপর আলতো মাথা দোলালো, যেন এ আপদ আবার কোত্থেকে !
দেখলাম ২০১২ নামলেন আমাদের শ্যামলীতে
শ্যামলী এলাকার যেই প্রান্তে থাকতেছি সেইখানে হৈ-হল্লা চলতেছে। মহল্লার ছেলেরা রাস্তায় মরিচ বাতিতে আগুন দিয়া ছোটাছুটি করতেছে, বেশ শবেবরাত-শবেবরাত আমেজ। তাদের সাথে এলাকার রিকসাওয়ালা-দিনমজুর শ্রেণীর সমবয়সী কিছু তরুণও হাততালি ফাইফরমাসে ব্যস্ত। অ্যালকোহলের শ্লথ ভাবটা টের পাওয়া যায় ছেলেদের দৌড়াদৌড়িতে। বেশ ট্রান্সকালচারাল ব্যাপার-স্যাপার। বারান্দায় দাঁড়াইয়া মানুষের ভেতরকার প্রাণের ছটা দেখি। দূরে অন্য কোনো উৎসবে বাজী ফুটলো বেশ কয়েকটা। পথের জমায়েত বাড়তেছে ধীরে ধীরে। যদিও কোনো নারীর উপস্থিতি নাই সেইখানে। তারা আছে জানালায় আর বারান্দার গ্রীলে। মানুষের উত্তেজনায় ঈর্ষান্বিত হইয়া ঘরে ঢুকি। ধারাবিবরণী লিখতে লিখতে খেয়াল হয় শব্দহীন হইছে চারপাশ। বুঝতে পারি সবার চোখ আর মনযোগ ঘড়ির কাঁটার সাথে টিক টিক। ডিজিটাল ঘড়িতে যেনো বোধি আছে। শব্দহীনতার শব্দ টের পাওয়া যায়।
এসব দেখি কবির হাট-বাজার
কখনো কখনো কবিতা লেখার চেষ্টা আমার বদঅভ্যাসগুলোর মধ্যে একটি। আবার কখনো বা গল্পও লিখতে চেষ্টা করি। তবে নিজেকে কখনো কবি বা গল্পকার হিসেবে দাবি করার মত কলিজা যে আমার নেই তা আমি অকপটেই সবসময় সবার কাছে স্বীকার করি। কখনো কখনো কেউ কেউ আমাকে বারবার প্ররোচিত করেছে, কেন একটা বই বের করছি না। তাদেরকে কিভাবে বলি আমি আসলে দুর্বল মনের মানুষ। ওটার কথা ভাবতে আমার সাহস হয় না। হাজার হাজার লেখকের মূল্যবান বইয়ের ফাঁকে আমার কায়া সাদৃশ্য একটি বই পাঠক বিনা অথর্ব অপেক্ষা করে রয়েছে যুগের পর যুগ। কিংবা কোন এক নিভৃত কোণে তা চমৎকার ব্যাবস্থা করেছে উই-ইঁদুরের অন্নসংস্থানের, এ কথা মনে হলেই আমার কলজে শুকিয়ে আসে। ল্যাংড়া, বোবা, কালা যাই হোক সমাজের সবার কাছে তা বোঝার মত হলেও সন্তানটি কিন্তু জন্মদাতার প্রিয়ই থাকে। তার সামাণ্য অবহেলা জন্মদাতার বুকের মধ্যে শেলের মত বিঁধে। এছাড়া প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন “মুদ্রণ যন্ত্র সহজ লভ্য হওয়
বর্ষশেষের হাবিজাবি
লেখকের গল্প আর পরিচালকের ছবি:
নৌকাডুবি সিনেমাটা দেখতে দেখতে মনে হল এই নৌকাডুবি টা আসলে রবীন্দ্রনাথের নৌকাডুবি না এটা ঋতুপর্নের নৌকাডুবি, রাবিন্দ্রিক আবহে রবীন্দ্রনাথের চরিত্রগুলো দিয়ে রবীন্দ্রনাথের গল্প দিয়েই ঋতুপর্ণ তার গল্প বলেছেন অন্য একটা ছবি একেছেন।। রবীন্দ্রনাথের কমলার মতন ঋতুপর্নের কমলা শুধু দ্বিধাহীন ভাবে স্বামি নামক টেমপ্লেট কে ভালোবাসতে পারলো না বরং যে রমেশ কে নলীনাক্ষ ভেবে ভালোবেসেছিলো আসল নলীনাক্ষকে পেয়েও রমেশের জন্য দূর্বলতা নিয়ে আসল নকলের দ্বিধায় আমার আরো বেশি আপন হল মনে হলো এমনি তো হওয়া উচিৎ। মন তো শুধু সাদা কালো নয় মনের হিসেবে বরং ধুসর জায়াগাটাই বেশি থাকে। তবে গল্পের রমেশের দ্বিধা, রমেশের মনে একবার হেমনলিনী একবার কমলার আসা যাওয়াটা ঋতুপর্ন মুছে দিলো বরং কমলার প্রতি সবটুকুনি আবেগহীন কর্তব্য কেন দেখাল বুঝলাম না (স্বজন থুক্কু স্বজাতিপ্রীতি নাকি?)।