আত্মীয়
মানুষ যে কতটা আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে পারে তা এ মুহুর্তে মোসাদ্দেক আলীকে না দেখলে বিশ্বাস হতো না সেতুর।তিনি এত আগ্রহ নিয়ে কথা বলছেন যে তিনি খেয়ালই করছেন না তিনি যাকে কথা গুলো বলছেন সে আদৌ শুনছে কিনা। সেতু মোসাদ্দেক আলীর কথা শুনছে খুবই দায়সারা ভাবে।ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যদি এখানে মোসাদ্দেক আলী কথা না বলে ,রান্নাঘরে একটা কাপ ভাংগার শব্দ হলে সে শব্দ যেমন সেতুর কর্ণকুহরে প্রবেশ করত,ঠিক তেমনি মোসাদ্দেক আলীর বকর বকরও তার কানে যাচ্ছে বিচ্ছিন্নভাবে।সে মাঝে মাঝে হা হু শব্দ করছে এবং বরাবরের মতো এবারও খুব বিরক্ত হচ্ছে।কিন্তু সে মুখটা খুব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।তারপরও তার মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে তার মুখ ফসকে কোনো উল্টাপাল্টা কথা বেরিয়ে যাবে।আর সেজন্যই সে তার শ্বশুরের সামনে বসে থাকতে চাচ্ছে না।কিন্তু মানুষটা এমন আগ্রহ করে কথা বলছে যে তার মুখের উপর উঠে যেতে খুব অস্বস্তি হচ্ছে সেতুর।
মানুষ যখন আগ্রহ নিয়ে কিছু করে তখন সে মানুষটার জন্য একধরনের মায়া হয়।কখনো কখনো সে মায়া তীব্র ভালোবাসায় পরিনত হয়।যেমন-কেউ যদি খুব আগ্রহ নিয়ে কথা বলে,আগ্রহ নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে,শুনতে কিংবা দেখতে খুব ভালো লাগে।
দেশের জন্যে ভালোবাসা-২
অনেককিছু বলার ছিলো,কিন্তু আমি বলতে পারতেছি না,আমি বাকরুদ্ধ।গত কয়েকদিন থেকেই আমার কথা বলা বন্ধ।না,আমি বাকস্বাধীনতা চাই না,কারন তা আমার আছে।কিন্তু আমার বলার মুখ নাই,মান নাই,স্মমান নাই,আমি ৫২ নিয়ে গর্ব করি পাকিস্তানের প্রশংসা করে,আমি ৭১ নিয়ে মাথা উঁচু করে যুদ্ধাপরাধীদের হাস্যজ্জল চেহারা দেখি,তাদের কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি দেখি দেশটার অধঃপতন হিসেবে।আমার বাবা মা আমাকে এদেশ থেকে বের করে দিতে চায়।
ধারাবাহিক রম্য নাটিকা --'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার'
(পরের দিন)
স্টপ্, স্টপ্, স্টপ্
সবাই কর চুপ
আমি হচ্ছি হাতি
সবার দেহের চাইতে বড়
তাইতো বিচার পতি।
সবার বিচার করব আমি
হোক না কেহ আমার নাতি।
বটবৃক্ষ হার মেনে বলে
সে নাকি আমার ছাতি
তাহলে নির্বোধ পশুগণ
নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ
আমি কত বড় হাতি।
প্রথমে আমি সেনাপতিকে বলছি,
সেনাপতি, তোমার কি আরজি?
সেনাপতি বলে, পর্বতসম জাঁহাপনা
আপনি জানেন, ছোট বড় সবাই
আমার কাছে একেবারে সমান
তাই এমন কাজ করি আমি
যাতে বিচার পায় সবাই সমপরিমাণ
তাই, আপনার অনুমতি পেলে
শুরু করছি বিচার-
হাতি বলে, হ্যাঁ পেশ কর
তোমার মনের আচার-অনাচার ।
সেনাপতি বলে, ইঁদুর ভাই
তোমার কথা পেশ কর ভাই।
ইঁদুর বলে মহাগুরু
আপনি জানেন, আমি অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র
মনুষ্য জীবের উচ্ছিষ্ট খাবার
গ্রহণ করা বড়ই দুরুহ
তাই মনুষ্য জীবের খাবার
মাঝে মাঝে করি চুরি
তবে তেমন কিছু নয়
শুধু খই, চিড়া আর মুড়ী।
কিন্ত এই বিড়াল গোয়ার
বড় হিংসুটে পাজী,
আমাকে সে দেখলে
হয়ে যায় কাজী।
টেঁনে ছিঁড়ে নাড়ি-ভূড়ি
করে সে বাড়াবাড়ি
আমাদের ছানারা
কেঁদে মরে কান্নায়,
বিড়াল গোয়ার ওদেরও মারে
আমরা যে বড় অসহায়!
হাতি বলে, কি!
এত বড় অন্যায়!
রামু সহিংসতা : সাম্প্রদায়িক না রাজনৈতিক
সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু এবং চট্টগ্রামের পটিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সঙ্ঘটিত নাশকতার ঘটনা দেশ জুড়ে দুঃখ ও শঙ্কা ছড়িয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন এটা ‘পরিকল্পিত’। হতে পারে। প্রশ্ন হলো কার পরিকল্পনা, কী পরিকল্পনা? সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। বলেছেন, এ তাণ্ডবের লক্ষ্য যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করা। শুনে আমরা হতভম্ব এবং কেউ কেউ বিনোদিত হয়েছি। মনে হচ্ছে ঘটনা পরিকল্পিত হোক আর না-হোক, মন্ত্রীর এই ‘বাণী’ যে পরিকল্পিত, তাতে সন্দেহ নেই। কেননা এটা মেনে নিলে ধরে নিতে হবে, যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের মূল উদ্যোক্তা ফেইসবুকে আপত্তিকর ছবি আপলোডকারী ওই বৌদ্ধ যুবক উত্তম বড়ুয়া। সে কেন যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করতে চাইবে? তাহলে ধরা যাক সে নয়, চেয়েছে অন্য কেউ। কোনো বিরোধী দল? না। কারণ ফেইসবুকে বাজে ছবি দিয়ে আদালতের বিচার বানচাল করা যায়, এমন ছেলেমানুষি ধারণা কোনো রাজনীতিক পোষণ করবেন বলে মনে হয় না। কে তাহলে এ সাম্প্রদায়িক আক্রমণের পরিকল্পক?
ধারাবাহিক রম্য নাটিকা 'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার'
পড়ুন, ভাবুন--এ দেশের বিচার ব্যবস্থা ছোটদের ধারাবাহিক রম্য নাটিকা 'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার' এর মত কিনা। নাটকের আবেদন দিন দিন বাড়ছে। এ দেশে এখনো অপরাধ ধরা পড়ে না, পড়লেও বিচার হয় না।
স্টপ্, স্টপ্, স্টপ্
সবাই কর চুপ,
আমি হচ্ছি হাতি
সবার দেহের চাইতে বড়
তাইতো বিচার পতি।
সবার বিচার করব আমি
হোক না কেহ আমার নাতি।
বটবৃক্ষ হার মেনে বলে
সে নাকি আমার ছাতি ।
তাহলে নির্বোধ পশুগণ
নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ
আমি কত বড় হাতি!
প্রথমে আমি গরুকে বলছি,
গরু, তোমার কি অভিরুচি
হুজুর, আপনি নিজেই জানেন
আমি কত উপকারী
করি নাকো কারো ধারধারী ।
অথচ বাঘ কেন আমাকে খায়
আমি যে বড় অসহায়!
বাঘ বলে, হুজুর, আমি খেতে চাই হরিণ
বান্দর বড় মলিন
আগে থেকেই বলে দেয়,
বাঘ আসছে হরিণ ভাই
বাঘ আসছে হরিণ ভাই।
হরিণ বলে, হুজুরগো
এই বাঘকে আমার সবচেয়ে বড় ভয়,
ওর জ্বালা নাহি সয় ।
ছাগল, ভেড়া, ঘোরা বলে, হুজুর
ও শুধু আমাদের সবাইকে খায়।
হাতি বলে, না, না, না-
এটাতো বেশী ভাল নয়
কিহে পেটুক বাঘ,
মাথা নিচু করে আছ কেন ভাই!
বুকে ঠ্যাং দিয়ে বল-
এতগুলো কথার মধ্যে
একটুও মিথ্যা নাই।
বাঘ বলে, জেঁ হুজুর
আমার দাদী
৯০উর্দ্ধো দাদী আমার তিন দিনের জ্বরে হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বসেছেন।
কাউকে চিনতে পারছেন না ,কারো কোনো কথার জবাব দিচ্ছেন না।শুধু ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।দাদীর ছোটো ছেলে আমার বাবা।বাবা ভীষণ মা ন্যাওটা।বাবার বয়সই এখন ৬০ছূঁই ছূঁই।
দাদী ছিলেন লক্ষীপুরে আমাদের গ্রামের বাড়ীতে আমার জেঠার কাছে।খবর পেয়ে বাবা নিজের অসুস্থতাকে বৃদ্ধাংগুল দেখিয়ে সাত সকালে শাহী গাড়িতে করে দিলেন লক্ষীপুরে ছুট।গিয়ে তো মায়ের অবস্থা দেখে বিমর্ষ।নিজের প্রেশারই হাই হয়ে গেছে।যখনই ফোন দিই কী অবস্থা।বাবার গলাটা জড়িয়ে আসে।আমি বলি বু’র (দা্দীকে আমরা বু ডাকি) তো বয়স কম হয় নাই,সেজন্যই হয়তো শরীরটা বেশি অসুস্থ।দেখবেন ,বু কয়েকদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবে।
বাবা আমাকে বলে আমার মায়ের বয়স হয়েছে আমিও জানি।কিন্তু আমার তো মা।তাই মন বোঝে না।অস্থির লাগে।নিজের চোখের সামনে নিজের মাকে এমন দেখলে কোনো সন্তানই সুস্থ থাকতে পারে না।
বাবার মন খারাপের সিকি ভাগও হয়তো আমি বুঝি না।কিন্তু আমি অনুভব করার চেষ্টা করি।
ফণি-মনসা
পুড়ছে উপাসনালয়, পুড়ছে মন্দির। দাউ দাউ আগুন জ্বলছে মঠে মঠে । মধ্য রাতে মন্দির, উপাসনালয়গুলিতে অবস্থিত মানুষগুলি অসহায় চিৎকার ক্রন্দন আর ছূটোছুটি। কদিন ধরে শুধু তাই দেখছি। কি অসভ্য বর্বর আমরা? জাতী হিসাবে কোন সমিকরণেই ফেলা যায় না আমাদের। এই মানুষগুলি কি বোঝে না শুধু উপাসনালয় পুড়ছে না সেই সাথে পুড়ছে শত শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য। এই ইতিহাসই আমাদের অতীত কে খুঁজে এনে দেয়। আমাদের পরিচয় দেয়।
ধর্ম কী? আগে মানুষ নাকি আগে ধর্ম। মানুষ না থাকলে তো ধর্ম পালন করার কেউ থাকবে না। আগে মানুষ। ধর্মটা মানুষেরই সৃষ্টি। তার আনন্দ বেদনার সাথী, তার আশ্রয়। সে তার সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করে, এক এক নামে এক এক ভাবে। সবার আগে তাদের পরিচয় তারা মানুষ। আমার চেয়ে আপনারা অনেক অনেক জানেন। তা কয়েকদিন ধরেই ব্লগ ফেসবুক খবরের কাগজ পড়েই জানা যাচ্ছে।
আবোল তাবোল - ১৩
#
অনেক দিন হইছে আবোল তাবোল কিছু লেখি না, লেখা হয়ে উঠে না।
চিন্তা করে দেখলাম আমার এই সিরিজটার একটা প্যাটার্ন দাড় হয়ে গেছে। কিছু হাবিজাবি কথাবার্তা, একটা দুইটা গান আর মুভির কথা। একসাথে দেই ঘুটা, ব্যাস!
এইবারও অবশ্য তার বাইরে যাব না। সাথে এক্সট্রা একটু ঘুরাঘুরি ফ্রি!
#
গত শুক্রবারে এবি'র ফটুওয়াক হইল, সবাই মিলে মজা করে ঘুরে ঘুরে কাশফুলের ছবি তুলে নিয়ে আসছে। জেবিন আপু বলছিল যাইতে, আগেই অন্য প্ল্যান করা ছিল বলে যেতে পারিনাই। পড়ে ফটোওয়াক নিয়ে তানবিরা আপুর ব্লগ পড়ে আফসোস কম হয়নাই। অবশ্য, মজাটাও একটু একটু ফিল করতে পারছি!
নেক্সট টাইম এমন কিছু হলে, মিস করব না। ইন শা আল্লাহ।
#
অনেক দিন ধরেই ভাবতেছিলাম এবি'র কিছু প্রিয় মানুষ কে এফবি তেও এড করে নিব, সাহস পাচ্ছিলাম। এই কয়েকদিন আগে হঠাৎ এড দিয়া দিছি বেশ কয়েকজন কে, একসেপ্ট ও করছে।
এখন মজা বুঝবো!
কয়েকদিন একটু ফাঁকিবাজি করলেই শুরু করুম ঘ্যান ঘ্যান, লেখা দেন লেখা দেন!!
হিঃ হিঃ 
‘আব্বা এই যে আমি!!!
সংসারের বড় মেয়ে বড়াপার ছোট ভাই বোনের জন্য আদরের প্রকাশ ছিল এত বেশি যে ছোটরা তার রাগের জন্য খুব একটা ভয় পেতোনা, এম্নিতেও বড়াপা যত গর্জাতো, তত বর্ষাতো না। মেজাপার রাগ ছিল চন্ডালের রাগ, বুঝিয়ে দেবার পর লেখা পড়ায় ভুল করলে মেরে হালুয়া বানিয়ে দিত, বিশেষ করে ক্লাস সিক্সে ওঠা মেজ এবং সেজ দুরন্ত দুই ভাই এর উপরে তার শাস্তির মাত্রাটা এত বেশি ছিলো যে ভাগ্যিস তখন মানব-অধিকার উকিলদের কথা কেউ শোনেইনি, তাদের হিসেবমত ছোট ভাইদের মেরে তক্তা বানানোর অপরাধে মেজাপার কয়েক বছর সশ্রম কারাদন্ড দেয়া যেত অনায়াসেই।
কবিতা: যুদ্ধ ধর্ম রক্ষায়
ধর্মের রোষানলে পড়া ধর্মের ধংসের স্তুপে খুঁজি ধর্মরে;
যে সহস্র বছর আগে ফারাও-ট্রয়-ব্যবিলন-বেদুইন
গড়েছিল মহান অন্তরলোক; মহান শাসন কেন সে বিলীন?
ক্রসেড, জিহাদ হীন অজুহাত; তবু সে মহান ধর্মের মন্দিরে।
শান্তির বাণী এনেছিল বুদ্ধ অনন্তের জয় আজিকে ক্ষয়,
যীশুর বুকের ‘পরে বারবার ক্রুশ বিদ্ধ করে; যুদ্ধ বানে
অনুসারী তার রক্তের দাগ মুছিবে কি করে; বাইবেল-কোরানে?
বৌদ্ধ শান্তি-খ্রীষ্ট মানবতা-ইমান-কৃষ্ণে যুদ্ধ ধর্ম রক্ষায়।
শান্তি চাই-শান্তি চাই; এ জন্যও চেয়েছে যুদ্ধ ধর্মের দল,
হউক সে যুদ্ধ শান্তির তরে; তবু সেকি নয় পাপীর ছল।
এইসব ক্লািন্তরা....
আমােদর বাসার পেঁপেঁ গােছ পেঁপেঁ ধরেছে। ইদানীং খুব অল্পতেই স্মৃিত আক্রান্ত হই। সারািদেনর অহেতুক হৈ চৈ, তথাকথিত কাস্টমার সার্ভিস মুখোশ আঁটা কলিগ এসব ক্লািন্ত িবষাদ বিষ সব সরিয়ে দেশের খবর বাসার খবর বিশ্বের খবর কিছুই আমার কাছে পৌঁছায় না।
হঠাৎ তেঁতুল পেঁপেঁ আহ্ মাখােনার কথা মনে পড়লো। তার পাশাপািশ দেখি পত্রিকায় বৌদ্ধ মন্দির পোড়ানোর খবর। আমার মাথা কাজ করে না। সেই নুনু কাটা মুসলমােনর দেশ, েসই গরু খাওয়া মুসলমােনর দেশ রয়েই গেলাম। আগুন দাও, জায়গা খালি েসই ভিটা আসুন দখল করি। তারপর কান্না করি, মানববন্ধন করি। অজুহাত আমার ধর্মে আঘাত, কি আঘাত! না কে জানি মুভি বানিয়েছে, কে জানি ছবি পোস্ট করেছে। আহা মরি মরি...আমার আইন রক্ষা করার বাহিনী ও তো সুসলমান...ওরা তাই দেখেছে রোম পুড়েছে নিরো বাঁশী বাজিয়েছে...মজা মজা...
মুসলমান বাঙ্গালী এরা ছাড়া আর কেউ দেশে থাকেব না বলে দিলেই তো হয়...সবাই দেশ খালি করে চলে যাক...আমরা ডুগডুগি বাজাই...মানববন্ধন করি...
কাশফুলের ফটোওয়াকে একদিন
আমাদের এবিবাসীদের হুজুগের অভাব নাই। যাকে বলে উঠল বাইতো কটক যাই। কয়দিন পিকনিকতো কয়দিন টাঙ্গুয়া, এরপর ব্লুমুন ট্যুর। বার মাসে চব্বিশ পার্বন। বর্ষা যেতেই শরৎ এর আগমন। আর শরৎ মানেই স্নিগ্ধ মেঘমুক্ত আকাশ, দুর্গাপূজার কাঁসা আর ঢাকের বাজনার সাথে বোনাস হলো শ্বেত শুভ্র কাশফুল। এবি ভর্তি ফটুরে সেটা আজ আর কে না জানে। দিনরাত তারা স্কেল কম্পাস দিয়ে ফোকাস মেপে মেপে ফিজিক্স পড়ে যাচ্ছে। বর্ষার ছবির উৎসব শেষ এখন শরতের পালা। তাই আঠাশে সেপ্টেম্বর, রোজ শুক্রবার বেলা তিনটায় এই ফটোওয়াকের আয়োজন, স্থান আফতাবনগর। যা হয়, ফটোগ্রাফার প্রচুর কিন্তু মডেলের অভাব। আর যে সে মডেল হলে হবে না, বেঁকা হয়ে, কাঁত হয়ে পোজ দিতে পারে এমনসব মডেল হতে হবে। কয়েকজন একাব্যাকা স্পেশালিষ্টকে অনেক তেল মেখে রাজী করানো হলো মডেলিং এর জন্যে। এর মাঝে আবার রিদওয়ান ঘোষনা দিয়ে দিল, ওর আন্ডার টুয়েন্টি মডেল লাগবে। টুয়েন্টি প্লাস মডেল আর কাশফুল নাকি ব্যাড কম্বিনেশন। মোটেই কেউ রাজি হয় না তার আবার টুয়েন্টি, হুহ।
Naadodigal
মন মেজাজ যে খুব একটা ভালো তা বলা যায় না। তবু দিন কেটে যাচ্ছে এইটাই ভরসা। অন্য অনেকের চেয়ে ভালো আছি তাই সান্তনা। সাতক্ষীরা, ভো্লা, রামু, হাটহাজারী পটিয়া এই বছর জুড়ে যত ঘটনা ঘটলো সব কিছু নিয়েই আমি খুব চিন্তিত। তবে চিন্তা করা ছেড়ে দিলাম। অতো ভেবে কাজ নাই। ভেবে আমরা বেশি হলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবো। আরও বেশী হলে প্রেসক্লাবে কড়া রোদে ফ্রুটো খেতে খেতে মানব বন্ধন করবো এতটুকুই আমার সাধ্য। আর লোকজন সব আমার মতই সিরিয়াস। কিন্তু এই সিরিয়াসে কিছুই করা যাবে না। যতক্ষণ ফেসবুকের সিরিয়াসনেস আমরা সমাজে প্রভাব না করতে পারবো ততদিন এই দেশে সিরিয়াস হয়ে কোনো কিছুই ছেড়া যাবে না। আর এমনিতে চিন্তা করে দেখেন এই দেশে হিন্দু মুসলমান চাকমা সাওতাল কেউই নিরাপদ না। প্রতিটা শ্বাস নেয়ার সাথে সাথেই মনে হয় বেচে তো আছি। কারন আজকে একটি ইংরেজী পত্রিকা দুটো জাতীয় বাংলা দৈনিক পড়ে হিসাব করে জানলাম মারা গেছে ১৭-১৮ জনের মতো। এর ভেতরে রোড এক্সিডেন্টে ৩-৪ জন। স্কুল টিচারকে ক্লাস রুম থেকে ডেকে নিয়ে খুন। এক জোড়া কানের দুলের জন্য বুড়ো মহিলা খুন। হাউজ ওয়াইফ খুন। আরও কত খুন যার হিসেব থাকে না। ধরি ১০০০ এর মতো খুন হন ৩০ দিনে। ১০ হাজারের
কাঁচুলি
দূর মসজিদ থেকে সুমুধুর কন্ঠে ভোরের আযান প্রকৃতিতে প্রবাহমান বাতাসের মত ছড়িয়ে পড়ল। কি সুমুধুর সে আযান--‘আস্সালাতো খাইরুন মিনান নাউম...।’ পদ্মার বুকে জেগে উঠা দোয়াল্লীর চরের প্রকৃতিতে কেমন জানি নিরবতা ভাঙ্গতে শুরু করল। দূর থেকে আযানের ধ্বনি ধীরে ধীরে এ গাঁয়ে এসে বাতাসের সাথে মিশে যায়। গ্রামটির নাম স্বর্ণগ্রাম। হ্যাঁ স্বর্ণগ্রাম। এ গাঁয়ে এক কালে সোনা ফলত। সোনার ফসলে মুখরিত হত এ গাঁয়ের সহজ সরল জীবন যাত্রার। মাটির মত মায়াশীল মায়েরা মেয়ের নাম তাই হয়তো রাখতো স্বর্ণলতা, সবুজী, সোনাবিবি ইত্যাদি। ফসলের নামে নাম রাখত ছেলেদের--শৈষশ্যা, ধনিয়া, নীলা ইত্যাদি। আজ আর সেই দিন নেই। আউশ ধানের চালের সাথে মিশে গেছে ইরি ধানের চাল । খাঁটি সরিষা আজ আর পাওয়া যায় না। মানুষেরা আজ ছন্নছাড়া, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত । দু’বেলা জোটে না দু’মুঠো ভাত। দরিদ্র চাষী হাড় ভাঙ্গা খাঁটুনী আর দেহের ঘাম দিয়ে সোনালী ফসল ফলায়। তবুও জীবনের বিড়ম্বনা।
কাব্য কহন-০১
দেখতে দেখতে গতকাল কাব্যর বয়স আট মাস পূর্ণ হলো
। সময় কিভাবে চলে যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। অফিসে ব্যস্ততা, বাসায় গেলেও ব্যস্ত আসলে যত দিন যাচ্ছে ব্যস্ততা হুহু করে বাড়ছে। আগে সময়-সুযোগ পেলেই ব্যাকপ্যাক নিয়ে বের হয়ে পড়তাম আর এখন ব্যাকপ্যাক সযত্নে তোলা থাকে
। সময়ের সাথে সাথে মনে হয় জীবনের ধারা এবং গতি পরিবর্তিত হয়। ইচ্ছা বদলায়, অভ্যাস বদলায়, চিন্তা-চেতনা-উপলব্ধির পরিবর্তন হয়। যাহ্ কি বকবক শুরু করলাম, কাব্যর কথা বলতে গিয়ে অন্য প্রসংগে চলে যাচ্ছিলাম। কাব্য এখন অনেক কিছু করতে পারে আবার অনেক িকছুই করতে পারে না
। সময়ের অভাবে কাব্যর পারা না পারার গল্প করতে পারছি না যা হোক কাব্যর গত ঈদ এ তোলা কিছু ছবি দিলাম 
কাব্য এবং পৃথা
অনুভূতির প্রকাশ, মা খেলতে দিবে না তাই বিরক্ত। 