অযথা অ-চিঠি.. [হাবিজাবি!]
প্রিয়তমেসু,
কেমন আছো? ভালো নিশ্চয়ই?
আমার চিঠি পেয়েছিলে তো?
একদিন পাঠালাম ছোট্ট উড়োজাহাজ করে, তুমি যেমনটা বলেছিলে ঠিক তেমনই - আকাশের ঠিকানায়। আরেকদিন, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকাল পেরিয়ে ছিমছাম দুপুরের শেষে এসে - হঠাৎ বৃষ্টি হলো যে খুব? ওইদিন, কাগজের নৌকোয় আদর ভরে পাঠিয়েছিলাম। চিনতে পারো নি বুঝি? আমি ভেবেছিলাম চায়ের কাপের রিনিঝিনি টুংটাং শুনেই বুঝে নিবে - সে 'আমি'ই হবো। তাও পাছে আমায় চিনতে ভুল করো, হালকা আকাশি রঙএর রাংতা মোড়ানো পেজা তুলোর মত ভেজা মেঘ আর কিছু চেনা অচেনা প্রিয় সুরও পাঠালাম তোমায়। তবুও খুজে পেলে না তাতে আমায়?
নাকি, ছোট্ট চিঠি বলে রাগ করে উত্তরই দিলে না? কি করবো বলো, হয়তো হৃদযন্ত্রখানাই খুব ছোট আমার। আর তাতে যতটুকু ভালোবাসা ধরে, তাই লিখি তোমায়। এটুকুই সম্বল আমার।
তবে কি, জানো? আমার তোমাকে জানার প্রথম দিনগুলোর চিঠি ক'খানার উত্তর যে তুমি কখনই দাওনি, এই বিষাদ আমার কখনই হারাবে না। সেই সময়টুকুর স্মৃতির পাতায় পাতায় জড়ানো তীব্রতম ভালোবাসা সাক্ষি।
ধূসর গোধূলিঃ ২৪ - সমীকরণ...
আপন গৃহকোণে বন্দী থেকেও মুক্তি মেলে না প্রভার। যে কারণে ওর শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটলো, তাঁর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলো এখানেও। ক’দিন ধরে গিয়াস ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের দেখা গেল দীঘির পাড়ে ঘোরাঘুরি করতে। ওদের দৃষ্টি এই ছোট্ট কুটিরের দিকে। জীবিকার তাগিদে বিভাকে বের হতেই হয়। মা কাজে চলে গেলে একাকী ঘরে প্রবল ভয় ও উৎকণ্ঠা নিয়ে সময় কাটে প্রভার। ঘরের পাশের বাগানে শিয়ালের ডাক শুনে ছেলেবেলায় যেমন ভয় পেত, ঠিক তেমনি। মূল বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় এদিকটায় লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়না তেমন একটা, একমাত্র পারু’ই মাঝে মাঝে খোঁজ খবর নেয়।
-বিভা কি কামে গ্যাছে ? প্রভাকে জিজ্ঞেস করে পারু।
-হ খালা, হেই সক্কাল বেলা বাইর অইয়া গ্যাছে
-কি করবি, তোর মা কাম না করলে খাবি কি ?
-সবই বুঝি খালা, আমার একলা ঘরে ডর লাগে।
-ক্যান, ডর লাগে ক্যান ? ছোড বেলা থেইক্যাই তো তুই একলা থাহস!
-আইজ বিহানে মা কামে চইলা গ্যালে দেহি- ঐ ছ্যাড়াগুলান দিগির পাড়ে ঘোরাগুরি করতাছে।
জীবন থেকে নেয়া-২
আমার ছেলেবেলার টানা-হ্যাচড়াময় জীবনের সূচনা আগেই করেছি। অতএব এখন আবার বলার হয়তো প্রয়োজন পড়বে না। সূচনা না হয় না থাকুক। গল্পের বাকীটা তো আছেই।
আজকের গল্প আমার জীবনের সেই না খেয়ে থাকা অধ্যায়ের আরেকটি পর্ব নিয়ে।
আমি বড় হয়েছি আজিমপুর কলোনিতে। সরকারি জায়গায় আর কিছু না থাকুক- ব্যক্তিগত তোড়জোড় মানুষের সবসময় ছিল। সরকারি গাছ- নিজের গাছ বা সরকারি মাঠ নিজের বাগান বলে চালিয়ে দেওয়া বড়ই স্বাভাবিক বিষয় ছিল কলোনি বাসীর জন্য। এমনকি পুকুরগুলোতেও দিব্যি জাল ফেল মাছের চাষ চলতো। এখন চলে কি না জানি না। কারণ সেই মাঠ অনেকগুলোই ইমারতের নীচে চাপা পড়েছে আর পুকুরগুলো হারিয়ে গেছে আবাসনের ভীড়ে।
এখন যখন বিকেলে মাঝে মাঝে হাটঁতে যাই কলোনিতে সবকিছু অচেনা লাগে। কোন মানুষ চিনি না- নতুন ইমারতগুলোও অচেনা। চেনা শুধু সেই গাছ গুলো- আর ইমারত হবার অযোগ্য ছোট্ট মাঠগুলো।
তবু ঘুম যে আমার চলে আসে ডিসেম্বর মাসে...
কাল লিখতে বসেছিলাম এই পোষ্ট, কিছুদুর লিখে মনে হলো বাদ দেই এরচেয়ে অনলাইনে ধুম থ্রি দেখা যায় কিনা খুঁজি, পেয়ে গেলাম এক আপুর মেয়ে ইউটিউবের বিকল্প ডেইলীমোশন নামে এক সাইটের কথা বলেছিল অনেক কাল আগে- সেখানেই। প্রিন্ট খারাপ না, কিন্তু খারাপ কাজ হলো যে লেখাটা আর লেখা হলো না। সিনেমাটা শেষ করলাম খারাপ না। হাজী আমির খানরে আমার ভালো লাগে, কিন্তু তার ধুম থ্রি খুব বেশী ভালো লাগে নাই। কারন হিসেবে বলছি জর্জ ক্লুনিকে দিয়ে যদি ফাস্ট সিক্স বা এমেরিকান পাই করানো হয় যেমন হবে তেমনই লাগলো। তাও আমির খান হাজী বলে কথা, সিনেমা ব্যাপক হিট, ব্যাবসা করে ডজন খানেকের উপরে রেকর্ড ব্রোক করছে, সব চাইতে বেশী অর্থ উপার্জনকারী মুভি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। একজন আমির খানের ফ্যান হিসেবে আমার সুখী হওয়া উচিত, কিন্তু আমার ওতো ভালো লাগছে না। সামনের বছর আমিরের আরেকটা ছবি আসবে রাজকুমার হিরানীর বানানো নাম 'পিকে'। সেইটা নিয়েই সামনে এ বিষয়ে আশায় বাঁধি বুক!
কিসের আকর্ষনে
দুবাই যাবার জন্য যখন টিকিট হাতে পেলাম, মনে হল যেন আকাশ থেকে পড়েছি। বাহরাইন যতবার আসা যাওয়া করেছি গালফ এয়ারই ব্যবহার করেছি। এমনকি প্রথমবার বোয়েসেল থেকে টিকিট কেটে দিয়েছিল যার ব্যয় কোম্পানি বহন করেছিল তাও গালফ এয়ার ছিল। এবারও ভেবেছিলেম তাই হবে এমনকি আমি বলেওছিলাম গালফ এয়ারের কথা। গালফ এয়ার সরাসরি ঢাকা হতে দুবাই যায়। তাই অন্যান্য জিনিসের সাথে হারমোনিয়ামটাও সাথে নিলাম। নিঃসঙ্গ প্রবাসে এটা যে কত বড় বন্ধু তার ব্যবহার যারা জানেন ও প্রবাসী তারাই শুধু অনুধাবন করতে পারেন। এবার যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে টিকিট পেলাম জি,এম,জি ইয়ার লাইন্সয়ের। ঢাকা টু কলকাতা কলকাতা টু দুবাই। আদম বেপারীর অফিসে বহু চিল্লাচিল্লি করেও যখন কোন লাভ হল না তখন বাধ্য হয়েই এয়ার পোর্টের দিকে রওনা হলাম। তখন বাড়ীর সবার কথা মনে পড়তে লাগল। স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সকলের নিষেধ অমান্য করেই এবারের প্রবাস যাত্রা। কি করব দীর্ঘ দিন প্রবাসে থেকে দেশের কর্ম পরিবেশে নিজেকে কিছুতেই মানাতে পারছিলেম না। যাদের প্রবাসে থাকার অভ্যাস আছে তারা হয়ত বিষয়টা বুজতে পারবেন।
উনারা
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
আমরা সবাই খাচায় থাকি বসে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
উন্নয়নের গাল দিয়ে যাই কষে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
চোখ বুজে নেই, উধাও দেখার জ্বালা,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ঠোট চেপে দেই মুখের মুখর তালা,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
কান ছেড়ে দেই, নিক না দু'খান চিলে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
নর্দমাতে জল খাবে সব মিলে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
মানবদুখে কপোল যাবে ভেসে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
হেচকি গিলে শেষ হবে সব হেসে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ঝুলবে মুখে বিজ্ঞাপনের হাসি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ইদুর হবে সিংঘমামার মাসি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
পুতুল শত নাচবে পথের ধারে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
রদ্দা এসে পড়বে ঘাড়ে ঘাড়ে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ফুটবে মুখে কাকাতুয়ার বুলি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
পথের কাকড় পাল্টে হবে ধুলি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ফেলব জাল আর নিজেই দেব ধরা,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
আমার তোমার এইটুকুনই করা!!
(অনিচ্ছাকৃত কিছু বানান ভুল রয়ে গেল, কোনভাবেই ঠিক করা যাচ্ছে, প্রথম সুযোগেই ঠিকঠাক করে দেবার প্রতিশ্রুতি রইল)
সুন্দরবন ভ্রমন ২০১৩ (পর্ব ২)
বাংলাদেশের দক্ষিনপ্রান্ত থেকে ভারত পর্যন্ত চলে যাওয়া বিস্তীর্ন সুন্দরবনের বেশিরভাগই ম্যানগ্রোভ বন দ্বারাই পরিপূর্ন। পঞ্চাশ প্রজাতির ম্যানগ্রোভের মাঝে সাতাশ প্রজাতির দেখা মেলে সুন্দরবনে। জীববৈচিত্রের অপার সম্ভার এই বনকে ইউনেস্কো ১৯৮৭ সালে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছে। অতুলনীয় সৌন্দর্য্যময় ল্যান্ডস্কেপ ছাড়াও এখানে রয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রানীর সমাগম। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নানান প্রজাতির হরিণ, কুমির, বানর, সাপ এবং প্রায় দু’আড়াই’শ প্রজাতির পাখি দেখার আশায় সুন্দরবন ভ্রমনে আসেন।
ছেলেবেলার লাল শালুক
(১)
বাবার সরকারি চাকরির কারণে পুরো পরিবারের পায়ের তলায় সর্ষে দেখছি সেই ছেলেবেলা থেকে। অবশ্য ফি বছর নতুন শহরে নতুন স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে চোখেও সর্ষেফুল দেখতে পেতাম! একগাদা নতুন মুখ চারপাশে, সারাক্ষণ ড্যাবড্যাব করে দেখছে আমাকে! এটা খুব নিয়মিতই হত! তাদের সাথে গলায় গলায় ভাব হতে না হতেই আবারো লোটাকম্বল নিয়ে নতুন শহরে রওনা হওয়া!
তারপর যাযাবর জীবন শেষে পঙ্গপালের মতন একসময় সপরিবারে আজব শহর ঢাকায় ঠাঁই নিলাম আমিও। একে একে সব পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেলাম, হরিহর আত্মা দুয়েকজন যারা ছিল তাদেরও পেয়ে গেলাম। তবু আবছা আবছা কিছু মুখ মনের মুকুরে উঁকি দেয় এখনো, নামগুলো পেটে আসে তো মুখে আসে না। কিছু নাম মুখে আসে কিন্তু তাদের মুখের আদলটাও মনে পড়ে না। খুঁজে বেড়াই সেই মানুষগুলোকে, অজান্তেই!
(২)
যখন চোখের জন্য শরীরে কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না
তখন আমার একটা সিনেমা দেখতে খুব ইচ্ছে করে।
কেন একা থাকতে চাই???
আমার ১২ বছরের সংসার জীবনে সবসময় আমার একা থাকতে ইচ্ছা করেছে আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সমাপ্ত করে চাকুরীতে যোগদান করার ১১ দিনের মাথায় বিয়ে করি বিয়েটা আমার পছন্দের মেয়েকেই করেছি কিন্তু বিয়ের পরদিন থেকেই সংসারে সুখ আসেনি ছোট খাটো বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো তারপরও সমাজের দিকে তাকিয়ে আমরা ছাড়াছাড়ি করতে পারি নাই ইদানিং আমাদের দাম্পত্য কলহ জটিল আকার ধারণ করেছে দু'জন দু'জনকে একটুও সহ্য করতে পারছি না গত শুক্রবার আমাদের মধ্যে রফা হয় দুজন আলাদা থাকবো সেই থেকে আমরা আলাদা আছি আমার স্ত্রী এলিফ্যান্ট রোডে তার বড় ভাইয়ের বাসায় আর আমি আমার ভাড়া করা বাসায় আছি
আমার একা থাকতে ভালোই লাগছে এই ক'দিনে একবারের জন্যও আমার স্ত্রীর জন্য খারাপ লাগেনি আমি আমার মনের মাঝে আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছি না তার জন্য বরং অনেক ঘৃণা জন্ম নিচ্ছে কারণ গত ১২ (বার) বছরে চেষ্টা করেছি সবকিছু ম্যানেজ করে সংসার করার জন্য কিন্তু বার বার ফেল করেছি
বড়দিনে ‘টপ সিক্রেট’
মনে পড়ে আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। ১৯৮৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশের একজন সুনাগরিকের সরকারি বাসায় গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য পরস্পরকে কাছ থেকে চেনা বা জানা। আমি তখন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র। স্কুলজীবন থেকেই আমার লেখালেখির অভ্যাস। স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত বিভিন্ন দেয়ালিকা, সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর, সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ, দৈনিক খবর, আজাদ এবং ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় নানা সমস্যা-সম্ভাবনা, অনিয়ম-দুর্নীতি, সামাজিক অনাচার-অবক্ষয় নিয়ে লিখতাম। এর মাঝে ১৯৮৭ সালের দিকে বাজারে এলো দৈনিক ইনকিলাব নামে একটি পত্রিকা। এ পত্রিকায় ’৮৮ সালে যৌতুকবিরোধী আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়। এ লেখার জন্য একটি অভিনন্দন চিঠি আসে অফিসের ঠিকানায়। সে সময় লেখালেখির সুবাদেই ইনকিলাবে যাওয়া হতো। এখান থেকেই ইনকিলাবের তৎকালীন সহকারী সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মফিজ ভাইয়ের (মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমদ) সাথে আমার এক রকম হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। তিনি আমাকে যারপরনাই স্নেহ করতেন। আমার ভালো-মন্দ খোঁজ-খবর করতেন। আমার প্রতি তার দাবি ছিল- আমি যাতে অন্তত সপ্তাহে একবার তার স্নেহধন্য আতিথেয়তা গ্রহণ করি। তার দেয়া রুটিন মতো তার অফিসকক্ষে ঢুকতেই বললেন, ‘তোমার একটি চিঠি আছে, যাওয়ার সময় নিয়ে য
বাংলাদেশের আভ্যুদয়
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্র আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়লে একটি জনযুদ্ধের আদলে মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে। পঁচিশে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ঢাকায় অজস্র সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশ হত্যা করে। গ্রেফতার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাপ্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বাঙ্গালীর তৎকালীন প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেফতারের পূর্বে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন । পরিকল্গপিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয়ে যায় প্রতিরোধযুদ্ধ; জীবন বাঁচাতে প্রায় ১ কোটি মানুষ পার্শ্ববর্তী ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালী সদস্য
বড়দিন-ছোটদিন-মাঝারি দিন!
কলকাতার জয়তীর গান ছিল একখান, যার শিরোনাম হলো- 'দিন শুধু দিন গেল'। আমারো নিজের জীবনে তাই মনে হয় যে দিনগুলো সব চলেই গেল অবহেলা আর অনাদরে। মাঝে মাঝে সালের হিসেব গুলিয়ে ফেলি, মনে হয় এখনো ২০১০-১১ই চলছে। বেকাররাই এইভাবে সময় নিয়ে হেলাফেলা করে, ১৮ মাসে বছর বাগধারাটা তো আর হুট করে আসে নি! আমাদের জন্যেই এসেছে। দিন গুলো যে নিমিষে হারিয়ে যাচ্ছে তা টেরই পাচ্ছি না। শুধু দেখছি হারাচ্ছে আর চলে যাচ্ছে এরই ফাকে মানুষ কত কি করছে। বাংলাদেশটার অবস্থাও তাই দুনিয়া উলটে পালটে গেল, কত কি ঘটে গেল, কত দেশে কত প্রগতি উন্নতির চমক, আমরা পড়ে রইলাম সেই পুরোনো প্রশ্নেই, ক্ষমতা পালাবদলের শান্তিপুর্ন উপায় খুজতে খুজতেই আমাদের দিনগুলো সব চলে গেল, একদিনের যে গনতন্ত্র ভোটাধিকার তা নিশ্চিত করতেই আমাদের জান দফারফা, ৩৬৫ দিনের এক গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেতে এখনো কত দেরী তাই ভাবি বসে!
৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর
আমার মনে হয়, ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনটা একটা দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। '৯০-এর পর এই পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন হয়েছে ('৯৬-এর তামাশার নির্বাচন ছাড়া) তাতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিই তাদের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারও যদি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতো, তবে আওয়ামীলীগ হয়তো পরাজিত হতো। কিন্তু তার পরে ঘটনা কী হতো। ১৮ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে, বিএনপির ঘনিষ্ঠ সহযোগী জামায়াতের কারণে পাকিস্তান ইন্টিলিজেন্স আইএসআই-র নির্দেশে যুদ্ধাপরাধীদের 'শূয়রের খোয়াড়' থেকে মুক্ত করে দেবেন বেগম খালেদা জিয়া । (আইএসআই-এর তৎকালীন প্রধান সেদেশের সুপ্রীম কোর্টে বলেছেন, ১৯৯১-এর নির্বাচনে তারা খালেদা জিয়ার বিএনপি-কে এক কোটি টাকার উপর দিয়েছে।)
