সুন্দরবন ভ্রমন ২০১৩ (পর্ব ১)
ভোরের আলো না ফোঁটা মেঘবিহীন বৈশিষ্ট্যহীন আকাশ, শীতের আবছা কুয়াশার চাদর কেটে ট্রলার নীলচে-সবুজ পানির উপর দিয়ে ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, দু’ধার জুড়ে গোলপাতাসহ নাম না জানা হরেক গাছের সারি ঘন থেকে আরো ঘন হতে হতেই সামনের দূরে এগিয়ে আসা বাঁকটা যেন হারিয়ে যাওয়া কাউকে যেন তীর খুজেঁ পাবার আশায় উদ্বেল হবার হাতছানি দিয়ে যায়! টলটলে পানি, নির্মল বাতাস, গাছেরসারি, থমকে যাওয়া একঘেয়ে আকাশ, সবকিছুর মাঝ দিয়ে চলছি আমরা সমান তালে সাথে যাচ্ছে কেবল থোক থোক কুয়াশার দল! চারপাশে পাখি ডাকারও শব্দটি নেই, অভিযাত্রীদের কেবল শ্বাসের শব্দে উপস্থিতি জানান দিয়ে যায় সুন্দরবনের এই অপার সৌন্দর্যতার।
অপরুপ এই দৃশ্যটি ছিল, সুন্দরবন ভ্রমনের প্রথম প্রহরের। কোন ছবিতেই এই ভ্রমনে দেখা সৌন্দর্য্য তুলে আনা যাবে না, সে কেবলি উপভোগের একান্ত অনুভূতি।

কঠিন সময় আমাদের মা-মেয়ের
আমার মেয়েটা কাঁদছে।আমি পাশের রুমে বসে আছি।হোসনা ওকে কোলে নিয়ে হেঁটে হেঁটে নানান কথা বলে যাচ্ছে।দুধের ফিডারে দুধ বানিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। মেয়ের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।সে অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে।
তার কান্নার শব্দটা আমাকে অস্থির করে তুলছে কিন্তু আমি নিজেকে শক্ত রাখার কঠিন চেষ্টা করে যাচ্ছি।মেয়ের কান্না থামছে না।এবং ওর কান্নার আকুতিতে একটা সময় আমি খেয়াল করি আমার সারা শরীর কেঁপে কান্না চলে এসেছে।আমি অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি।
হোসনা যেন আমার কান্না না দেখে সেজন্য দৌড়ে আমি বাথরুমের ভেতর ঢুকে যাই।পানির ট্যাপ ছেড়ে দিই যেন কোনোভাবেই আমার কান্নার ফোঁসফোঁস শব্দে হোসনা ঘাবড়ে না যায়।
মেয়ের কান্না এতক্ষণেও থামেনি দেখে আমি চোখে মুখে পানি দিয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে হোসনার কোল থেকে মেয়েকে বুকে টেনে নিই। আমার কোলে আসার সাথে সাথে মেয়ে কান্না থামিয়ে অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।কি জানি আমার ৪মাস ১০ দিন বয়সী মেয়েটা বোধহয় বিশ্বাস করতে পারছে না তার মা তাকে কেন এত কষ্ট দিচ্ছে।মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।নিজেকে সামলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে আমার জন্য।
ব্লগর ব্লগর
দেশের অগ্রগতী নিয়া বিস্তর আলোচনা শুনি বিভিন্ন ফোরামে... পত্রিকায়... রিপোর্টে... বৈদেশিক গবেষণায়। দেখে পুলকিত হই। ভালোলাগায় বুকটা ৩ ফুট উচা হইয়া যায়। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।
বাস্তবতা আসলে কি?
৮৯'এ ডিফরেন্টাচ নামের একটা ব্যান্ডের প্রথম এলবাম বের হয়। সুপার হিট সেই এলবামে তখনকার রাজনীতি নিয়ে একটা গান ছিলো। আজ ২০১৪ থেকে মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে দাড়াইয়া অবস্থার কোন পরিবর্তন পেলামনা
জনগণের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় দুই নেত্রীতো বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুইলা ফেলতেছে। সেই ফেনিল বুদ্বুবুদে আমাদের নি:শ্বাস যে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হইছে... সেদিকে খেয়াল নেই কারোই।
আজ হাটে মাঠে ঘাটে সর্বত্রই আলোচ্য বিষয় হচ্ছে নির্বাচনী প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণী। হয়তো এটাই আমাদের একমাত্র বিনোদন। আরতো কিছু করার নাই আমাদের। শুধু দেখেই যাব। আর হিসাব করবো কোন দল কার চাইতে কত বেশীতে জিতল।
======================
একটু দেখেন ৮৯এ ডিফরেন্টাচের সেই গানটা এখনো কতটা ঠিক
===========
হাল জামানার রাজনীতি ভাই, করতাছি যে আমরা সবাই
পেছন পকেট সদাই গরম , গলা বাজির আছে যে সায়।।
এ মন হায়,
ধূসর গোধূলিঃ ২২ - তারুণ্যের জয়গান...

কলাবতী বাজারের ক্লাবঘরটিতে তরুণদের আনাগোনা শুরু হয় বিকাল থেকেই। বিজয় দিবসের খুব বেশী দেরী নেই। ওরা প্রত্যেকেই বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেবার জন্য তাড়া অনুভব করে। শ্যামল আর তাপসের গ্রামে আসার খবর পেয়ে আজ একটু আগেই ক্লাবে এসেছে আসাদ আর সজল। ক্লাবের সব অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হল শ্যামল। ও না থাকলে কোনকিছুই যেন জমে না ঠিকমত।
দৈনন্দিন সুখ দুঃখ!
দেশের অবস্থা খুব একটা যুতের কিছুতে না, পঞ্চম কিস্তির অবরোধ চলছে কিন্তু মনে হচ্ছে কেয়ামত পর্যন্ত এইভাবেই অবরোধ চলবে। এক বন্ধুর মুখে শুনলাম আস্তে আস্তে নাকি মানুষ অবরোধ মানিয়ে নিচ্ছে, মনে মনে ভাবছিলাম মানানোর আর জিনিস নাই দেশে শেষমেষ অবরোধ দাঙ্গা হাঙ্গামা এইসবও মানিয়ে চলতে হবে। মানাতে মানাতে আর সবুর করতে করতে জানা নাই আর কত? এদিকে তো আমাদের পিঠের চামড়ার আর কিছুই বাকী নাই, তবুও আমরা ঝিনুকের মত নীরবে সয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে মনে হয় না আমাদের তেমন কিছু করার আছে! আমার দোড় সমন্ধে আমি অবশ্য সচেতন- ল্যাপটপে বসে ফেসবুকে জ্বালাময়ী স্টেটাস লেখা আর চায়ের দোকানে বসে চাপা পিটানো। তার ভেতরে আব্বু খালি ফোন দিবে আর জিগেষ করে বলবে বাসায় যা-বাসায় থাক- এত বাইরে কি? ঢাকায় গন্ডগোল, জামালপুরে এসে পড়!
বাতাসে ককটেলের গন্ধ
কুড়ি পেড়িয়েছি সেই যুগল বৎসর হল,
শতাব্দীর সঙ্গীত বোদ্ধারা তখন একত্র আমার মাটিতে ।
হয়তো আমি খুঁজে ফিরছি অন্য কোন পথ,
তবু সে পথ আমার বেঁকে এসে পরে এই উঠোনে ।
বিনিদ্র রজনী আর সুরের মূর্ছনা,
হেঁটে চলছি আমি এক অন্য পথের পথিক ।
বিদ্রোহী মন চায় একলা ছুটে যাই
উৎসবের অন্তরালে,দূষিত ফুসফুসের স্পর্শে,
পারিনা,আমি পারিনা,
শত চেষ্টায়ও আমি ব্যর্থ,হয়তো সুপ্ত ইচ্ছায় !
খ্রিস্টাব্দে সময়টা তখন স্থিমিত সূর্য,
আমি ব্যস্ত অপরিচিত আঙ্গিনার মুগ্ধতায়,
হঠাৎ শুনি শ্রবণরুদ্ধ এক ধ্বনি ।
না,এ কোন ধ্বনি না,এ তো অশ্রাব্য অপসংস্কৃতি
যেখানে সঙ্গীত অপমানিত,বাকরুদ্ধ সংস্কৃতি,
এরই মাঝে ভেসে আসে,নাস্তিকতা রোগাক্রান্ত ।
তবে কি বন্ধু তুমি দেখোনা ?
তোমার ধর্মবাদীরা আজ ককটেল আক্রান্ত ।
আর তথাকথিত নাস্তিকরাই সেখানে অসহিংস ।
আমি তো এক নির্জন পথের বিদীর্ন পথিক
ফুসফুসটা বিশুদ্ধ না হলেও তো চলছে,
নিঃশ্বাসের সাথে তবে আজ এই কিসের গন্ধ পাই ?
এ কি সপ্তম আসমান পেড়োতে পারেনি ?
তুমি এখনও নিশ্চুপ,এ কি করে সম্ভব ?
আমার শুদ্ধ মাটির সুগন্ধ যে ক্রমেই দুর্গন্ধময় হচ্ছে,
বাতাসের অক্সিজেন ভারি হয়ে আসছে
বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন
রাষ্ট্রভাষা হিশেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পূর্ব বাংলায় ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি শক্ত করেছে কিন্তু পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা তাদের বাঙালি মুসলিম পরিচয়ে গর্বিত ছিলো এবং শিল্পী সাহিত্যিকদের ভেতরেও পশ্চিম বাংলার অধিবাসীদের সাথে নিজেদের পৃথক করার তীব্র আগ্রহও ছিলো। বাঙালী মুসলমানদের পৃথক বাংলা ভাষা চর্চার মাধ্যমে যা বিকশিত হচ্ছিলো। ১৯৫৬ সালে রাষ্ট্র ভাষা হিশেবে বাংলার স্বীকৃতি পূর্ব বাংলার অধিবাসীদের ভেতরে ভাষাভিত্তিক বঞ্চনাবোধ কিছুটা হলেও প্রশমিত করেছিলো। তাই শুধুমাত্র উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার কারণে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিভাজন ঘটেছে এমনটা বলা যাবে না। পাকিস্তান রাষ্ট্র হিশেবে তার নাগরিকের প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ হয়েছিলো, পাঞ্জাবী শাসিতকেন্দ্রে অপরাপর ভাষাভাষি নাগরিকদের দুর্দশা অনুধাবনের আগ্রহ ছিলো না, ফলে সিন্ধে কিংবা বেলুচস্তানে আঞ্চলিক বঞ্চনাজনিত বিক্ষোভ বাড়ছিলো। জয় হিন্দ, জয় সিন্ধ ঘুরে জয় বাংলা শ্লোগান এসেছে পূর্ব বাংলায়।
এলোমেলো
আমার এলোমেলো লেখার খাতা,
কখনো গান কখনোবা কবিতা।
মন মেঘের আড়ালে উঁকি দেয়া স্বপ্নগুলো,
আজ পেয়েছে প্রাণ নির্বাক শব্দগুলো।
হাজারো কাজের ভিড়ে, ইচ্ছেগুলোর সমাধিতে,
জ্বলছে আমার স্বপ্ন প্রদীপসম।
ঠিকানা আমার সাড়ে তিন হাত মাটি
চিহ্ন শুধু কাফনের কাপড়খানি,
তবুও এ পথ চলা
গানের খাতা ভর্তি করে লেখা।
ছড়ানো ছিটানো কাগজ যত্রতত্র,
পড়ে আছে কলমের মুখটা হতভম্ব।
অজস্র কাটাকুটি আর অনিয়মের ভিড়ে,
আমার নিরর্থ এ গান লেখা জীবনকে ঘিরে।
ধূসর গোধূলিঃ ২১ - আজ গাশ্বীর রাত...

শিউলির শহরে যাওয়ার দিন ঠিক হয়ে গেছে। আর মাত্র এক সপ্তাহ, তারপর সবাইকে ছেড়ে ও চলে যাবে বহুদূরে। চলে যাবার আগে কয়েকটা দিন মা-বাবার সাথে কাটাবে ও। মেয়েটা চলে যাবে তাই মষ্টারসাব আর সালমা বেগমের মনটা খুব খারাপ। এতদিন শ্বশুরবাড়িতে ছিল, ইচ্ছে হলেই গিয়ে দেখে আসতে পারত। দূরে চলে গেলে মনটা বড় কাঁদবে।
অয়ন বড়দি আসার পর থেকেই বলে আসছে, ওকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। শহর সম্পর্কে ওর কথার উত্তর দিতে গিয়ে শিউলিকে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
-বড়দি, তুমি কবে শহরে যাবা?
-এই তো আগামী সপ্তায়
-তুমি একলা যাবা শহরে?
-না, কাইল তোর ভাইয়া আইব। আমারে লগে কইরা নিয়া যাইব
-আমারেও কিন্তু তোমগো লগে নিতে অইব
ভাইয়ের আবদার শুনে শিউলি হাসে। তারপর বলে- বাবা, মা, বকুলরে ছাইড়া তুই থাকতে পারবি অনু?
-আমি তো শহরে ঘুইরা আবার চইলা আমু
-ও আইচ্ছা, শুধু শহর দেখতে যাবি, আমার লইগা তোর কোন মায়া নাই, তাইনা?
-আমি কি তাই কইছি? তোমার কাছে কয়দিন থাইক্যা বাড়ি চইলা আমু, আমার স্কুল আছে না?
কে সফল ???
২০০৮ সালের জাতীয় নিবর্াচনে আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রধান নিবর্াচনী ইস্তেহার ছিল '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা ২০০৮-২০১৩ এর সময়কালে আওয়ামীলীগ সরকার মানবতাবিরোধী/যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ করতে না পারলেও তারা ২০১০ সালে বিচার শুরু করে তারই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর, ২০১৩ '৭১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের নামে খ্যাত আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দেওয়ার জন্য বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও আন্তজর্াতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে টেলিফোনে অনুরোধ করা হয় কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আইনের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি আইনগতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে, যদিও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে দেশে বিদেশে আপত্তি উঠেছে বিশেষ করে ২০১২ সাল থেকে জামায়াত শিবির যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার জন্য দেশে সহিংস আন্দোলন শুরু করে দেশের বিভিন্নস্থানে জ্বালাও পোড়াওসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর প্রকাশ্য হামলা চালায়
বিশ্বজিতের আত্নীয়রা মরবে হাজার বার
সময়ের প্রয়জনে পোষ্টটি দিলাম। আমার মনে হয় এ লেখাটি আমি আমরা বন্ধুর সদস্য হবার পূর্বে লেখা।
আমি রাজনীতি করি না, রাজনীতি বুজি না। তবে দেশের ভাল যাতে হয় সেটা সব সময় কামনা করি।
যেদিন বাংলাদেশের খেলা থাকে, আর বাংলাদেশ হারবে মনে হয় আমার মেয়ে টিভি বন্ধ করে দেয়। কারন আমার হাই ব্লাড প্রেশার। বাংলাদেশ হারলে প্রেশার বেড়ে যাবার সম্ভাবনা ৯০ভাগ। আমার দেশে জন সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু কারও একের জায়গায় দশটি সন্তান হলেও যেমন তার কাছে বোজা হয়ে যায় না। তেমনই আমার দেশ মাতা যত দরিদ্রই হউক আমাদেরকে কখনো ফেলে দেন না এবং না খাইয়ে রেখেছেন কেঊ বলতে পারবে না।
দুর্ণিতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আমার বিশ্বাস সকল ক্ষেত্রে দেশের ঊন্নতি হয়েছে। তারজন্য সরকারের পাশাপাশি আমাদের দেশের বেসরকারি ঊদ্যোগতারা বেশী প্রশংসার দাবিদার এটা আমার দাবি।
মোরশেদ শফিউল হাসানের লেখনীতে বেগম রোকেয়ার সময় ও সাহিত্যকে দেখা!
বড় অসময়ে এই পোষ্ট লিখতে বসলাম। কয়েল আছে বাসায় কিন্তু ম্যাচ নাই তাই বসে বসে রাত জেগে মশার কামড় খাচ্ছি, মন মেজাজের অবস্থাও ভালোনা তার ভিতরেই এই লেখাটা শুরু করার শখ হলো। যদিও মন মেজাজ খারাপ থাকার কথা না, যেমন ভালো দিন আমি আশা করি তেমন ভালো দিনই আজ আমি কাটালাম- খানা খাদ্যময় ও আড্ডাময় দিন চলে গেল ভালোই, কিন্তু গুলশান দুইয়ে গনজাগরন মঞ্চের উপর পুলিশের হামলার শিকার হলো তা নিয়ে মন বিক্ষিপ্ত। অবশ্য পুলিশ তো প্রতিদিনই কত মানুষকে মারে তা নিয়ে আমার চিন্তা হয় না, আমি নিজে গা বাচিয়ে চলা শিখে গেছি। কিন্তু নিজেদের সহযাত্রীরা এরকম বেদম মার খাবে তা দেখতে অসহ্য লাগছে। কিন্তু কি আর করা, আমাদের মন খারাপে কারো কিছু যায় আসে না। অলরেডি দলকানারা ত্যানার ছবক নিয়ে বসে গেছে আর ছাগুরা হাতে তালি দিচ্ছে, ভালোই তো- ভালো না!
আমার আমি : কিছু এলোমেলো স্মৃতি
জীবন থেকে প্রতিটি ক্ষণ হারিয়ে যাচ্ছে। মানবিক জীবন, সংসার জীবন, ব্যক্তি জীবন এমনকি পেশা জীবনও বাদ পড়ছে না এ গৎবাঁধা সময়সূচি থেকে। মহামনীষীদের লেখায় এ সত্যটি প্রকাশ পেয়েছে ঠিক এভাবে- ‘Time and Tide wait for none’- সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। কেবলই বয়ে চলে।
পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর সাথে সময়ের এ কঠিন নিয়মে আমিও আবদ্ধ। একে একে জীবন থেকে ঝরে গেছে চারটি যুগ, ৪৮টি বছর (নভেম্বর ১০, ১৯৬৫-২০১৩)। এ দীর্ঘ জীবন পরিক্রমায় কী পেয়েছি, কী পাওয়া উচিত ছিল- এ নিয়ে এখন কোনো অনুযোগ, অভিযোগ বা আক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে গুণীজনেরা অকপটে লিখে গেছেন- ‘মানুষ যা চায় তা কখনো পায় না; যা পায় তা ভুল করেই পায়’। আমার চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।
ধূসর গোধূলিঃ বন্ধন মুক্তির ডাক...

পড়ন্ত দুপুর। সুর্য্যের কড়া তেজ কমে গেছে অনেকটাই। জানালা দিয়ে তাকিয়ে সুবলকে আসতে দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো অয়ন। আজ স্কুল থেকে ফেরার পথে মিরাজ বলছিল- উজানগাঙের ওপাড়ে অনেক কাশফুল ফুটেছে। বিকালে ঝাঁকে ঝাঁকে বকের মেলা বসে। তখনই ওরা ঠিক করেছিল আজ নদীর ওপাড়ে যাবে। মিরাজদের বাড়ির সামনে আসতেই দেখে ও রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে আছে। তিনজনে ছুটতে থাকে নদীর দিকে। কোটাখালী খালের পাড় ধরে সরু রাস্তার দু’পাশে বুনো ঝোপঝাড় আর মাথার উপর বড় গাছের ছায়ায় ছায়ায় ওরা এগিয়ে চলে উজানগাঙের দিকে। গ্রামের মধ্য দিয়ে একেবেঁকে খালটি যেখানে এসে নদীর সাথে মিশেছে, সেখানটাতেই একটি কাঠের ব্রিজ। এলাকার লোকজন এই জায়গাটিকে বলে- তেমাথার পুল। এই ব্রিজ পার হয়েই সরু রাস্তাটা নদীর পার ধরে চলে গেছে বহুদূর। এই ব্রিজের পরের গ্রামটির নাম ভবানীপুর। তারপর গৌরীপাশা, চন্দ্রপাশা, ইন্দ্রকাঠী এবং সর্বশেষ প্রান্তে একবারে নদীর পাড় ঘেঁষে গ্রামটির নাম কমলডাঙা।
চাঁদ, ঝরাপাতা আর বিকেলের পাখিদের সাথে পথচলা
রাতে হলে ফেরার সময় যখন আমি হারিয়ে যেতে থাকি তখন একটা চাঁদ প্রায়ই আমাকে সঙ্গ দেয়। তারপর ঘুমানোর জায়গাটা অ্যাভেইলেভল হলে মেঘ, রাতের চাঁদ আর মাথা জুড়ে থাকা ভাবনাগুলোকে বিদায় জানাতে হয়। ততক্ষণে চোখ মুখ বন্ধ। তখন আমার শরীর মনে অতীতের কোন আচ্ছন্নতা থাকে না। ঘুমের সময় নাকি মানুষ পুরোপুরি নাই হয়ে যায়। এটা সেটা পরিকল্পনা জড়ো করতে করতে ঘুম চলে আসে আমাকে নাই করে দেবার জন্য।