সংবাদপত্র জগতের গল্প-১
সকালেই ফোন ফাহিমের। ধরতেই বললো, মাসুম ভাই চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। চমকে উঠে বললাম, কেন, কি হয়েছে। ফাহিম জানালো, গতকাল মিটিং ছিল মালিকের সাথে, মিটিং-এ মালিক গালাগালি করেছে খারাপ ভাবে। সেটা শুনতে ভাল লাগেনি বলেই সাথে সাথে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। মিটিং-এই ফাহিম মালিককে বলে এসেছে যে, আপনার চাকরি আর করছি না।'।
ফাহিমকে চিনি অনেকদিন ধরে। অত্যন্ত ভাল ছাত্র ছিল। কিন্তু নানা সঙ্গদোষে ভাল ছাত্রের সুনামটা আর ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সামলে নিয়েছে নিজেকে। বিয়ে করেছে, একটা ছেলেও আছে। পুরো পরিবারটা তেখতে ভাল লাগে। ফাহিমের বউ আমার বউয়ের দিক থেকে আত্মীয়ও হয়। আবার আমি যখন ইত্তেফাকে, তখন তাকে আমার সম্পাদিত অর্থনীতির পাতায় লিখতে দিতাম। সেই সুবাদে তার সাংবাদিক হওয়ার পথটা সহজ হয়েছিল। আর এখন নিজ যোগ্যতায়ই বিশেষ প্রতিনিধি হতে পেরেছে।
চোখের তরজমা
চোখের তরজমা;
পাপড়ির পর্দা;
তারে তারে কম্পণ পৌঁছালো কী?
কলিজার ভেতর থেকে রক্ত ছাড়া আর কি দেখানোর আছে!
নখের দিকে তাকাও
নেল পলিশ ছাড়াই কী রূপে জ্বলজ্বল করে বাহারি আচড়।
আলপনা মানে হস্তরেখার খাল
নাভী ও যোনি দুই সীমান্ত,-
চলে দুই দিকে অন্ত আমার অন্তর্জাল
দুটি পা' গেছে মলয় ও হিমালয়
হিমের ভেতর দেখ অমার তালু দেখ কতো উষ্ণ!
ফিরে এসো সিঁথিপথ ধ'রে, দেখ গুঁরুদাস
সন্ধ্যা নদীর সকাল বিকাল রাত্তির নাই
জোয়ার ভাটা তবু হাটাহাটি করে এইসব তীর্থস্তনে।
ঘুমের অতীত এই সিঁথিপথ ঘুম;
স্বপ্নের আবহসঙ্গীত হলো সিলিপিং পিল।
তবু মেপে নাও পায়ের ছাপ থেকে মাছি ও মাছের দীর্ঘতা
ওড়নার খানিকটা অংশত দৃশ্য উড়ে
শিকার নিয়ে চলে মহারাজা
বাঘের স্থান বদলের ইতিহাস পাঠ করা পর্যটক।
আমাদের জন্যে অপেক্ষাই শ্রেয় হলো;
বলো,আমরাই কী তোমার শিকার হবো?
নিঃশব্দের গল্প শেখাও
ঘুমোতে যাবার আগে কিছু বলে নিতে হয় স্বপ্নের কাছে
যেনো দোষে কিছু ফুটে না ওঠে ঠোটে;
কিছু যেনো ডুবে না যায় যাযাবর লোভে।
বালিশ কম্বলের কাছে ওয়াদা করে নিতে হবে
সব কথা বলা যাবে শ্রুতি ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে
ঘরের জানলাগুলো জানাবে দিগন্তের খবর।
অবাক করার মতো কোনো বাকদেবী দাওয়াত পাবে না
যারা এসো নগ্ন হয়ে
যদি পারো-
মাছের স্বভাব দেখাও
গল্পের উঠানে ঝাপ দিয়ে নিঃশব্দের গল্প শেখাও।
লুঙ্গি ওপেন ও চাদর ধোয়া
লুঙ্গি ওপেন
আমরা তখন মতিঝিল টিএন্ডটি কলোনিতে থাকি। এসএসসি পরীক্ষার পর অফুরন্ত অবসর। পড়াশুনা নাই। স্কুলের নিয়মের বেড়া নাই। সারাদিন আড্ডা, খেলা নিয়া থাকতাম। আরেকটা জিনিস শিখতে শুরু করেছি তখন, মেয়েদের সাথে ফিল্ডিং মারা। মাঞ্জা মেরে দলবেধে ঘুরতাম আর বিল্ডিংয়ের বারান্দায় দাড়ানো মেয়েদের সাথে টাংকি মারতাম।
'ইমপসিবলের চেয়েও অধিক ইমপসিবল হলো আনইমপসিবল'
যেমন আমি লিখতাম বা লিখতে পারতাম আজ সকালের নৈয়মিক দিনাচার নিয়ে। দুটি বালিকা সামনের সিটে বসে বিস্তর বকবক করেই যাচ্ছিলো। টুইটারের মনযোগ থেকে বাধ্য হলাম তাদের খুনসুটি শুনতে। সাধারণত সহযাত্রীদের কানের দূরত্ব মেপে চাপা গলায় যেমন মানুষ ফিসফিস করে - সেসব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে আগেই। মাইক্রোবাস ভর্তি মানুষ এখন মনযোগী অডিয়েন্স।
একজন বললো, মা'কে দারোয়ান বানিয়ে রেখেছি সাড়ে ৬টা থেকে। গাড়ী আসলেই যেনো আমাকে ডাক দেয়! সকাল থেকে মেজাজ গরম!
অন্যজন হাসলো খিলখিলিয়ে। আমি তো এলার্মেও উঠি না। মা আমাকে সেই ছোটবেলা থেকে সকালে উঠিয়ে দেয়, ইস আরেকটু ঘুমাতে পারতাম যদি!
আমার কানে কিছু বলতে এলো সে, হাতছানি তার অজানায় বহুদূর
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততায় আর তিতলির অবুঝপনায় ক্লান্ত হয়ে সায়ান আস্তে আস্তে তিতলির সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিল। মেইল, ফোন সবকিছু সে নিজে কমিয়ে দিল, তিতলির ডাকে সাড়া দেয়াও কমিয়ে দিল। ওদের মধ্যে একটা অলিখিত নিয়ম ছিল, প্রতি ভোরে দুজন দুজনকে সুন্দর একটা দিনের শুভকামনা জানিয়ে উইশ করা, সেটা সায়ান বন্ধ করে দিল। শুধু যে তিতলির অবুঝপনা আর ঝগড়া এটার কারণ ঠিক তাও নয়। আজকাল সায়ান ভবিষ্যৎ এর কথাও ভাবছিল। সামনের সুন্দর উজ্জল ক্যারিয়ার আর ভবিষ্যৎ ফেলে সে সহসা দেশে ফিরতে চায় না। আর তিতলিও তার পরিবারের খুব ন্যাওটা। তাদের ছেড়ে সে এই দূরদেশে আসার কথা ভাবতে পারে না। তাহলে এ লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপের ভবিষ্যৎ কি? কি দরকার এ মূল্যবান সময় আর শক্তি বৃথা নষ্ট করে তার রাত জাগার?
গল্প: অতি সাধারণ কথোপকথন
হানিমুন সহজ কথা না। এটার পরিকল্পনা করাও কম ঝকমারি না। জীবনে একবারের বেশি হানিমুন হয়ও না। হলেও প্রথমবারের ব্যপারই থাকে ভিন্ন। আবার বিয়ের পরপরই হানিমুনে না গেলে পরে আর সেটাকে হানিমুন বলাও যায় না।
সব মিলিয়ে একটা ব্যপারে নিশ্চিত থাকতে পারো যে, হানিমুনের একটা পাকা বন্দোবস্ত না করে বিয়ে করে ফেলাটা আসলে ভালো হবে না। এখন ধরো, বিয়ের অন্য সব রকম প্রস্তুতি তোমার নেয়া হয়ে গেছে। আর হানিমুন সম্পর্কে ভেবে রেখেছো যে, সে পরে দেখা যাবে। তাহলে কিন্তু হবে না। সবার আগে এটা ভেবে রাখা জরুরি। এটা ভাবার আগে অর্থনীতি নিয়ে ভাবাও জরুরি। এজন্য অবশ্য শওকত হোসেন মাসুমের সাদা-কালোর অর্থনীতি বইটি পড়ে রাখতে পারো চাইলে।
নির্দোষ গল্প
আজকাল বাসায় ফিরতে বেশ রাত হয়ে যায়।
গত সপ্তাহের কথা। সেই রাতে আরও রাত হল। টেলিভিশনে একটা প্রোগ্রাম ছিল। শেষ করে আসতে আসতে রাত একটা। ঘুমাতে গেলাম আরও পরে। নিশ্বাসের দূরত্বে থাকা বউ বললো. আজকাল একটু বেশি সরাসরি কথা বলছি টকশোতে, এটা কি ঠিক? আমি এটা নিয়ে জ্ঞানগর্ভ একটা বক্তৃতা টাইপ দিলাম। বললাম, মানুষজন এরই মধ্যে এসএমএস করে থ্যাংকস দিছে। আর মিউ মিউ করে জীবন কাটানোর কোনো অর্থ হয় না।
বউ মনে হল একটু খুশী হল।
আমি তারপর বললাম, তোমার কত ভাগ্য। তাই না?
বউ কপালে ভাঁজ ফেলে বললো, কিরকম?
আমি বললাম, একটু আগে যাকে টিভিতে দেখলা, গরম গরম কথা বললো, মানুষজন প্রশংসা করলো, এখন তুমি তার সঙ্গেই শুয়ে আছো। তোমার ভাগ্য তো ঈর্ষা করার মতো।
তারপর?
বুড়োধাড়িরা আগ্রহে উঠে ব'সে
আবারো জিগ্যেস করে: 'তারপর?'
ব্যাপারটা তাদের মাথায় যাতে ঢোকে
তার জন্যে
ধোঁয়ায় ধোঁয়াকার হয়ে
বৃষ্টির নাম জল হয়ে যায়
সে যে এসেছিলো আকাশ তো বলেনি
হায় সেই রাতে দীপ মোর জ্বলেনি
ব্লাস্টিং নিউক্লিয়ার
আমাদের তেত্রিশ ঘন্টা এবং চুয়ান্ন সেকেন্ডের
বিস্তারিত ইতিহাস মোটামুটি এমন
সান্নিধ্যে যেতে ঐ ঘন্টা কতেক লেগেছিলো এবং চূর্ণ হতে সেকেন্ড
যখন কণ্ঠ থেকে সেতারের তার খুলে গেলো
আর টিভিতে হাজির বিপদ সংকেত
বাহান্ন হাজার মানুষ খালি করে দিলো সমুদ্র সৈকত
আর এ পাড়ার গলিতে উড়ানো দুটো ঢাউস বেলুন
বিদীর্ণ আওয়াজে ফেটে গেলো!
তখনও সড়কে অজস্র হেডলাইট - নিকষ রাতের পায়ে
লম্বা ছায়ার ভেতরে বিদেহী ভূতেরা জলজ্যান্ত হাসে
সাতটা শলাকায় আগুণ জ্বালিয়ে হাতের সিগারেট পুড়ে
তোমার গলাকায় টাটকা আচড়ে ছাই দেয়া ভর্তূকি
আমার কণ্ঠে নামে!
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে কয়েকটা প্রশ্নঃ

১। তামিম কি ইংল্যান্ডের ২২৫ রান তাড়া করে ব্যাট করতে নেমেছিলো নাকি ৩৩৫ রান ? ৫০ ওভারে ২২৫ রান তাড়া করতে গিয়ে ২৬ বলে ৩৮ রানের চেয়ে তার উইকেটে থাকাটাই বেশী প্রয়োজন ছিলো না ?
২। জুনায়েদ – ইমরুল – সাকিব কি একে অপরকে রান-আউট করতে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ ছিলো ? এত্তোগুলি ম্যাচ এক সাথে খেলার পরে জুনায়েদ – ইমরুল – সাকিবের রানের কলিং এর কোন সমঝোতা নেই কেন ?
৩। মুশফিকুর রহিম কি ইদানিং আশরাফুলের কাছ থেকে ব্যাটিং এর কোচিং নিচ্ছে ?
৪। রকিবুল কে আর কি সুযোগ দেয়া উচিত ? ৪ ম্যাচ মিলে ৭০, সর্বোচ্চ ৩৮ । তার জায়গায় পরের দুই ম্যাচে শাহরিয়ার নাফিসকে খেলানোই ভাল না ?
সে আমাকে সহ্য করেছে, আমি তাকে সহ্য করেছি-দীর্ঘ বারোটি বছর।
দিনটি ছিল ১৯৯৯’এর ১২ মার্চ । তার আর আমার জীবনের সবচে স্মরণীয় দিন (নাকি ধরা খাওয়ার দিন !)। আজ থেকে একযুগ আগে ঠিক এই দিনটিতে আমরা একে অন্যের হাত ধরেছিলাম, জীবনের পথে একসঙ্গে হাঁটবো বলে (মাঝে মাঝে ঝগড়া করবো বলে !), জীবন সঙ্গী (নাকি জীবন যন্ত্রণা !)হবো বলে । শপথ নিয়েছিলাম সারাজীবন পাশাপাশি থাকবো (মাঝে মাঝে ঘর পালাই, সেও রাগ করে বাপের বাড়ি যায়)। তারপর... দেখতে দেখতে বারটি বছর । এই দীর্ঘ সময় আমরা একই ছাদের নিচে বাস করেছি (না করে উপায় নাই), একে অন্যকে সহ্য করেছি, ভালোবেসেছি, ঝগড়া করেছি (পাড়া প্রতিবেশী সাক্ষী), সুখ-দু:খ শেয়ার করেছি, একে অন্যের নি:শ্বাসের ব্যবধানে থেকে রচনা করেছি কতো আনন্দ-বেদনার কাব্য; নির্মাণ করেছি কত স্মৃতি, যাপন করেছি একটি টক-ঝাল-মিষ্টি (এবং তিতা) দাম্পত্য জীবন।
আজকের খেলা
জকের খেলায় একটাই সুসংবাদ বাংলাদেশ জিতেছে। শ্বাসরুদ্ধকর, স্বরণীয় কিংবা অন্য যেকোনো বিশেষণে অভিহিত করা যাবে না এই ম্যাচকে, বরং ম্যাচ জয়ের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব শফিউলের। বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব যদি দিতে হয় তাহলে দিতে হবে একমাত্র শফিউলকে। আয়ারল্যান্ডের সাথে খেলায় তার একটি স্পেলেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছিলো, এবার ব্যাটিং এ উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দেওয়া তার ব্যাটিং এ বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছে। শফিউল বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ উইনার বিবেচিত হতে পারে।
...উচ্ছাস...
নিজের উপ্রে মিজাজ খারাপ হৈতেছে টিএসসিতে খেলা দেক্তে যাইনাই বইলা, অহন নিজের হাত-পা নিজেই কাম্রাই আর কান্দি...
হেরপরও আম্গো পুলাপানডি যে খেলা দিলো, ইস্পেশালি শফিউল। শেষ বেলায় আইসাও মাথা ঠান্ডা রাইখা খেইলা যাওয়ায় তারে প্রচুর ধৈন্যা...
কি আর করা, আয়ারল্যান্ডের লগে জিতার পর তুলা উচ্ছাসের দুইটা ছবিই শেয়ার করি...
কথোপকথন
আপা, আমার ভয় ভয় করছে !!
কেন, হয়েছে কী, কিসের ভয়, কেনই বা ভয় ?
আমার ভাগনেরা আজ পারবে তো?
আরে, বলিস কি, পারবে না মানে !
জানি তো! তবু লাগে ডর।
দেখিয়ে দেবে আজ কত চা’লে কত ভাত।
তা তো বটেই, বাঘের বাচ্চা বাঘ।
হ্যাঁ, রাখবি মনে, বাঘের বাচ্চা বাঘ!
আপা, দুলাভাইতো এলোনা এখনও !
এইতো, আসবে চলে একটু সবুর কর।
হালুম! আটকে গেলুম কাজে তাইতো একটু দেরী।
সালাম, দুলাভাই, সালাম, ফিরতে এততো দেরী?
আরে ছোট গিন্নি! কাজের ধান্দায় ঘুরি!
দুলাভাই, কী হবে আজ?পারবো তো?
অবশ্যই, বাঘের বেটারা দেখিয়ে দেবে আজ।
কিন্তু ভাগ্নেরা দেখতে যে আমারগুলোর মত!
আছে মনের জোর, আছে এদের নখ, আরও শক্ত দাঁত।
পারলে তো ভালোই, আছি সবাই মিলিয়ে সবার হাত।