নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ দুই!
আজকেও যে পোষ্ট লিখবো সেই ইচ্ছা ছিলো না। ইদানিং এতো ঘন ঘন পোস্ট দিচ্ছি নিজেরই বিরক্ত লাগে। তাও লিখি। যারা পড়ার তারা পড়ে নেয়। অন্যেরা হয়তো মুখ ভেংচায়। তাতে আমি ওতো ভাবি না। লেখার সময় সুযোগ থাকলে ব্লগ লেখা কঠিন কিছু না। আর ব্লগ লেখাকে আমি নিতান্তই সরল দিনলিপিতে পরিনত করছি তাতে আমার জন্য সুবিধা হলো যাই ঘটে বলতে ইচ্ছা করলে বলে দেই। অনেকেরই দিনলিপিতে অনেক কিছু বলার থাকে কিন্তু সুযোগ, সময়, ভাষা পায় না। আমার দিনলিপি গুলো ভাষা পায় এতেই আমার আনন্দ।
শামসুর রাহমানের কবিতা “অভিশাপ দিচ্ছি”
আমার প্রিয় একটি কবিতা। সবার জন্য পোষ্ট করা হল।
”না আমি আসিনি
ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,
দুর্বাশাও নই,
তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে
অভিশাপ দিচ্ছি।
আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক
কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা
পুঁতেছিল আমাদেরই আপন জনেরই লাশ
দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে
শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু
সেই সব পশুদের।
ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদের
সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে
নিমেষে ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের বৃষ্টি
ঝরালেই সব চুকেবুকে যাবে তা আমি মানি না।
হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে মাঠে
ক্যাম্পাসে বাজারে
বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বীভৎস গন্ধ
দিয়েছে ছড়িয়ে,
আমি তো তাদের জন্য অমন সহজ মৃত্যু
করি না কামনা।
আমাকে করেছে বাধ্য যারা
আমার জনক জননীর রক্তে পা ডুবিয়ে দ্রুত
সিঁড়ি ভেঙ্গে যেতে
ভাসতে নদীতে আর বনেবাদাড়ে শয্যা পেতে নিতে,
অভিশাপ দিচ্ছি, আমি সেইসব দজ্জালদের।
অভিশাপ দিচ্ছি ওরা চিরদিন বিশীর্ণ গলায়
নিয়ত বেড়াক বয়ে গলিত নাছোড় মৃতদেহ,
অভিশাপ দিচ্ছি
প্রত্যহ দিনের শেষে ওরা
আবার একুশে
কালকে থেকে প্রচন্ড মেজাজ খারাপ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে। বন্ধুরা সবাই এক হয়েছে, একই দাবীতে দেখে ভালো লাগছে। কিন্তু আমি যেতে পারছি না। অসুস্থ হয়ে বারো দিন টানা বিছানায় পড়ে থাকা আমার ভাই সন্ধ্যায় যখন বলল - ‘যাবি? রেডি হ এখনই’ তখন মনে হলো - ভাইয়ের মতো ভাই। এরকম ভাই তখনো ছিলো, এখনো আছে। তাই আজকে আমরা এখনো বেঁচে আছি। তখনি আর যাওয়া হলো না তবে ঠিক হলো কাল, কাল ঠিক পৌঁছে যাবো শাহাবাগ।
পরশুও যাবো। যেতেই হবে। কারণ আমার ভাইয়ের মতোই আর একজনও আছে যার অবদান আমার জীবনে অনেক। আমার বাজি। তার জন্য পরশু আমার গন্তব্য হবে শাহাবাগ থেকে বইমেলা।
সেদিন দুপুরে ফেসবুকে বাজির বইয়ের কভারপেজ দেখে আধা ঘুমে থাকা আম্মুকে ডেকে দেখালাম, বললাম। আম্মু আমার উত্তেজনা দেখে নির্লিপ্ত ভাবে বলল, গতবারওতো ছিল। আমি আরো জোরে ডেকে বললাম, গতবার তো ছিল কিন্তু এবারে আস্ত একটা বই।
হ্যাঁ, এবারে আস্ত একটা বই। আর তাই আমার উত্তেজনাটা একটু বেশীই। আমার নাচ, গান, পড়া-লেখা, লক্ষ্ণী হওয়া, বান্দর হওয়া সব কিছুরই শুরু তার কাছ থেকেই কিনা। তাই আমি একটু বেশীই উত্তেজিত।
দায়শোধ-প্রলাপ
নয় হ্যান্ডকাফ ডান্ডাবেড়ী
নয় কারাগার ফাঁসি,
তোদের জন্য কেবল আছে উদ্ভ্রান্তের
হাসি।
কেবল আছে ঘৃণার থুথু কেবল অসীম
ক্রোধ
কেবল
আছে গুমড়ে মরা রক্তে প্রতিশোধ।
কেবল আছে স্বজনহারার
কান্না হাহাকার
কেবল আছে ব্যাখ্যাহীন এক ব্যথার
পাথর ভার।
কেবল আছে অসহায়ের তীব্র অভিশাপ
কেবল আছে ছবির সাদায় রক্তে কালো ছাপ।
কেবল আছে ধিক্কারে ক্ষোভ স্তব্ধ
কিছু মুখ
কেবল আছে আঁচলঢাকা গভীরতম দুখ।
কেবল আছে রায়েরবাজার মিরপুরে ম্লান
মাটি
কেবল আছে তীব্র বিষাদ তীব্রতম,
খাঁটি।
তোদের জন্য আর কিছু নেই,
কী আর তোরা চাস?
হায়না তোরা, হামলে পড়ে
চাখিস নিজের লাশ!!
[গতকাল লেখা। মনে হচ্ছে এখানেও থাকুক।]
শোনা কথায় বইমেলা: ফেব্রুয়ারি ৬
কিছু কিছু সময় আসে যখন স্বাভাবিক নিয়মের ধারা বাদ দিয়ে উত্তুঙ্গ বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরতে হয়। সেই সময়টাই চলছে এখন। যদিও এ ধরনের সময়ের কিছু দুর্বলতা থাকে- মানুষের একদিকের মনোযোগের ফাঁকে অন্য অনেক বড় বড় কাজ বা কুকাজ করে ফেলা যায়- সেরকমটা হচ্ছে কিনা কে জানে! এই মুহূর্তের মনোযোগের বিষয় সবটুকু কেড়ে নিয়েছে শাহবাগ- মানুষজন যেখানে দিনের পর দিন মিছিল দিয়ে স্লোগান দিয়ে আন্দোলন করে দিনাতিপাত করছে- সেখানে বইমেলা নিয়ে সিরিজ লেখা এবং তা পড়া এবং তা নিয়ে কমেন্ট করা বিসদৃশ লাগার কথা। ভেবেছিলাম বন্ধ করে দিবো- কিন্তু মনে পড়লো ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখের লেখাটির কথা। সেখানে স্পষ্টভাবেই বলেছিলাম- শাহবাগের একেকটি মানুষ একেকটি বই। শাহবাগের একেকটি মানুষ একেকটি বইমেলা। সেদিনের পর থেকে শাহবাগে ‘ছাপানো নয় কিন্তু জীবন্ত’ এরকম বইয়ের পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণ। এরকম নতুন নতুন বই এসেছে অভাবিত পরিমাণে। সেদিনের পর থেকে শাহবাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিটা মিনিটের বইমেলা। সুতরাং তাদেরকে নিয়ে লিখলেও আদতে বইমেলা নিয়েই লেখা হয়।
নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময়!
যাপিত জীবনে কিছু সময় আসে এরকম যখন প্রতিটা মুহুর্তকে দামী মনে হয়। ইচ্ছে করে সবটুকু অনুভব দিয়ে উপভোগ করি কিন্তু উপায় থাকে না। সময় চলে যাবার পরে বুঝা যায় কি চলে গেলো এই এক নিমিষে। আমরা যারা ছয় সাত বছর ধরে ব্লগে ফেসবুকে ডায়লগ বাজী করে বেড়াই, তাদের জন্যে স্বপ্নের মতো কিছু দিন যাচ্ছে। কেউ কোনোদিন ভাবতেই পারে নাই ফেসবুক ব্লগের যুদ্ধাপরাধ বিরোধী সেন্ট্রিমেন্ট এরকম গনরোষে পরিনত হবে। ফেসবুক ব্লগে বিপ্লব হয় তা আরব বসন্ত থেকে জেনেছি। কিন্তু এই শীত পালানো মাঘের দিনগুলোতে এরকম কিছু হুট করেই হবে ভাবি নি। ধারনা ছিলো কাদের মোল্লার ফাসি হবে। সবাই খুব খুশী হবে। ছবির হাটে অনেকে মিস্টি খাবে। কিন্তু হলো যাবজ্জীবন। একজন মানুষ খুনী ধর্ষক কসাইয়ের শাস্তি জেলের আটার রুটি খাওয়া তা আমার চিন্তারও বাইরে। কালকেই এক সামান্য ইভেন্ট থেকে অনেক মানুষ হয়ে জানান দিছে এ রায় মানার কোনো উপায় নাই। আজ তার পুর্নতার দিন। আন্দোলন চলছে। কাল সকালে হরতাল হীন শাহবাগে কিভাবে কি হয় পুলিশ কি আচরন করে? তা দেখার জন্য তর সইছে না।
কাদের মোল্লার অশুভ ইঙ্গিত...
... মেজাজ তো বিগড়ে ছিলই, সকালে পত্রিকা হাতে নিয়ে সেটা আরও বিগড়ে গেলো। অজান্তেই বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো একটা গালি- বেজন্মা! আর গালিটা দিয়েই
চমকে উঠলাম। না, গালি বেরিয়ে আসায় চমকে উঠিনি মোটেও। কারণ, আমি তথাকথিত সুশীল মানুষ নই। বরং তার বিপরীত। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে গালিবহুল বাতচিত চালাতেই
আমি অভ্যস্ত এবং সাবলীল। কিন্তু সেইসব গালি আর এই গালির মধ্যে ফারাক বিস্তর। সেসব গালিতে থাকে এক ধরনের টান-মমতা-স্নেহ-অধিকার। আর এই গালিতে টের পেলাম ঘৃণা।
সে ঘৃণা এমনই প্রচন্ড, এতোই তীব্র ও অচেনা যে তার সাথে এর আগে আর কখনো দেখা হয়নি আমার। চমকে ওঠা সে কারণেই।
বন্ধুগণ, দুঃখিত, ‘বেজন্মা’ শব্দটি লেখার জন্য। আগেই বলেছি- আমি ঠিক সুশীল মানুষ নই, তবে তা কেবল বন্ধুদের একান্ত আড্ডায়। গালি ছাড়া বাঙালির আড্ডা জমেছে কবে!
কিন্তু লেখার বেলায় আমি একেবারেই সুফি টাইপের। লেখায় আমি গালি-গালাজ এবং অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। নিজে তো লিখি না-ই, পড়তেও ভিষণ অপছন্দ করি।
কিন্তু এখানে বাধ্য হয়েই লিখতে হলো। তা নাহলে তখনকার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া হয় না।
জ্বেগে উঠো বাংলাদেশ, প্রতিরোধের এইতো সময় - দাবি একটাই সব রাজাকারের ফাঁসি চাই।
প্রিয় বাংলাদেশ জ্বেগে উঠো, প্রতিরোধের এখনই সঠিক সময়। এখন যদি আমরা না জাগি ভবিষৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবেনা। যেখানে জামাত সেখানে প্রতিরোধ। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যাবসায়ী, চাকরিজীবি, দিনমজুর, কৃষক, রিক্সাওয়ালা, ফেরিওয়ালা, আবাল বৃদ্ব বণিতা জেগে উঠুন। বিষ দাঁত এখনই উপড়ে না ফেললে মাতৃভূমি আমাদেরকে ক্ষমা করবেনা।
একজন ছিনতাইকারি ধরা পড়ার পর যেমন করে গনরোষের শিকার হয়, যেমন করে রাস্তায় থাকা সব মানুষ ওই ছিনতাইকারিকে গণপিঠুনি দিতে কার্পণ্য করেনা এর থেকেও ভয়ংকর ভাবে জেগে উঠুন। শুধু মাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে থাকিয়ে না থেকে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিরোধের এইতো সময়। যেখানে জামাতশিবির ভাংচুর, বিশৃঙ্খলা করতে চাইবে সেখানেই প্রতিরোধ। যেখানে এই অপঃশক্তি বিশৃঙ্খলা করতে চাইবে সেখোনেই প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন ছাত্র, শিক্ষক, চাকুরে, দোকানদার, ফেরিওয়ালা, রিক্সাওয়ালা সবাই মিলে ঘিরে ফেলুন পালানোর পথ পাবেনা। আসুন আমরা যে যার অবস্থান থেকে এই মূহুর্ত থেকে প্রতিরোধ করি। আর আমরা নিরব পথচারীর মতো দাঁড়িয়ে থেকে এই কুলাঙ্গারদের বিশৃঙ্খলা সহ্য করবনা।
দাবি একটাই সব রাজাকারের ফাঁসি চাই।
চলরে মনা শাহবাগে

আমরা চেয়েছি ঢেউ লাগুক
আমরা চেয়েছি বাঙালি জাগুক।
ঢেউ এসেছে, জোয়ার উঠেছে
চলরে মনা শাহবাগে।
একদফা এক দাবী
যুদ্ধাপরাধীর চাই ফাঁসী।
রাখাল রাজা দেখে যাও
আজো আমরা ঘুমাই নাই
শহীদ মাতা ভেবো না
ফাঁসীর দাবী ছাড়ি নাই।
আজ আমরা এক হয়েছি
সুর বেঁধেছি এক
যুদ্ধাপরাধীর চাই ফাঁসী
কথা হয়েছে অনেক।
পাকির দালাল, ভারতের দালাল
রুশ, চিনা কতই না দেখেছি
এবার মোরা কসম কেটেছি
বাংলাদেশী দালাল হলাম
হলাম বাংলা মায়ের কেনা গোলাম।
আমরা চেয়েছি ঢেউ লাগুক
এই ঢেউয়ে ভেসে যাবে যুদ্ধাপরাধী
আমরা চেয়েছি জোয়ার উঠুক
এই জোয়ারে ভেসে যাবে ধর্মব্যবসায়ী।
একদফা এক দাবী
যুদ্ধাপরাধীর চাই ফাঁসী।
চলরে মনা শাহবাগে
দাবী আদায় করতে হবে।
লক্ষ মা - বোন মাফ চাই ফাঁসির দাবি ছাড়ি নাই

আর কোন কথা নাই, আর কোন শব্দ নাই দাবি একটাই সব রাজাকারদের ফাঁসি চাই
আর কোন কথা নাই, আর কোন শব্দ নাই দাবি একটাই সব রাজাকারদের ফাঁসি চাই
আর কোন কথা নাই, আর কোন শব্দ নাই দাবি একটাই সব রাজাকারদের ফাঁসি চাই
আর কোন কথা নাই, আর কোন শব্দ নাই দাবি একটাই সব রাজাকারদের ফাঁসি চাই
সময়ের লাশ শেষ পর্ব
সন্ধ্যার পর বাবা তার ছাত্র মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহকে নিয়ে বাসায় আসলেন। মাহফুজ ভাই প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতেন। তিনি কবিতা, গল্প লিখেন পত্র-পত্রিকায়। আমি সেই বিকাল থেকে কান্নার্ত চোখে শুয়েছিলাম। বিছানা থেকে উঠে দরজায় আসতেই মাহফুজ ভাইয়ের মুখ থেকে ছাত্র হত্যার ঘটনা শুনতে পেলাম। উনি বলতে লাগলেন, “আগের দিন থেকেই একটা আশঙ্কা ছিল--আগামীকাল মারাত্মক কিছু ঘটে যেতে পারে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাষ্ট্র ভাষার দাবীতে কোন মিছিল হলে সরকার কঠিন ব্যবস্থা নিতে পারে। অবশ্য মিছিলের উপর গুলি বর্ষিত হতে পারে এমন আশঙ্কা আমার মনে ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাই ঘটলো। সংবাদ অফিসে থাকতেই শুনলাম, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের অবস্থা খুবই খারাপ। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিল শুরু হয়েছে, যে কোনো সময় মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। আমি শংকিত চিত্তে আবার আজিমপুরের দিকে যাত্রা শুরু করলাম, সারা পথেই স্থানে স্থানে মানুষের জটলা। সবাই শংকিত, কি ঘটে না ঘটে। আজিমপুরে পৌঁছেই শুনলাম, মেডিকেল কলেজের মোড়ে পুলিশ ছাত্র জনতার উপর গুলি করেছে, বহু মানুষ তাতে মারা গেছে। এই খবর শুনে আমিও অন্যান্য মানুষের সঙ্গে দৌঁড়ে পলাশী ব্যারাকের মোড়ে গেলাম। তখন
শূকরটাকে বধ করবো, এবার ওটার কোনো ক্ষমা নাই
১.
বেলা সাড়ে ১১টায় যখন টিভি স্ক্রীনের নিচের দিকে খবরটা গড়াতে শুরু করলো, তখন থেকেই মুখে থুথু জমে আছে। বারবার ফেলছি, বারবারই জমছে। মাঝে মাঝে মানুষ নিজে কোনো দোষ না করেও যে কি ভীষণ আত্মগ্লানিতে ভুগতে পারে, সেটা টের পেলাম এইবার।
কিন্তু আমি কেন আত্মগ্লানিতে ভুগছি? আমার কি দোষ? বুঝতে পারছিলাম না এবং মনকে কোনোভাবে বোঝাতেও পারছিলাম না। একটা প্ল্যকার্ড দেখলাম। লেখা আছে, অঝোর ধারায় কাঁদছে চোখ/ আমার নাহয় ফাঁসি হোক।
কি অর্থহীন একটা কথা! এ পর্যন্ত কোনো মানুষকে আমি এভাবে নিজের ফাঁসি চাইতে দেখি নি। এ ভাষায় প্রতিবাদ করতে দেখি নি। সে কেন ফাঁসি চায়? তার কি সমস্যা? সবই ভাবছি, সবই বুঝছি কিন্তু অর্থহীন কথা সম্বলিত ওই প্ল্যাকার্ডটিকে চোখের সামনে থেকে সরাতে পারছি না। ঘুরেফিরে ওটাই সামনে ভেসে উঠছে। এটা কেন হচ্ছে, সেটাই শুধু বুঝতে পারছি না।
মন খারাপের দিন
আমার মেয়ে মাত্রই দশে পা দিলো। তাকে আমি সজ্ঞানে কখনো সেভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প করিনি। একটা বিরাট কারণ প্রবাসীনি হওয়ায়। আর মায়ের কাছে সন্তান সবসময় ছোট থাকে। মনে হতো এতো ভয়াবহ ঘটনা বাচ্চার মনে খারাপ প্রভাব ফেলবে, আর একটু বড় হোক সে, তারপর জানবে সব। কিন্তু যা হয়, বাসায় আলোচনা শুনে শুনে, খালা – মামা, গুগল থেকে সে জানে, ৭১ এ পাকিস্তানীরা বাংলাদেশের সাথে “অনেক খারাপ” করেছিলো। মানুষ মেরে ফেলেছিলো, তাই পাকিস্তানীরা বাংলাদেশের বন্ধু নয়, আমরা কখনো কোন কাজে পাকিস্তানকে সমর্থন করতে পারি না, এটা কখনো আর সম্ভব নয়। যেহেতু এটা সে জানেই, তাকে আমি “আমার বন্ধু রাশেদ” সিনেমাটা বেশ কয়েকবার দেখতে দিয়েছিলাম। আমার মনে হয় আমাদের বাচ্চাদের ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলার এর থেকে সুন্দর উপায় আর হয় না। মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে আমি অনেক কারণেই অসম্ভব শ্রদ্ধা করি, তারমধ্যে এটিও একটি কারণ।
শোনা কথায় বইমেলা: ফেব্রুয়ারি ৫
কখনও কখনও অনিবার্য কারণে থেমে যায় বাধ্যতামূলক কোনো সিরিজ;
অনিবার্য-কারণটুকুরও নাম দিয়ে গিয়েছিলেন জহির রায়হানেরা- 'সময়ের প্রয়োজনে'।
বইমেলার দিন শুরু হয়েছিল আজ প্রবল হতাশায়-
শেষ হচ্ছে প্রবল ক্ষোভ নিয়ে- বইমেলা আজ চলে গেছে বাংলা একাডেমী থেকে শাহবাগে।
রক্তঋণ শোধ করতে গিয়ে নিজেদের আমরা প্রমাণ করে চলেছি অথর্বতার সংজ্ঞায়
একফালি প্রতিবাদ তাই আজ বড় শক্তি-
প্রতিবাদী মানুষ মানেই একেকটি প্রতিবাদী বই
প্রতিবাদী মানুষ মানেই একেকটি প্রতিবাদী বইমেলা
'শোনা কথায় বইমেলা' সিরিজে আজ পড়ছি অসংখ্য ব্লগ- যারা গিয়েছে শাহবাগে
'শোনা কথায় বইমেলা' সিরিজে আজ দেখছি অসংখ্য ছবি- যারা তুলেছে শাহবাগে
'শোনা কথায় বইমেলা' সিরিজ আজ অনিবার্য প্রতিবাদের সমর্থনে বিরত।
'শোনা কথায় বইমেলা' সিরিজ আজ চলে গেছে শাহবাগ মোড়ে, সেখান সে বসে আছে প্রতিটি প্রতিবাদী মানুষের পাশে- হাতের মুঠোয় হাত রেখে।
সুতরাং আপনার আজ এই সিরিজ পড়ার দরকার নেই
এই বইমেলার সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ বই আপনি পাবেন এখন শাহবাগে- বইমেলায় যাওয়ার চেয়ে আপনার এখন শাহবাগে যাওয়াটা জরুরি।
লেখার কার্য-কারণ বিষয়ক ব্যক্তিগত কৈফিয়তনামা....
কেউ কেউ থাকে এমন যাদের কিছুতেই কিছু হয় না। তারা ঠিকমতো না শেখে লেখাপড়া, না শেখে কোনো কাজকর্ম। তারা না লাগে হালে, না লাগে জালে। না হয় ঘরকা, না ঘাটকা। তারা বাপে খেদানো, মায়ে তাড়ানো। সমাজে তাদের আলাদা একটা পরিচয় আছে।
শাস্ত্র বলে- ‘অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’। বিজ্ঞজনেরা তাই অপচয় হবে বোধে বেশি শব্দ ব্যবহার করেননি, একটি মাত্র শব্দ বরাদ্ধ করেছেন তাদের জন্য- অপদার্থ। জ্ঞানীদের তো আর সাধে জ্ঞানী বলে না, একটি মাত্র শব্দ, কিন্তু তাতেই কেমন স্পষ্ট ফুটে উঠেছে পরিচয়, চারিত্র- ‘হেড টু টেইল’!