দাঁতবিস্তৃত হাসি
আজকে আমার পাঁচবছরের হোষ্টেল জীবনের অন্যতম একটি দিন।আমি মোটামুটি সু এবং কু ভাবে পরিচিত হোষ্টেলে।সু ভাবে পরিচিত কারন যত আকাজ কুকাজ এর প্ল্যান আমার রুমে সম্পন্ন হয়,নয়তো যারা করে আসে তারা আমার বিপুল সমর্থন পায়।হোষ্টেল মনিটর হওয়ার কারনে পরিস্থিতি সামলানো কোন ব্যাপার হয় না।আর কু ভাবে পরিচিত আমার খামখেয়ালীপনার জন্যে,দিনের বেশিরভাগ সময় অনশন করে,মাঝে মাঝে ই সকলের আত্না উড়িয়ে হস্পিটালে ভর্তি হয়ে,রাতবিরাতে গভীর অন্ধকারে উপশহরের রাস্তায় হেঁটে বেড়িয়ে আর হোষ্টেলের দেয়ালে,জানালায়,মেঝেতে রঙের বন্যা ছড়ায়ে। যাই হোক,এতোকিছুর পরেও হোষ্টেলে টিকে আছি মানুষজনের ভালোবাসার জন্যে।সে রুমে কাজ করা খালাদের হোক,বন্ধুদের হোক আর ক্যান্টিনের কাজ করা ছোট ছোট বাচ্চাগুলার হোক।
আপনারা বৌদ্ধদের উপর হিন্দুদের উপর কেন অত্যাচার করছেন
রামুতে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক মানুষ বৌদ্ধদের উপর অত্যাচার করছে। অত্যাচারের বিবরণ বিস্তারিতভাবে খবরের কাগজে আসে নাই, কিন্তু তবু আমরা সকলেই কিছু কিছু জানতে পেরেছি। অত্যাচারের বা মারধরের বা ক্যাঙ্গ ধ্বংসের মাত্রা নিয়ে আলোচনা করতে চাইনা। মাত্রা যাই হোক, নির্যাতন নির্যাতনই। সকল নির্যাতনই অন্যায়, সকল অত্যাচারই অন্যায়, মানুষের উপর সকল হামলাই অন্যায়। আবার সে অত্যাচার যদি হয় কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে সংখ্যালঘুর উপর সংখ্যাগুরুর অত্যাচার, সেটা আরো বেশি অন্যায়।
এ লজ্জা রাখি কোথায়?
সকালে সংবাদটি দেখে একটু ভয়ই পেলাম। কেউ ফেসবুকে ভুয়া কোন আইডি দিয়ে বিতর্কিত কোন ছবিতে আমাকে ট্যাগ করবে... এবং সেটা নিয়ে একদল উন্মাদ লোক আমার উপর ঝাপিয়ে পরবে। এ কোন অসভ্য দেশের পথে আমরা হাঠছি। এই অসভ্যতা বর্বরতার জন্য কি দেশটা স্বাধীন করা হয়েছে?
ইদানিং মানুষ জনের ধর্মীয় অনুভূতিইবা এত ঠুনকো হয়ে গেল ক্যান... যা বাতাসে নড়বড় করে? অনুভূতি যদি এত ঠুনকোই হয় তাহলে এমন অনুভূতির থাকার প্রয়োজনীয়তা কি?

ছবি: বিডিনিউজ২৪ ডট কম
কবিতা:ব্যথার সাগরে জীবন চলিছে যে বয়ে।
সারারাত জেগে আছি; যেন রাতজাগা ব্যাথাতুর পাখি আমি;
জোনাকির আলো হয়ে; হয়তোবা প্রেম আলেয়ার হাতছানি;
হয়তো প্রিয়হারা; রাতজাগা পাখির তীক্ষ্ণ চিৎকার শুনি,
কত রাতে মোরে পরিবে মনে; তারাপানে থাকিবে চেয়ে তুমি।
প্রেমে ক্ষয়ে ক্ষয়ে; আজিকে তারাদের সব ব্যাথা মোর হৃদয়ে;
যারা রচেছে নক্ষত্রের ইতিহাস; সে হৃদয়ে দূঃখের বাস;
তোমার দুয়ারে হাত পেতে পাইনি সান্তনা; প্রেমের আশ্বাস।
রাতের অন্ধকারে ব্যথার সাগরে জীবন চলিছে যে বয়ে।
তাই হৃদয়ে চাইনা বাঁধিতে তোমার প্রেম অথবা হৃদয়,
আমি রাতজাগা পাখি; ব্যাথার আঁখি; ভোরের আলোয় বিদায়।
৩০-০৯-১২,ঢাকা।
ভালোবাসা প্রজাপতি হয়ে পৌঁছায় মেঘদের কাছে
সকালে যখন পড়ে পড়ে ঘুমুচ্ছিলাম তখনই মনে হচ্ছিলো, কাজটা ঠিক হচ্ছে না।
বেলা একটা বাজলো। মোবাইলের আলার্মটা বাজতে শুরু করে দিলো। আমি হাতড়ে হাতড়ে বালিশের নিচে সেটার উপস্থিতি আবিস্কার করলাম এবং যন্ত্রটার একপাশের লক-আনলকের সুইচ টিপে আলার্মটা বন্ধ করে দিলাম। ওই সুইচটা রিংটোন মিউট করার কাজেও একইভাবে ব্যবহার করা যায়।
কয়েক মূহুর্ত পর একটা চোখ খুললাম এবং ঘরের দেয়ালে ঝুলতে থাকা ঘড়িখানার দিকে খোলা চোখটা সরু করে তাক করলাম। নিশ্চিত হলাম ঘড়ির ছোট কাঁটাটা কি আসলেই বেলা একটার ঘরে ঢুকেছে কিনা। যখন নিশ্চিত হলাম যে; হ্যাঁ একটা বেজেছে, তখন আর আলসেমী করবো না বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। নিয়ে সিরিয়াসলি খোলা চোখটা বন্ধ করে ফেললাম। কি লাভ আলসেমী করে? তারচে' ঘুমাই।
ফেইসবুক স্টেটাসমালা ৩
১.
যে ঘুড়িটা উড়তে উড়তে দৃষ্টি সীমানার শেষপ্রান্তে থাকে,
তার নাম প্রত্যাশা...
দূরে গেলে সব রং পাল্টে যায়,
দূরবর্তী সব রেখারেই শুধু কালো মনে হয়।
অতএব, প্রত্যাশা নামের ঘুড়িটাও কালো বিন্দু হয়ে উড়ে,
সাদা কিম্বা কালো মেঘের বন্ধুত্ব খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত ঘুড়ি -
গোত্তা খেয়ে পড়ে আছে অজানায়...
২.
বর্ষার উন্মেষ কালে প্রতারিত কালো মেঘ
সাদা মেঘের নিকটে মেলে দিয়েছিলো তার
উদোম শরীর; তারপর উদ্যানে কতোদিন গেলো...
শরতের কাশফুল দুলে দুলে দুলে তাহারে জানালো
অসহায় রঙধনু অপেক্ষায় রয়েছে নিজের গুহায়
নিমেষ দেখাবে তার ঝলসানো রূপের খোলস, তারপর...
আবার লুকাবে এমন কোথাও, যার ঠিকানা কখনো
জানে নাই মানুষেরা কিম্বা বিপন্ন মেঘেরা।
৩.
হিমযূগ এলে ঢুকে যাবো নিজের গুহায়; অপেক্ষায় আছি...
সরীসৃপ হৃদয়ের উত্তাপ কখনো বোঝাতে পারিনি তাহাদের,
যারা মেঘ আর মননের সংশয়ে রয়েছে - সাদাকালো কলিকালে।
৪.
কিছুদূর হাটলাম তোমার সাথে, তারপর হঠাৎ কী যে হোলো...
যাদুময়তার পৃথিবীতে বিড়বিড় করে কেউ মন্ত্র জপলো
"হোকাস, ফোকাস! অ্যাবরাকাড্যাবরা!"
অদৃশ্য আমাকে দেখার সুযোগ পেলে না তুমিও...
৫.
কবিতা: সচরাচর যেমন হয়
কবিতার শুরুটা এভাবে
যেমন ধরো,
সে অনেক সুন্দরী
তাকে আমি কখনই পাব না
সে বাসবেনা ভাল
আমার মত একজনকে।
তোমরা প্রশ্ন কর;
তাকে কী জানিয়েছো
তোমার মনের কথা ?
সে কী জানে
তুমি তাকে ভালবাস ?
আমি বলি
নাহ, জানাইনি তাকে
কিন্তু হয়তো সে জানে,
আর কীই বা বলবো গিয়ে
সব প্রশ্নের উত্তর তো
আমার জানা,
বলো
যে প্রশ্নের উত্তর জানা
সে প্রশ্ন করা কেন ?
এতো ক্ষতের উপর ক্ষত করা
এ যেন আগুনের উপর
জলের পরিবর্তে
পেট্রোর ঢালা,
তোমরা বলো
প্রেমের বেদনার কোন সীমা নাই
না আছে কম বেশি চেতনা…..
যতো ঢালো এ বেদনা বেদনাই…
তা তোমাকে সমভাবে আহত করবে,
আর বলেই দেখো
হয়তো হতেয় পারে দেবীর কৃপা;
আর যদি সে নাই ভালোবাসে!
তাহলে প্রিয়ার আঘাতেই হোক
বেদনার উত্তরণ।
আমি ভাবি,
যেমন বিষে মারে বিষ
হয়তো তেমনি
বেদনাই হানিবে আঘাত বেদনারে;
আর নাই যদি টুটে বেদনা
আলিঙ্গন করুক এ জীবন
মৃত্যুর অসীম সৌন্দর্যকে ।
30-06-12
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - শেষ পর্ব
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ১
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ২
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ৩
ঠিক তখনই দরজা ঠেলে রেস্টুরেন্টে ঢুকে কাঙ্খিত মেয়েটি। অনুসূয়াকে সুরেশের বিপরীতে বসে থাকতে দেখে এক মূহুর্ত থেমে যায়। তারপর হেঁটে নিজের নিত্যদিনের আসনে বসে। রেস্টুরেন্টটাতে এই সময় কখনো তেমন ভীড় হয় না। বাঁধা-ধরা কিছু লোকই এখানে নিয়মিত আসে। খুব কম দিনই সুরেশ বা মেয়েটা তাদের নির্দিষ্ট আসনটা হারিয়েছে। বেলা একটার পর কিছুটা ব্যস্ত হয়ে উঠে এই রেস্টুরেন্ট। তারপর আড়াইটার পর আবার ঝিমিয়ে পড়ে।
মেয়েটার দিকে অর্ডার নিতে এগিয়ে আসার আগেই সে উঠে ধীরে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়। সুরেশের বুক থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
- দেখেছো, কষ্ট পেয়ে বেরিয়ে গেছে।
আমি
কারো কারো নাম খুব দামী
কারো কারো নামের নিচে প’ড়ে থাকে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ।-
স্বর্গ পাতাল। চাতাল পেতে হাওয়া খাওয়া দুপুর। হাজার পৃষ্ঠার
ভেতর বহু নাম কেটে দেয়া খুনি হাত।
কারো কারো নামে আছে তাপ। শুনলেই ঘুম ভেঙ্গে ওঠে ভুমিকাবাতাস।
গুপ্তপর্দা ছিড়ে উঁকি দেয়,খোঁজে গুহামুখ।
ওতেই সুখ। বিনয়ের চাকা ঘোরে অবিরাম।
নামের ভেতর রয়েছে তৃপ্ত করার ক্ষমতা,আরাম আরাম।
কারো কারো নাম খুব দামী
তবুও চামড়া,নেলপলিশ,কালোজিরার গুণ অক্ষত।
তিলের ভেতর তাল বা তিলের ভেতর তিল।-
দেখ,বিখ্যাত বা ধানক্ষেতেরও আছে ডানা।না না
ঝাঁপটার ভেতর ফেলে দেয় আরামের সফর।
কারো কারো নাম খুব দামী!
আশ্বাস পেয়ে তাই হাজির হয়েছি বেনামে। এই আমি!
ভাদ্র বেলার গানঃ এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর...
গত বছরের শেষ বাদর বেলা আর ভরা ভাদর এর নৈসর্গিক রূপ দেখে, অনৃভব করে সমকাল পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলাম আত্ননুভুতি। শরতের সরোদও এ বছর সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিভাগীয় সম্পাদকের আকস্মিক অনুরোধের কারণে এবং সময়ের অভাবে গত বছরের লেখা থেকে কিছুটা চুরি(?) করে এ বছরের শরতের সরোদ সাজাতে হয়েছিল। পাঠক ও ব্লগারা, নিজের লেখা থেকে চুরিকে চুরি বলবেন কিনা জানি না। গত বছরের শারদীয় অনুভূতি আবার এখানে প্রকাশ করলাম--
বৃষ্টি ভেজা দিঘি ।
অনেকক্ষণ ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে আজ । ভার্সিটির ক্লাসের তিনতলার জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে ছেলেটি । তার নাম রানা , যতদুর চোখ যায় বৃষ্টি ভেজা এক বিশাল অরণ্য । সবুজ গাছের সাথে লতাগুল্ম একে অন্যের সাথে জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে । উপর থেকে দেখে মনে হচ্ছে বৃষ্টি ভেজা এক কার্পেট বিছানো । রানা একটু অভাক হয়ে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে ।
রানা খুব সাদাসিদে একটা ছেলে।সে কলেজ শেষ করে এখন ভার্সিটিতে পরছে । মানুষের সাথে তার মেলা মেশা তেমন একটা বেশি নয় । আর মেয়েদের সাথেতো প্রায় নেই বললেও চলে ।।রানা দেখতে এমনিতে খারাপ নয় ।ওর চেহারাতে কেমন একটা সাম্য ভাব রয়েছে । দেখে যেকোন মেয়েরই ভাল লাগার কথা ।
ময়নামানব
আবাদি জমিন মেঘের জোয়ারে ভিজে,
আলপথ সিঁথি মিনিটে মিলিয়ে যায়, তামাটে মাটির বুক খরবেগে ভাঙ্গে,
মাছের দু’চোখে নাচে চিকচিকে আলো, ঢেউয়ে দোলায় জলডুবি খেলে সবুজ ফসল মুহুরি বহতানদী।
শাদা শাপলার স্নান জলডুবি খেলা ধূশর বাতাসে বাদল মোতির মালা-মেঘের নাওয়ে জানালাকার্নিশে,
ভিজতে ভিজতে বেঢপ কাকতাড়ুয়া খুঁজে মাঠ ফাটা রোদ।
লাল মরিচের ঠোঁট সবুজ টিয়েটা কোটরে গহনে লুকোয় উষ্ণতা যাঁচে; এক পা ডুবিয়ে এক পা উঠিয়ে
ধ্যানমগ্ন বক ঝিমুতে ঘুমুতে ভিজে।
সড়ক পুলিশ সতর্ক অপেক্ষা হুইশেল, তীব্রচিৎকার- পকেটে পুরোয় পঙ্কিল পুরীষ, ন্যাড়াকাটা পাহাড় শহুরে ফ্ল্যাট ভিজে- পিগমিপরানে পুড়ে ময়নামানব।
একটি ফটোওয়াকের গল্প
বছরের এই সময়টা কোন না কোন ভাবে কাশফুল দেখতে বের হওয়া হয়। শরতের এই ফুলকে খুব বেশী সময় ধরে পাওয়া যায়না যদিও। শেতশুভ্র সাদা সাদা ফুলে ছেয়ে যায় ধরনী... সাথে নীল আকাশ... মাঝে মাঝে সাদা মেঘগুলোর উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুড়ে বেড়ানো।
সুযলা সুফলা শষ্য শ্যামলার এই দেশ... দেশের প্রতিটা ঋতুরই আসা যাওয়া টের পাই... সময়ের গন্ধ ছড়িয়ে পরে বাতাসে... এখন যেমন সকালে ঘুম ভাংলে টের পাই শীত আসতেছে... শীতের আগমনী ঘ্রান চারিদিকে...
গত বছর ঠিক এমনি সময়ে ময়মনসিংহ একটা ঘুরন্তিস দিছিলাম। লিনা দিলরুবা আপার বাসায় (মানে দুলাভাইয়ের সেইখানে পোস্টিং)। রাজকীয় আয়োজন... আপ্যায়ন... চর্ব্য... চোষ্য... লেহ্য...
... সে এক বিরাট ইতিহাস
দেশ-দেশান্তর (সবজি কাহিনী)
বাংগালীদের সন্মন্ধে প্রচলিত আছে তারা ভোজন রসিক, তাই প্রথমেই বলি রসনা আর রসুই ঘরের কথা। সেই ৯৬ সালের শীতে মুশকিল হচ্ছিলো আমাদের প্রযন্মের, ছেলে মেয়েদের নয়। খাবার মানে তো শুধু ক্ষুধা নিবৃতি নয়, আজন্ম লালিত রসনারও পরিতৃপ্তি। দেশি খাবারের প্রতি লোভ হোত, দেশে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, যা এখনও দেশের গ্রামের বুড়ো বুড়িরা বিলাতি বা চুঁয়া বাইগুন বলে, সীম নুতন আলু এই সব শীত কালিন তরকারি গুলিকে মোটামুটি কুলিন হিসেবেই বিবেচনা করা হোত, আসলে লাউ, কুমড়ো, উচ্ছে, ঝিঙ্গে, পটোল, কত রকমের বেগুন, কচু, লতি, বরবটি, কাকরোল, ঢেরস, সজনে, মুলো, লালশাক, আহা লালশাক!! কত রকমের শাক!!! গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে এই সব রকমারি বারোয়ারি তরকারির অভাব বিদেশে এসে যেন তীব্র ভাবে অনুভব করতে লাগলাম।
ভালোবাসা আমাকে বাসেনি ভালো
টিকেট কাটার পর থেকেই আমি আতংকে ছিলাম ট্রেনে না জানি কে বসে আমার পাশের সিটটাতে।মনে মনে চাচ্ছিলাম কোনো না কোনো ভাবে যেন একজন মেয়ে বসে।আজ সকালে,(সকাল না বলে ভোর বলা উচিত)এই কুয়াশার চাদরের ভেতর দিয়ে যখন আমি বটতলী রেল স্টেশনে এসে পৌঁছালাম তখনও মনে মনে একই দোয়া করছিলাম।কিন্তু না,আমার দোয়া যে কোনো কাজের না তা প্রমাণ করার জন্যই দেখি আমার পাশের সিটে বসে আছে উড়নচন্ডী,উসকু-খুসকু টাইপের একটা ছেলে।মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল।কিন্তু মেজাজ দেখানোর তো আর উপায় নেই।তাই বিরক্তি চেপে হতাশ নয়নে জানালার কাঁচ দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকি।
দিনের আলো ফোটার সাথে সাথেই কুয়াশা কেটে যাচ্ছে একটু একটু করে।আমি ভাবছি,কেন যাচ্ছি আমি ঢাকায়?কোনো কিছুতেই মন বসে না।যে ভালোবাসার জন্য আমি সব ছেড়ে দিতে চেয়েছি সে ভালোবাসাই কিনা কত সহজে ছেড়ে দিল আমাকে।মুক্তির স্বাদ যে এত বিস্বাদ হতে পারে এ ঘটনার মুখোমুখি না হলে হয়তো কোনোদিনই জানা হতো না আমার।ভাবনার ছেদ পড়ে পাশে বসা পাবলিকের উপরের লাগেজ স্ট্যান্ড থেকে ব্যাগ নামাতে গিয়ে ফেলে দেয়ার শব্দে।আমার বিরক্তি ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,সরি।