আমার জোহা চাচা
আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বেড়ে ওঠা মানুষ তাদের নিয়ে এই এক সমস্যা, নিজেরা যত ক্ষুদ্রই হই না কেন বড় মাপের মানুষদের নিয়মিত সান্নিধ্য পেয়ে, তাঁদের সাহচর্যে থেকে তাঁদেরও নামিয়ে আনি সাধারণ মানুষের স্তরে। তাঁরা হয়ে যান আমাদের পারিবারিক সদস্যের মতই। আমদের হাসান চাচা (প্রখ্যাত কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক) বা সনৎ কাকুর (বিশিষ্ট সাহিত্যিক সনৎ কুমার সাহা) চাইতে এই সত্য আর বেশি কেই বা জানেন?
আমি ভুলে যাই তুমি আমার নও
তোমার সঙ্গে নৌকায় চড়ে ঘুরতে ইচ্ছে করতেসে। আর ইচ্ছে করতেসে সর্ষে, মটরশুটি ও আলুক্ষেতের আইল ধরে ধরে হাঁটতে। তিনটা ফসল কি একই সময়ে ওঠে? জানি না। যদি না ওঠে তাহলে তো আমার ইচ্ছেটা অপূর্ণই থেকে যাবে আজীবন। তাও ই্চ্ছেটাকে ভালবাসি আমি। কারণ ইচ্ছেঘুড়ির পিঠে চড়ে যে তোমার একটু কাছ থেকে ঘুরে আসতে পারি কল্পনায়।
আমার একটা ছবির মতো সুন্দর গ্রাম আছে। সেখানে আছে শতফুটি একটা বড়ই গাছ। তাতে কষটা স্বাদের বড়ই ধরে। সেটা আমার দাদার কবরের পাশে জানো? ছোটবেলায় বাবা যখন তার বাবার কবর জিয়ারত করতেন, আমি তখন সেই বড়ই গাছের নিচে বড়ই কুড়াতাম। বড় হয়ে বাবার সঙ্গে আমিও দাঁড়িয়েছি কবর জিয়ারতে। আমাদের ওই বড়ই গাছ লাগোয়া কবরস্থানটায় বসন্তে কোকিলের ডাক শোনা যায় সারাদিন। এই বসন্তে একবার যদি তোমায় সেখানে নিয়ে যেতে পারতাম, আমার মনটা আনন্দে ভরে যেতো।
বই মেলা কড়চা- ১৭
এক ভদ্রলোকের সাথে আজ বিকেল তিনটার সময় আমার একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। ঢাকার বাইরে মানে উত্তরায়। উত্তরাকে আমরা ঢাকার বাইরে বলেই জ্ঞান করি। বিশেষ কিছু শ্রেণীর লোকজনই সাধারনত উত্তরা এলাকায় থাকেন। এর মধ্যে:
যাদের নিজেদের/বাবার বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে
যাদের কর্মস্থল বা ব্যবসা উত্তরা, টঙ্গী বা গুলশান এলাকায়
যারা তুলনামূলক কম ভাড়ায় বড় বাসায় থাকতে চান...
বিষণ্ণতায় ঘেরা কতিপয়...
১.
কুয়োর গভীর থেকে উঠে আসা প্রতিধ্বনি;
টেনে আনে কুয়াশা জমা মেঘলা দুপুর,
জোনাকীর বিচলিত ওড়াওড়ি...
২.
ভোকাট্টা ঘুড়ির ভালোবাসা ছড়িয়ে থাকে
নাটাই জড়ানো হলদে সুতোর দঙ্গলে...
৩.
বর্ণহীন।
তবুও অশ্রুজল খেলা করে,
রঙধনু নিয়ে
রক্তের স্তিমিত চলন শিরা ও ধমনী জুড়ে...
৪.
দারুচিনিগন্ধী বাতাস ছুঁয়েছে আমের মুকুল।
বসন্ত, অস্থির বসন্ত...
টগবগিয়ে ছুটে গেছে সময়ের ঘোড়াতে,
আষাঢ়ের রাজপ্রাসাদে।
৫.
ছায়া ফেলছে ছায়াশরীর ছায়াময় ছায়াপথে
অপসৃয়মাণ অবয়বে রুপালি ঝিলিক
মুছে ফেলার প্রচেষ্টা সর্বান্তকরণ...
৬.
আগুনের ফুলকিরা ছড়িয়ে যায় নয়দিকেই
ছাই আর কয়লা রয়ে যায় বর্তমানের আনাচে কানাচে।
৭.
স্বপ্নেরা সব স্বপ্ন জমায়
স্বপ্ন খাওয়া স্বপ্নজুড়ে
শুকনো পাতা মেলছে ডানা
শেষ বিকেলের আঁধার ঘিরে।
৮.
বিবিধ অনুভূতির ধারাপাতে ভরা মনের শ্লেট,
মুছে ফেলার চেষ্টায় এক জীবন পার হয়ে যায় অকারণেই...
৯.
বর্ষণের মেধা-মনন ও মুরগি কাহিনী
মেধা ও মনন
ছেলে আমার সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে। পড়াশোনায় ভালো, কি খারাপ তা বলার উপায় নেই। তবে কোনো বিরতি ছাড়াই প্রতিটি চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ওপরের ক্লাসে প্রমোটেড হয়েছে। তার সম্পর্কে বলার বিষয় হচ্ছে, ও যখন গেন্ডারিয়ার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে কেজিতে পড়ে, তখন সেন্ট গ্রেগরী স্কুলে এডমিশনের জন্য ওই স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শিক্ষক মহোদয় জানি না কি কারণে তাকে দেখে পরের বছর চেষ্টা করতে বললেন। অগত্যা কি করা, ছেলের মেধা যাচাইয়ে কোনো কোচিং বা স্পেশাল টিচিংয়ের ব্যবস্থা না করে ভর্তিযুদ্ধের জন্য ওর মা নিজেই শিক্ষকের দায়িত্ব নিলো। স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী ছেলের সাথে মা-বাবা দুজনকে ইন্টারভিউর জন্য নির্ধারিত তারিখে প্রধান শিক্ষকের (ব্রাদার রবি পিউরিফিকেশন) কাছে হাজির হতে হলো। ইন্টারভিউর পর ঘোষিত তারিখে ফরম সংগ্রহ করা হলো।
বই মেলা কড়চা- ১৬
সকাল থেকেই আকাশ কেমন জানি বিষন্ন। মুখ গোমরা করে রেখেছে। সকালে যথারীতি ৭ টায় উঠতে হল। এমন দিনে এত্ত সকালে উঠার চেয়ে কষ্টকর আর কী হতে পারে। উপায় নেই, গোলাম হোসেন। ছেলের স্কুল বলে কথা। মাঝে মধ্যে সকালে উঠার আলস্যে ছেলের মা'কে বলি-
কী হবে একদিন ছেলে স্কুলে না গেলে... ?
তিনি বুঝতে পারেন সব। ছেলেকে দাবড়ানি দিয়ে ততক্ষণে উঠিয়ে তৈরি করে দিয়েছেন। গোশসা করে বলেন-
ঠিক আছে, তুমি ঘুমাও। আমি ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছি...
হুমায়ুন ফরিদীর মৃত্যুতে
কয়েক বছর আগে ঈদের অবকাশেই সম্ভবত হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলী চরিত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি নাটক হয়েছিলো, মিসির আলী আমার পছন্দের চরিত্রগুলোর একটি, এত প্রিয় চরিত্র নিয়ে একটি টিভি নাটক চলছে আর আমি পরিচালককে গালাগাল দিচ্ছি মনে মনে। মিসির আলী চরিত্রে যে অভিনেতা অভিনয় করেছিলেন তাকে ঠিক আমার কল্পনার মিসির আলীর সাথে কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলাম না।
অলপ বিদ্যা ভয়ন্কর-২ (উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে)
উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে
কয় দিন আগে ফেইস বুকে একটা লিন্ক পেয়েছিলাম। লিন্কটা হল, যে কোন কাজের প্রতি কোন জাতির কি মনোভাব।

আজ সকালের একটা ঘটনায় উপরের গল্পটা মনে এল। বছরে দুবার জাপানিজ পাবলিক স্কুলের বাচ্চাদের ভূমিকম্প হলে, তারা কি করবে, তার উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আজ ছিল সেই দিন। সকালে স্কুলে পৌঁছার পর দেখলাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রত্যেক ক্লাসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ হেলমেট পরে রেডী হয়ে আছেন।
স্টক মার্কেটে ‘ক্র্যাশ’!
(শওকত হোসেন মাসুমের লেখা পড়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া । পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বরাবরই খারাপ জিনিস, তবে ছোঁয়াছে কী না তা পরীক্ষাসাপেক্ষ! )
ওয়াল স্ট্রিটের জাদরেল সব ফাইনান্সিয়াল এনালিষ্টরা হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছেন কম্পিউটারের স্ক্রীনের দিকে।। ক্রমশ:ই লাল হয়ে যাচ্ছে কম্পিউটার স্ক্রিনে চলমান লেখাগুলো।। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন শুরু হয়েছে ৩০ মিনিট বিলম্বে।।বিলম্বিত লেনদেনটা এমন বিপর্যয় দিয়ে শুরু হবে কেউই সেটা ভাবতেও পারেন নি। ।। ফাইনান্সিয়াল টাইমস,ব্লুমবার্গ এর মতো প্রভাবশালী মিডিয়ারও শিরোনাম হয়ে গেছে লেনদেনের শুরুটা। । “আন্তর্জাতিক বাজারে অকস্মাৎ দরপতনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে । সূচকের নিম্নমুখী যাত্রা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এই ধরনের ব্রেকিং নিউজে দেশগুড়ে আতংক তৈরি হয়ে যায়।
কনফেশন্স
এক.
আই লাভ ইউ...
ছোট মেয়ে বর্ণমালাকে পড়াচ্ছে শিপলু। শব্দার্থ। এটা ওটার পর শিপলু বর্ণকে জিজ্ঞেস করল, wife মানে কি?
বর্ণমালা আর মনে করতে পারে না!
শিপলু ক্লু দেওয়ার জন্য বলল, আমি তোর বাজানের কি হই?
বর্ণ ঝটপট বলে দিল, বউ।
‘তাহলে বল বউ ইংরেজি কি?’
বর্ণ হেসে বলল, আই লাভ ইউ...।
আমার বচন আমার বাণী
মুখবন্ধঃ বিটলামী করি সেটা জানি। কোন একদিন হয়তো বিটলামির জন্যে বিখ্যাত হয়ে যেতে পারি। বিখ্যাত হলে হয়তো বানী টানী দিতে হতে পারে। তখন হয়তো ব্যস্ত থাকবো, সময় পাবো না। তাই বানীগুলো আগেই লিখে রেখেছি। তারমধ্যে থেকে নির্বাচিত কিছু প্রকাশ করছি আজ। এ বানীগুলো নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত থেকে শিক্ষা লাভ করার উপলব্ধি দ্বারা প্রাপ্ত।
তথাকথিত পৈত্রিক ধর্মের সমালোচনা করা হলো "প্রগতিশীলতা" আর বন্ধুর ধর্মের সমালোচনা করা হলো "সাম্প্রদায়িকতা"।
সুযোগের সদ্বব্যবহার করিয়া ঘোলা পানিতে মৎস্য শিকারের ন্যায় আনন্দ আর কিছুতেই নাই।
চোখের পর্দা থাকলে রাজনীতি করা যায় না।
অন্যায় করে অপরাধ করে ক্ষমা চাইলেই যদি সৃষ্টিকর্তা তাদের ক্ষমা করেন, তাহলে সে সৃষ্টিকর্তার মহানত্ব নিয়ে আমি সন্দেহ প্রকাশ করলাম
বই মেলা কড়চা- ১৫
মেলায় ঢোকার আগে ভাবলাম, এক কাপ চা খেয়ে যাই। সে মোতাবেক ব্যাচেলার কোয়াটারের দিকে রওয়ানা হলাম। এটি হচ্ছে- দোয়েল চত্তর থেকে মেলার দিকে রওয়ানা হলে প্রথম যে গেটটি পড়বে- তার পাশেই। এখানে মেলার সময়টাতে বিকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চা ছাড়াও ভাজাপোড়া যেমন- আলুর চপ, পাকুরা, বেগুনি, পুরি, পিঁয়াজু এসব পাওয়া যায় গরম গরম। বিড়িতো পাওয়া যায়ই। আমি যেহেতু টিএসসির দিক থেকে যাই- সেহেতু প্রথমে আমাকে RAB ভাইদের স্টলটা পার হয়ে যেতে হয়। সেখানে প্রতিদিন দেখি কয়েকজন RAB সদস্য বসে থাকেন বেশ গম্ভীর ভাবে। ওদের স্টলে একটা বড় সড় টেলিভিশন আছে। সেখানে তাদের নিজেদের কর্মকান্ডের কিছু চালচিত্র দেখানো হয়। যাতে এসব দেখে তারা অনুপ্রানিত হয়। লক্ষ্য করলাম, মাশাল্লাহ তারা বেশ মনযোগ দিয়েই সেসব দেখেন। আর তাদের স্টলের পাশ দিয়ে যাবার সময় মানুষজনের দিকে রক্ত হিম করা দৃষ্টিতে তাকান...। রাতের বেলাতেও এদের অনেকের চোখে কালো সানগ্লাস দেখে আ
গণমাধ্যমে হত্যাকান্ডের উল্লাস
মানুষ কার্যকরণ খুঁজে, আমাদের সামাজিক অভ্যাসেই বিষয়টি প্রবিষ্ট। হাস্যকর, খেলো, একেবারে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় ছল-ছুঁতোও আসলে আমাদের আচরণকে কোনো না কোনো গ্রহনযোগ্যতা প্রদানের প্রয়োজন পুরণ করে। অতীতসূত্র খুঁজে পাওয়ার প্রয়োজন নেই যদিও তবুও মানুষ কোনো না কোনো ভাবে বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যেখানে থমকে দাঁড়ায় সেখানে কল্পনার আশ্রয় গ্রহন করে। এই কল্পনাপ্রবন মানুষ বিষয়গুলোকে নিজের মতো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সত্যবিচ্যুত হয় কিংবা যা সে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করে সেখানে তার কল্পনার বাস্তবতা এবং ঘটে যাওয়া বাস্তবতার ভেতরে কিছুটা ব্যবধান রয়ে যায়। এটাকে সচেতন স্মৃতিনির্মাণ বলা যায় না, বরং বলা যায় এক ধরণের সাচ্ছন্দ্যতার খোঁজ।
১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩..ভালোবাসা দিবস কিংবা জয়নাল দিপালীদের বিস্মৃতি...
গুম হয়ে যাওয়া লাশসকল প্রতিশোধ নেবে—
বীভত্স কফিনহীন মৃতদেহ রাস্তায় রাস্তায়
মোড়ে মোড়ে
অলিতে গলিতে
অন্ধিতে সন্ধিতে
তোমাদের শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীলতার গালে
থাপ্পড় মেরে
অট্টহাসি হেসে উঠবে।