আ-কি-হ
আ-কি-হ = আমি কি হলামরে হইলো মুই কি হনুরে এই রোগের মর্ডান ভার্সান। যাহাকে অন্তত জলিল ভাইয়ের ইংলিশে “সিকিং এটেনশন ডিসঅর্ডার” ও বলা হইয়া থাকে। আমরা অনেকেই এই রোগে অল্প বিস্তর আক্রান্ত। আজিকে ইহার লক্ষন ও প্রতিকার নিয়া আলোচনা করিবো প্রিয় পাঠকরা, ধৈর্য্য ধরিয়া বসুন, বিজ্ঞাপন বিরতিতেও টিভির রিমোট ঘুরাইবেন না। যাহা মিস করিবেন তাহাই মিস হইয়া যাইবে। মিসকে মিসেস করিবার আর সুযোগ পাইবেন না।
ব্লগানি
শব্দের চে' ভালো নীরবতা
অক্ষরের চে' শূন্যতা অধীর হয়েছে পাতা জুড়ে...
এক.
বহুদিন ব্লগে লেখা হয় নাই। বহুদিন ব্লগ লেখা হয় নাই। ব্লগাঞ্চলে লেখালেখি মানেই যেনো অনেক সময় সাপেক্ষ উপলক্ষ্য। এমন এক আরোপিত আচরণে আটকা পড়ে আছি। সময়ের যে খুব টানাটানি তা কিন্তু নয়! তাও কিছু লেখা হয় না। লেখার আগেই মনে হয়, হয়তো এইখানে লেখার মতোন মানসিক অবস্থা আমার নাই। এর চে' ভালো হয়তো অনলাইন নিউজে ডুবে থাকা। আপনমনে হাসাহাসি। দেশ ও দশের অবস্থার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে চোখ বুজে স্বপ্ন দেখা কখনো; কখনো বা সবকিছু ভুলে গিয়ে মনহীনতার স্তরে ঘোরাঘুরি।
কবিতা: তমা, তোমার চাহনিতে
আমি আজো আমৃত্যু-চঞ্চল মরুর পথের রথি; চলি ছুটে
অ্যাপোলোর সূর্যরথে আহোরন করে সহস্র জনম আগে,
আমি আজো চলেছি জ্বলে পুড়ে হৃদয় আত্মা; বড় ব্যাথা জাগে,
রাত্রি’ আঁধারে, তমা, থাকো কি জেগে? তব চোখে সব ব্যাথা টুটে।
যেমন সহস্র রাত্রির তারাদের ব্যাথায় চন্দ্রের উত্থান;
যেমন মরুর তপ্ত বালুতে জলের প্রবাহ; ঝর্ণার জয়,
অথবা লক্ষ বছরের জীবন্ত অগ্নিগিরি যাতে সুপ্ত হয়,
তমা, তোমার চাহনিতে, চোখের তারায় হৃদয় স্বর্গদ্যান।
তারপর কোন একদিন চাঁদনীতে হবে চোখে চোখে কথা;
হৃদয়ের ভাষা পারবে কি বুঝতে চন্দ্রের আলোয়? কী সেই ব্যাথা!
১৫-২৯/১০/২০১২, ঢাকা।
হে অজ্ঞ, প্রণয়-প্রবণ!
লুক্কায়িত আছো তুমি আঁধার-স্বপ্ন ভেঙে
কেন মিছে মুছে নিয়েছো দীর্ঘশ্বাস?
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোমল রোদ
জ্বালা বুকে উঠে আসে
তুমি কি মিথ্যার লোবানে নিয়েছো শপথ?
নিষিদ্ধ তারকারাজি খসে পড়ে মলয় দৈবাৎ।
এমন ব্যর্থ স্নান হৃদয় রসে ভরে
কেন ছুটে গেলে বিধুর দূরন্ত প্রতাপ
ক্ষণিক জেগে উঠে আবারও করো যদি গভীরে ভ্রম
উত্তর জানা নেই তার আর
হবে সুদূরে গহীন বিভাজন -
হে অজ্ঞ প্রণয়-প্রবণ!
সেরা ছবির সেরা তালিকা
সেরা ছবির অনেকগুলো তালিকা আছে এখানে। ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের প্রকাশনা সাইট অ্যান্ড সাউন্ড তালিকাগুলো করেছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, মূল তালিকার বাইরে আরেকটি তালিকা আছে। কারণ মূল তালিকায় ১৯৬৮ সালের পর আর কোনো ছবি স্থান পায়নি। ফলে ১৯৬৮ সালের পর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো থেকে আরেকটি সেরা ছবির তালিকা করা হয়েছে।

সাইট অ্যান্ড সাউন্ড ১৯৫২ সাল থেকে প্রতি ১০ বছর পর পর বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্রের একটি জরিপ করে। এখানে ভোট নেওয়া হয় বিশ্বের বড় বড় পরিচালক ও সমালোচকদের। এ কারণে এই জরিপটির একটি গ্রহনযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। ১৯৫২ সালের প্রথম জরিপে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছিল ভিত্তোরিও ডি সিকোর বাইসাইকেল থিভস। এরপর থেকে প্রতিবারই প্রথম স্থানে ছিল অরসেন ওয়েলস-এর সিটিজেন কেইন।

মানুষ
মানুষ
বুক চিতিয়ে বলি মোরা...
আমি মানুষ , মানুষ আমি
কতটুকু মানুষ আছি..
জানেন তাহা অন্তর্জামী ।।
অগাধ টাকার মালিক হলে ...
মানুষ মোরা বলি তারে ,
পথের ধুলায় যারা থাকে..
ওরা পরে কোন কাতারে ?
নিজের কাছে প্রশ্ন হলে ..
লজ্জা আমি রাখবো কোথায় ?
বিবেক টাকে কষে বেঁধে ..
আমি "মানুষ" বলবো সদায় ।
কিছু হলেই বলি মোরা ..
জীবন বড় কঠিন রে ভাই,
বলছেন আপনি সত্য কথা..
"ও" কথারি খাওয়া নাই ।
আমার মাথায় আসে না যে,
জীবন কেন কঠিন হবে?
বিবেক হীনের কিছু কাজে..
মাশুল কেন গরীব দিবে ?
যেমন খুশি চলছে চলুক
আমার কথায় সবাই হাসে,
ভবিতব্যের এই খেলাতে..
দুঃখের কথা দুঃখেই ভাসে ।।
অনুভূতি
অনুভূতি তাং- ০৮/১১/২০১১
প্রথম কথা কেমন যে হয়,
লগ্ন আসে কি সুর নিয়ে ?
নতুন চোখের প্রথম পড়া ,
কোন ভাষাতে আসে ধেয়ে ??
হাজার কথা বুকের মাঝে ...
ফুটে উঠে গন্ধ নিয়ে,
একটি মুখই ভাসতে থাকে..
সব কথাকে ফাঁকি দিয়ে ।।
ঝাপটা লাগে কিসের যেন ...
প্রথম পাওয়ার অন্তরাতে,
জীবন তখন ধন্য যে হয়..
নুতন করে জীবন মাতে ।।
দিন যায় কথা থাকে
নিয়মমতো অক্টোবরের শেষ রোববারে ঘড়ির কাটা ঘুরে গেলো। অফিসিয়ালি এখন হেমন্ত আর এখানে শীতকালীন সময়সীমা শুরু হয়ে গেলো। উত্তর গোলার্ধের খুব কাছের দেশগুলোতে নভেম্বর থেকে শুরু করে তারপর পুরো টানা প্রায় ছয় মাস অন্ধকারে লোকজন বাড়ি থেকে বেরোবে আবার অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকবে। সূর্য্যি মামা শীতনিদ্রায় যাবেন। যদিও বিশেষ দিনক্ষন দেখে সূর্য মামা কখনো কখনো এখানে উঁকি দিবেন তবে সেটাও বয়ে আনবে দুঃসংবাদ। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় এরপরই বরফ পড়তে শুরু করে। সেই বরফে পড়ে যেয়ে কারো কারো হাত পা ভাঙ্গবে, আর প্যাচপ্যাচে কাঁদাতো আছেই। নিকষ কালো অন্ধকারের ভার সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ ডাক্তারের শরনাপন্ন হবেন, এন্টিডিপ্রেসন মেডিসিনের জন্যে। হিম হিম ঠান্ডা পড়ছে, তাপমাত্রা দুই অঙ্ক থেকে এক অঙ্কে নামা শুরু করেছে, মাঝে মাঝে রাতে শুণ্যের নীচেও নামছে।
অপহৃত উৎসব বিষয়ক কিছু কথা
১. দূর্গাপুজা ও কোরবানির ঈদ চলে গেল হাত ধরাধরি করে। মাতৃরুপেনু সংস্থিতা দেবী দূর্গা সপরিবারে পিত্রালয়ে নাইওর এসে এবারো দমন করলেন অশুভশক্তির প্রতীক দেবদ্রোহী মহিষাসুরকে। মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে নিজের মৃত্যুদৃশ্য স্বপ্নে দেখে ভীত মহিষাসুর ভদ্রকালীকে তুষ্ট করেছিলেন। ভদ্রকালী তাঁকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি না দিলেও তাঁর ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে বরদান করতে ইচ্ছুক হন। মহিষাসুর দেবতাদের যজ্ঞভাগ বর চাইলে দেবী সেই বর দিতে অস্বীকৃত হন; কিন্তু মহিষাসুরকে এই বর দেন যে যেখানেই দেবী পূজিতা হবেন, সেখানেই তাঁর চরণতলে মহিষাসুরেরও স্থান হবে। মায়ের গৃহে সকলেরই ঠাঁই আছে।
ভেবে দেখলে, কোরবানির ঈদ ও দুর্গাপুজার দর্শন প্রায় একই। এই ঈদ মূলত পশু কোরবানি অর্থাৎ প্রতীকী অর্থে অশুভ’কে নিধন করা, এবং আল্লাহর নেয়ামত সমাজের বঞ্ছিতদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য পালন হয়। গরীব ধনী সকলের স্থান আছে ঈশ্বরের ঘরে, সবাইকে শামিল করতে পারলে তবেই না যথার্থ উৎসব।
এবার দিনাজপুরে
অনেক অনেক দিন পর দিনাজপুর গেলাম এবার। প্রতিবারই শহরের চেহারা বদলায়, আশৈশবের পরিচিত শহরটাকে নতুন স্থাপত্যের চাকচিক্যে অচেনা লাগে, পরিচিত সকলের চেহারায় সময় তার আঁচড় রেখেছে, জানি আমার চেহারাতেও সময় তার ছাপ রাখছে তবু মনে মনে এখনও আমি সেই কৈশোরেই আটকে আছি। বন্ধুদের পরিবার বড় হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুল আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গল্পের ফাঁকে নিজেদের স্কুল কলেজের গল্পও উঠে আসে সময় সময়।
শ্যাম-রাধা বিচ্ছেদঃ ০৬-রাধাবৃক্ষ
গাছের পাতা উড়ে হাওয়ায়
উড়ে আঁচল তোমার,
বুকের মাঝে কষ্টগাছ
শিকড় বাকড় শুধু আমার।
তুমি হইলা ফুল আর ফল
আমি দিলাম ছায়া আর জল।
অনিমেষ কয়-হাওয়ায় উড়ে
যাইবা কোথায় রাধা;
কৃষ্ণ হইলো একলা নাও
সে দুঃখনোঙ্গরে বাঁধা।
তুমি হইলা পুজার যোগ্য
ফুল-ফল সব তোমার ভোগ্য,
তুমি প্রেমের ধারা,
রাধা বিনে বহে কেমন
দিন রাত সব আছে যেমন
প্রেমের ঝর্নাধারা।
অধরা
অধরা
হৃদয়ে রেখেছো হাত-
বুকের পাঁজর তলে হৃদয়রতন টকটকে লালতরমুজ-
অবোধ ষোড়শী হেসে খেলে ফালি ফালি কাটে,
আঁধার সমান বিরহপাথর-প্রেমের উত্তাপে গলে।
সময় বঙ্কিম সিঁথি খুঁজে তবু অধরার মুখ
পাতাল পাহাড় সাগর অরণ্যে ছুটে নিয়ন বাতির সাথে
ক্ষয়িষ্ণু কাহিল বুক।
আত্মমগ্ন কথামালা - ১৭
।
সেই কোন শিশুকাল কোনো একটা রূপকথায় পড়ছিলাম রাজকন্যারে পীরেনিজ পর্বতমালার ওইপাড়ের থিকা উদ্ধার কইরা নিয়া আসে রাজকুমার। সেই থিকাই মাথার ভিতর পীরেনিজ নিয়া একটা বিরাট ধরণের রোমান্টিসিজম লালন কইরা যাইতেছি। সাগরের জোয়ার-ভাটার মতো, এই রোমান্টিসিজম কখনো পিকে থাকে কখনো নাইমা যায়। সময়কালের কোনো ঠিক-ঠিকানা নাই...
।
*
আলতো আদরে মাতে
পীরেনীজ ছুঁয়ে আসা সোনালী মেঘের দল...
*
।
আইজ সকালের আকাশ দেইখা কোনো ফিলিং হয়নাই মাথার ভিতর। দুপুরে বেরইলাম, আর আকাশ দেইখা মনে হইতে থাকলো একেবারে জলরঙে আঁকা। ঘুইরা ফিরা আবারো সেই শিশুকাল মাথার ভিতর ফিরা আসলো। যেই সময় আমরা সিএমওয়াইকে চিনতাম না, আরজিবি চিনতাম না। রঙগুলারে আলাদা আলাদা নামে চিনতাম। সেই পিওর আকাশী নীল রঙের আকাশ ছিলো দুপুরে। সাথে পেঁজা তুলো মেঘের ছোপ ছোপ...
।
রোদের টুকরাগুলা পইড়া ছিলো সেই পুরানো সরকারী বাগানের সবুজ কার্পেটের উপরে। আশেপাশের বড়বড় গাছগুলা মনে হইতেছিলো স্নেহের দৃষ্টিতে তাকাইয়া ঘাস আর রোদের খুনসুটি দেখতেছে...
।
বহুদিন লেখতে পারতেছিনা। চেষ্টা কইরা চলতেছি। কিন্তু কিছুই জমাট বাধতেছে না।
বেঁচে আছি??!!!
কখন রাত হয়, কখন সন্ধ্যা নামে, রাতের ঘুম কি জিনিস, অবসর কাকে বলে, নিজের কাছে নিজে ফেরা কি, এগুলো সব আজকে একবছরের উপর ভুলে গেছি, লিখতে ভলে গেছি, শেষ কবে টিভি দেখেছি বলতে পারি না। সবকিছু সব সময় কন্যাকে দিচ্ছি, তারপর যখন দিনশেষে মেয়ে চরম অসুস্থ হয়, বেচারার কান্নার শক্তিটুকুও আর থাকে না, ৪ ৫ দিনে ২কেজি ওজন কমে যায তখন নিজেকে কেমন যেন অপরাধী লাগে। মনে হয আমি ঠিকঠাক ওর যত্ন করতে পারছি না, নিজেকে কেমন ব্যর্থ মা মনে হয়।
সব ঠিক আছে আমার কিছুর দরকার নেই, শুধু দীপিতা সুস্থ থাক, মাঝে মাঝে মাথার ভেতর যখন কোন গদ্য অথবা পদ্য লাফ দিয়ে ওঠে তখনই আমার একটু কষ্ট হয়। এবার দীপিতা আম্মু বই ও করছি না, ডায়রী পর্যন্ত লিখি না তোমার কষ্ট হবে ভেবে, একটা ঈদ সংখ্যা পূজো সংখ্যা কিনিনি, যদি পড়তে ইচ্ছে করে এই ভেবে। আমার ভূতুম পাখি তুমি তাড়াতাড়ি সেরে ওঠো, এখন তুমি না খেয়ে ঘুমা্চ্ছো, এ সুযোগে পিসি খুললাম। আদর গো মা-মণি
শুনবেন সেই সব গল্প ?
আড্ডা চলছে - পুরনো দুজন কলিগ বেড়াতে এসেছেন - হারানো সময়ের ভালোলাগা অনেক কথা উঠে আসতে শুরু করেছে - পরিবেশটা বেশ উপভোগ করছি - হুট করেই একজন জিজ্ঞেস করলেন - একটা চাকরি দিতে পারেন ? - আমি কিছুটা অবাক হয়েই তাকালাম - কাউকে চাকরি দেবার মত অবস্থানে আমি এখনো পৌঁছাইনি - আমার বন্ধুদের কেউ হয়ত পারবে এই ভেবে জিজ্ঞেস করলাম - কার জন্য ? ভদ্রলোক চুপ করে গেলেন - কিছুটা যেন দ্বিধাগ্রস্ত - আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম - চাকরিটা কার প্রয়োজন ? ভদ্রলোক নিরুত্তর - পরিবেশটা ও কেমন যেন একটু গুমোট হয়ে গেল - অস্বস্তি কাটাতেই প্রসঙ্গ বদলে ফেললাম - অল্পক্ষণেই আরষ্টতা কাটিয়ে আমরা আবার গল্পে মেতে উঠলাম.
'বুঝলেন - একটা মেয়ে আছে - ভালো মেয়ে' - ভদ্রলোক নিজে থেকেই বলছেন আবার - 'একটা চাকরির খুব দরকার ওর'.
আপনার কোনো আত্মীয়া নাকি ? জিজ্ঞাসা আমার.
না - চিনি আর কি.
বুঝলাম - থলের বেড়াল বেরোতে শুরু করেছে . কাছের কেউ?
না - পরিচিত - মানে- মেয়েটা একটু অন্য ধরনের পেশায় আছে.