নর-নারী (৩য় অংশ)
দানব পুরান
শুভ জন্মদিন
শুভ জন্মদিন সুপ্রিয় জন্মভূমি।
গড়পড়তা দেশগুলোর মতোন স্বাধীনতা দিবসেই যেমন সেগুলোর অধিবাসীদের নিজের হয়ে যায় দেশটা আমাদের তা হয়নি, অনেক কষ্টের মূহুর্ত পার করে তবেই পেয়েছি বিজয়, নিজের দেশ, বাংলাদেশ। বীর বাঙ্গালী স্বাধীনতা ঘোষনা দিয়ে লড়াই করে তবেই পেয়েছে স্বদেশ, তাই স্বাধীনতা দিবসই আমাদের মাতৃভূমির জন্মদিন নয় কি!
ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা,
ও’সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি।
অনেক কঠিন মূহুর্তেও চোখে পানি আসে না, কিন্তু অহেতুকই গলা বুজেঁ এসে চোখ ভিজে উঠে যতবারই শুনি গানটা। অদ্ভুত লাগে ধনধান্যে না ভরা থাকুক, উলটো চুরি-ছ্যাচড়ামি-মিথ্যুকের আখড়া হলেও সব ছাপিয়ে বুকভরা ভালবাসা, আত্মার টান আর কিছুতেই যে লাগে না। যতখানেই যেভাবেই থাকুক সবার নাড়িঁ পোতা যেন এখানেই, উপেক্ষার যো নেই এই অনুভবটাকে। এই দেশ নিয়ে গর্বের শেষ কি আছে কোন বাঙ্গালীরই।
অপেক্ষায় বাংলাদেশ
সামান্য এক 'আমার' কথা 'আমার' মত
বলব বলে-
যেমন 'আমার' ঠিক মনে হয় তেমন
করে বাঁচব বলে-
ইচ্ছে হলে 'আমার' সুখে সবাই
মিলে হাসব বলে-
'আমার' যারা সাধ্যমত ওদের
ভালবাসব বলে-
'আমরা' হয়ে ভবিষ্যতের দারুন
ছবি আঁকব বলে-
'আমরা' হয়ে আজকে-
টাকে কালকে থেকে ডাকব বলে-
শান্তি খুঁজে অশান্তি-দের
দূরান্তরে ঠেলব বলে-
অন্যায়ে পথ ছাড়ার আগে ন্যায়-
পতাকা মেলব বলে-
আলোর পথের যাত্রী যারা প্রাণ
করেছেন দান-
যতই চলুক কর্মসূচী, হৃদয় ছোঁয়া গান-
যে অবধি শুদ্ধস্রোতে না ধুয়ে নিই
মন-
মানুষ হবই- নিজের কাছেই-
না করি সেই পণ-
নিজের নিজের
জায়গা থেকে দায়িত্ব না বুঝে-
রক্তঋণের দায়শোধে আর
উপায়টা না খুঁজে,
যতই শোকের মাতম তুলি চোখ
ভেসে যায় জলে,
রক্তলালের শহীদ-
স্মৃতি কাঁদবে স্রোতের তলে!
আর কতকাল অপেক্ষাতে? আর
কতকাল? খাঁচায়?
এখন সময়- মানুষ হবার, মানুষ
হয়ে বাঁচায়!
আমরা যদি 'মানুষ' হই আর
দেশটা জাগে শেষে,
হয়ত ওঁরা শান্তি পাবেন, সেই
সে বাংলাদেশে!!
শুভ জন্মদিন, বাংলাদেশ!!!
কালতান্ডবে বাংলাদেশের জন্ম ও মিথ্যাচারঃ ২৫শে মার্চ থেকে ২৬ শে মার্চ
২৫শে মার্চ।
বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার আলোচনা ছিল একটি শঠতা , সময়ক্ষেপন মাত্র।ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যগের সাথে সাথে শুরু হয় ঘুমন্ত নিরস্র জনতার উপর পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ । বিশ্বের ইতিহাসের এই নিষ্টুর হত্যাকান্ডের নাম ''অপারেশন সার্চলাইট।'' এই ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করতে ঢাকায় ডেকে আনা হয় ''বেলুচিস্তানের কসাই '' খ্যাত জেনারেল টিক্কা খান কে ।
ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনা ভেস্তে গেলে কি পরিস্থিতি হতে পারে তা আঁচ করেছিলেন এবং তাঁর লিখিত দু'টি ঘোষনার পাশাপাশি নিজের কণ্ঠে একটি মেসেজ তৈরী করেছিলেন যা কিনা ২৫শে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হত্যাজজ্ঞ শুরু হওয়ার পর একটি হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে প্রচার করা হয়।

সময় ও অস্থিরতার শব্দ
বিষণ্ণ কবিয়াল
আয়নাগ্রন্থে লিখে চলে অস্থিরতার গান।
মেঘের ছায়া পড়ে
দ্রোহের প্রতিবিম্ব তীব্র গতিতে ছুটে যায়
আঙ্গুলের তেলতেলে রেখারা জমে পাতায় পাতায়
ঘেমে ওঠা হাতের স্পর্শ জেগে থাকে ফুটনোটে এবং মার্জিনের এখানে সেখানে।
অবসন্ন কবি
বই পোড়া ছাইয়ের মাঝে খুঁজে পায় রক্তের দাগ
অশ্রুর ছাপ
অস্থিরতার শব্দ বাঁধা পড়ে দোতারার তারে
জনতার পদশব্দে।
চন্দ্রাহত তরুণ
মাতাল জোছনায় ফিরে ফিরে চায় আকাশে
যেখানে রিক্ত পাতা আর শাখারা ঘিরে রাখে সুগোল যুবতী চাঁদ
নগরের সুউচ্চ অট্টালিকার দল জেলখানা হয়ে জানালায় চোখ রাখে।
আয়নায় প্রতিধ্বনিত হয় সময় ও অস্থিরতার শব্দাবলী...
গোয়িং ব্লাক আউট: বার্থ থ্রু জেনোসাইড [অন্ধকারে নিমজ্জন অত:পর একটি রক্তস্নাত জন্ম]
২৫শে মার্চ, ১৯৭১- রাতের আঁধারে নেমে আসে হিংস্র হানাদারবাহিনী। ঘটে ইতিহাসের জঘণ্যতম গনহত্যা। আমরা স্মরণ করতে চাই সেই সকল শহীদদের। আমাদের হৃদয়ের গভীর থেকে তাদের প্রতি আমাদের সম্মান জানাতে চাই।
মনে করিয়ে দিন বিশ্বকে, সেই গনহত্যার কথা, যা আজও আমরা ভুলি নি। মনে করিয়ে দিন সেই জেনোসাইডের কথা, যার জন্য আজও ক্ষমাপ্রার্থনা করে নি পাকিস্তান আমাদের কাছে।
২৫শে মার্চ আমরা ৫ মিনিট ব্লাকআউট করবো। ঘরের সকল আলো নিভিয়ে দেব। নিজেদের প্রোফাইল পিকচার কালো করে দেব। সামনে থাকা কম্পিউটার/ল্যাপটপ বন্ধ করে দেব। ৫টি মিনিট কাটাবো আমরা অন্ধকারে, শহীদদের প্রতি সম্মানার্থে।
ব্ল্যাক আউট হয়ে যাক বাংলাদেশ। ১৯৭১ এর সেই কালো রাত- ২৫শে মার্চের স্মরণে।
গোয়িং ব্লাক আউট: বার্থ থ্রু জেনোসাইড
ফেইসবুক ইভেন্ট লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/events/111707482353513/
তারিখ: ২৫শে মার্চ
বাংলাদেশ সময়: রাত ১১.৫৫ - ১২.০০
সাথে থাকুন। আমরাই আপনারা, আপনারাই আমরা।
বিষাদলোকের জোছনায় ভেসে যেতে, ভালোবেসে – কিছু কথকতা..
বেশ অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল আজকাল লুপে ফেলার মত নতুন গান বলতে গেলে আসছেই না। মাঝে মাঝে কালে কদাচিৎ কিছু হয়তো মিলে। কিন্তু তার জন্যও আজকাল হাত বাড়াতে হয় ওপার বাংলায়। কিছু কিছু সময়ে একসাথে যখন অনেকগুলি এলবাম রিলিজ পায় তখন দেখা যায় কয়েকটা গান পাওয়া যায় যা হয়তো কয়েকবার শোনা যায়। কিন্তু টানা শুনে নেয়া যাবে, আবার শোনা যাবে এমন কোন গানের এ্যালবামের কথা ভাবলে কিছুই মাথায় আসে না আমার।
খারাপই লাগে ভাবতে। সেই কবে পেয়েছিলাম কৃষ্ণকলি'র 'সূর্যে বাঁধি বাসা', অর্ণবের 'হোক কলরব' অথবা হাবিবের 'শোনো'। প্রায় সবগুলা গানই ছিল শোনার মত, দুয়েকটা ছাড়া কোন গানই স্কিপ করতে হত না। একবার ছেড়ে দিলেই হত, দিব্যি হারিয়ে যাওয়া যেত। তেমন এ্যালবাম আর পাওয়াই যায় না, এই আফসোস আমার মাঝে মাঝেই ঘুরে ঘুরে ফিরে আসে।
বিপ্লবের ভেতর-বাহির: ৩
সকলেই জানি যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাম দলগুলোর ভূমিকা ছিল খুবই জটিল ও বিভ্রান্তিকর। মস্কোপন্থীরা এই বিভ্রান্তি থেকে দূরে ছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। কিন্তু চীনপন্থীরা এই বিভ্রান্তি থেকে বের হতে পারেনি। পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মা-লে) যুদ্ধ শুরু হলে দুই ভাগ হয়ে যায়। এর মধ্যে এক ভাগ মুক্তিযুদ্ধকে বলেছিল, ‘দুই কুকুরের লড়াই’। মূলত মতিন-আলাউদ্দিন ও আব্দুল হক-তোহায়ার নেতৃত্বের দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা করে। এর মধ্যে হক-তোহায়া পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইও করেছিল। এমনকি তারা পাক সেনাদের কাছে অস্ত্র পেয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আবার সুখেন্দু দস্তিদার লাল ফৌজ বাহিনী গঠন করে পাক সেনা ও মুক্তিবাহিনী উভয়ের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করে। একই ধরণের কাজ করেছিল মতিন-আলাউদ্দিন গ্রুপ। যদিও একাত্তরের ঘাতক-দালাল বলার সময় এইসব চীনাপন্থীদের কথা আমরা কখনোই মনে করিনা।
বাড়ী এলাম!
বাড়ীতে আসছি দুই আড়াই দিন হয়ে গেলো। আসার সময় প্ল্যান ছিলো বাড়ী থেকে প্রতিদিন পোষ্ট লিখবো। প্রতিদিনের দিন যাপন সাথে টিভি দেখা ও ঘুরে বেড়ানো নিয়ে ভালোই লেখা যাবে পোষ্ট। কিন্তু মানুষ ভাবে এক হয় আরেক। শুক্রবার দুপুরে বাড়ীতে আসার পর থেকে আমার মোবাইল দিয়ে লিখতেই ইচ্ছা করছে না। আর কীপ্যাড দিয়ে লিখলে এখন কেনো জানি না হাত ব্যাথা করে। এন্ড্রয়েড দিয়ে যে লিখবো সেরকম চার্জই থাকে না। আর কি নিয়ে লিখবো তা নিয়েও চিন্তা। কারন টিভি আজ বিকালেই একটু দেখার কপাল হলো। তার আগের দুইদিন তো ডিসের লাইনেই কারেন্ট ছিলো না। আমি বাড়ীতে আসলে সবসময় এমন হয়। হয় কারেন্ট থাকে না, নয়তো কারেন্ট থাকলে ডিস থাকে না। যে কারেন্ট আসে তা দিয়ে শুধু মোবাইলেই চার্জ দেয়া যায়। আর কিছুই করার উপায় নাই। আমাদের গ্রামে যাদের আত্মীয় ইতালি পার্টি তাদের সবারই দুইটা তিনটা করে ফ্রিজ। যেনো একটা নষ্ট হলে আরেকটা বেকাপ দেয়। আমাদের মরা ধরা ফ্রিজ যা বাইশ বছর ধরে পড়ে আছে। প্রতিবার বাড়ীতে আসলেই আম্মুর দুশ্চিন্তার কথা শুনি। আমি অবাক হই ফ্রীজটার জানের এতো জোর দেখে। কারন এতো ইলেক্ট্রিসিটি বিপর্যয়ে টিকে আছে কিভাবে?
হোম, সুইট হোম!
বাড়ি এসেছি তিন দিন হয়ে গেছে, অথচ একদিন থাকার কথা ছিল। বাড়ির মায়া ছাড়াতে পারি না, তাই এখনো নগরজীবনে ফেরা হয়ে উঠেনি। গ্রামের মধুর আলস্য চুটিয়ে উপভোগ করছি। এই তিনদিন আড্ডা, ঘোরা আর খেলা নিয়েই আছি। শুক্রবার রাতে এসেই চরম একটা ঘুম দিলাম। আহা! এই ঘুমের জন্যই তো বারবার বাড়ি আসা। এত আরাম বাড়ি ছাড়া আর কই পাব। আমার মনে হয় জীবনে যারা গ্রামে যায়নি তাদের চেয়ে দুর্ভাগা আর কেউ নেই। অনেক ছেলে-মেয়েই আছে যারা বাংলাদেশে থাকে অথচ জীবনে কখনো গ্রামে যায়নি-কথাটা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটি কিন্তু মোটেও অবিশ্বাস্য না। আমি নিজে এমন বেশ কিছু ছেলে-মেয়ে দেখেছি যারা জানেনা ধানগাছ দেখতে কেমন, তাদের ধারণা ধানগাছের কাঠ দিয়ে তক্তা বানানো হয়।এদেরকে দেখলে হাসি পায়, গ্রাম সম্পর্কে এদের চিন্তা-ভাবনা শুনে আতংকিত হই ভবিষ্যত প্রজন্ম গ্রাম চিনবে তো? এদের নিয়ে দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তা করা উচিত, তাদের উচিত দেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আরো বেশি করে মানুষের সামনে তুলে ধরা।
বন্ধু- আড্ডা - গান, এরই মাঝে প্রাণ!
শেষমেশ ফিরেই এলাম আবার।
এক কুঁড়ি দুই পাতার দেশ, সিলেট থেকে।
আবারও শুরু আমার চিরাচরিত অলস হাবিজাবি দুষ্টামি দিন।
একবার ভেবেছিলাম এই লেখাটার নাম দিবো, 'সিলেট থেকে ফিরে - ট্রাভেলগ!'। পরে মনে হল, তাহলে কথাটা মিথ্যা বলা হতে পারে! এগারো দিন থেকে এলাম বটে সিলেট, কিন্তু ঘুরতে যাইনি কোন খানেই। কেবল, আদর্শও ছুটির মেজাজে বেড়িয়ে এলাম এই কয়টা দিন।
আচ্ছা, শুরু থেকেই বলি।
পরীক্ষা তো সেই কবেই শেষ, তারও আগে থেকে সিলেট যাবো যাবো করছিলাম। হবে হবে করেও হচ্ছিল না। ১০ তারিখ হঠাৎ করেই মনে হল, যাই গা!
বায়াকে বললাম, ও অফিস থেকে কমলাপুর স্টেশন গিয়ে পেয়ে গেল পরের দিনের টিকেট! এমনিতে যেখানে ৩/৪ দিন আগেও টিকেট কাটতে গিয়ে ফেরত আসতে হয়।
আমাকে আর পায় কে!
টুকটাক কেনাকাটা সেরে সন্ধ্যার পরপরই ব্যাগ গুছিয়ে রেডি।
অনন্ত-বর্ষা কাহিনী ('গানা' নয়, মোহাম্মদপুর থেকে)!
সিনেমা বানিয়ে যতটা না, তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচিত হয়েছেন জলিল অনন্ত 'পম গানা' টাইপ সংলাপ দিয়ে!
তার ছবির নায়িকা বর্ষার সাথে তুমুল প্রেম শেষে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে, সানাই বাজিয়ে, ঢাকা টু সিরাজগঞ্জ বিমান উড়িয়ে বিয়ে করেছিলেন।
এখন দেখছি, সিনেমার মতোই কাহিনী ঘটছে- জলিল বর্ষাকে মারধর করেছেন, আর বর্ষা দুঃখ সইতে না পেরে মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে জিডি করলেন!
কোথায় হারালো এতো ভালোবাসা?
কিছুদিন আগেও আমার বাসা মোহাম্মদপুর ছিলো। বর্ষার বাসাও মোহাম্মদপুর। সেই সূত্রে তিনি আমার প্রতিবেশিনী!
মাস কয়েক আগের কোনো এক বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর বিনোদন পাতায় 'আনন্দ'তে বর্ষাকে নিয়ে একটি ফিচার ছাপা হয়েছিলো। রিপোর্টারের সাথে কথা বলার মাঝখানেই উঠে গেলেন বর্ষা, 'অনন্ত ফোন করেছে, একসাথে লাঞ্চ করবো।'
প্রথম আলোর মতো প্রথম শ্রেণির পত্রিকাকেও তিনি তোয়াক্কা করেন না! ভদ্রতাবশত সাংবাদিককে লাঞ্চ করে যাওয়ার কথা বলবেন কী, নিজেই মাঝপথে চলে যাচ্ছেন!
পরদিন শুক্রবার। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আলোকচিত্রী সাইদা, লেখক খানমের সাক্ষাৎকার নিতে বনানী যাবো আমি এবং আমার সহকর্মী মিজান মিজানুর রহমান।
আগামীকাল ২৪ মার্চ, শাহবাগ চত্বরে মশাল মিছিল: চলুন আবার শ্লোগান ধরি একসাথে...
গণজাগরণ মঞ্চ নিয়া হাজারো প্রশ্ন-হাজারো সন্দেহ-হাজারো অভিযোগ আমাদের প্রাণে...কিন্তু এই মঞ্চ তৈরী হয়েছে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়-প্রেরণায় সেই কথা মনে হয় আমরা ভুলতে বসেছি। আমাদের শ্লোগানে আর প্রতিরোধে যেই মঞ্চের সৃষ্টি তাকে জবাবদিহিতা করতে হবে আমাদের কাছেই। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে একেবারেই নিঃস্বার্থ হয়েই আমরা যুক্ত হয়েছিলাম, কোনো রাজনৈতিক দল-কোনো এজেন্সী-কোনো ভিনদেশি চক্রান্ত আমাদের মোটিভেইট করেনি। আমরা শাহবাগ চত্বরে দাঁড়িয়েছি আমাদের ঐক্যবদ্ধতা মূর্ত হয়েছিলো গণজাগরণের চেতনায়।
আমাদের - একান্ত আমাদেরই প্রেরণায় যেই গণজাগরণ মঞ্চ তার অনেক সিদ্ধান্ত আজকে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সেইসব প্রশ্নের জবাব চেয়ে আমরা আবার একতাবদ্ধ হবো...আমাদের ঐক্যের শক্তি দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চকে বাধ্য করতে হবে জনতার কাছে জবাবদিহি থাকতে।
বাংলার মুখ
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটা জন্মের সময় থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দুরা নির্যাতন, হত্যা, লুন্ঠন, জ্বালাও পোড়াও, ধর্ষণের শিকার হয়ে এসেছে। ১৯৭১এ এই দেশে হিন্দুর সংখ্যা ছিল ৩৭%, স্বাধীনতার ৪১ বছর পর তা এসে দ্বাড়িয়েছে ৯% এ। দেশ স্বাধীন হল সেক্যুলার দেশ কল্পনায়। সেটা কল্পনাই রয়ে গেল। যাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁদের সরিয়ে দেয়া হল ষড়যন্ত্র করে। ৭১এর বিরুদ্ধ বিল্পবের লোকেরা ক্ষমতায় পৌছে গেল। তাদের স্বপ্নে মুসলিম রাষ্ট্রের পতাকা। কিন্তু তারা দেখেনা তাদের মুসলিম রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা। হিন্দু তথা সংখ্যালঘুদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এরা দায়ী।

সুইট বিষুদবার...
বৃহস্পতিবার এরশাদ পরবর্তী শহুরে মধ্যবিত্তদের জন্য খুব আনন্দে দিন। ডিজুস রেডিও ফুর্তি তার নাম দিছে ফুর্তি দিবস । তবে আমি বুঝি না এতো ফুর্তি কই থেকে আসে? আর শুক্রবার যাদের দিকেই তাকাই দেখি সেই ছুটির সময় কই? সবাই ব্যাস্ত। এই একদিনেই ফ্যামিলী নিয়ে বের হইছে, বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাইতেছে, দাওয়াত খাচ্ছে, কত কাজ। এগুলারে কি ফুর্তি বলা যায়। ফুর্তি বলা যায় তাকেই যে ফুর্তিতে থাকে। নিজের মতো খাওয়া আনন্দ ঘুরাঘুরি করে বেড়ায়, কোনও টেনশন বা ভাবনা নাই। সেরকম আনন্দ কোথায় পাওয়া যায়!