আমার মা
মাকে বুঝতে শুরু করতে না করতেই একদিন মা নাই হয়ে গেলেন। মা ছিলেন আমাদের পরিবারের সব মুশকিল আসানের নাম। বাবার কাছে আমাদের ছয় ভাইবোনের কোনো আব্দার বা আল্লাদ ছিলোনা। সব মায়ের কাছে। মা কী করে জানি সামাল দিতেন। বাবা সরকারি চাকরীজীবি। সামান্য আয়ের মানুষ। মাস পহেলা তার আয়ের বেশিরভাগ তুলে দিতেন মায়ের হাতে। মা সে টাকায় সারা মাস জোড়া তালি দিয়ে চালিয়ে নিতেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সামাজিকতা, আমাদের স্কুলের খরচ সবই ম্যানেজ করতেন মা। বছরে দুই ঈদেই শুধু নতুন জামা পেতাম আমরা। ছোট ভাই বোন তিনটা তখনো বেশ ছোট। বাকী আমরা তিনজন মোটামুটি বড়। অতশত না বুঝলেও এটা বুঝতাম- বাবা-মার সামর্থ খুব সামান্য।
আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আগ্রহীদের আহবান জানাই বর্ষার ই-বুক 'বৃষ্টির দিনে' -র জন্য লেখা জমা দিন
![]()
সম্মানিত ব্লগারগণ,
আপনারা অবগত আছেন প্রতীতি প্রকাশনী থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম এবং একমাত্র আন্তর্জালিক ই-বুক এক মুঠো চলচ্ছবি-র দুটো সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতীতি'র এবারের প্রয়াস হল 'বৃষ্টির দিনে'। এবার আমাদের ই-বুকের বিষয় হল বর্ষা এবং বৃষ্টি। বর্ষা এবং বৃষ্টি নিয়ে যে কোনো ধরনের লেখা, কবিতা, ছড়া, গল্প , প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণমূলক লেখা, ব্যানার, ছবিব্লগ নিয়ে আমরা আমাদের এবারের ই-বুক 'বৃষ্টির দিনে' করতে চাচ্ছি। আশা করছি বৃষ্টির দিনের জন্য 'আমরা বন্ধু' ব্লগারদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাবো।
তিনটা ফেইসবুক স্টেটাস...
..........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
১.
একদিন একসাথে কফি খেতে পারি...
বরফে আর কোনো নতুন ফ্লেভারে
আমি সব দেবতারে ছেড়ে আমার মায়ের কাছে চলে আসি
সারাদিন সকল কাজ শেষে ‘আমি সব দেবতারে ছেড়ে’ আমার মায়ের কাছে চলে আসি। আমার আম্মু শুধু মা নয় আমার কাছে, আমার আম্মু একজন বন্ধু, আমার যাবতীয় কথা আমার আম্মুর সাথে ভাগাভাগি না করলে আমার অশান্তি লাগে। আমার রাগ দেখানোর জায়গা, আমার আনন্দ উপভোগ করার জায়গা আমার আম্মুর কাছে। আমি যে এতো বড় হয়েছি সেটা মনেই থাকে না যখন আমি আম্মুর কাছে থাকি, যখন আমি আম্মুকে ধরে শুয়ে থাকি, সেই ছোটবেলার মতোই বলি আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দাও। জীবনের সাথে প্রায় যুদ্ধ করে নিজের চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়ে আমার আম্মু আগলে রেখেছেন আমরা ভাই-বোনদের। কখনও বুঝতে দেননি বাবার শূন্যতা। এখনও এই যে এতো বড় হয়েছি তারপরও কি রকম যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছি সেই যন্ত্রণাটাকেও ভালোবাসায়, ¯েœহে গ্রহণ করছেন আর মাথায় হাত রেখে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, এভাবে যে আর কেউ হাত রাখতে জানেনা আম্মু, এই পরশ যে আর কারো হাতে নেই আম্মু, তাই বুঝি এখনও খাবার টেবিলে একা খেতে পারিনা যদি ন
আহবান
জীবন আমায় রিক্ত কর
পূর্ণ কর সকল তোমার সাধ ।
যদি কাঁদাতেই চাও কাঁদাও
তবে মুক্ত কর অশ্রু নদীর বাঁধ ।
ব্যর্থ গ্লানি লিখে দিয়ে কপালে
কেন মিথ্যে আশায় জুড়াও বুক আমার ।
যদি চির আঁধারেই ঠাঁই দিলে
তবে রঙিন স্বপ্ন দেখিওনা তুমি আর ।
জীবন আমায় পরাজিত কর
গেয়ে যাও তবে আপনার জয়গান ।
জীবন আমায় পরিত্যাগ কর
তোমাকে জানাই সাদর আহবান ।
(c) by Ekanto Ovajon
[রচনাকাল : সম্ভবত ২০০৭ সাল ]
বাবা, শুনতে পাচ্ছ কি তুমি আমার কথা ?
দাদীর কবরের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম - বাবা শিখিয়ে দিচ্ছিলেন কিভাবে জিয়ারত করতে হয় - আমার ভুলগুলো শুধরে দিচ্ছিলেন - আমি শিখলাম - তারপর বেশিদিনের কথা নয় - একদিন দেখলাম - আমি একা দাড়িয়ে আছি - আর আমার সামনে একটার পরিবর্তে দুটো কবর - দাদীর পাশে তুমিও ঠাই নিয়েছ -আমার এখনো ভুল হয়ে যায় - বাবা - তোমার মত করে পারি না - তুমি আমাকে নিয়ে গোরস্থানে যেতে - সবার কবর চিনিয়ে দিতে আর আমাকে অভয় দিয়ে বলতে - 'আদনান- ভয় পাস না - এখানে সবাইকে আসতে হবে - ওই দেখ তোর টুকু চাচার কবর - চাচার জন্য দোয়া করিস - ওই তোর মিঠু ভাইয়ের কবর - আর এখানে শুয়ে আছেন ওই যে তোর দাড়িওয়ালা চাচা-তোর মনে নাই-তোকে খুব আদর করতেন- সবার জন্য দোয়া করিস '- আমি সবার জন্যই দোয়া করি বাবা - সবার জন্য করি - খালি তোমার জন্য যখন হাত তুলি - সব এলোমেলো হয়ে যায় বাবা - আমি গুছিয়ে কিছুই বলতে পারি না - চোখ খালি ঝাপসা হয়ে যায় - আমি হৃদয়হীন মানুষ - কিন্তু তোমার চলে
জল পাতা ঝিকিমিকি
জল ও জ্যোৎস্নার সাথে অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি। ।
হাতের তালুতে অন্ধকারের গাছপালা ভালো করে জেগে ওঠার আগেই প্রতিবার কেমন অস্বস্তিকর সকালের আলো ফোটে।।। আজ ঠিক করেছি এই অরণ্যের মধ্যে আমি পথিকের মতন হাঁটবো। কোনো অস্বস্তির মধ্যে যাবোনা। অনেক হয়েছে। এখন নিজের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন-প্রাপ্তির কাছে জবাবদিহিটা জরুরী।
ইদানীং প্রায়ই এমন প্রতিবিম্বের একেকীত্ব ভালো লাগে। জলের মধ্যে যে্মন রাত্রির ছায়া গাঢ হয়, নিজের সাথে নিজের কথা বলাটাও তেমনি গভীর ভাবে সাম্প্রতিক সময়ের জীবনযাপনের ধরণটার অসাড়তা সামনে এনে ফেলে রাখে। একদম অবাঞ্ছিতের মতন সেই অনুভূতি পায়ের কাছে এসে বসে থাকে। আমি তাকে এড়াতে পারিনা এখন। ইদানিং নিজের কথা ভাবতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে একা, অন্ধকারে এই সময়গুলি পেতে। আঁধার আমার ভালোলাগে।
বইমেলা কড়চা – (চার) মালাইয়ের স্বাদ পনিরে
ঢাকায় বইমেলা চলার সময় খুব নষ্টালজিক অনুভব করছিলাম। সেই নষ্টালজিয়া কাটানোর জন্যে ফান করে স্যাটায়ার লেখায় হাত দিয়েছিলাম। আমার সমস্ত শখের কাজের মতো যথারীতি এটিও অসম্পূর্ণ আর আধ খ্যাচড়া রয়ে গেলো। এ বছরের মতো এ পর্বটিই আমার এই সিরিজের শেষ লেখা। নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরীন আমার এ পর্বের লেখিকা। তার প্রকাশিতব্য বই কেমন হতে পারে তা নিয়ে আমার আজকের কল্পনা। তসলিমা নাসরীনের উপন্যাস প্রায় প্রত্যেক বইমেলাতেই বের হয় এবং যথারীতি পালাক্রমে বাংলাদেশ ও কোলকাতায় নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। বই নিষিদ্ধ ঘোষনার এ রীতি এশিয়া ছাড়া আর কোথাও আছে কি না, আমার জানা নেই। আমার ব্যক্তিগত ধারনা তিনিও নির্বাসনে বসে একটি পাশবিক আনন্দ উপভোগ করেন, বই নিষিদ্ধের এই হুল্লোড় থেকে। বেছে বেছে কখনো কখনো অকারণে এমন জিনিসই লিখে পাঠান, যাতে বইটা যেকোন মূল্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। অক্ষম মানুষের হতাশ প্রতিশোধ নেয়া। আমি তসলিমার
এই জনপদে
শুনুন, আমি হলফ করে বলছি-এই শহরে আর একবারও আসবে না জাদুকর কোনদিন।কালো টুপির মায়াবি ওড়না সে আর উড়াবে না এইখানের বাতাসে। গোলামের ভেতর বিবি অথবা বিবির পেটে গোলাম তেড়েফুঁড়ে টেক্কা দিয়েছে মায়াজাল। স্বর্ণাভ রুমালের পায়রা যে খুদ খেয়ে গেছে প্রান্তরে তা আজ বিরান, ছাই। জাদুকরের ঝুলি এখন শূণ্য, গতিহীন। বলেছে সব জাড়িজুড়ি ব্যার্থ তার। নড়ছে না ফুল, পড়ছে না মন্ত্রের কলকাঠি। কেবল বরাহের মত পা টিপে টিপে এগিয়ে আসছে চক্রান্ত। সাড় দেয়া নরকের মত চিমনির ধোঁয়া হাসছে খিকখিক চারপাশে। এখানে আর জাদু চলে না, পাখিরা উড়ে না আলস্য বাতাসে।
কাহার তুমি বাংলাদেশ ?
-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ !
কাহার তুমি বাংলাদেশ ?
-সুন্দরের, শ্যামলের ?
শুভ্রতার, সুস্মিতার ?
সমতার, সততার ?
সুমতির, সুনীতির ?
সংহতির, সম্প্রীতির ?
ন্যায়ের, নিয়মের ?
কাহার তুমি বাংলাদেশ ?
-বাংলাদেশ কুৎসিতের ।
বাংলাদেশ কুবৃত্তের ।
সন্ত্রাসের, সংহারের ।
সংঘাতের, সংঘর্ষের,
ধর্ণেষর, মর্ষণের,
দূর্জনের, দূর্মদের,
-বাংলাদেশ বজ্জাতের,
বাংলাদেশ কমজাতের,
হার্মাদের, হারামজাদের,
হারামখোর, ঘুষখোরের,
অন্যায়ের, ঔদ্ধ্যতের,
বাচালের, প্যাঁচালের,
বাংলদেশ উস্কানীর,
বাংলদেশ চুল্কানির,
বংলা আজ এসবের !
-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ !
-কাহার তুমি ! বাংলাদেশ ?
গৌ্রবের ? বংলাদেশ ?
সৌ্রভের বংলাদেশ ?
ভ্রাতৃ্ত্বের, মাতৃত্বের ?
সুশীলের ! শালীনের ?
ধানের দেশ বাংলাদেশ ?
গানের দেশ বাংলাদেশ ?
সমৃদ্ধির, উন্নতির ?
ধান সিঁড়ির, জল সিঁড়ির ?
জলাঙ্গীর ! জল পরীর ?
কাহার তুমি বাংলাদেশ ?
শুধু চ্যানেল বদলাই
টিভির সামনে বসে শুধু চ্যানেল বদলাই-এত অনুষ্ঠান-কিন্তু মনে দাগ কাটে না কিছুই-নস্টালজিক হয়ে অতীতে ফিরে যাই-আকাশ সংস্কৃতি তখনও সেভাবে ঢুকেনি দেশে-বিটিভিই ছিল আমাদের সম্বল-সঙ্গ দিত ইন্ডিয়ান ডিডি চ্যানেল-বিটিভির বাংলা নাটকে তখন স্বর্ণযুগ-'ঢাকায় থাকি', 'এই সব দিনরাত্রি', 'অয়োময়', 'বহুব্রীহি', 'সংশপ্তক','কোথাও কেউ নেই','রূপনগর', 'বারো রকমের মানুষ'- এ তালিকা শেষ হবার নয়- আর বিদেশী সিরিয়াল গুলো- 'নাইট রাইডার', 'দা এ টিম', 'স্ট্রীট হক', 'ভয়েজার', 'দা মেনিমেল', 'রবো কপ', আর অবশ্যই 'ম্যাকগাইভার'- এই সিরিয়াল টি বোধহয় সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছিল-আরেকটা সিরিয়াল-'ডার্ক জাস্টিস' -একদম ভিন্ন স্বাদের ছিল-পরবর্তীতে 'টিপু সুলতান' নামের সাইমুম ও এসেছিল এই দেশে-অদ্ভুত মানের একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান (যার কথা কখনো ভুলবো না) - 'যদি কিছু মনে না করেন'-এর উপস্থাপক কে সবাই ভুলে গেছেন-শুধু হানিফ সংকেত এখনো মাঝে মাঝে স্মরণ ক
চক্বরের টুকিটাকি
চক্বরের টুকিটাকি
নিজের মনেই মাঝে মাঝে ভাবি আমি এমন ব্যাপক আকারে ঘোরাঘুরির প্রতি নিবিষ্ট হলাম কিসের মন্ত্রণায়! যেখানে বাংলাদেশের নারীরা এ পাড়া থেকে সে পাড়ায় যাওয়া ও পরিণত বয়সে একটি অপরাধের মধ্যে পড়ে। কিভাবে কিভাবে যেন হয়ে গেল।
নিরক্ষর বন্ধু আমার
মৃত্যু-কত রাত তোমাকে নেমন্তন্ন করলাম
খোলা দরজায় স্বাগত সাইনবোর্ড টানালাম
কত ভোরে - সাদা মাদুর পেতে তোমায় ডাকলাম
কত সূর্যালোকে-ঝুঁকিবহুল কত রাজপথে
কখনো হেঁটে - কখনো বা দ্রুতগামী বাহনের 'পরে
নিয়ত তোমাকে ভাবলাম
কিন্তু কই -তুমি তো এলে না বন্ধু
এত যে ভালবাসি-বোঝো না তুমি
৫ বাই ৩ জায়নামাজের সিজদায়
মোনাজাতে রত হাতের রেখায়
সদাই যে লিখলাম চিঠি
কিছুই কি পেলে না তুমি?
নাকি বন্ধু-নিরক্ষর তুমি
আমার প্রণয় কাব্য পড়তে অপারগ
নাকি কুঞ্চিত ভুরু-বিব্রত বিধাতার
তুমি সলজ্জ বাহক?
কুন্ঠা কেন বন্ধু এত
দেখো-এই বাড়ালাম হাত
বিশ্বাস কর-তোমার চোখে যত বিভীষিকা
তার চেয়ে কালো আমার এই রাত.
চিত্রগ্রাফী...
অনেকদিন ধরেই ভাবতেছি ছবি ব্লগ দেই একটা। কিন্তু আলস্যের কারণে দেয়া হয়ে ওঠে নাই। আইজ ভাব্লাম কি আছে দুনিয়ায়! কস্ট কইরা দিয়াই ফালাই একটা ছবি ব্লগ। কিন্তু কথা হইলো যে আমি গৌতম'দার মতো অত সুন্দর কইরা কথা লিখতে পারি না। সেইলাইগাই শুধু ছবি, আর লগে এগুলার নাম দিয়া দেই...
বিস্মৃত স্মৃতি

স্বপ্নের ভুবন

Time pass

Here comes the transport
হৈমন্তী... (২)
তাহার পিতা ছিলেন উগ্রভাবে সমাজবিরোধী। দেশের প্রচলিত নিয়ম কানুনের প্রতি তাহার কোন আস্থা ছিলো না। সরকারী চাকুরে হইয়াও তিনি ঘুষ খাইতেন না, নীতি কথা বলিতেন , তাহাতে সরকার , উর্দ্ধতন কর্মকর্তা তাঁহার উপর ক্ষুদ্ধ হইয়া তাহাকে খাগড়াছড়ি ট্রান্সফার করিয়া দিয়াছে। তিনি রাজধানীতে আসিবার জন্য পরবর্তিতে আর লবিং করেন নাই। আমার পিতা ছিলেন উগ্রভাবে সমাজের অনুগামী। সমাজে প্রতিষ্ঠা পাইতে হেন কাজ নাই, তিনি করেন নাই। অবৈধ পথে টাকা পয়সা কামাই করিয়া, সরকারী জমি দখল করিয়া, সর্বদা সরকারী দলের হইয়া কাজ করিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা পাইয়াছেন। শিলা আমার শ্বশুড়ের একমাত্র মেয়ে। বাবার বিশ্বাস ছিল কন্যার পিতার সমস্ত টাকা ভাবী জামাতার ভবিষ্যতের গর্ভ পূরণ করিয়া তুলিতেছে।