প্রবৃত্তি
.......রুমে ঢুকতেই ওদের দুজনের ঘনিষ্ঠতম অবস্থান দেখা গেল। ত আর ম। দুজনেই আমার চোখের সামনে। কিন্তু নিজেদের দিকে এত বেশী মনযোগী যে আমি একটা মানুষ পাত্তাই দিচ্ছে না। আমিও ব্যক্তিত্ব প্রচারে বিশ্বাসী না বলে চুপ করে থাকলাম। গলা খাকারি দিতেও ইচ্ছে করছে না পাছে রণে ভঙ্গ দেয়। আদতে সামান্য গলা খাকারিতে ভঙ্গ দিত কিনা সন্দেহ। নিজেদের নিয়ে এতটা মগ্ন।
আসলে সবাই নিজেদের প্রয়োজনেই মগ্ন থাকে। নিজেদের স্বার্থেই ডুবে থাকে। জগতের সকল প্রাণীর জন্য এই নিয়ম। এই নিয়মের ব্যতিক্রম কেউ হলে তাদের আমরা বিশেষায়িত করি। এই দুজন সেই কাতারে পড়ে না। এদের কান্ডকীর্তি মহান হবার প্রশ্নই ওঠে না।
দৃশ্যটাকে আমার কি ঘেন্না করা উচিত? মানবিক দৃষ্টিতে ঘেন্নাই সুলভ। কিন্তু পাশবিক দৃষ্টিতে ঠিক একই দৃশ্যটাকে বলা হয় প্রবৃত্তি।
বইমেলা কড়চা – (এক) দুধের স্বাদ ঘোলে
বইমেলায় যেতে পারি না। কতো প্রিয়জনের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়, আনন্দিত, গর্বিত মুখখানা ছবিতে দেখি, সামনে থেকে দেখতে পারি না। আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি না, বার্গার, হালিম খেতে পারি না। রোজ পত্রিকা পড়ে, ব্লগ পড়ে, ফেসবুকের স্ট্যাটাস আর নোট পড়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই। পত্রিকার মারফত জানলাম বিশিষ্ট সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি বই লিখছেন। হঠাৎ তিনি মিসির আলি আর হিমুকে বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর কেন পড়ে গেলেন ভাবতে যেয়ে মনে হল, নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার ফুল পেয়ে তিনি হয়তো বিগলিত হয়েছেন। এর প্রতিদান স্বরূপ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি উপন্যাস লিখবেন। হয়তো তারপর শেখ হাসিনা কিংবা তার পরিবারকে উৎসর্গ করলেও করতে পারেন।
ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (৪)
সম্ভবতঃ সেই টাইমে কেজি ওয়ানে উঠছি মাত্র। ক্লাসের মিস সবার নামধামের লগে বাড়তি একটা প্রশ্ন জিগাইতেছিলো; বড় হইলে কে কি হইতে চায়। অলটাইম ব্যাক বেঞ্চার আমি বহুত টেনশনে পইড়া গেলাম। কি হইতে চাই আমি! বড় হইলে আমি আসলেই কি হইতে চাই!
বই মেলা কড়চা- ৭
বেলা তিনটার সময় বেরুলাম। ছেলেকে বাইকের পেছনে নিয়ে ছুটলাম। প্রথমে গেলাম নিউ সুপার মার্কেট। বাসার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সদাই-পাতি কেনা জরুরি ছিল। সেখানকার হোসেন স্টোর থেকে আমি বরাবর সদাই কিনি। দুটো কারণে। এক ওদের প্রাইসটা বেশ রিজনেবল। দুই এক নম্বর পণ্য পাওয়া যায় এখানে। গিয়ে দেখি শার্টার বন্ধ। বিষয় কী ? পাশের ফুপপাতের দোকানীর কাছে জানা গেলো, আজ মঙ্গলবারতো সেজন্য বন্ধ। আমি অবাক হলাম। মঙ্গলবার এই এলাকা বন্ধ সেটা আমি জানি। কিন্তু হোসেন স্টোরতো মঙ্গলবার কেনো, ঈদের দিনও খোলা থাকে। আবার বাইক ঘুরালাম। এবারের বিকল্প গন্তব্য কারওয়ান বাজার। সেখানে কিচেন মার্কেটে আমার একটা পরিচিত দোকান আছে। যেখান থেকে নিয়মিত মাসিক বাজার করি। এটা অবশ্য মুদি দোকান। তবে অল্প বিস্তর স্টেশনারি পণ্যও পাওয়া যায়। দ্বোতলায় উঠতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালাম। পুরো কারওয়ান বাজার বন্ধ। অবিশ্বাস্য ! বিষয় কী ?
বাবা ...............এখন গল্প
এই ব্লগে রেজিঃ করেছিলাম শুরুর দিকেই । যদিও লেখালেখির কোনো উদ্দেশ্যই কখনো ছিলোনা, শুধু ‘আমরাবন্ধু’ নামটার সাথে জড়িয়ে থাকার জন্যই রেজিঃ করা । আমরাবন্ধু শব্দটাই খুব আপন মনে হয় ।
ব্লগের লেখাগুলো পড়ি নিয়মিতই । মা/বাবা নিয়ে লেখাগুলোও কখনো চোখ এড়ায়নি। কেউ লিখতো মা/বাবা নিয়ে উচ্ছাসের কথা, কেউবা স্মৃতিচারণ । আনন্দ উচ্ছাস নিয়ে লেখাগুলো পড়তাম আর নিজের কথা ভাবতাম, কেননা নিজে কখনো মা/বাবা’র প্রতি ভালোলাগাগুলো কখনো প্রকাশ করিনি অথবা পারিনি। একইভাবে স্মৃতিচারিত লেখা পড়লে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করতো, মূলত আতংক ঘিরে ধরতো। সেই আতংকটাই আজ সত্যি, এখন আমার বাবা স্মৃতিচারণ করার চরিত্র । আমার বাবা এখন গল্প।
আমার সন্তানেরা
যখন আমি ভরপেট হাঁসের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে
ঝরে পড়ি অবহেলিত খুদ কুঁড়োর মত
ঝলমলে কলম আমার
ভরন্ত প্রসব বেদনা নিয়ে তখন
গচ্ছিত ভ্রূণ ঢেলে দেয় পরিণত শব্দের প্যাঁচে ।
একেকটা বাঁকানো শব্দ; সুবর্ণলতার চেহারায়
কলমের জরায়ু থেকে বের হয় আশ্রয়ের পরিচিত ঘ্রাণে ।
কলম জগতের শ্রেষ্ঠ প্রসূতি !
ক্লিনিকের শুভ্র বিছানার মতো উষ্ণ কাগজে শুয়ে
আমার সন্তানেরা পিটপিট করে চায় ।
ফসলের বিস্ময়ে কেটে যায় নিষ্ফলা তান ।
আমি পিতৃত্বের চুমু এঁকে দিয়ে
কাঁচা অক্ষরের কানে কানে উচ্চারণ করি-
ভাঙ্গনের কঠিন আযান !
বড় হইয়া বউ হতে চাই......
সারা জীবনই আমি ঠাহর করতে পারি নাই যে বড় হইলে আমি কি হমু । স্কুলে যাইতাম না তখন আম্মু প্রথম জিগায় ছিল বড় হয়ে কি হতে চাও?
শেক্সপিয়ারের জন্য ভালোবাসা
শওগাত আলী সাগর
সাবজেক্ট লাইনে চোখ না পড়লে মেইলটা আমি ডিলিটই করে ফেলতাম। আজকাল জাংক মেইলে ইনবক্স এতোটাই সয়লাব হয়ে থাকে যে সতর্কভাবে খেয়াল না করলে অনেক প্রয়োজনীয় মেইলও ডিলিট হয়ে যাবার আশংকা থাকে। প্রেরকের ঘরটা অপরিচিত ঠেকায় এই মেইলটা্কেও প্রায়ই ডিলিট করে ফেলেছিলাম। অমনি পেছন থেকে বর্ণমালা চিতকার করে উঠে- ইট সিমস লাইক মাই মেইল । হাউকাম সামবডি সেন্ড ই-মেইল টু মি ইন ইউর ইমেইল।
বর্ণমালা কখন আমার পেছনে এসে দাড়িয়েছে টের পাইনি। তার কণ্ঠস্বরের উত্তেজনায় আমি মেইলটার সাবজেক্ট লাইনের দিকে চোখ ফেরাই। বোল্ড করে সেখানে লেখা রয়েছে ‘মেইল ফর অনিন্দিতা।‘ এবার আমারও অবাক হবার পালা্ । বর্ণমালার নামে কোনো ইমেইল আসার কথা নয়। আমাকে ভাববার সময় না দিয়েই মেইলটার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে সে। তার পর ‘ইয়াহু’ বলে চিতকার করে ওঠে।
হাইকুগুলো...
..................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (২)
২.
ক্যম্পাসে প্রায়ই একটা গান গাইতাম আমি আর প্রিয়দর্শিনী। অলি আর বকুল’কে যখনই আড়াল খোঁজার চেষ্টায় হাঁটাহাঁটি করতে দেখতাম তখনই। মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে ওদের দুজনের সামনে এ গানটা গাইলে অলি প্রায়শই নিস্ফল আক্রোশে ফেটে পড়তে চাইতো। কিন্তু আমাদের ডানপিটেপনার সঙ্গে সুপরিচিত থাকার সুবাদে কখনোই সে সাহস দেখাতে পারতো না। গানটা ছিলো-
অলিরো কথা শুনে বকুল হাসে,
কই তাহার মতো তুমি আমার কথা শুনে হাসো না তো।
‘হাসো না তো’র জায়গায় আমরা গাইতাম ‘কাশো না তো’। তারপরে দু’জনে উচ্চস্বরে খক খক করে কাশতাম। দু’একবার।
বই মেলা কড়চা- ৬
আজকের কড়চার প্রথম প্যারা- একজন মায়াবতীকে উৎসর্গ করা হল
lalon
পথ সহজ হলেই হলো, তাতেই আমোদ-তাতেই উল্লাস।
"কীর্তি কর্মার কীর্তি কে বুঝতে পারে,
সেবা চিত্তে লয়ে কোথায় রাখে ধরে,
এ কথা আর শুধাব কারে,
নিগুঢ় তত্ত্বকথা কে বলবে আমায়?"
ইতিহাস জ্ঞানে নিতান্তই বোকামানুষ আমি সাইজী'র এমন প্রশ্ন শুইনা প্রথমে চমকাইয়া উঠছি। সম্ভবতঃ সিরাজ সাইজীর অন্তর্ধানে শোকগ্রস্ত লালনের অভাগা অন্তরে এই প্রশ্ন জাইগা উঠছিলো আর্তনাদের মতোন। লালন সাই'য়ের কালামে অনেক অনুযোগ টের পাই প্রায়শঃ'ই, কিন্তু অন্তরের এমন আহাজারী হৃদয়ের স্পর্শকাতরতায় আঘাত করে। গুরু-শিষ্যের এই নির্ভরতামূলক সম্পর্কের এই ধরণটারে একেবারেই উপমহাদেশীয় মনে হয়। এর আগে আরেকটা গান শুনছিলাম উকিল মুনশী'র চরনে,
শুয়াচাঁন পাখি,
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি!
তুমি আমি জনম ভরা ছিলাম মাখামাখি
আজ কেন হইলে নীরব মেলো দুটি আঁখি।
দূরত্ব এক বিষণ্ন মাইল
যাদের সামনে দূর্ঘটনা ঘটলো
তাদের মধ্যে একজন নিতান্তই পথচারী
যথারীতি তার ন্যাশনাল আইডি আছে, চাকুরী আছে, ভাড়া বাসা আছে
অফিসে যাবার বাস নম্বর জানা, রোজনামচায় একঘেয়েমী আছে
আর আছে সকল মধুর কষ্টের মত উচ্চাশার দুর্গতি
তাদের মাঝে একজন দূরবর্তী দর্শকও আছে
যিনি নিকটস্থ দর্শকদের দর্শক হয়ে দেখলেন
এক দঙ্গল মানুষের ভীত ভীত মুখ, দুর্ঘটনার চারদিকে ঘিরে
একটা সতর্ক সংবাদ পেচিয়ে পেচিয়ে উড়ে গেলো আকাশবিমানে
আর তিনি একটা বানিয়ে নিলেন দু:সংবাদ আহত অথবা নিহত
নিকটস্থদের মধ্যে প্রথম দূর্ঘটনা দেখার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করলেন একজন
সারাজীবন ভর এটাই তার ভয়াল স্মৃতি,
আরো আছে একজন দুর্বল হৃদযন্ত্রের মালিক
তিনি বুক চেপে আশু সংকেত পাঠালেন মগজে
আর পকেট খুঁজে একটা ট্যাবলেট গুজলেন জিভের তলে
আরো আছে ট্রাফিক জমে গেলো বলে মেজাজ বিগড়ানো পাবলিক
অফিসে লেট হয়ে যাদের কপালে লাল কালির সিল পড়ে
পথে পথে যেতে যেতে
ঘুরে এলাম শেরপুর
প্রথম কথা
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হইতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর
একটি শিশির বিন্দু।।
ছোটবেলায় দেখা স্বপ্ন বা ইচ্ছাগুলোর মাঝে যেই স্বপ্নটা এখন মরে যায়নি সেটা হলো বাংলাদেশের ৬৪ টা জেলায় ঘুরার ইচ্ছা। যদিও এই স্বপ্নটা মৃতপ্রায় ছিল।
কিছুদিন আগে হঠাৎ করে শুনলাম সাঈদ ভাই নিঝুম দ্বীপ ঘুরে এসেছেন। তখন সাঈদ ভাইকে বললাম পরেরবার কোথাও গেলে যেন আমাকে জানানো হয়।
প্রস্তুতিপর্বঃ
গত ২রা ফ্রেব্রুয়ারী মুখবই(Facebook) অনলাইন হইতেই সাঈদ ভাইয়ের বার্তা ।
“ওই মিয়া মোবাইল বন্ধ কেনো?”
সাঈদ ভাইয়ের এই বার্তা দেখে মনে হইলো ভুল দেখলাম ।