শুধু শারীরিক নির্যাতন না বন্ধ করো মানসিক নির্যাতন
কয়েকদিন ধরে মিডিয়ার কল্যানে আমরা সবাই খুব রোমানা মঞ্জুরের কথা বলছি। যেখানেই যাই সেখানেই আলোচনার টপিক দাঁড়ায় রোমানা মঞ্জুর। কিন্তু আমাদের এই সো কলড শিক্ষিত সমাজে এরকম কত হাজার হাজার রোমানা মঞ্জুর আছে আমরা কেউ তার খবরও রাখিনা। আরেকদিন অফিসের কাজে একশন এইডে গেলাম। ওখানে গিয়ে দেখি খুব সুন্দর দেখতে একটা মেয়ের ছবি বড় করে টানানো। মেয়েটি কে জিজ্ঞেস করতেই ওদের একজন জানালো, মেয়েটি আমাদের সহকর্মী ছিল, ওকে ওর স্বামী মেরে ফেলেছে। শুনে আমার একটা ধাক্কার মত লাগলো। আরও কষ্ট পেলাম যখন জানতে পারলাম মেয়েটা ইউনিভার্সিটিতে আমার ডিপার্টমেন্টেরই সিনিয়র ছিল। সব শুনে আমি আমার কলিগকে বললাম আমরা ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের মেয়েরা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এত কাজ করি অথচ আমাদেরইতো কোন ক্ষমতা নাই। আমাদের মেয়েরাইতো বাসায় স্বামীর হাতে নির্যাতিত হয়, তাহলে আমরা আর মানুষকে কি শেখাই?
ব্যতিক্রম
সেদিন অফিস শেষে রাত ১০টায় বাড়ি ফিরতে মগবাজার অয়ারলেস মোড় থেকে সায়েদাবাদ যাওয়ার উদ্দেশে বলাকা বাসে উঠি।বাসটি চলতে চলতে কমলাপুরের কাছে এসে হঠাৎ থেমে যায়। পরে জানা গেলো বাসের চাকা পাংচার হয়েছে। অগত্যা চাকা পাল্টাতে হবে।এক-আধঘণ্টা সময়ের ব্যাপার।তাতে কী যাত্রীভর্তি বাসে এমন কোনো লোকের উপস্থিতি টের পাওয়া গেলো না, যাতে বাসের চালক বা কন্ডাক্টরকে কোনো টু শব্দ করে।বিষয়টি সত্যি অবাক করার মতো। কেননা, যেখানে নিত্যদিন যাত্রাপথে বাসের লোকদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়।সেখানে এমন একটি ঘটনা বিস্ময়কর নয় কি?
স্বরূপ
জলে জোসনার প্রতিবিম্ব দেখে
শ্লেষে হেসে ওঠে হুতুম পেঁচা
পুকুরের এপার থেকে ওপার
ওপার থেকে এপার, তারপর
একটি ডালের ওপর বসে ।
জলে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায় নি বলে
ভীষণ ক্ষেপেছে সে
এবার উড়ে গিয়ে বসে
জলের উপরের একটি ডালে
ভেসে ওঠে জলে অবয়ব নিজের
অজান্তেই বলে পেঁচা
ওই কুৎসিত চেহারাটা কার !
‘গাদ্দার’
কৃষণ চন্দরের কথা সম্ভবত নতুন করে কিছু বলার নেই। অসাধারণ, এবং অসম্ভব অসাধারণ এই মানুষটির লেখা আমি বরাবরই মুগ্ধ হয়ে পড়ি। তেমন মুগ্ধতায় নতুন করে পুনরায় যুক্ত হলো ‘গাদ্দার’। গাদ্দার বইটি আগেও পড়া ছিল। কিন্তু সময় বদলানোর সাথে সাথে মানুষ বদলে যায়; বদলায় মানুষের চিন্তাভাবনা কিংবা দেখার ক্ষমতা। যে কারণে একই বই নানা সময়ে বারবার পড়তে হয়, বুঝতে হয়। ধরতে হয় বইটিকে।
ব্যবধান
তোমার পৃথিবী আমার পৃথিবী এ দুয়ের মাঝে বিশাল ব্যবধান,
তোমার পৃথিবীতে স্বর্গের নির্মল মৃদু হাওয়া আর আমার পৃথিবীতে তীব্র তাপে যায় যায় প্রাণ।
তুমি থাকো মহা সুখে চারিদিকে পুষ্প গন্ধময়,
আমি থাকি মহা দুঃখে নিত্য মৃত্যু ভয়।
তুমি শুন পাকপাখালির মিষ্টি মধুর গান,
আমি শুনি হিংস্র দানবের চিত্কার হীম হয়ে যায় প্রাণ।
তোমার চারিপাশে রঙিন প্রজাপতি দানা মেলে উড়ে,
তোমার পাশে শুকুনেরা দল বেধে ঘুরে।
তোমার বুকে শান্ত নদী ধীরে ধীরে বয়,
আমার বুকে অশান্ত সাগর নিত্য গর্জে গর্জে রয়।
তোমার আকাশে সাদা মেঘ দেখতে লাগে ভালো,
আমার আকাশে কালো মেঘ দেখিনা চন্দ্রসূর্যের আলো।
তোমার আকাশে রাতে তারার মেলা আলো ঝলমল,
আমার আকাশে বজ্রের তান্ডব কম্পিত হয় সারা ভূতল।
আমি থাকি মৃত্যু ভয়ে,
তুমি থাকো দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়ে।
আমার এ পৃথিবী ছেড়ে তোমার কাছে আসতে বড় সাধ হয়,
কবে তুমি ডাকবে আমায়?
কোথাও কি আছে পরশ পাথর??
গতকালের পত্রিকায় এই দুটি খবর পাশাপাশি ছিল।
১. রুমানা মঞ্জুর
গত কয়েকদিনে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে রুমানা মঞ্জুরের ঘটনা নিয়ে। বিশেষ করে ফেসবুকে, বিভিন্ন ব্লগে সবাই যার যার মতামত প্রকাশ করছেন। মতামত দিতে গিয়ে কেউ কেউ হাসান সাঈদের পক্ষপাতিত্ব করেছেন। রুমানা মঞ্জুরের কিছু দোষের কথাও অনেকে বলেছেন (যেগুলোর কোনো প্রমাণ এখনো হয় নাই)।
২. মার্টিন
মার্টিনের সংসারের বয়স ১৮ বছর। এতবার তাকে হত্যার চেষ্টা করার পরও কোন ভরসায় সে সংসার করছিল? কিভাবে সে স্ত্রী, সন্তানদের বিশ্বাস করতো? ওদের সাথে এক বাসায় থাকতো? একসাথে ভাত খেতো?
৩.
গল্প ছিল, গল্প নেই
গল্প ছিল আকাশেতে,গল্প ছিল বাতাশে তাই
গল্প ছিল তিরতিরানো,নদীর জলে ঢেউ খেলানো…
সেই গল্প শুনতে আমার প্রাণের সেকি আহাজারি। আমার আহাজারি সকলের আহাজারির সাথে একাকার হয়ে গুমরে কেঁদে ওঠে.........সেই কান্না কখনো গানে কখনো বা কথার খেলায় খেলতে থাকে.............
গল্প ছিল মাঠের শেষে,দুরের রেখায় হালকা ছাই!
গল্প ছিল যখন ছিল, এখন কোনো গল্প নাই, অন্য কোনো গল্প নাই ...
মাঠ, ক্ষেত, প্রান্তর! যে মাঠে গোল্লাছুট খেলতো নাঙ্গা গায়ে ছেলে-মেয়েরা........বাতাবিনেবু দিয়ে ফুটবলের সম্ভাবনাময় পারদর্শীতা প্রদর্শন করে মাঠ মাতাতো কিশোর-যুবকেরা। কোথায় সেই প্রিয় মাঠ? ধানের ক্ষেতে সোনালী ফসলের সুখে মুখে হাসি আসতে যেনো অনেক কষ্ট হয় আমার কৃষক পড়শীর। সেই শিশুকালে ইয়া বড় মহিষের পিঠে চেপে গোধুলি দেখা আর তো হয়না এখন..... কিসের গল্প বলবো.........
গল্প ছিল মেঘের ডানায়, কানায় কানায় বৃষ্টি তাই
ফেরাল টক: শুন্য
আমাদের গতানুগতিক বিনোদনহীন-বৈচিত্র্যহীন জাতীয় জীবনে মাঝে মাঝে কিছু আন্দোলিত হবার মত ঘটনা ঘটে। ২০০৯ এ ঘটেছিলো পিলখানা হত্যাকান্ড আর এবার অনেক দিন পর "রুমানা মন্জুরকে" নৃশংসভাবে আহত করা। আমি সবসময়ই এসবে বিশালভাবে আন্দোলিত হৈ। রাগে চিড়বিড় করি, কিবোর্ড কাপাই, আর ফুটবলের মত গড়িয়ে একবার "এর" কথা, আরেকবার "ওর" কথা বিশ্বাস করি।
গত কয়েকদিনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার উপর ব্লগে-ফেসবুকে-পত্রিকায় যত লেখা পাচ্ছি পড়ছি, আর গড়াচ্ছি। আমার এখনও হাতের লেখার চেয়ে টাইপ করা লেখায় বিশ্বাস বেশি কিনা। তো গত কয়েকদিনে এই তপ্ত ইস্যু আলোচনার সাথে সাথে অগোচরে আরো কিছু ইনফরমেশন পাওয়া যাচ্ছে তার কিছু কিছু গুরুত্বহীন হলেও, কিছু ইনফরমেশন ইস্যুটির ভবিষ্যত যাত্রাপথ কি হবে তার ধারনা দিচ্ছে।
গুরুত্বহীন কিন্তু মজার ইনফরমেশন:
মেঘ বৃষ্টি আর আমি
মেঘ বৃষ্টি আর আমি
অনেক দিনপর মেঘ বৃষ্টি আর আমি
কতদিন পর--------------------
সে আজ আর মনেও নেই, এখন কেবলই স্মৃতি।
এতো দিন ছিলাম অন্য কারো
আর অন্য ভাবনায়, অন্য সময়ে
যেখানে স্বপ্রে জাল বুনা
তবে আবার ফিরে এলাম তোমার বুকে
শুধু তোমারই জন্যে
এখন থেকেই শুধু মেঘ, বৃষ্টি আর আমি।
তোমার কাছেই বেদনার আকুতি-মিনতি
তোমার সঙ্গে হাসির খেলা
আবার তোমার সঙ্গেই একসুরেই
কেঁদে কেটে ভাসাব সুখের ভেলা।
তাই আজ এই আষাঢ়ের এই ক্ষণে
চল ভাসি, মেঘ বৃষ্টি আর আমি।
স্মৃতির ফুলে বৃষ্টি ছুঁলে পরে, আমার ঘরে গন্ধ টলোমলো-১
দ্বিতীয় পোস্টেই ধারাবাহিক লেখা শুরু করাটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না?
এই দুপুর রাতে হুট করে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল, যার ফল হিসেবে অবধারিত ভাবেই বাকি রাতটা দীর্ঘশ্বাসে দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে উঠবে, করার কিছুই নেই, এরই নাম স্মৃতির শরাব। ব্যাপারটা অনেকটা "বুক যত জ্বালা করে মুখ ততো চায়" এর মতো।
আমি ছোট বেলায় উদ্ভিদ টাইপের শিশু ছিলাম (এখন কিন্তু উদ্ভিদ ভোজী বাঁদর টাইপ!) সব সময় মায়ের আচলের ছায়ায় ছায়ায় থাকতাম, শিশু সুলভ লাফালাফি খুব একটা ছিল না আমার মধ্যে। খুব একটা বাইরে টাইরে বেরোতাম না, সারাদিন ঘরে বসে বিচিত্র ধরণের খেলা খেলতাম, এই যেমন কলম দিয়ে রেসলিং অথবা ক্রিকেট খেলা, সিগনেচার পেন আর মার্কারের শিশ দিয়ে গরু বানানো, ইত্যাদি ইত্যাদি...
একজন নিশি
আমার বন্ধু ব্লগে অধমের প্রথম পোষ্ট
আকাশে চাঁদ ওঠেনি আজকে। নিশির মন খারাপ, আকাশে চাঁদ ওঠেনি সেইজন্য না, অন্যকারণে।শশী এসে চা দিয়ে গেলো।অন্যমনস্ক ভাবেচায়ে চুমুক দিতে লাগল নিশি।পিসিতে রবীন্দ্র সংগীত বাঁজছে, মন ভাল করারআশায় ছেড়েছিল , মন ভালো হওয়া দূরের কথা এখন রীতিমতো বিরক্তি লাগছে। শশী বলল-" তোর কি হয়েছে রেআপু?"
" কিছু না"- ভ্রু কুন্চিত করে বলল নিশি।শশী ফোস করে একটা শব্দ করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল, মুখ দিয়ে বিচিত্র ধরণের শব্দ করা ওর একটা বদঅভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে।
গত পর্বের অলিখিত কথাগুলো
এটা গত লেখার ধারাবাহিকতা, যে কারণে মনে হয়েছিলো হাসান সাঈদের ঘৃণার একটা অংশ আমার উপরেও চলে আসতে পারে:
বাংলাদেশে শতকরা ৬০ জন বিবাহিত নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন, পারিবারিক সহিংসতার এ হিসেব শুধুমাত্র শাররীক নিগৃহনের। থাপ্পড়, ধাক্কা, কিল ঘুষি এবং বিকলাঙ্গ করে ফেলার মতো নির্যাতনকেই শুধু পারিবারিক সহিংসতার নজির হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যদি পারিবারিক কলহ এবং এ জনিত মৌখিক নিগৃহন আমলে আনা হতো তাহলে শতকরা ১০০ জন নারীই পারিবারিক সহিংসতার শিকার এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যেতো।
আমার বৃষ্টিগুলো...
মাঝে মাঝে জীবনটাকে নিয়ে আর চলার ইচ্ছাটুকু অবশিষ্ট থাকেনা। আবার ভাবি এভাবেই হয়তো বেঁচে থাকতে হয়। মনের অজান্তে ভেসে ওঠা এত্তো এত্তো কথাগুলো নাগরিক জীবনের সাথে এতটুকু মিল এনে দিতে পারেনা। যেন মনে হয় দু পাশের দু দিক। আঁকাবাকা পথে, সোজা পথের খোজ আর ক্লান্ত পথিকের ঘামে ভেজা শরীর। মায়া আর স্বপ্ন ভরা জীবনের বাকিটা পথও হয়তো এভাবেই কেটে যাবে, আর নয়তো কিছু একটা অন্যরকম ঘটবে!
আজ থেকে বেশ কিছুবছর আগে, যখন বৃষ্টিগুলো আসতো সুখের ভেলা নিয়ে। জানালার পাশে বসে দুরে কুয়াশার মত বৃষ্টি দেখতাম। চলে আসতো আমার কাছে। ময়াবনের মায়াজাল নিয়ে, সে এসে কানে কানে বলে যেত ভালবাসার কথা। হ্রদয়কে ভিজিয়ে দিত, গান শুনাতো আর প্রতিটি ফোটা শব্দে যেন ভেসে যেতাম তারি ভেলায়। মেঘেদের দেশে এসে, ভালবেসে, অবশেষে ফিরতাম বাড়ী। যেন-
"এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়
এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে
তপনহীন ঘন তমসায়"
একটি রসগোল্লা পোস্ট- উৎসর্গ (বৃষ্টি)রাসেল ভাই!!
আমরা বন্ধুর একটা ভালো দিক কিছু হইলেই আড্ডাবাজি করে, আর কয়দিন পরে পরে খেয়াল হইলে একটা কইরা ই- বুক বের করে। ই- বুক বের করাটা অনেকটা হুজুগে ব্যাপার। সবাই করে, তাই আমরাও না করলে কেমন দেখায় টাইপস!! 
শুরুতে শুরুতে খুব হাউ- কাউ করে চারটা ই- বুক বের হইল। আমরাও খুশিতে বাক- বাকুম!! কিন্তু, তারপরেই আর কারো তেল নাই। তাই মাঝে কয়দিন কোন ই- বুক নাই। হঠাৎ করে টুটুল মিঞার উস্কানিতে রাসেল ভাইয়ের নাচুনি বুড়ি সাজা, তারই ফলে পোস্ট আমরা বন্ধুর বৃষ্টি- বিলাসি ই- বুক। স্টিকি হওয়া, সবাইকে খোঁচানিতে রাসেল ভাইয়ের রাত জাগা আর আমাদের পালায়ে পালায়ে থাকা!!
যাই হোক, আমরা বহুত দিন ঘুরায়ে- পেঁচায়ে লেখা দিলাম। কথা ছিল আষাঢ়ের প্রথম দিনেই ই- বুকের দেখা মিলবে। কিন্তু, আফসোস!! দেখা পাইলাম না!! আমরা কি আর জানতাম, মডুর বিলম্বের আড়ালে রাসেল ভাই, নজরুল ভাই আর লোকেন ভাইয়ের গোপন ইচ্ছা!!!
