পথ চলা - ২
গত পর্বের লেখা পড়ে আমার বেশ কিছু শুভানুধ্যায়ী প্রশ্ন করেছেন যে শিক্ষকতার শুরুতে আমাকে অতটা বেগ পেতে হল কেন? আমাকে তো তারা ভাল ছাত্র বলেই জানেন। আর জেনারেল এরশাদের কল্যাণে চার বছরকে আট বছর বানিয়ে ফেলায় লেখাপড়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাই নি এমন অভিযোগ ধোপে টেকে না। তাহলে কেন এই দুরবস্থা?
সত্যি এটি একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। তবে উত্তর খুব সহজ। পরিসংখ্যান মোটেই আমার পছন্দের বিষয় ছিল না। আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়া। এটা যে আমার কাছে কী একটা প্যাশন ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাসায় সবাই এটা জানত। এমন কি এসএসসি তে যখন আমি মানবিক বিভাগ থেকে মেধা তালিকায় প্রথম হই, সেদিন যেসব সাংবাদিক আমার সাক্ষাতকার নিতে এসেছিলেন তাঁদেরও আমি বলেছিলাম,
আমি সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করে সাংবাদিক হতে চাই।
বই মেলা কড়চা- ১০
আজ আমার অনেক মন খারাপ। জীবনে এমন ধরা খাইনি। গত কদিন ধরে লোকজনকে মজা করে মুরগা বানিয়েছি। সেটা ছিল নেহায়েতই মজা। আর এ মজা দেখে বিধাতা পুরুষ বোধ করি আড়ালে বসে হেসেছিলেন। তিনি আমাকে এমন ধরা খাওয়ালেন যে, সেটা সহ্য করা বড় কঠিন। সামলে ওঠার চেষ্টা করছি...।
বাংলাদেশের বিশেষ একটি জেলার লোকজন আমার না-পছন্দ। অবশেষে সে বিশেষ জেলার একজনের পাল্লায় পড়েছি। আমার যদি বৌ আর দুটো ছেলে না থাকত, তাহলে জীবনের প্রতি এত মায়া থাকত না। আর তাইলে কালকের সব পত্রিকার শিরোনাম হতে পারতাম- একজন খুনি হিসাবে।
নিজের সম্পর্কে আমার যা ধারণা, আমি নিজে যা তা আমার প্রোফাইলে লিখে রেখেছি অনেকদিন আগে। সেখান থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম আজকের কড়চায়-
মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অণুপাতে আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা...
অবশেষে ম্যুরাল এল বই মেলায়

আমরা বন্ধু ব্লগে ২০১১ সালে লিখিত ব্লগগুলো থেকে বাছাই কমিটি কিছু লেখা মনোনীত করলেন। তার মধ্যে মুক্ত গদ্য, গল্প এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখা ছিল। সেসব লেখাকে ব্লগ থেকে কনভার্ট করে ওয়ার্ডে নেয়া হল। তারপর তা প্রুফে দেয়া হল। প্রুফ থেকে আউটপুট সেন্টারে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল অসংখ্য যুক্ত শব্দ ভেঙ্গে গেছে। সেসব চারদিন ধরে যত্নের সাথে সঠিক করার চেষ্টা করা হল। আউটপুট সেন্টার থেকে মেকাপ শেষ করে তা পজেটিভ এবং প্লেট তৈরি করে প্রেসে পাঠান হল। প্রেস থেকে ছাপিয়ে তা পাঠান হল- কাটিং এবং বাইন্ডিং কারখানায়। সেখান থেকে ফাইনাল সাজুগুজু সেরে ম্যুরাল অবশেষে আজ থেকে মেলায়।
খুশী
শরীরটা ভয়ঙ্কর খারাপ...গলায় খুসখুসে কাশি...ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে...তাপমাত্রা উঠানামা করছে। তারপরও কেন জানি খুব খুশী খুশী লাগছে...কারণটা এখনও সুস্পষ্ট নয়। রাতে শরীর খারাপের লক্ষন দেখেই মাথার মধ্যে পরের দিন কাজ ফাকিঁ দেয়ার প্ল্যান সাজিয়ে আয়েশ করে একটা ঘুম দিলাম।"কাজ করার মধ্যে যেরকম আনন্দ আছে ...মাঝেমধ্যে কাজ ফাঁকি দেওয়ার মধ্যেও আছে.." মেয়ের আদুরে স্পর্শে মনটা অনেকটা আবেগে গলিয়ে গেল। ভালোই একটা বাহানা পেয়ে গেল মায়ের পাশে শো্যার। বারবার বলছে ''Mummy, don't worry I will look after you, and i will sleep with you until you feel better..okay?' আবার আড়চোখে আমার reaction বুঝার চেষ্টা করছে, আমি যদি আবার মানা করে দেই
প্রতিদিন alarm-য়ের শব্দ শো্নার পরও যে মেয়েটা বলতো, "5 more minutes mummy please please please''.
বই মেলা কড়চা- ৯
এ ক'দিন মেলায় যেয়ে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম- শুধু আমি বা আমরাই মুরগা খুঁজি না। আরো একটা দল মুরগা খোঁজে। আর তারা হল টিভি চ্যানেলের লোকেরা। ক্যামেরা নিয়ে মেলার এ মাথা থেকে সে মাথা চষে বেড়ান তারা। মুরগার সন্ধ্যানে। মনপুত: মুরগা পেলে ক্যামেরা অন করে বোম ধরেন তার সামনে। পারুক আর না পারুক, প্রাসঙ্গিক হোক বা না হোক তখন তাকে বাধ্য হয়ে কিছু কথা বলতে হয়। এই যেমন- কী বই কিনল, মেলার পরিবেশ কেমন, বইয়ের দাম এবার আগের চেয়ে কম না বেশি ? সবচেয়ে সমস্যা হয় লাইভ প্রোগ্রামে যাদেরকে মুরগা হিসাবে কট করা হয়- তাদের। কী করবেন, কী বলবেন, সাজগোজ ঠিক আছে কিনা, পরিবারের লোকজনকে বলতেও পারেনা যে তাকে অমুক টিভিতে লাইভ দেখাচ্ছে। পরে আফসুস করতে দেখেছি অনেককে। যেমন আমাদের ব্লগার ৪ কন্যা সেদিন আফসুস করেছিল।
ভুলে যাওয়া রুম নাম্বার কবিতারে আমি যেইভাবে বুঝতে পারি...
ঘাসফড়িঙের দল পাখায় বয়ে নিয়ে আসে ভেজা মাটির দুঃখবোধ, ধুলো ওড়া দুপুর
অপেক্ষারা ফিরে ফিরে আসে সিগারেটের ধোঁয়া, এসফল্ট পথ আর ধুলিময় জুতোজুড়ে
সন্ধ্যা নামে। শালিকের হলুদ কাজল আঁকা চোখে আঁধারের সরোদ
হাসি আর কথাগুলো ছড়িয়ে যায় সাতমসজিদ রোডে, আলো ও আঁধারে
ভুলে যাওয়া মুঠোফোন সংকেত ও সংবাদ
নিরব পথের খুনসুটি টেনে নিয়ে যায় সিঁড়িঘরে, বিদায়ের ক্ষণ।
মানুষ বনে হাঁটি
দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়
আমি মানুষের বনে হাঁটি
একটা গহিনের প্রত্যাশা
কিংবা আলো ছায়ার অপেক্ষায়।
যেন খুব একটা পুরাতন আঁকড়ে রাখে আমায়
অথবা আমিই আঁকড়ে থাকি তাকে!
মানুষের বন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
তবু আমার হাঁটা ফুরোয় না।
চাঁদ যায়, ক্ষণ যায়, আলো যায়
ঘরে ফেরে ফেরারি বাতাস
অথচ দেখো, কেমন নির্লিপ্ত হয়ে
কাঁটাঝোপে রক্তাক্ত হতে হতে
সাপের মত দেহ টেনে টেনে
আমি কেমন মানুষের বনে হাঁটি।
আগুনের পুরাণকাহিনী
কিছুদিন আগে একটা বই পেলাম-- আদিবাসী আমেরিকানদের পবিত্র গল্প (Native American Stories of the Sacred)। লোককাহিনী/রূপকথা/ধর্মকথা আমার আগ্রহের জায়গা। তাই অনেক কাজের চাপের মধ্যেও সময় পেলেই চট করে একটা গল্প পড়ে নেই। আমাদের দেশের প্রাচীন লোককাহিনীগুলোর মত এগুলোও বিনোদনের সাথে সাথে গভীর উপলব্ধির তৈরী করে। সহজিয়া কথক ঢংয়ে বলা গল্পগুলোর মধ্যে দিয়ে পাওয়া যায় সামাজিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ন প্রমান। “পৃথিবী কিভাবে তৈরী হলো”, “প্রথম আগুন” বা এজাতীয় অন্য গল্পগুলো শুধুমাত্র তাদের সামাজিক জীবন বা চিন্তাধারাই ব্যাখা করেনা সাথে সাথে তুলে ধরে নেটিভ আমেরিকানদের বিশ্বাসের একটি বিশেষ দিক, যাতে প্রকৃতি, মানব, ঈশ্বর, পশুপাখি সবাই একে অপরের পরিপূরক, সবাই পবিত্র আত্মার অংশ।
হুদাহুদাই (৪)
উপহার দেও, উপহার। অপরকে আর নিজকে, সে দেওয়াও আনন্দ, নেওয়াতেও। ক্ষমা করে দেওয়াতে কিবা বিস্মৃত হয়ে যাওয়াতেই সকল আনন্দ নিহিত। কিন্তু দেয়া নেয়ার এই খেলাতে ভীষন অপটু যে! হাসিতো সংক্রামক কিন্তু দূঃখের অনুভূতিও কি তাই? তবে একটাকে ভালোবাসি অপরটাকে কেনইবা ডরাই! আমার ঘরের দক্ষিনা জানালা দিয়ে আম-কাঠাল গাছের ফাকঁ দিয়ে কেবল একফালি না, উঠান জুড়ানো জোছনা দেখা যেত। এখনতো দিব্যদৃষ্টিতে জোছনা দেখি না, ঘোর লাগা আলোতে আর অহেতুক খুশিতে ভাসতে পারি না। দেখার আর অনুভবের বিষয়টাতে এতো বৈপরীত্ব কেন হয়? এখন হঠাৎ অজান্তেই মন জোছনাময় হয়, সব ভার হয়ে যায় । আজ আবার তেমনি জোছনা, আজ আবারও মন ভালোনা।(লাল্ভাইর কথা এটা, পড়েই আসলে মন ভার হয়ে গেছে।)
বই মেলা কড়চা- ৮
বই মেলা নিয়ে প্রতিদিন একটা কড়চা লিখার ইচ্ছে মেলা শুরুর আগে থেকেই ছিল। সে মতে শুরুও করেছিলাম। সেটা দিন দিন কিঞ্চিত জনপ্রিয়ও হয়ে ঊঠার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আজ কাল আমি শংকিত। কড়চার মুল বিষয় হয়ে উঠছে- মুরগা ধরা। এ কারণে ব্লগারের উপস্থিতি ক্রমান্নয়ে কমে যাচ্ছে। মেলায় গেলেও অনেকে আজকাল লিটল ম্যাগ চত্বর এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। ফলে মুরগা হবার ভয়ে আর অনেকেই আড্ডায় যায় না। আজ মেলায় ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম আনিস ভাই, নূপুর আর লীনা ফেরদৌসকে। মেলায় গিয়ে শুনলাম- জয়িতা আর লীনা মেলায় গিয়ে দ্রুত মেলা ত্যাগ করেছে। সেটাও মুরগা হবার ভয়ে...। কী সব্বোনাষ ! এভাবে চললেতো মুরগা পাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়বে। তবু হাল ছাড়ছিনা। আল্লাহ ভরসা...।
ভুলে যাওয়া রুম নম্বর
***
ঘাসফড়িঙের দল পাখায় বয়ে নিয়ে আসে ভেজা মাটির দুঃখবোধ, ধুলো ওড়া দুপুর
অপেক্ষারা ফিরে ফিরে আসে সিগারেটের ধোঁয়া, এসফল্ট পথ আর ধুলিময় জুতোজুড়ে
সন্ধ্যা নামে। শালিকের হলুদ কাজল আঁকা চোখে আঁধারের সরোদ
হাসি আর কথাগুলো ছড়িয়ে যায় সাতমসজিদ রোডে, আলো ও আঁধারে
ভুলে যাওয়া মুঠোফোন সংকেত ও সংবাদ
নিরব পথের খুনসুটি টেনে নিয়ে যায় সিঁড়িঘরে, বিদায়ের ক্ষণ।
বইমেলা ২০১২ (টুকিটাকি-২)
প্রায় প্রতিদিনই যাচ্ছি বইমেলায়।প্রতিদিনই ভাবি, কাল আর আসব না,২/১ দিন পর আবার আসব। সেটা আর হয়ে উঠে না। হয় আমি নিজেই যাই, অথবা লীনাপা বা অন্য বন্ধুরা বলে যেতে... সেই ডাক উপেক্ষা করার ক্ষমতা ঈশ্বর আমাকে দেয়নি। বই কিনি আর না কিনি লিটল ম্যাগ চত্বরে গিয়ে বসি, গল্প, আড্ডা চলে। স্টলে ঘুরেফিরে দেখি পরিচিত কারো কোন বই আসলো কিনা। এবার আমাদের ব্লগের বই বের হবে, সেই বহু প্রতিক্ষিত বই - 'ম্যুরাল' এর জন্য রোজ অপেক্ষা-- কবে আসবে, কতদূর কি হলো। কাজ আমি কিছুই করিনি কিন্তু অপেক্ষা, আগ্রহের কোন সীমা পরিসীমা নেই। জানা গেলো 'ম্যুরাল' সম্ভবত আসবে আগামীকাল, ০৯ ফেব্রুয়ারী। পাওয়া যাবে লিটল ম্যাগ চত্বরে। ম্যুরাল এর জন্য সবসময়ই শুভকামনা। 
অসুখের জবানবন্দি
ইদানিং একটা অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছি। এগুলো কি কোন ধরনের রোগ নাকি কেবলই আমার আঁতলামো একাকিত্বের ফসল কে জানে। কোন একটা অদ্ভুত কারণে আমি যেন একটা একটা করে দিন গুনতে শুরু করেছি। কিন্তু অনেক ভেবেও দিনটা যে কি তা বের করতে পারলাম না। মাঝে মাঝে মনে হতে থাকে আমার সারাটা দিন, সমস্ত ভাবনা, সব যেন বিশাল একটা ক্যালেন্ডারে বন্দি। জানুয়ারি গেলেই ফেব্রুয়ারি। তারপর মার্চ, এপ্রিল....। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় লাল রঙের কতগুলো সংখ্যা যেন সেøামোশনে ভাসছে। ৪, ৬, ১৬ জানুয়ারি, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ৩০ মার্চ, ১৯ জুন, ২৯ জুলাই, ২৮ সেপ্টেম্বর, ৩০ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর, ২২ নভেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর।
আজ মেলায় আসছে রঙ্গরসে জীবনযাপন

রম্য লেখার কিন্তু নানা সুবিধা আছে। সৃজনশীলতা তেমন লাগে না। আর এটা আমার নাইও। তবে চোখ কান খোলা রাখলে সৃজনশীল না হয়েও রম্য লেখা সম্ভব। চোখটা খোলা রাখতে হবে ইন্টারনেটে, আর কান পাততে হবে আশেপাশে।
দুনিয়ায় সৃজনশীল মানুষের কিন্তু অভাব নাই। তারা নিত্যনতুন কৌতুক গল্প বানাচ্ছেন। সেগুলো সহজেই পাওয়া যায় ইন্টারনেটে ও বন্ধুদের আড্ডায়। রম্য লেখকের কাজ কেবল সেগুলো চিমটে চিমটে নিয়ে ওরস্যালাইন বানানো।
তবে কৌতুক-গল্প নিয়ে রম্য লেখার বিপদও আছে। পৃথিবীর সব কৌতুকই কারো না কারো পড়া। ফলে অনেকেই হয়তো মুচকি হেসে বলবেন, ধুর এটা তো জানি।
তারপরেও সাহস করে রম্য লেখার একটা বই বেরই করছি।