মাহীনের গরুগুলো...
তখন বয়স আর কতই হবে... দশ কি এগারো... আমি আর চাচাতো ভাই রাসেল ক্রো বইসা বইসা আমগাছের ছায়ার নীচে ব্যাং নিয়া খেলতাছিলাম... ব্যাং কাকু রে ধইরা তার চার হাত পা চারটা কন্চি দিয়ে পেরেক মারার মত কইরা মাটিতে আটকায়া দিলাম ... সে এক তুমুল মজার কাজ... শখত মামা (আসলে উনার নাম শওকত) রে ডাক দিয়া নিয়া আসলাম মজা দেখার জন্য... সে আইসা উল্টা আমগোরে ঝাড়ি মাড়ি দিয়া ব্যাং রে ''খ্রীষ্টের সম্মান '' লাভের হাত থিকা বাচাইল...
ব্যাং তো ছাড়া পায়া বাইচা গেল... কিন্তুক আমাদের এন্টারটেইনমেন লস টা পোষাইব কেডা ?!!! লস পোষানোর লিগা শখত মামারে বাধ্য করা হইল আমাদের দুইজনরে কিচ্ছা শোনাইতে... শখত মামার ছিল কিচ্ছার অফুরন্ত ভান্ডার... আর কিচ্ছা শেষে মাঝেসাঝে মহামূল্যবান দুই একটা শিক্ষা... তো মামা রাখাল রিলেটেড এক কিচ্ছা কয়া শেষে যে শিক্ষা টা দিল তা হইল মহিষ চুরি করা উচিত না... কারণ মহিষ নাকি খুব জোরে জোরে হাটে... নিশুতি রাতের বেলা তাই মহিষের ক্ষুরের আওয়াজে চাইরদিক ভাইংগা পড়ে... তাই চোরের কপালে উল্টা মাইর জোটে!!! শখত মামার কাছ থিকা মওকা বেমওকায় ইরাম জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা আরো বহুত পাইছি...
শখত মামা মনে হয় এই কিচ্ছা আরো অনেকেরে শুনাইছে... তাই গ্রামান্চলে মহিষ চুরি কম, গরু চুরি বেশী হয়... ইরামই এক গরু চুরির মামলা উঠল এডিশনাল জজের আদালতে... এই জজ আবার বহুত পাকনা জাজ.. অনেক মামলা নিপটায়া আসছেন বিধায় মামলার বিষয়বস্তু, অভিযোগের ধরণ শুইনাই মামলার মেরিট বুইঝা ফেলেন... যাউগ্গা... মামলার অভিযোগ এই যে আসামী লাল মিয়া নাকি মতি মিয়ার তিনটা হালের গরু গাপ কইরা দিছে!!! কোর্টে মামলা শুরু হওয়ার পর আর কেউ মুখ খোলার আগেই এডিশনাল জজ মুখ খুললেন... তিনি কৃষকরে কইলেন, ''ঐ ব্যাটা তুইতো মিথ্যা মামলা করছস!! ইডাতো সাজানো মামলা!!''
- ''হিককক ... এইডা কি কন??!!!''
- হ, এইসব ক্যারফা অনেক দেখছি... আজকাল মামলা দেইখলেই বুঝতাম পারি কোনটা সিরিয়াস আর কোনডা ফাও
- কিন্তু ইডাতো স্যার জেনুইন কেস... সে তো আমার গরু সত্যই চুরি করছে
- আরে রাখ তোর জেনুইন কেস!!! সারা দুনিয়ার সব গেরস্তের দুইটা কইরা হালের গরু থাকে; এই পয়লা তোরে দেখলাম যার তিনটা হালের গরু আছে... তোর সাজানো মামলার শুরুতেই দুইটার জায়গায় তিনটা গরুর অভিযোগ কইরা ভুল করছস রে গাধা
অনাদি আদি
আনন্দ অন্তহীন অসীম, বিস্তৃত আদিগন্ত
উথাল-পাথাল দুঃখ অনন্ত সীমাহীন,
পারেনা কেউ আটকাতে কোন কিছু দিয়ে -
কমাতে পারে যে সময়, তা বহে নিরন্তর ।
অন্তর অনন্তর দুমড়ে মুচড়ে হয় ঝুরঝুরে,
ভাঙেনা তবু্ও, যদি তা ভেঙেও হয় চুরমার ।
বারবার আসে ধেয়ে বর্বর বর্বরতা ,
ধেয়ে আসে, আর যায় ফিরে বারবার,
নিয়ে আসে দিয়ে যায় রেখে যায় অজস্র সংঘাত ।
সদানন্দ হাসিমুখ আর বেদনা বিধুর হৃদয়
আবেগ আর বেগ দিয়ে একত্রিত একাকার,
শান্ত-অশান্ত মিশেল - দূরন্ত-দুর্মর
গোঁজামিল নহে তাহা মিল-অমিলের;
তবে যে তা কি, বুঝাবে তা’ কে, কিবা দিয়ে ।
কোরবানীর বাণী
গতকাল সন্ধ্যায় ঈশান মাহমুদের বাসায় গেলাম। বাসার সামনে বড়সড় একটা কালো গরু। ঈশান পরিবার পরিজন নিয়ে গরুর সাথে ফটোশেসনে ব্যস্ত। ১২/১৩ ঘন্টা পরেই গরুটাকে জবাই হবে। ডিজিটাল ভালবাসার স্মৃতিটুকু ধরের রাখার প্রচেষ্টা। কোরবানী জন্য কালোগরুর এত কদর কেন বলতে পারেন কেউ।
বন্ধু শাহাদত উদরাজী, কোরবানীর ছুরিটা একটু সামলে রাখো, কারন ইদানীং তোমার স্বল্প স্পর্শেই উত্তেজিত হবার প্রবনতা বেড়েছে, এই মন্তব্য তোমাকে আরো উত্তেজিত করতে পারে। এইডস্ বিষয়ে সতর্ক করার প্রচেষ্টা কি - ব্লগে লেখার অনুপযুক্ততা প্রমান করে। এইডস শব্দটা কি এবি তে নিষিদ্ধ কোন শব্দ? অন্যান্য বন্ধুরা কি বলেন? জরায়ু মুখের কান্সার নিয়ে তুমি লিখতে পারলে আমি এইড্স্ নিয়ে কেন লিখতে পারবো না। একজন যুবক ইন্ডিয়ার হোটেলে হোটেলে ৫টা রাত কাটিয়ে এলো- সেই মানুষটাকে এইড্স্ নিয়ে সচেতন করাটা একটা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। ঈদের আগের রাতে তোমার বউএর চেপে ধরা ছবিগুলো দেখে মনে হলো বউএর চাপাচাপি বেশ ভালই উপভোগ করেছ।
যে কোন ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে। তোমার চোহারা আজকাল যা হচ্ছে না! কি মিষ্টি চোহারা ছিল আর কি বানিয়েছ!
ভাবী ফেসিয়াল ট্রেনিংটা কোথায় শিখেছে একটু জানাইও তো। বউকে পাঠাবো।
মেযবাহ য়াযাদ কোরবানী করছেন না জেনে গরু সমাজে খুশীর বন্যা। একটা গরুর অন্তত প্রানে বাচলো। গরুটি নিশ্চয়ই রোদ্দুর আর সমুদ্দুর এর গর্বিত পিতার জন্য খাশদিলে দোয়া করবে। গরুরা নিস্পাপ তাদের দোয়া কবুল হবার সম্ভবনা ১০০%।
মাংস কাটা পেনডিং রেখে লেখাটা শুরু করেছিলাম, ডাক পড়েছে- অতএব আজকের মতো ইতি।
আজ ঈদের এই সকালে তাই- সবার জন্য বিএনপি আওয়ামীলীগ মুক্ত ঈদের শুভেচ্ছা।
কোরবানীর গরু!
কাল কোরবানীর ঈদ। বড় রাস্তার পাশে আমাদের অফিস। মাঝে মাঝে পাঁচ তলা থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়াই। মানুষ দেখি, মানুষ দেখার মত মজা এই দুনিয়াতে আর নাই। আজ অনেকক্ষন গরু দেখে এলাম। ভাই কত? ভাই কত? অনেক গরুর দাম জিজ্ঞেস করে অনেকে বিরক্ত করেছি মনে হয়। প্রতিশোধ! ছোট বেলায় আমাকেও এভাবে গরু নিয়ে যেতে হয়েছে বহুবার, অনেকবার। আমিও দাম বলতে বলতে গরুর সাথে দৌড়েছি অনেক! আজ গরুর দাম অনেক সস্তা মনে হচ্ছে, গতকালের তুলনায়। গতকালকেও অনেকের কাছে দাম জেনেছি।
আমার মনটা ভাল নেই। আজ অফিস করছি, কাল ঈদের দিনেও আমাকে অফিস করতে হবে! তবে এই অফিস করাটা আমি মেনে নিয়েছি। আমি একা নই, প্রায় বারশত লোকবল আমরা অন্যের সেবায় কাজ করব - ঈদের দিনে, এ আনন্দ বলে শেষ করা যাবে না। আজকাল অফিসে থাকতেই ভাল লাগে। মানুষ অভ্যাসের দাস! মানুষ কি না পারে! প্রথম প্রথম দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, নাইট ডিউটি সহ শুক্রবারে অফিস করা ভাল লাগত না। আজকাল ভালোই লাগে। অফিসে থাকলে টাকা পয়সা খরচ হয় না। নানাবিধ চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা যায়। খালি সালাম আর সালাম পাই, মাঝে মাঝে সালাম দিতেও হয়! তারপর সারাদিন এয়ারকুলার! কি মজা রে! কেমন খাসা চোহারা হয়ে যাচ্ছে!
চোহারার কথা যখন উঠল, তখন বলেই ফেলি। যে কোন ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে। তোমার চোহারা আজকাল যা হচ্ছে না! কি মিষ্টি চোহারা ছিল আর কি বানিয়েছ! মাথার চুল পড়ে, দুই চাপা ফুলে আমি নাকি আফ্রিকান গুলতি মাছের মত হয়ে যাচ্ছি! গুলতি মাছটা আমিও চিনি না, চিনতে চাইও না! আমি বলি, অফিসে বড় সাহেব হয়ে যাচ্ছি, ধাপে ধাপে এগুচ্ছি! পেট সহ গালগুল একটু মোটা না হলে কি চলে? আপনারাই বলেন বাংলাদেশে প্রাইভেট কোম্পানীর এমন কোন একটা জেনারেল ম্যানেজার দেখাতে পারবেন, যার ভুঁড়ি নাই! গাদুম ঘুদুম!
আমাদের অফিসের সিংহভাগ ম্যানেজারদের পেট! মাশাআল্লাহ! হাতী চালান হয়ে যাবে! ডাইরেক্টর সাহেবদের কথা ছাড়েন। এই যে ধরুন আমাদের মিডিয়া কোর্ডিনেটর! যিনি আমাদের নানা সাংবাদিক বিপদ থেকে বাঁচান। মাশাআল্লাহ, কম পেট বানান নাই! আসলে আমার কি দোষ, আমি এদের সাথে থাকতে থাকতে!
কোন দিকের কথা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি! যা বলছিলাম, আজ ঈদের আগের রাত! বিবাহিতদের জন্য বিশেষ ভালবাসা নিয়ে আসে! যা বলছিলাম আগে, আমার বউয়ের কথা - ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে! আপনাদের না দেখিয়ে আর পারছি না। দেখুন -
জীবন যেখানে যেমন (শেষ পর্ব)
ঘুমের মধ্যেও যেনো আজকাল গানের শব্দ পায় রেনু, ঘুমোলেও আজকাল নাচের মাষ্টারমশায়কে স্বপ্নে দেখে সে। মাস্টারমশায় যেনো এক দুই তিন বলে নাচের প্র্যাকটিস করাচ্ছেন সব বাচ্চাদেরকে একসাথে, আর তারা সবাই ভীত মন নিয়ে প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে। একটু ভুল হলেই গালাগালির সাথে আছে মার আর তার চেয়েও বড় ভয় হলো কাজ থেকে বের করে দেয়া। আর কাজ না থাকলে তারা খাবে কি? এমনিতেই তার স্বাস্থ্য খারাপ দেখে কাজ দিতে চায় না তাকে বেশী কেউ। সিনেমায়তো আর তার মতো রোগা পটকা চেহারার বাচ্চার তেমন দরকার হয় না, দরকার থাকে সুন্দর সুন্দর গোলগাল চেহারার বাচ্চাদের। কিন্তু নাদুস নুদুস চেহারা কোথায় পাবে রেনু?
এক বোকা নানার বোকামী - ৩
(পাঁচ)
প্রতীক্ষার প্রহর আর শেষ হয়না । দুঃখের সুদীর্ঘ নিশি শেষ হয়ে প্রভাতের আলোর অপেক্ষায় সময় অতিবাহিত হতে থাকে । এরই মধ্যে নানা খোঁজ পায় Walk for Life নামের একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের । এ প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার কাছে নানা পাঠায় তার অশ্রুভেজা বার্তা আরীবের ছবিসহ ।
“সুহৃদয়েষু সাকিনা সুলতানা, একটি মহৎ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন সে জন্য আপনাকে এবং আপনার প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক অভিনন্দন । অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডাঃ কোবাইদুর রহমানের কাছে আপনাদের মহতী কর্মযজ্ঞের বিষয় জানতে পেরে আপনাকে বিরক্ত করা অযৌক্তিক হবে না বলে মনে হলো । শিশুর কান্না স্বর্গীয় ও সুষমামন্ডিত, কিন্তু বৃদ্ধের কান্না বড্ড অশোভন ও অসুন্দর । তাই আপনার মোবাইল নম্বর জানা সত্ত্বেও কথা বলতে ভরসা পাচ্ছিনা । কানেও তো ভাল শুনতে পাইনা, তাই সামনাসামনি কথা বলতেও দ্বিধা আমার ।
এবার কাজের কথা । একটি শিশু, তার নাম আরীব (AREEB) । আজ তার বয়স ১ বছর ৮ মাস ১৮ দিন । জন্ম অবধি সে পৃথিবীর আলো দেখেনি । বাতাস তাকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দিতে ব্যর্থ হয়েছে । এখন তার ওজন ১০ কেজি । ছেলেটির হাত ও পা যথাযথ কাজ করেনা । খাবার চলে যায় শ্বাসনালীতে । এ বয়সে ৪ বার নিউমোনিয়ায় ভুগেছে । মাথাটি ছোট । অর্থহীন শব্দ ছাড়া কোন কথা মুখে আসে না । আরীবের মেরুদন্ড ও ঘাড় শক্ত হয়নি, সে বসতে পারেনা, হাঁটার তো প্রশ্নই ওঠেনা । শ্রবণযন্ত্র ব্যতীত তার কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক নয় । এমন একটা শিশুকে এ পৃথিবীর সম্পদে পরিণত করা কি সম্ভব ? Walk for Life কি তার জন্য কিছু করতে পারে ?
তাকে নিয়ে আমার একমাত্র মেয়ের জীবনটা ব্যর্থ হতে চলেছে । সাংসারিক, সামাজিক, আর্থিক, মানসিক সব কিছুতে আরীবের অস্তিত্বের ছাপ পড়ে সব কিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে । আমি শুরু থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি । ফল হয়নি কিছুই । আমি ব্যর্থ ; আমার অক্ষমতা সীমাহীন । আপনি কি আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা আমাকে দিবেন ? উত্তরের প্রত্যাশায় রইলাম।” নানার এ প্রত্যাশাও পূরণ হয়না, কোন উত্তর আসেনা ।
সব ব্ন্ধুকে ঈদ মোবারক
'আমার বন্ধুতে' আমার পদার্পণ নতুন হলেও ব্লগের জগতে আমি একেবারে নতুন নই, প্রায় সাত আটটা ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করা আছে, দু'একটিতে লেখাও দিয়েছি। কিন্তু ব্লগিং-এর আসল মজাটা কোথাও পাইনি। বেশীভাগ ব্লগেই রাজনীতির নোংরামী নিয়ে অসুস্থ ক্যাচাল। দীর্ঘ-ক্লান্তিকর, অপ্রয়োজনীয় সব বিতর্ক, সে সংগে অশ্লীল, রুচিহীন মন্তব্য আর খিস্তি-খেউড়। খুব পুরাতন-‘জনপ্রিয়’ এক ব্লগে সে দিন দেখি এক ব্লগার বছরব্যাপী পর্যবেক্ষন করে ব্লগিং করতে গিয়ে যেসব ব্লগার গত এক বছরে কোন অশালীন ভাষা কিংবা একটিও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেননি, তাদের একটা তালিকা প্রকাশ করেছেন। বলাবাহুল্য সে তালিকায় স্থান পাওয়া ব্লগারদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। তাই ওইসব ব্লগের পরিবেশের সংগে খাপ খাওয়াতে না পেরে ব্লগিং থেকেই নিজেকে দীর্ঘ দিন বিরত রেখেছিলাম।
হঠাৎ একদিন এ ব্লগে ঢু মেরে দেখি, বাহ্ চমৎকার আবহ। রাজনৈতিক প্যাচাল-ক্যাচাল নেই বললেও চলে, আনেক বেশী বন্ধুত্বপূর্ণ এবং আন্তরিক পবিবেশ। নামটাও সুন্দর, ‘আমরা বন্ধু’।সবচে বড় কথা হলো এ ব্লগে আমার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন বন্ধু মেসবাহ য়াযাদ এবং শাহাদাত উদরাজীর সরব উপস্হিতি আমাকে অনেকটাই অনুপ্রাণিত করলো। বন্ধু মমিনুল ইসলাম লিটনের উৎসাহের কথা এক্ষেত্রে না বললই নয়। তাছাড়া রশিদা আফরোজ, মইনুল এইচ সিরাজী, নুশেরা, তানবীরা-এ নাম গুলো এবং মানুষ গুলো আমার অনেক দিনের চেনা। অত:পর.... কিছুদিন নীরব পর্যবেক্ষন শেষে অবশেষে একদিন অতিথি হয়ে ঢুকে পড়লাম। সংগে সংগে নতুন-পুরাতন, চেনা-অচেনা সব বন্ধুদের কাছ থেকে যে অভাবিত উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলাম, তাতে আমি যার পর নাই মুগ্ধ এবং অভিভূত হলাম। বন্ধুদের আন্তরিকতায় কিছুদিনের মধ্যেই আমিও এবি পরিবারের একজন হয়ে উঠলাম।
ক খ গ ঘ ঙ...
ক
প্রতি ঈদেই মোটামুটি কোরবানী হয়ে যাই। এবার আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নো কোরবানী। যদিও কোরবানী সিনেমার কোরবানী কোরবানী কোরবানী...গানটারে আমি ভাল পাই। ছোট ছেলের গত ঈদের ৩/৪ সেট জামা এখনও ভাঁজ খোলা হয়নি। কারন হচ্ছে- সেগুলো নাকী শীতের কাপড়... বৌ বললো। শুনে আমি বগল বাজাই। বৌরে বুঝতে দেই না। বড় ছেলেরে বললাম, কী লাগবে? কিছুই লাগবেনা, বললো। আমি আবার বগল বাজাই। গত ঈদের সময় একটা জামার কাপড় কিনে দিয়েছিলাম ছেলেদের মায়েরে। সেলাই করার সময় ছিল না। এবার ঈদের আগে সেলাই করে নিয়েছে। শুধু সেলাইয়ের টাকা দিলেই হবে... বললো। আমি আনন্দে বগল বাজাতে বাজাতে বগল ব্যথা করে ফেলি।
খ
ঈদের সপ্তাহ খানেক পরে ছেলের পরীক্ষা। বেশি দিন বেড়াতে পারবে না। স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে এমাসের ৩ তারিখ। জানতে চাইলাম, কবে যাবে ? কয়েকদিন পরেই যাই... বললো। তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। গত বৃহস্পতিবার জানতে চাইলাম, শুক্রবার যাবে কি না ? বললো, একটা বিয়েতে যেতে হবে শনিবার দুপুরে। খুব কাছের মানুষের বিয়ে। না গেলে ইজ্জত থাকে না। সব বান্ন্ধবীরা জামাইসহ যাবে... সুতরাং আমারও যাওয়া লাগবে। বললাম, ঠিক আছে যাবো। আমার সম্মতি পেয়ে মোনালিসা মার্কা একখান হাসি দিয়ে বললো, ১ হাজার টাকা দাওতো ? বিয়েতে সবাই মিলে গিফট কিনবে, সেজন্য চাঁদা... । ছেলে বললো, ১ হাজার না বাবা। ৫০০ টাকা লাগবে। মা খালামনীদের সাথে কথা বলেছে ফোনে। আমি শুনেছি...। আমি দুজনকেই বিশ্বাস করলাম। মনের দুঃখে ছেলেকে বললাম, বাবারে অন্য মানুষ কথা বলার সময় সেকথা শুনতে হয়না...। তো, ১ হাজার টাকা দিলাম। কৌতুহলবশত জানতে চাইলাম, কার বিয়ে ? যা বললো... সংক্ষেপে হচ্ছে, ছেলের স্কুলের ক্লাসের বন্ধুর মায়ের দেবরের বিয়ে... খুবই নিকটাত্মীয়!
গ
স্ট্যাটাস পোস্ট!
একটা পোস্ট লেখার কথা ছিলো এবিতে।লেইখাও ফেলছিলাম পুরাটা কিন্তু সাইবার ক্যাফেতে একটা গ্যান্জাম হলো পোস্টটা আর রক্ষা করা গেলো না।মনে ব্যাপক কস্ট পাইছি।তার কারন সময়ই পাই না তার ভেতর এতো মনের মাধুরী মিশায়া লেখলাম আর লুকজনরে পড়াইতে পারলাম না।এইটা একটা ব্যাপক আপসোসের ব্যাপার।তাই সকালে বাসে উঠে জামালপুরে যাবার আগে এই লেখাটা লিখতেছি।
জীবনের প্রথম বাসে করে জামালপুর যাচ্ছি।ট্রেনে করে আরামে যাবার কথা সবসময়।কিন্তু এবারই ধরাটা খাইলাম আগে ভাগে না যায়া।তাই বড় বিপদে আছি।সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।বিশেষ করে মওলানা নরাধম।তার দোয়া কবুল হবার সম্ভাবনা বেশি।জেবীন আপুকে পোস্টটা উৎসর্গ করা হলো।যার ঝাড়ি খায়া পোষ্টটা লিখছি!সবার ইদ দারুন কাটুক।সবার জন্য শুভকামনা।
পোস্ট শেষ করতেছি কলকাতার একটা গরম আইটেম গান শুনায়া।
http://www.youtube.com/watch?v=r-6wx7hELEc
আরেকটা পছনদের হিন্দী গান এই সময়ের।এখন শুনিও না কি চলে বাজারে!
http://www.youtube.com/watch?v=Dk5D_O_EaNI&feature=related
হোয়াইট রিবন নামক ম্যুভির রিভিউয়েরএকটা প্রচেষ্টা...গল্প কিম্বা চরিত্র কিচ্ছু নাই
জীবন অস্থিরতায় আছে...অনেক অপশন বা চয়েস নিয়া দোটানায় আছি কিন্তু এতো অপরচ্যুনিটি আসলে বিপদে ফেলে। কোনটা ছাইড়া কোনটায় মনোনিবেশ করতে হইবো এই কনফিউশন অনেক যন্ত্রণার। এই অস্থিরতায় আত্মতৃপ্তি থাকে, কিন্তু তাতে কোনো গন্তব্য নির্দিষ্ট করা যায় না। চরম স্বাধীনতার এই ডিলেমা আসলেই প্রব্লেমেটিক। প্যাশনের সাথে ভীষণ রকমের কনফ্লিক্টিং। অথচ প্যাশনের সাথে কনফ্লিক্ট নিজেরে অনেক অপরাধী করে,,,ঠিক অপরাধী না অনুশোচনা তৈরী করে। স্বাভাবিক সময়ে রুটি রুজি এই লেইম এক্সকিউজ থেইকা বাইর হইয়া আসনের লেইগা যূক্তির অবকাশ তৈরী কইরা দ্যায়...কিন্তু আজকে কিছুটা ফ্রাস্টেটেড আছি হানেকের হোয়াইট রিবন দেখনে পর থেইকা।
একটা ছবি আসলে সাধারণ ঘটনাগুলিরে, মানে যেইসবরে আমরা সভ্যতার বিকাশের সাথে স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করছি তার ডি-কিম্বা রিকন্সট্রাকশন নিয়া ভাবায় তার প্রভাব ফেলে আমার চলচ্চিত্র ভাবনায়। কেবল চলচ্চিত্র ভাবনায় না প্রতিদিনকার জীবন যাপনেও তারা অনেক বড় বিষয় নিয়া আবির্ভূত হয়। একটা শহরে অনেক কিছু ঘটে নৈতিক অনৈতিক সম্পর্ক সেইখানে বেশ স্বাভাবিক পাশ্চাত্যের আল্ট্রা স্বাধীনতাও সেইখানে থামাইতে পারে না রহস্য কিম্বা টেনশন। আমাগো মতোন কনজারভেটিভ শহরের প্রেক্ষাপটে তাই প্রাসঙ্গিক হইয়া হইয়া উঠে এই গল্প। হানেকের মাস্টারীটা হইলো এইসব মিস্ট্রিরে সে রিভিল করনের চেষ্টায় যাইতে চায় নাই আদৌ। সে কেবল মানুষের সম্পর্কের ধরণ আর দায় নেয়া আর অনেয়ার গল্প বইলা যায়।
ক্ষমতার যেই বহিপ্রকাশ আমরা দেখি তারেক জিয়া কিম্বা নানকের কূটকৌশলে এই ছবিতেও তার সম্ভাবনা টের পাওয়া যায়...কিন্তু হানেকে তার ৭০ বছর বয়সেও পোস্ট মডার্ অ্যাটিটউডারে আত্মস্থ করেছেন তার নিজস্ব মতাদদর্শিক অবস্থান থেইকা। একটা থ্রিলার গল্প তার বলার ধরনে তাই হইয়া উঠে মানুষের বিহেইভিয়ারাল এক্সপ্রেশনের গল্প, ভালোবাসার আর তার প্যাশনের ইতিবৃত্ত। (পাম ডি অরতো সাধে পায় নাই)।
খালেদা, পর্ণো, মদ এবং বিটিভির খবর !
রাজনীতিবিদগো এইসব অপরাজনীতি দেইখা , আমরা যারা তথাকথিত রাজনীতিরে ঘৃণা করি, তাগো বিয়াপক আমোদ হয় ! আমোদ হয় কারণ, রাজনৈতিক দলগুলার অন্ধ অনুরক্ত ভক্তগো লাইগা,- রাজনীতিবিদরা নিত্য নতুন সবক রাখেন, এইসব দেইখা ভক্ত অনুরক্তরা অশেষ এলেম হাসিল করতে সমর্থ হয় !
সেইসব ভক্ত অনুরক্তরা , যারা মাঠে-ময়দানে, পথে -প্রান্তে এমনকি অন্তঃর্জালে অন্তরজ্বালায়, বাকযুদ্ধ ছাপিয়ে কখনও সখনও 'বাঘযুদ্ধে' ঝাপিয়ে পড়েন ! কে কার চে' বড় বাঘ তা প্রমাণের জন্যই সে মল্লযুদ্ধ !
খালেদার বাড়ি তল্লাশি করতে গিয়া, কেচু খুঁড়তে পর্ণো ম্যাগাজিন আর মদের বোতল বাইরইয়া আসছে-- খবর বিটিভির !
বিটিভি আওয়ামীলীগারদের চে' বড় আওয়ামীলীগ-- কথাটা আওয়ামী নেতা ওবায়দুল কাদেরের , মাত্র ক'দিন আগেই যিনি কথাখানি ফরমাইছেন ।
তো বিটিভির এই খবর থেইকা রাজনৈতিক দলগুলার অন্ধ ভক্ত অনুরক্তরা এই এলেম হাসিল করলো যে, 'প্রতিহিংসার রাজনীতি , বাপ-বেটা, পোলাপাইন মিইলা এক সঙ্গে পর্ণো দেখার মতনই নোংরা ! তয়, সে নোংরা রাজনীতিও তাগোরে করতে অয় !
জীবিকা অথবা জীবন- ২
গতকালই কুমিল্লার কালাসোনা থেকে এসেছে মনু মিয়া। তার ইচ্ছে কাজ করে বেশ কিছু টাকা জমলে গ্রামে ফিরে গিয়ে বোন রহিমার বিয়ে দেবে। এখানকার কোনো একটি বেকারিতেই কর্মরত তার মামা যাদু সরকার। কিন্তু এখানে এলেই যে কাজ পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা দিয়ে আসতে পারেনি তার মামা। এলাকায় কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে যে, বিহারি মালিকরা নতুন করে কোনো বাঙালীকে কাজে নেবে না। পুরোনো যত বাঙালী কর্মচারি আছে তাদেরও আস্তে ধীরে বরখাস্ত করে দেবে।
গ্রামাঞ্চলে বলতে গেলে তেমন কাজকাম নেই। ধান পাকার আগে এখন আর কারো কাছে কাজও তেমন নেই। যদিও যাদু সরকার তাকে যাওয়ার জন্য কোনো সংবাদ পাঠায়নি, তবুও মনু মিয়া অনন্যোপায় হয়ে চলে এসেছে। মা আর বোনটির জন্য যে সামান্য কিছু চাল রেখে এসেছে তা বড় জোর দু সপ্তাহ চলবে। কিন্তু সে সময়কালের মাঝে তাকে যে করেই হোক টাকা-পয়সা নিয়ে ফিরে গিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়ে আসতে হবে।
মনু মিয়া বাস ভাড়ার অভাবে কাঠ বোঝাই একটি ট্রাকে করে ঢাকা শহরের ঠাটারী বাজার এলাকায় নামতে বাধ্য হয়ে, শেষপর্যন্ত হেঁটে হেঁটে এতটা পথ এসেছে। জামতলার ভাইয়া বেকারি খুঁজে পেতে তাকে জিজ্ঞেস করতে হয়েছে বেশ কজনকে। কিন্তু লোকজনের কথামত বেকারির সামনে এসে যাদু সরকারের কথা জানতে চাইলে কেউ বলতে পারে না তেমন। মনেমনে খানিকটা দমে গেলেও সে সাহস করে বেকারির টিনের দরজায় বসে ঝিমুতে থাকা দ্বার রক্ষককে ভয়েভয়ে শুধায়, এই ব্যাহারিত যাদু মামু চারহি করে, একটা খবর দিতারবেন? আমি তার ভাইগ্না মনু মিয়া!
দ্বাররক্ষী হয়তো বিরক্ত হয় কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ শুনে নিদ্রাছুট রক্তিম দৃষ্টি মেলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে থাকে মনু মিয়ার প্রতি।
মনু মিয়া ফের দ্বিগুণ উৎসাহে বলতে আরম্ভ করলে তাকে শুনতে হয়, ইধার যাদু-উদু কই নেহি হ্যায়!
এ কোন জগতের ভাষা বলছে লোকটি? মনু মিয়া বিস্মিত হয়ে তাকায়। দেখতে তো মানুষের মতই সব কিছু। কিন্তু ভাষাটা এমন বিশ্রী কেন? এমন ভাষায় কি কেউ কথা বলে? তারা মানুষ নাকি মানুষের মতই দেখতে ভিন্ন কোনো প্রাণী? অবশ্য বানর দেখতেও অনেকটা মানুষের মতই। কিন্তু তার ভাষা চিঁচিঁ ধরনের। তবে মানুষের মতই এর কণ্ঠস্বর পরিষ্কার। ভাষাটাই কেবল দুর্বোধ্য!
এক বোকা নানার বোকামী -২
(দুই)
নানা তার ফেসবুকে ‘I am Areeb’ শিরোনামে একটি এ্যালবাম তৈরী করল । সেখানে আরীবের হয়ে নানা লিখল –“আমার নাম আরীব । এ নামটি রেখেছে আমার লিজি নানি । বাবা আমার নাম রেখেছে অদ্বয় । ১৯ জুলাই আমার বয়স দেড় বছর পূর্ণ হবে । মানুষের মত সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমার আছে । আমি এখনও বসতে পারি না । হাটতে পারি না । আমার হাত দুটো দিয়ে আমি কিছু ধরতে পারি না । প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বাতাস থেকে নিতে পারি না বলে সব সময় আমার শ্বাস কষ্ট । আমার মেরুদন্ড শক্ত হয়নি, তাই ঘাড় ও পিঠ সোজা রাখতে পারি না । খাবার প্রায়ই শ্বাসনালীতে চলে যায় বলে খেতে আমার কষ্ট হয় । পানিও খেতে পারিনা ঠিক মত । আমার ডান পায়ের পাতা কেমন যেন, আমি হয়তো হাটা শিখতে পারব না । আমি সব শব্দ শুনতে পাই, সকলের কথাও শুনি, কিন্তু আমি তো কথা বলতে পারিনা । আর জানো, আমি এত বড় হয়ে গেলাম, আলো কি তা বুঝতে পারলাম না । আমার দুটো সুন্দর চোখ আছে, তা আমার কোন কাজে লাগেনা । আমি কিছুই দেখতে পাইনা । তোমরাও কি সবাই আমার মত ? আমি যেমন তোমাদের দেখতে পাইনা, তেমনই তোমরাও কি আমাকে দেখতে পাওনা ? তা'হলে আমাকে তোমাদের মত করে দাও না কেন ? মানুষের অসাধ্য নাকি কিছুই নাই ! আমি তো কোন অন্যায় করিনি, তা'হলে আমাকে কেন এত কষ্ট পেতে হচ্ছে । বিধাতারও কি সাধ্য নাই আমাকে তোমাদের মত করে দেবার ? আমি তোমাদের দেখতে চাই. তোমাদের মত হতে চাই, আমি একটা সাধারণ ও স্বাভাবিক ছেলে হতে চাই । তোমরা কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো ?”
ফেসবুকে আরীবের আকুলতা ও আকাঙ্খা পড়ে অষ্ট্রেলিয়া থেকে নানার এক ভাগ্নীজামাই (ডাক্তার) ফোন করল ।আরীবের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র মেইল করে পাঠালে কিছু করা যাবে বলে আশা দিল । খুলনার তৃষ্ঞা ও কৃষ্ঞা, যাদের কেউ কোথাও নাই, তাদের আধুনিক চিকিৎসা জুটল, অথচ আরীবকে এ পৃথিবীর অবহেলা সইতে হচ্ছে । তারা অস্ট্রেলিয়াতে উপভোগ করছে তাদের শৈশব, সেখানেই তারা মানুষ হবে । আরীবের জন্য এমন ব্যাবস্থাও করা যেতে পারে বলে সে জানালো । বোকা নানা আশায় বুক বাঁধে । সব ডকুমেন্টস পাঠায় তার ভাগ্নীজামাইয়ের কাছে । আর পাঠায় একটা মেইল --
“স্নেহভাজন স্বপন,
উৎসর্গ ও উদ্দেশ্য মেসবাহ য়াযাদ আর বিধেয় আমরা আমরাই
খোচাঁনিঃ যখন তখন ধুমধারাক্কা আড্ডা দিতে দিতে সেটা পিকনিকের রূপ নেয়া কোন ব্যাপারই না, কিন্তু আমরা সব্বাইরে নিয়ে পিকনিক করার পক্ষপাতী। গোপনের কাজকারবার নাই এবি’র, নাই কোন সূত্রধর ও! শুনছি, কানে কানে কথা বলে কাইন্যা আর তার বৌ!
তাই কোন কাইন্যার বৌয়ের থুক্কু গোপনীয় সুত্রের দোহাই দিয়ে কাজী’সাব যা বলিলেন তার ধিক্কার জানাই! আমরা জ্বলুনি’ওলা পাব্লিক না তাই আমাদের ছোট্ট ছোট্ট মজার আড্ডাও বিশাল আনন্দময় হয়ে হজম হয়... 8) আর কারো কারো বিশাল ঘুরান্তিসের সুযোগ এলেও লোটা-কম্বল সম্বল হয়ে পড়ে!
মূলঃ মেসবাহভাই এককালের শ’দেড়েক মানুষ ভরা জাহাজ নিয়া হারিয়ে যাওয়া প্রতিথযশা গামছা গলায় দেয়া কাপ্তান! হুটহাট করেই কতো কতো পিকনিকের কার্য সম্পন্ন করে ফেলেন উনি। শুধু কি তাই, সারা পিকনিক মাতায়ে রাখতে উনি সিদ্ধহস্ত! সেই মেসবাহভাইকে গতক’দিন যাবত হন্যে হয়ে খুজঁছি আমরা। উনার ফেসবুকের পাতা ভরে আছে সেই খোজঁ দা সার্চ- এর প্রমানে।
কিন্তু আমরা সিষ্টেম্যাটিক্যালি এগিয়ে যাই নাই, কারন উনারে ফেসবুকে মেসেজ দিলে সেটা মোবাইলে এসএমএস করে জানাইতে হয় এবং ফোন করে বলতে হয় ওটা দেখার জন্যে!
তো মেসবাহভাই, আপনি যেখানেই আছেন জলদি এই লেখাটা পড়েন আর ডিসেম্বরেই পিকনিকের জন্যে কি কি করা দরকার তার বুদ্ধি/ব্যবস্থা দেন। বাকীরা যে যেমনে পারেন মেসবাহভাই'কে জানান দেন।
শেষকথাঃ একটা দারুন সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আনন্দময় পিকনিক করার জন্যে প্রয়োজন সবার একাত্নতা। তাই বন্ধুরা সব্বাই টাকা জমানি শুরু করেন। আমরা ডিসেম্বরের শেষদিকে পিকনিকে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ। ভেন্যু যথাযথ সময়ে জানানো হবে। 
ঘুরন্তিস ব্লগ; সুন্দরবন
গোপন সূত্রে খবর পাইলাম এবির আকাশে বাতাসে পিকনিকের গন্ধ ভাইস্যা বেড়াইতেছে।
তাই মনে হইল পাব্লিকেরে আরেকটু দিলজ্বলে করনের এইটাই উপযুক্ত সময়।
সো যারা যারা জ্বলতে চান তারা নিজ দায়িত্বে জ্বলতে পারেন 
সুন্দরবনের পুরো ট্যুরটাই ছিল একটা ডাবল ইঞ্জিন জাহাজ দিয়ে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রথম দিনই চরম অসুস্থ হয়ে পড়ি তাই আমার গন্ডিটাও সেই জাহাজের ডেকে-ই ছিল। বন্ধুরা যখন তুমুল বৃষ্টিতে বনে বাঁধন হারা হয়েছিল তখন আমি আমার কেবিনে বসে গায়ে মম্বল জড়িয়ে জানালা দিয়ে জলের সাথে পাতার কোলাহল শুনি। আর মাঝে মাঝে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটা ছুঁয়ে দিচ্ছিলাম আনমনে....
সে দিন শেষ বিকেলে বৃষ্টি বিধৌত বনে রঙধনু হেসেছিল

সুন্দরবনকে আঁকড়ে থাকা অসংখ্য নদীতে ওরা জীবিকা খোঁজে

আমরা ডিঙ্গি নৌকায় করে একটা শাখা নদী দিয়ে বনের ভেতর দিকে চলে গিয়েছিলাম। মাঝে মাঝেই কিছু চিত্রা হরিণ বিরক্ত হয়ে আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল। হঠাতই দেখি আমাদের ডিঙ্গির উপরে ঝুলে পড়া একটা কেওড়া গাছে মস্ত বড় এক অজগর সাপ আমাদের ঠিক মাথার উপর ঝুলছে। অজগরটা অন্য একটা নাম না জানা সাপ গিলছিল। আমি অজগরটা সবাইকে দেখাতেই সহযাত্রি কয়েকটা মেয়ে চিতকার করে নৌকো থেকে প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম করেছিল 

এইসব নাম না জানা নদী বেয়ে আমরা চলে গিয়েছি সাগরের টানে
নদী-১

নদী-২

বন যতই গভীর হচ্ছিল তীরের দিকে ততই গোলপাতার জঙ্গলের দেখা মিলছিল।

গোলপাতা মাঝেই মাঝেই নড়ে উঠছিল আর আমরা এক্সাইটেড হচ্ছিলাম ব্যাঘ্র মামা দেখার আশায়
(যদিও ব্যাগ্রমামা দেখেছিলাম আয়েসি ভঙ্গীতে নদী পাড় হচ্ছে কিন্তু হাতের কাছে কোন ক্যামেরা ছিল না
)