দৌড়ের উপ্রে জীবন
ব্যাস্ততা কারে বলে, আগে কখনো তেমন করে বুঝি নাই । আমি সারা জীবনই অলস, ঘরকুনো টাইপ ছিলাম । সবার দৌড় দেখে ভালো লাগত । একটু ব্যাস্ত হইতে মন চাইতো
।
আল্লাহ আমার মনের ইচ্ছা স্বানন্দে পূরণ করেছেন । একটা ছোট্ট পিচ্চি পাঠায়ে দিছেন । সে এখন আমারে ব্যাস্ততা কারে বলে, হাতে কলমে শিখায়ে দিচ্ছে ।
কম্পিউটারে কাজ করছি, পাশের বিছানার উপর শুয়ে সে চোখ গোল করে তাকায়ে আছে । আমি তাকালেই সে দাতশূন্য মাড়ি বের করে এমন হাসি হাসছে, যে তার অর্থ হল " আমি একটা কিউট বেবি । তুমি আমাকে কোলে না নিয়ে ওই যন্ত্রটার সামনে বসে আছো । দাড়াও তোমার বারোটা বাজাচ্ছি " । এরপর তাঁকে কোলে না নেয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না । এই এখন সে কোলে শুয়ে আছে আর আমি টাইপ করছি ।
এরপর সারাদিন যাবে তাঁকে নিয়েই ( যতই বলি না কেন, ওকে নিয়ে এই ব্যাস্ততা কিন্তু আমি উপভোগ করি । আমার ভালো লাগে
)
*
পত্রিকার স্মৃতি :: সাপ্তাহিক বিচিত্রা
আমার বর্ণশিক্ষার বয়স আর পত্রিকা পড়ার বয়স মোটামুটি কাছাকাছি।
সময়টা তাহলে ৮৮ কি ৮৯ ই হবে। বাংলা পত্রিকা নামক জিনিসটা দুর্লভই ছিল বৈকি।ইরানে বাংলাদেশের পত্রিকা যেত না, আর না যাওয়াটাই স্বাভাবিক।ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের ঐ অংশে সব মিলিয়ে বাংলাদেশী ১০/১২ জন ডাক্তার ছিলেন। বছরে গড়ে তিন/চারজন দেশ ঘুরে যেতেন, যাবার সময় লাগেজে ভরে কিছু পত্রিকা নিতেন। সেই পত্রিকা এরপর হাতে হাতে বদল হত হাজার হাজার বর্গ কিলোমিটার। কতবার করে পড়া হত তার ইয়ত্তা নেই। ছয় মাস কি এক বছরের পুরনোর পত্রিকারও আবেদন কমত না এতটুকু।
আঁধার
অন্ধকারের ব্যান্ডেজে বাঁধা
আষ্টেপৃষ্ঠে জগতের ক্ষত ;
রসাতল জুড়ে অধিক্রমণ
আগুন জলের আদিম খেলার ।
জলকেলি আর জলকেলি চলে
তরল তরল আগুন আর জলে ।
নিরুত্তাপ ফুসফুসীয় দহনে
ঝলসানো চাঁদ , শীতল সূর্য , জোনাকি কিংবা প্রদীপশিখা ;
সব আলোর আজ একটা ধর্ম -
আঁধার এবং আঁধার বিলানো ।
নিশিকাব্য, অসমাপ্ত কথকতা.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
গাছের একটা পাতাও -
নড়ছে না যেন আজ..
ফ্যাকাসে ঘাসের ভাজে ভাজে,
কল্পনার ঝরে পড়া শিশির -
আর;
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গের গান..।
বৃদ্ধ ল্যাম্পপোষ্ট,
ছড়িয়ে দিয়ে যায় -
সাদামাটা বিষণ্ণতা..
মহাকালের ক্যানভাসে,
নিযতির নিষ্ঠুর কারুকাজ..
আজ প্রদীপের নিচে অন্ধকার..।
আবছা আলোর বোকা বোকা ছায়ায়,
ক্লান্ত ঝিঁঝিঁর কোলাহল..
আঁধারের প্রান্তর জুড়ে,
কংক্রিটের খাঁচা..
জং ধরা,
পুরানো গ্রীলের গা'য় -
ভেসে যাওয়া মেঘ,
বৃষ্টির ছাঁয়া..।
পায়ে পায়ে হাটা আদুরে বিড়াল..
নিঃশব্দের পদধ্বনি সংগীতে,
আলতো আদরের পরশে;
ঘুম লাগা চোখে..
এখন অনেক রাত..।
বুইরা চাচাব্বা আর চাছিয়াম্মাগো ব্লগে আর থাকুম্না

দুইন্যার হক্কল সুক, অনলি অন মাই ডিজুশ
গেরামিং এ কৈছেলে। বাট-মগর-লেকিন, এট্টু অয়েটান বুইরা চাচাব্বা আর চাছিয়াম্মার্দল। আপ্নেরা পৈরাছেন সেই প্রাছিং যুগের অন্দকুপের ভিত্রে। দুইন্যা হক্কল সুখ অহন পৈড়া গেছে জুকার্বার্গের শাইটে। ঐখেনে কত্ত কিছু দেকবার পারি। কত্ত মজাউজাও লইবার পারি।
যা কৈতেছিলাম আর্কি। বুইরা চাচাব্বা চাছিয়াম্মাগো বল্গে পইরা থাইকা দিন্দিন কেম্নে কেম্নে হাজার হাজার লাইক্স আর শয় শয় ফেন্দ্রিকুশ মিস্কর্তেছি। হালায় থাকুমই না এই বল্গে। যামুগা, যেই দেশে গুরুরা খায় নরম সবুজ ঘাস, আর নিজের অমুক যায়গায় সাইদ্যা লয় বাঁশ। সেই দ্যাশে যামুগা। নামডিও বদলায়া ফেল্মু। অলিম্পাস জ্রিফিন রাখুম ভাবতেসি।
একটি পরীক্ষা ও দুটো কথা
বন্ধুরা সবাই কেমন আছো ?
বহুদিন পর এসে হুট করে খবর জিজ্ঞেস করতে কেমন যেন লাগে ! তবু আমি দুঃখের সাথে স্বীকার করছি আমার এবিতে আসার অপারগতাকে । জানিনা এতোদিন কিভাবে এবিতে না এসে থাকতে পারলাম , তবে যাই হোক এটা পরিস্থিতির শিকার বা নিজের লেখার অপারগতা যাই বলি , তা কিছুমাত্র কম নয় । কিন্তু আজ হঠাত এসেই সবার কাছে দোয়া চাইলে কেমন লাগে !! তবু চাইছি সবার মন থেকে দোয়া ও শুভকামনা (ভোটের ক্যানভাস করছিনা তা নিশ্চিত থাক)। কিন্তু কিসের দোয়া ?
ঋকের প্রশ্নগুলো
১.
যে বয়েসে আমি একা একা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি ,মফ:স্বলে সে বয়েসে সম্ভবত সবাই বাসায়ই থাকতো, আমি গোঁ ধরেই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম ৪ পূর্ণ হওয়ার আগে, সে বয়েস থেকেই মহল্লার সব ছেলেদের সাথে হেলতে দুলতে স্কুলে চলে যেতাম, আমার বই প্রথম ভাগ, ইংরেজী প্রথম ভাগ আর গণিত ক্লাশের বাইরে তেমন কোনো ক্লাশ ছিলো না। সকাল ৮টায় ক্লাশ শুরু হওয়ার পর ১০টায় ছুটি, আবার হাঁটতে হাঁটতে দলবেধে বাসায় চলে আসা।
মফ:স্বলে সবকিছুই ছিলো ধীরগতির, মোটা আপা, শুকনা আপার ক্লাশের পর বাইরের তেঁতুলের চাটনি কিংবা চালতার আঁচার কাগজে নিয়ে চাটতে চাটতেই বাসার গেটে চলে আসতাম। রাস্তায় কয়েকটা রিকশা আর সাইকেল, স্কুলের পাশেই মসজিদ, মসজিদের সামনে লাইব্রেরী, সে জায়গাটুকু পার হলে পুলিশ সুপারের বাসভবন, সে বাসভবনের সামনে কয়েকটা কামারশালা আর ডাস্টবীন।
পাগলের দিনলিপি (উনত্রিশ)
....................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
আমিতো ছিলাম ছায়ায় ছায়ায় আড়ালে আড়ালে
আলোকোজ্জ্বল তোমার পথে আড়চোখে ঠারেঠোরে
কখনো দেখেছি। শব্দের অভাবে নীরব নিথর
হয়ে চুপ বসে রয়েছি আঁধারে, ভেবেছি দেখোনি
কেউ; অদৃশ্য মানব আমি ভুল সমর্পনে আছি
হুদাহুদাই ...... মোটেই নাহ!
আমার বন্ধুভাগ্য খুবই চমৎকার! কারুর জন্যে কিচ্ছু করতে না পারা, কিবা অনেক গুনী মানুষগুলোর ভিড়ে একদমই অকাজের আমি’টার ভাগ্যে অনেক সময় নিজেই অবাক হই। গৌতমের লেখাটা পড়ছিলাম, পড়ে লাগলো এই আন্তর্জালিক ক্ষেত্রের বন্ধুগুলো কি আষ্টেপৃষ্টেই না জড়িয়ে আছে জীবনের চলার পথে! এই মানুষগুলো কেবল কথার পিঠে কথা ছুড়ে দিয়েই নয়, কাজেও ধারেকাছেই থাকেন। হয়তো আমার গন্ডিটা ছোট্ট বলেই বলতে পারছি এমনটা।
কোন এক বিকেলে..[এলোমেলো কাব্যকথন!]
কোন এক বিকেলবেলায়..
চারদেয়ালের জীবন থেকে নেয়া একটু ছুটি..।
ঝরো হাওয়ায়;
উথাল পাতাল ভালোলাগা,
সীমাহীন উচ্ছ্বাস..।
একলা ছাদে,
গোধূলি আভার ছায়ায়..
কল্পনার তেপান্তরে,
সবুজ-ভেলভেট হাতে আঁকা জলছবি..
পটে তার..
স্বাধীনতার সোনালী সুরুজ,
রক্ত ঝরে লাল..।
চেনা শহরের ব্যাস্ত রাজপথ..
অগোছালো তরুণের দৃপ্ত পদক্ষেপ,
টি-শার্টে প্রিয় দেশটার তরে প্রার্থনা..
রিকশায় বসা আদুরে তরুণীর,
আলতো হাতে..
সবুজ পাতায় লাল গোলাপে;
দিবস-ওয়ারী চেতনার উদযাপন,
আর ভুলে যাওয়া ভালবাসা..।
সময়ের তালে..
বড় বেশি বদলে যাওয়া শহরটার,
কোন এক কোণে..
উদাসী বাতাসে;
প্রাণ আকুল করা,
পুরানো দিনের বাংলা গানের সুর..
আজ বিকেলের হাওয়া..যেন,
হৃদয় টাও দোলা দিয়ে যায়..
এলোমেলো ,ভাবনায়..
হাওয়ায় হাওয়ায়..।।
"তারা এদেশের সবুজ ধানের শীষে"
১
- কলেজে আমাকে নিয়ে একচোট হাসাহাসি হয়ে গেল । গাঁয়ের ছেলে আমি, লুঙি পড়েই স্কুলে যেতাম । গাঁয়ে পেন্টের চল হয়নি তখনো--আমার ছিলও না । সবার উৎসাহে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়েছি । ওখানে লুঙ্গি চলবেনা । সমস্যা হয়ে গেল ! তো অগতির গতি বড়বু’কে খবর দে’য়া হলো । দূলা ভাই জাহাজী । বাড়ী আসার সময় অনেক জামা-কাপড় নিয়ে আসতেন । ফিরে যাবার সময় ওগুলো আর নিয়ে যেতেন না, সিন্দুকে তোলা থাকতো । বুবু ওখান থেকে দু’জোড়া শার্ট-পেন্ট ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “ নে -- লম্বায়তো মা’শাল্লা তাল গাছ হয়ে গেছিস, কোমরে ঢিলে হতে পারে –বেল্ট কষে নিস’ । ‘কই পামুনে বেল্ট’! আমি নাকি স্বরে বললাম । বুবু একটু ভাবলেন, তারপর বললেন, ‘ ঈদের পা’জামা তোলা আছেনা তোর ? ওটার নেড় [ফিতা] বের করে নে । তার পর পরে দেখা, কেমুন লাগে দেখি’ ! অগত্যা কি আর করা!
আংশিক রঙীন - আংশিক ডিজিটাল "মুঘলে আযম" (২)
পঞ্চম দৃশ্যঃ
শহাজাদা সেলিম অতি অল্প সময়েই আনারকলির সহিত ফোনালাপে মত্ত হইয়া পড়িল। আনারকলির সহিত আলাপের জন্য সেলিম তাহার ফোনের "বন্ধু" প্যাকেজ খানা পাল্টাইয়া "প্রিয়" প্যাকেজ রুপান্তর করিল। ইহাতে কোনরূপ ঝামেলা ছাড়াই ৬০ মিনিট মাত্র ৫ টাকায় কথা বলিতে পারে।
সেই রাতেই সেলিম আনারকলি কে তাহার facebook এর ফ্রেন্ডলিস্ট যোগ করিয়া লইলো।
অতঃপর আনারকলির নানান এলবাম খুলিয়া খুলিয়া শাহজাদা দেখিতে লাগিলো। স্বল্প বসনা pic গুলির দিকে সেলিম তাকাইয়া তাকাইয়া lol ফেলিতে, থুক্কু লিখিতে লাগিলো কমেন্টে।
দেয়াল
বেশ কয়েক বছর আগে যখন প্রায় নি:সঙ্গ, সঙ্গী বলতে অন্তর্জালিক বন্ধু আর এলেমেলো ঘর, সে সময়ে হুট করে নিলামে কিনলাম গীটার। গীটার আর টিউনার কিনে মাঝে মাঝে গীটার বাজাই- পুরোনো আড্ডায় শোনা গানগুলো গাইতে চেষ্টা করি, একটা বিষয়ই বুঝলাম, আমাকে দিয়ে অন্য অনেক কিছুই হতে পারে কিন্তু গীটার বাজিয়ে গান গাওয়া সম্ভব হবে না, অতীতের কয়েকটা ছোটোখাটো গান বাজানোর অভিজ্ঞতা দিয়ে গান গাওয়া হয় না, তবে বুকের ভেতর অনেক কথার বাক-বাকুম, সে সময়ে এক প্রিয় বন্ধুর বিবাহবিচ্ছেদের সংবাদ পেয়ে প্রথম গান লেখা আর সুর করা। সে গানের শেষের অংশটুকু এখন মনে আছে, মুখ মনে নেই, অবশ্য ৬ বছরের ব্যবধানে গানের সুরের কোনো কোনো অংশ বাদ দিলে অধিকাংশই বিস্মৃত।
