জন্মতাড়িত
জন্মটা কি অনিবার্য ছিলো?
নাকি বাবা-মায়ের হঠাৎ আবেগরাঙ্গা
টুকটুকে বৃক্ষফল আমি!
জন্মটা যদি নিছক সত্যিই হবে
তবে পৃথিবীর আলো হাওয়া
চন্দ্রাক্রান্ত রমণী, ছোট্ট বাবুই পাখি
কেন লাগে তাপদাহ?
জন্মটা যদি এভাবেই হবে
তবে মানুষ রুপে কেন!
মানুষের বড্ড কষ্ট ক্লান্ত জীবন
মানুষ বড্ড একা।
বরং কাব্য তাড়িত শূণ্য ছাদে
তারের দোলনায় হলুদরঙ্গা কাপড় হলে,
তবুওতো জানতাম- ওই জল আগুনে
জীবন একবার ভেজে, একবার শুকায়।
{(c) MNI, 02.03.2012}
সাগর আর রুনি
সাগর আর রুনিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এ ঘটনা না ঘটলে কোনদিন তাদের নাম সেভাবে জানতাম কি না তাও জানি না। যদিও ফেসবুকে অন্যান্যদের স্ট্যাটাস আর কথোপকথন থেকে বেশ বুঝতে পারি, অনেকেই তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। আবছা আবছা ভাবে মনে পড়ে, হয়তো কোন টিভি কভারেজে কখনো মেহরুন রুনি শব্দটা শুনেছিলাম। তারা বিখ্যাত কিংবা সংবেদনশীল পেশার লোক হন বা না হন, সর্বোপরি তারা বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। দেশকে ভালবাসতেন, বিদেশের মোহ মায়া কাটিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন।
সোহেল ভাই ০১৫
ময়না ভাইয়ের দোকানে বসে চা সাটাচ্ছি হঠাৎ দেখলাম সোহেল ভাইকে, সোহেল ভাই খানিকটা মোটা হয়েছেন, সরকারী অফিসারসুলভ একটা ভারিক্কি ভাব এসেছে শরীরে, ডাক দিলাম
আররে সোহেল ভাই, কখন আসলেন?
এই তো আসলাম, তোমাদের কি খবর?
সোহেল ভাইয়ের সাথে দেখা হলো প্রায় তিন মাস পরে, এর ভেতরেই সোহেল ভাইয়ের সম্বোধন বদলে গেছে, আগে তো আমাদের তুই করেই বলতো, হঠাৎ আজকে তুমিতে উত্তোরণ ঘটলো কিভাবে?
চলতেছে সোহেল ভাই, টার্ম ফাইনাল শেষ, এখন অপেক্ষা করতেছি কবে কোথায় গতি হয়।
আর বোলো না, দেশের অবস্থা তেমন ভালো না। সরকারী চাকরি-বাকরির বাজারেও টান, দেখো কি হয়
নান্টু চিৎকার করে বললো
আরে সোহেল ভাই , আপনাকে ফোন দিবো ফোন দিবো ভাবতেছিলাম। কখন আসলেন এইখানে?
দরকার ছাড়া তো তুমি আমাকে খুঁজো না, কি দরকার হয়েছে বলো?
কি যে বলেন সোহেল ভাই, আপনি এই রকম কথা বললেন, দিলে দাগা খাইলাম।
সমুদ্দুরের জন্মদিনে
দুই বছর আগে মার্চের এক তারিখে ঢাকার মিষ্টির দোকানে কোন মিষ্টি নেই, আগেই একজন সব মিষ্টি বুকিং দিয়েছে। তবে কপালে ভাঁজ ফেলে অস্থির সময়ও কাটাচ্ছিলেন সেই তিনি। কারণ যার জন্য এত আয়োজন তার সব কিছু ঠিক থাকবে তো!
বই মেলা আর নেই
বই মেলা আর নেই। পত্রিকায় শেষ দিনের বই মেলা নিয়ে লেখালেখি হয়, সবাই মোটামুটি একই লাইনে লেখেন। শিরোনাম হয়, ভাঙলো মিলনমেলা। ভাবছিলাম, এবার একটু ভিন্ন ভাবে লেখা হোক। না হয় শিরোনামটা এরকমই দিলাম-বই মেলা আর নেই (ইন্না..........)।
বই মেলা যে আর নেই এইটা আমাকেই জানাইতে হইলো। এর জন্য দুইজনকে তীব্র ধিক্কার দিলাম। একজন মেসবাহ য়াজাদ আরেকজন রাসেল। রাসেল গতবার বই মেলা নিয়া অসাধারণ কিছু লেখা লিখেছিল। এবার আর পাইলাম না তেমন। আবার মেসবাহ ভাই কড়চা শুরু করলেও মাঝ পথে থাইমা গেল।
এইটা অবশ্য তার অভ্যাস। খুব খেয়াল কইরা। লুকটা বিয়া করলো, রোদ্দুর হইলো। কিন্তু এরপরই গেল থাইমা, তারপর দীর্ঘ বিরতি দিয়া সমুদ্দুর। সুতরাং বলাই যায় মাঝপথে থাইমা যাওয়া মেসবাহ ভাইয়ের পুরানা অভ্যাস।তারপরেও কড়চা না লেখার জন্য মেসবাহ ভাইরে ধিক্কার। মেসবাহ ভাই আমি কিন্তু রাগ করছি।
মনটা ভালো না!
মনটা ভালো না। এমন এক বিব্রত অবস্থার মধ্যে পরসিলাম। খুইলাই কই...। না থাক...। এই ঘটনা অন্য কোন দিন কমু। আজ অনেক বছর আগের এক ঘটনা কইতাসি। সেই দিন এমুন অবস্থার মধ্যে পরসিলাম!
বইবিয়োগ বইমেলা
জীবনে এই প্রথমবার বইমেলায় গিয়ে বইযোগ হলো না।
ঢাকা গিয়েছিলাম অন্য একটা কাজে। আজকাল ঢাকায় থাকা-খাওয়া-ঘোরা সবকিছুর উপর আমি চরম পরনির্ভরশীল, সবকিছু কতৃপক্ষের(মানে অফিসের) উপর ছেড়ে দেই। ছাত্রজীবনে যেরকম বেহুদা ঘুরে বেড়াতাম ঢাকার রাস্তা ঘাটে, এখন আর সেই ঢাকা নেই। সব রাস্তাঘাট দালানকোঠা অচেনা লাগে। বিশাল দানবীয় সব ব্যাপার। ঢাকার সবকিছু যেন একটু বড় বড়। এমনকি সাইনবোর্ডের সাইজগুলো। দেয়ালের চিকাগুলোও দেখতাম একসময় বিশাল বিশাল। গুলশান বনানী উত্তরা বারিধারার দিকে তো রীতিমতো গোলকধাঁধা। বাকী ঢাকার মধ্যে মতিঝিল কারওয়ান বাজার শাহবাগ টিএসসি এই অঞ্চলগুলো বাদ দিলে বাকী ঢাকায় আমি পথ হারানো বালক।
পাগলের দিনলিপি (আঠারো)
আজ রাতে নিজেকে নদীর মতো লাগে
জলে জলে জ্বলছি চলছি একই দিকে
দূরে কোথাও সমুদ্র আছে ভিন গাঁয়ে।
আঙুল ডুবিয়ে স্রোত আঁকি নিজ গায়ে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয়ে যায় আমাদের
ইতিউতি বহু বয়সী বৃক্ষের মতো ইতিহাস।
আমার শরীরে সব একই জল
ঘুরেফিরে আবদ্ধ জলেরাই খেলে
স্রোতধারা কিম্বা মৌনতায় আমৃত্যু চলেছে।
একই জলে আমার অবগাহন চলেছে আমৃত্যু...
সমুদ্রবিলাসে বাউন্ডুলে.. [কাব্য লগ!]
#
রাতের ট্রেন..
জানলার অন্ধকারে;
তারা হয়ে পথ দেখায়,
প্রিয় কোন স্বপ্ন..।
আড্ডামুখর পথচলার কথকতায়;
ভুল সুরে গাওয়া প্রিয় গানে,
মৃদু হাসিতে ছুঁয়ে যায় বিষাদ..
অস্বাদিত কোন উচ্ছ্বাসে,
বুকে বেঁজে উঠে অবাক আক্ষেপ..
আর গাওয়া হবে না-
‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি…’।
#
অপেক্ষার রাত শেষ হয়ে আসে..
চোখ খুলতেই,
নতুন দিনের আলো..
কল্পনার অনুভূতিতে;
মিছিমিছি-
দোলা দিয়ে যায়,
লোনা জল হাওয়া..।
গুনগুন গুঞ্জনে গুঞ্জরিত গান,
সাগর ডাকে..আয়..আয়..আয়..।
#
বিষণ্ণ দুপুর,
কিছু রোদ্দুর..
অলস হাওয়ায়;
ভেসে আসে ঘ্রাণ,
বহুদূরের সমুদ্দুর..
কালান্তক সময় আজ,
নির্বিষের বিষে নীল..
জলে তার ছায়া..
সমুদ্দুর ডুবে যায়,
আকাশনীলায়...।
#
চিরচেনা বিকেল হাওয়ার গান,
বদলে গেছে আজ..
তপ্ত ধুলির বাঁধ পেরুতেই;
অপার্থিব জলরাশি,
স্বপ্নছোঁয়া আবেশের সমুদ্দুর..
শুধুই চেয়ে থাকা,
পেরেশানীময় জীবন-যাপন
বহুত পেরেশানীর মধ্যে আছি। এতটাই পেরেশানী যে, এবার ঘুড়ি উৎসবেও যেতে পারছিনা। এটি আমাদের ছবির হাটের ৮ম ঘুড়ি উৎসব। প্রতিটি উৎসবের সাথে আমার সম্পৃক্ততা থাকে। সেটা এক্কেবারে এ.এম/ পি.এম। আরে মশাই, এ.এম/ পি.এম বুঝলেন না ? এ.এম মানে হচ্ছে- আপাদমস্তক। আর পি.এম মানে- পা থেকে মাথা। মানে ঘুড়ি উৎসবের সব পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সাথে আমি থাকি। এবারও ছিলাম। শেষের দিকে এসে পারিবারিক ঝামেলায় এতটাই আস্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে গেলাম যে, যেতেই পারছিনা আর।
এক সকালে..
-মুকু, এই মুকু..শুনে যা তো একটু..
বাসা থেকে বের হতে গিয়ে-ও দাড়িয়ে গেল মুকু, ভাইয়া ডাকছে ভেতরের ঘর থেকে।
ওর ভার্সিটি পড়ুয়া একমাত্র ভাই স্নিগ্ধ'র ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ভ্রু কুঁচকে গেল মুকুর। ঘর অগোছালো রাখা মুকুর একদম সহ্য হয়না।
সকাল দশটা বাজে, এখনও বিছানাই ছাড়া হয়নি!
- কীরে, এক কাপ চা করে দে না..
- কলেজ যাচ্ছি তো ভাইয়া, এখন তো একদম সময় নেই।
তাড়াহুড়া করে বের হয়ে এলো মুকু।
ফার্স্ট পিরিয়ডে আজ ওর প্রিয় রাবেয়া মিস্ এর বাংলা ক্লাস।
এত্ত সুন্দর করে কবিতা গুলা পড়েন মিস্, প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে করে!
বাসার গেইট টা খুলতেই - একটা লেজ ফোলা লাল সাদা বেড়াল হেটে যাচ্ছে, সাথে দু'টা পুচকি ছানা।
ইস্, কি সুন্দর দেখতে! সকাল সকাল এত্ত সুন্দর কিছু দেখলে কার না মন ভাল হয়ে যায়?!
কি ভেবে আবার বাসায় ঢুকল মুকু।
ধীরে সুস্থে এক কাপ চা বানিয়ে ঢুকল ভাইয়া'র ঘরে।
এক্টি অতীন্দ্রীয় প্রতুত্তরাধুনিক কাইব্য
বাসের থিকা পইড়া যাওয়া ডিমটা
ট্যাঁ ট্যাঁ কৈরা কাইন্দা দিলেই
হেল্পারের মুবাইলে ওয়াজের সুরে নাইচা ওঠে সিরিয়াস স্বাস্থ্যবান পুলিশের ভুড়ি।
গল্প: একটা সাধারণ ছেলের গল্প
১.
মধ্যরাত আজকাল এত দ্রুত পার হয়ে যায় যে, পুরো রাতটাকেই কিঞ্চিৎ একটা সময়ের গণ্ডির মতো লাগে আমার কাছে। মানুষ বাস করে একটা দ্বিধার ভেতর। ভালো-খারাপের দ্বন্দ। এর কোনোটাই গ্রহণের ক্ষমতা তার নেই। খারাপ ও ভালো কোনোটাই ধারণ করতে পারে না সে। তাই যখন মানুষের ভালো সময় যায়, তখন সে শঙ্কিত থাকে। আবার যখন খারাপ সময় চলে, তখন তার মনের একটা অংশ সান্তনাস্বরূপ এই ভেবে খুশি হয় যে, মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। মানুষ শুধু সবসময় চায় একটা ভিন্ন কোনোকিছু। কিন্তু সেই ভিন্ন কোনোকিছুটা কি, সেটা সে জানে না।
একটি প্রেমের কবিতা কষছি
একটি প্রেমের কবিতা কষছি মনে মনে
এমন হবে
যে ভালোবাসা - অন্ধ অথবা আলোকিত নয়
যে আবেগ - প্রকট কিংবা প্রচ্ছন্ন নয়
যে স্বপ্ন - ঘুমিয়ে নয় , জেগে জেগে ও নয়
যে বাস্তবতা - স্বপ্নহীন নয় , কুসুমাস্তীর্ণও নয় ।
আমি সেই প্রেমের কবিতা লিখতে যাচ্ছি
যে প্রেমে - দুই এক এ দুই নয় , এক হয় ।
যে প্রেমের সমীকরন তুমি ছাড়া সিদ্ধ নয়
যে প্রেমের স্বতস্ফূরণ তুমিহীনা সম্ভব নয়
যে প্রেমের অনুসঙ্গে তুমিই পুরো শব্দভান্ডার
সে প্রেমের কবিতা লেখা
আজ আর হলোনা আমার ।
আমি ঘরের হইনি বাহির আমায় টানে!
এমনিতেই কচ্ছপ গতির ইন্টারনেটে দিন চলে না তার ভিতরে জিপির মডেমও কানেক্ট হয় না। কি দিনকালে আছি আজ নিতান্তই কপালগুনে জিপি মডেম কানেক্ট হলো। তাই ভাবলাম পোষ্টটা লিখে ফেলি। কিন্তু জিপির নেট তাই ২০ মিনিটে পেজ লোড হলো। কি যে ধৈর্য নিয়ে থাকি তা পাবলিকরে কেমনে বুঝাই!